রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
অরাজকতা সৃষ্টির মূল কারণ আমরাই
নভেম্বর ৬, ২০১৯
অরাজকতা সৃষ্টির মূল কারণ আমরাই

কেন আন্দোলন, কেন এত মানব বন্ধন? দেশের প্রতি ভালবাসা যদি এতই থাকে তাহলে দেশের বুকে কেন আন্দোলন কর, কেন হাজার হাজার লোক সারিবদ্ধভাবে মানব বন্ধন কর ? দেশে মানব বন্ধন করবে কেন ? মানব বন্ধন বন্ধ করার ব্যবস্থা কর। কী করলে মানববন্ধন বন্ধ করার মত সকল কাজ বন্ধ হবে সেটা কর। সেটা করতে আবার মানব বন্ধন কর না যেন !

কী হয় দেশে এত বার বার ? ১৮ কোটি লোকের বসবাস আমাদের এই দেশে। সব মানুষই সমান হবে না এটা আমরা যেমন জানি তেমনি মানি। কানটা একটু খাড়া করলেই শুনতে পাই দেশে অরাজকতা চলছে। চলছে মারামারি, হানাহানি, খুনাখুনি, কুপাকুপি। এগুলো করছে কারা ? কেন করে ? কীভাবে এগুলো করতে সাহস পায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

শোনা গেল যে, আজ অমুক নামে এক মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। মেয়েটা কেমন ছিল, কেন ধর্ষণ করা হল তাকে, তার কতটুকু কীর্তি ছিল আর তিনিই বা কেন ধর্ষিত হবেন ? অন্য আরও তো মেয়ে আছে তারা কেন ধর্ষিত হচ্ছে না । যে বা যারা ধর্ষিত হয় তাদের গুণাগুণ বিচার করতে হবে। আর বিচার করার জন্যে দেশের জনগণ কেন রাস্তায় আসবে? রাস্তায় তারা কেন শত শত লোক নিয়ে আন্দোলন করবে ? তাদের কাজ দেশের মানুষ হিসেবে শান্তিতে থাকা,অন্যকে শান্তিতে রাখা। কিন্তু তারা কেন আজ রাজপথে ?

দেশের প্রশাসন হিসেবে এমন কড়া দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে যেন ধর্ষনের মত জঘন্য কাজের কথা শুনলেই ধর্ষণকারীর মন ভয়ে নিস্তেজ হয়ে যায়। এমন শাস্তি প্রদান করতে হবে যেন ২য় আর কেউ ধর্ষণ করা তো দুরে থাক ধর্ষণের কথা শুনলেই যেন গা শিউরে উঠে। তা না করে প্রশাসন নিজেই জনগণকে মাঠে নামার সুযোগ করে দেয়। আর দেশের জনগণ অপরাগ হয়ে এই বলে মাঠে নেমে আন্দোলন,আজ ওর মেয়েকে নির্যাতন করেছে, ওর মেয়েকে ধর্ষন করেছে,ওকে খুন করছে,ওকে কুপিয়েছে আগামিতে আমারও এমনটা হতে পারে। তাই জনগণ মাঠে নেমে আসে।
জনগণের বিশ্বাস নষ্ট করেছে প্রশাসন। প্রশাসনই পারবে বিশ্বাস রক্ষা করতে। আর এর জন্যে জনগণ মাঠে নামার আগেই যেকোন বিচার নিজ দায়িত্বে দমন করে দিতে হবে। যেন জনগণ প্রশাসনের উপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মানব বন্ধন করতে হয় এটার বিচার চাই, ওটার বিচার চাই, এটা দিতে হবে, ওটা দিতে হবে, আমাদের দাবি মানতে হবে? হাজারও ছাত্র-ছাত্রীর সময় অকারনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যে সময় তাদের লাইব্রেরীতে থাকার কথা, যে সময় তাদের গবেষণা করার কথা, যে সময় তাদের ক্লাস করার কথা সে সময় তারা রাজপথে নেমে বলছে, আমার ভাইয়ের / বোনের ধর্ষনের/ হত্যার বিচার চাই বিচার চাই! কেন এগুলো হবে ? প্রশাসন কি জানে না কি কি লাগবে ? শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, দেশের প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ বিচার চাওয়ার জন্যে মাঠে নামে সাধারণ শিক্ষার্থী । তাদের মুল্যবান সময় নষ্ট করে এভাবে মাঠে নামার সুযোগ করে দেওয়া হয়। তাদের চাওয়ার আগেই বিচার কাজ প্রশাসন সমাপ্ত করে দিতে কেন পারে না? এতে তাদের আর সময় নষ্ট হবার কথা নয়। যে সময়ে তারা দেশের উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করবে সে সময়ে তাদের দিনের পর দিন রাতের পর রাত রাস্তায় নেমে বলতে হয় আমার ভাইয়ের রক্তের প্রতিশোধ চাই, আমার বোনের ধর্ষনের বিচার চাই ? আশ্চর্য বিষয় এগুলো !

