বুধবার, ২৯শে জানুয়ারি ২০২০ ইং, ১৬ই মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
আকাশ ভরা তাঁরা
জানুয়ারি ৪, ২০২০
আকাশ ভরা তাঁরা

জ্যৈষ্ঠ্য মাস। চারদিকে মেঘের আনাগোনা। মাঝে মাঝে এমন ঝড়ো হাওয়া বয় যেন পুরো পৃথিবীটা কেঁপে ওঠে। বৃষ্টির সাথে মেঘের গর্জন আর বিজলী চমকানো যেন ফ্রী। ঝড় তুফানে গাছগুলো যেন  বার বার মাটিতে মাথা নোয়ায়। দোল খেলে গাছগুলো নির্বিকচিত্তে। কোনো কোনো গাছ বাতাসের চাপ সহ্য করতে না পেরে নিজেকে পৃথিবীর বুকে দাড় করিয়ে রাখতে পারে না। হেলে পরে অথবা ভেঙ্গে পরে মাটির বুকে। যেখানে মহা শক্তিশালী গাছ নিজেকে পৃথিবীর বুকে টিকিয়ে রাখতে পারে না সেখানে মানুষ কেমন করে এই জ্যৈষ্ঠ্যে নিজেকে টিকিয়ে রাখবে? হ্যাঁ পারবে। কারণ গাছের নির্দিষ্ট আবাস স্থল নেই, যা মানুষের রয়েছে। গাছ যেখানে জন্মায় সেখানেই তাকে মারা যেতে হয় যদি আদম সন্তান তাকে স্থনান্তর না করে। অন্যদিকে আদম সন্তান জন্মানোর সাথে সাথেই স্থান ত্যাগ বা পরিবর্তন করে। এ যেন পৃথিবীর অমোঘ নিয়ম। এই জ্যৈষ্ঠে একটি দম্পতি বাস করত। দম্পতির নাম রাজন আর হাসনা হেনা। রাজনের বয়স ২২ পেরিয়ে আর হাসনা হেনা ১৯ এর কোঠায় পা রাখবে। গত বছরের বৈশাখে তাদের বিবাহ বন্ধন হয় এক ঝমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। তাদের আর্থিক অবস্থা খুব একটা যে ভাল তা কিন্তু নয়। তবে সৃষ্টিকর্তার নীলাখেলায় রাজন আর হাসনা হেনার পিতার একটা করে সন্তান থাকার কারনে তাদের ইচ্ছা ছিল এক ঝমকালো আয়োজনের মাধ্যমে বিবাহ দিবে। তাই তারা করেছে। অবশ্য এর জন্যে হাসনা হেনার পিতার ব্যয় হয়েছে বেশি। কনের বাবার সব সময় খরচ যে একটু বেশিই হয় তা সবারই জানা।

রাজন আর হাসনা হেনার বিবাহ হয়েছে এক বছর পেরিয়ে। বছর যেতে না যেতেই হাসনা হেনার গর্বে সন্তান ধারন করেছে। গর্বের সন্তানের বয়স প্রায় ৮ মাস চলছে। এই ৮ মাসের মধ্যে হাসনা হেনা কখনও বলে নি আমার এই জিনিসটা খেতে ইচ্ছে করছে। বলার আগেই রাজন সব কিছুর ব্যবস্থা করছে। কিন্তু রাজন তো জানে না গর্ববতী মহিলার জন্যে কি কি করতে হয়, কি কি খাওয়াতে হয়। তারপরও রাজন তার মায়ের কাছ থেকে শুনে সব কিছু সময় মত দেওয়ার চেষ্টা করেছে। জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি চলছে। দিনটা অন্য সকল দিন থেকে আলাদা। ভোরেই যেন সূর্যের দেখা মিলছে পৃথিবীর বুকে। সকালটায় যেন সূর্যের উজ্জল হাসি। যেন বহুকাল পরে এরকম হাসি হাসছে সূর্য বাবা।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই হাসনা হেনা বলছে, ওগো আমার খুব ঘুরতে ইচ্ছে করছে! রাজন অবাক হয়ে একবার আকাশের পানে তাকালো। আর নির্ধিদায় বলে উঠল সকালের নাস্তার পর বের হব। বিবাহের এক বছর পেরিয়ে গেলেও রাজন তার বউকে নিয়ে একটি বারের জন্যেও কখনও বাইরে ঘুরতে বের হয়নি। কাজের ব্যস্ততা কিংবা অন্য কোনো কারনে হয়ত বা ঘোরফিরা হয় নি। আর এই এক বছরের বিবাহ বন্ধনের মধ্যে হাসনা হেনা আজই প্রথম একটা আবদার করল। রাজন বিনা সুরে রাজি হয়ে গেল। এখানে না করার মত কোনো উপায় নেই। একটি মাত্র বউ আর একটি বার আবদার করেছে না করবে কেন। নাস্তা শেষে হাসনা হেনা নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছে বাইরে যাওয়ার জন্যে। এর আগে কখনও সে স্বামীর সাথে বাইরে যায় নি। তাই নিজেকে পুরো পরিপাটি করে নিচ্ছে যেন স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে। রাজনের দুটো গরু আর একটি ছাগল আছে। তাদেরকে মাঠে গোছর দিতে গেল। কারন সারাদিনে তারা কখন বাড়ি ফিরবে তার নিশ্চয়তা নেই। যাওয়ার সময় রাজন তার বাবাকে বলে গেল গরু-ছাগল মাঠে দিয়ে আসলাম আকাশের অবস্থা খারাপ হলে বাড়িতে নিয়ে এসো আমাদের ফিরতে দেড়ি হতে পারে। মাঠ থেকে ফিরে রাজন ঘরে ঢুকতেই আচমকা চমকে উঠল। হাসনা হেনাকে দেখে সে টাসকি খেয়ে গেল রীতিমত। হাসনা হেনা এর আগে কখনও এরকম সাজেনি। আজকে তাকে একদম রাণীর মত লাগছে। রাজন পুরো ৫ মিনিট তার দিকে তাকিয়ে বোবার মত অবাকচিত্তে হতবাক। কি বলবে আর কি হবে। এ কি আমর বউ ! নিজেকে আর নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে আস্তকরে স্ত্রীর মাথাটা ধরে সামনে এনে একটা নরম সুরে কপালের ঠিক মাঝখানটায় চুমো একে দিল। হাসনা হেনা লজ্জায় লাল হয়ে গেল। এমনিতেই সে ফর্সা আর একটু লজ্জা পেলেই যেন লালে লাল হয়ে যায়। এবার লজ্জায় মুখটা সরিয়ে স্বামীর মুখ পানে চেয়ে মুচকি একটা হাসি দিয়ে বলল, সময় কিন্তু বসে নেই, তুমি নিজেকে তৈরি করে নাও। আকাশের অবস্থা কখন কি হয় বলা যায় না। রাজন বলল আমাকে ঠিক ১০ মিনিট সময় দিন রাণী আমি নিজেকে গুছিয়ে আনছি।

বেলা ঠিক ১০ টা বাজে। দুজনে বাড়ি থেকে বের হতে না হতেই রাস্তায় এক প্রতিবেশির সাথে দেখা। সে বলল, কিরে রাজন আকাশের চাঁদ নিয়ে দিনের বেলায় কোথায় যাচ্ছিস? রাস্তায় অনেক তাঁরা আছে যাদের ভিরে তোর বউ তো হারিয়ে যাবে। কেমন যেন একটা ব্যাঙ্গভাষায় কথা গুলো বলল। হাসনা হেনা বলল, তুমি এসব নিয়ে ভেব না। অনেকেই তো স্বামী-স্ত্রী মিলে ঘুরতে বের হয়, আমরাই তো প্রথম না। এই বলে পথ চলা শুরু করল। একটু দুরে যেতে না যেতেই আবার আকষ্মিক একজনের সাথে। সে হাসনা হেনার দিকে এমন ভাবে তাকাচ্ছে যেন কোনো দিন কোনো মেয়ে দেখে নি। সে বলল, কি ভাই সাব এই দিনের বেলায় অমাবস্যার চাঁদ নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন? চাঁদে কিন্তু আঘাত লাগবে আপনি সহ্য করতে পারবেন না। আর চাঁদেও গায়েও চিহ্ন লেগে যাবে। কথাগুলো রাজনের গা পুরে দিচ্ছে। তাই সে মুখটা