হত্যা, ঘুম, ঘুষ, ধর্ষণ, মারামারি যখন কোথাও হয় তখন অল্প সময়ের মধ্যে দেশের প্রশাসন আপনা-আপনিই জানতে পারে। জানার পরও তারা কেন ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় ? কেন শিুশুদের রাস্তায় এসে প্লাকার্ড হাতে নিয়ে বলতে হয়,বিচার না পেলে সকাল-সন্ধ্যা মানব বন্ধন চলবে। যে সময়ে শিশুরা মা-বাবা ছাড়া অতিরিক্ত কারোর সাথে কথা-বার্তা ভাল করে বলতে পারে না, ঠিক সে সময়ে তারা মানব বন্ধন সহ বিভিন্ন আন্দোলনে যোগ দেয়। যেন জন্ম থেকেই মানব বন্ধন শুরু করে দেয় ।

শিশুরা মানব বন্ধনের কি বুঝে ? তবুও তাদের ঘাড়ে এ বন্ধন চাপিয়ে দেওয়া হয় । দেশের শিক্ষক অন্যতম প্রধান সম্মানের অধিকারী। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলে দেশের প্রতি মানবতা তৈরি করার কাজ করবে। তা না করে,পত্রিকা খুললেই জানা যায় অমুক শিক্ষক ছাত্রীকে ধর্ষন করেছে, অমুক শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য করছে । শিক্ষক কেন হইছো তুমি? আর এধরনের শিক্ষকদের কেন শাস্তি দেয় না ? সাময়িক বরখাস্ত দিলে কি সাজা হয় নাকি ? এমনভাবে শাস্তি প্রদান করতে হবে যে, নিয়োগ বাণিজ্য করার মত শব্দও যেন বাদবাকী সবাই ভুলে যায়।

দেশের কচিকাচা বাচ্চাদের কেন রাস্তায় নিয়ে আসা হয় মানব বন্ধন করার জন্যে,আন্দোলন করার জন্যে ? তারা আন্দোলনে অংশগ্রহন না করলে কি বিচার হবে না ? আন্দোলন এবং মানব বন্ধন ভবিষ্যৎ শিশুদের ধ্বংস করার তরল, কঠিন এবং বায়বীয় হাতিয়ার । তারা যেন মাঠে নামার সুযোগ না পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রশাসন যদি বে-আইনি কাজ করে তাহলে তাকেও ছাড় দেয়া যাবে না। কিন্তু প্রশাসনকে বলবে কে?এক প্রশাসন অন্য প্রশাসনকে সাহায্য-সহযোগীতা করুন জনগন আপনা-আপনিই শান্তি পাবে। তাদের আর রাস্তায় নামতে হবে না। জনগণের সকল সুখ-দুঃখ প্রশাসন এর আওতায়।

লেখক, মোঃ মেহেদী হাসান
শিক্ষার্থী: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া

Print Friendly, PDF & Email