অন্যদিকে নিয়ে রাগান্বিত সুরে আবার রাস্তা চলা শুরু করল। সামনেই গাড়ি পাওয়া যাবে। গাড়ির কাছে যেতে না যেতেই লোকজন কেমন যেন খাবলে ধরল তাদের। আমার গাড়িতে আসুন আমার গাড়িতে আসুন। এক গাড়িতে পা দিতে না দিতেই অন্য গাড়ির ড্রাইভার তার দিকে রুক্ষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, বউটারে দুর্ঘটনায় ফেলবা বুঝছি। আমার গাড়িতে গেলে কি হত? কেমন যেন মন ভাঙ্গাভাঙ্গি সবার সাথে। যেতে তো হবে তাই তারা যেকোন একটা গাড়িতে উঠে পরল। রাস্তার যে অবস্থা যেন হাজার বছর হল মেরামত করা হয় না। উচু-নিচু আর খানা-খন্দে ভরা। একজন সুস্থ্য মানুষও এ রাস্তায় চলতে অসুস্থ হয়ে যাবে। আর হাসনা হেনা তো ৮ মাসের গর্ববতী। তার কি অবস্থা হতে পারে! রাজন বলল, ড্রাইভার সাহেব একটু আস্তে আর ধীরে চালান দেখে দেখে আমার বউটা ৮ মাসের গর্ববতী। ড্রাইভার বলল, দেখেন ভাই , আপনি আমার গাড়িতে উঠেছেন যেখানে নামবেন সেখানে নামিয়ে দিলেই হল এত কথা বলছেন কেন, আজব! কথাগুলো রাজনের কাছে বিষ খাওয়ার মত তিতে লাগছিল। কিন্তু কি করার রাস্তায় সকল ক্ষমতা যেন ড্রাইভার প্রয়োগ করছে। অনেক দুরে আসার পর রাস্তার অবস্থা আরও ভয়াবহ। যেন গাড়ি পানিতে নৌকার মত এদিক-ওদিক দুলছে। হঠাৎ হাসনা হেনা চিৎকার দিয়ে বলল, পেটে ব্যথা করছে ভাই আস্তে চালান গাড়ি। ড্রাইভার যেন মাতাল হয়ে গাড়ি চালাচ্ছে। কে কি বলছে, কে কি চিৎকার করছে তার যেন শোনার মত সময় নেই। রাজন হঠাৎ রেগে বলে উঠল, ড্রাইভার সাহেব গাড়ি থামান আমরা যাব না। ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে বলল, এ ভাই নামেন তো! গাড়িতে ওঠার পর থেকে শুধু প্যাচাল পেরেই যাচ্ছেন। আর যেখানেই নামেন না কেন আমার যে ভাড়া সে ভাড়াই দিতে হবে। রাজন দেড়ি না করে অতি দ্রæত ভাড়া দিয়ে দিলেন। এসমস্ত আজব ড্রাইভারের কাছ থেকে যত দ্রুত সরা যাবে তত ভাল। ওদিকে হাসনে হেনার পেটের ব্যথা বেড়েই চলছে। গাড়ি থেকে এমন এক জায়গায় নেমেছে আশেপাশে কোথাও কোনো বাড়িঘর নেই। হঠাৎ আকাশে গড়গড় মেঘের গর্জন শুরু হয়ে গেল। রাজনের গলা শুকিয়ে গেল মেঘের গর্জন শুনে। দেখতে দেখতেই আকাশ একদম কালো বর্ণ ধারণ করল। চারদিকে অন্ধকার নেমে আসল। ড্রাইভার সাহেব ইতিমধ্যেই চলে গেছে। পাশে চেয়ে দেখে হাসনা হেনা মাটিতে বসে পরেছে। হাসনা হেনার মাটিতে পরে থাকা দেখে রাজনের চোখ কপালে উঠে গেল। এখন কি করবে সে। হাসনা হেনাকে সে তুলে দাড় করালো। আর বলল, কেমন লাগছে এখন তোমার? জবাবে, হাসনা হেনা বলল, আমাকে কোনো বাড়ি অথবা হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা কর, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, আমি আর সইতে পারছি না! মাত্র ৮ মাস গর্ববতী হাসনা হেনা এমন সময় তার তো এমন ব্যথা অনুভব হওয়ার কথা নয়। রাজন মনে মনে ভাবতে লাগল। হঠাৎ আবার হাসনা হেনার চিৎকার একটা ব্যবস্থা কর! রাজন দিনের অন্ধকারে গাড়ির অপেক্ষায় আছে, কোনো গাড়ি আসলে তাতে করে তার স্ত্রীকে
হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে। কিন্তু মেঘের অন্ধকারে কোনো গাড়ি আসছে না। অন্ধকার ক্রমশ বাড়তেই থাকল। গাড়িও আসছে না। তখন রাজন উপায় না বুঝে হাসনা হেনাকে বলল, তুমি কি একটু হাঁটতে পারবা? চল আশেপাশের বাড়ি খুঁজি। হাসনা হেনা বলল, আমার পক্ষে হাঁটা সম্ভব নয়। রাজন তার স্ত্রীকে কোলে তুলে নিয়ে হাঁটতে শুরু করল। এমনিতেই হাসনা হেনা অনেক স্বাস্থ্যবান তারপর আবার ৮ মাসের গর্ববতী। বুঝতেই পেরেছেন কতটা ভারী। হাসনা হেনার জন্যে যতটা মায়া তার চেয়ে বেশি মায়া তার গর্বের সন্তানের জন্যে। কারন সে তো এখনও পৃথিবীর আলো দেখতে পায় নি। অনেক খানি হাঁটার পর রাজন একটা অর্ধ পাকা বাড়ি দেখতে পেল। ঘরে বারান্দা আছে। ঘরটা দেখে রাজন অনেকটা খুশি আর আাশা নিয়ে এগিয়ে গেল। তখন থমথমা বৃষ্টি হচ্ছে। রাজন আর তার স্ত্রীর পুরো দেহ একদম ভিজে গেছে। ভেজা অবস্থায় বারান্দায় আশ্রয় পাওয়াতে এক স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলল দুজনে। হঠাৎ রাজনের চোখ পরল হাসনা হেনার দিকে। দেখে হাসনা হেনার জ্ঞান নেই। দেখে তো রীতিমত হাউ-মাউ করে কান্না শুরু করে দিল রাজন। কান্নার আওয়াজ শুনে বাড়ির ভেতরের লোক বের হয়ে এসে বললেন, কে কান্না করে বারান্দায়? বলতে বলতে লোকটি ওদের কাছে এসে দেখে দুজনেরই গা ভেজা। একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে। এ দৃশ্য দেখেই তো বাড়িওয়ালার মাথা গরম হয়ে গেল! উনি আকষ্মিক বলে উঠলেন, এটা কোনো বেশ্যা পল্লী নয় যে এখানে কাম বাসনা সারতে হবে। দুর হ এখান থেকে। আশেপাশে আর কোনো বাড়ি-ভিটা পেলি না আমারই আঙ্গিনায় এসে কাম বাসনা! কি অন্যায় করেছিলাম প্রভু তোমার কাছে যার জন্যে তুমি আমার আঙ্গিনায় এরকম একটা দৃশ্য দেখালে! বাড়িওয়ালা এমনি করে খোদার কাছে নালিশ করছে। রাজন তখন হাসনা হেনাকে বুকেই জড়িয়ে রেখেছে। ভয়ে ভয়ে মৃদু স্বরে এবার রাজন বলে উঠল, ও হাসনা হেনা আমার বউ, ৮ মাসের গর্ববতী। এ কথাটি বাড়িওয়ালা শোনামাত্রই আরও রেগে ফায়ার। কাম বাসনায় ধরা পরেছিস আর এখন বলছিস ও আমার বউ, তাও আবার ৮ মাসের গর্ববতী! তোদের মত মানুষের জন্যে সমাজে আজ জারক সন্তানের উদ্ভব হচ্ছে। দুর হ যত তাড়াতাড়ি পারিস।

রাজন বুঝতে পারল, এখানে আর কথা বলে কোনো লাভ নেই। এখান থেকে চলে যাওয়াই ভাল। অন্ধকার দুরীভূত হচ্ছেই না। যেন আরও বেড়ে যাচ্ছে। অজ্ঞান হাসনা হেনাকে কোলে নিয়ে রাজন আবার পথ চলা শুরু করল। ঐ দুরে কেমন যেন মিটিমিটি আলো দেখা যাচ্ছে। আলো দেখে রাজনের মনে একটু হতাশা ফিরে আসল। ওখানে গেলে হয়ত বা একটু আশ্রয় পাওয়া যাবে। এদিকে দুজনে ভিজে একম চৌচির। আলোর কাছাকাছি গিয়ে দেখে এটা আর কিছু না এটা একটা হাসপাতাল। হাসপাতাল দেখে রাজন যেন স্বর্গের সুখ অনুভব করতে লাগল।

অনেক কষ্টে হাসপাতালের বারান্দায় যাওয়ার পর সেখানে নার্স ছিল তারা এগিয়ে এসে হাসনা হেনাকে নিয়ে গেল ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জ্ঞান ফিরাল। জ্ঞান ফিরে হাসনা হেনা অবাক! আমি কোথায়, আর আমার স্বামী কোথায়? রাজন পাশেই ছিল। বলল, ভয় নেই আমি এখানেই আছি।

এমন করে বিকেল ৩ টা গড়িয়ে গেল হাসপাতালেই। ডাক্তার তখন এসে বলল, মিস্টার রাজন সাহবে আপনার বউয়ের এই ঔষধগুলো লাগবে। আপনি এখনি নিয়ে আসেন। বৃষ্টি এখন আর তেমন নেই। তবে একবারে যে থেমে গেছে তেমনটাও না। ঝিড়িঝিড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। রাজন ঔষধ আনতে হাসনা হেনাকে রেখে গেল। রাজন আশেপাশের তেমন কিছ্ধুসঢ়;ই চেনে না। সে ঔষধের দোকান খুঁজতে লাগল।

এদিকে হাসনা হেনা একা একা বেডে শুইয়ে আছে। অনেকটাই দুর্বল সে। যেন নড়াচড়া করার মত ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। তবুও সে তার ভেজা জামা-কাপড় অনেক কষ্টে খুলে রুমের ভেতর শুকাতে দিয়েছে। সে জানে এ রুমে আর কেউ আসবে না। রুমের জানালা ছিল কাচের যা হাসনা হেনা খেয়াল করেনি। পাশ দিয়েই একজন যাচ্ছিল। তার বয়স আনুমানিক ২৭ কিংবা ২৮ বছর হবে। হঠাৎ তার চোখ পরল রুমের ভেতরে যেখানে হাসনা হেনা রয়েছে। রূপবতী আর গুণবতী হাসনা হেনার কাপড় ছাড়া দেহ দেখে লোকটার লোভ এসে গেল। সে উকি মেরে এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখল আশেপাশে কেউ আছে কি না। আশেপাশে তখন কেউ ছিল না। লোকটা আকষ্মিক রুমে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিল। এই দেখে হাসনা হেনা চিৎকার করে বলতে লাগল আপনি কে আর এখানে কেন আসছেন? দৌড়ে সে ভেজা কাপড়ের দিকে ছুটে গেলেন তা পরার জন্যে। লোকটা তাকে কাপড় ধরতে দিল না। আমি কে সে তোর জানতে হবে না। তোর দেহ আমাকে লোভ ধরিয়ে দিয়েছে। আর চিৎকার করে কোনো লাভ নেই আশেপাশে কেউ শুনবে না। এখানে শুধু তুমি আর আমি। আমি বিবাহিত আমার স্বামী আছে দয়া করে আমার সাথে বাজে ব্যবহার করবেন না! কেঁদে কেঁদে হাসনা হেনা তাকে বলছিল। আরও বলছিল আমার গর্ভে ৮ মাসের বাচ্চা আমাকে দয়া করুন! মানুষ শয়তানের রূপ নিলে শয়তানও তার কাছে হার মেনে যায়। লোকটা কোনো কথা না শুনে তার মনের যত কাম বাসনা ছিল তা জোরপূর্বক আদায় করে নিল। বৃষ্টি আরও জোরে নামছে বাইরের কোনো আওয়াজ শোনা যাচ্ছেনা। রাজন যে আসবে বৃষ্টির কারনে হয়ত বা সে রাস্তায় আটকে আছে। এদিকে হাসনা হেনা জোরাজুরি করছে আমাকে বাঁচান! আমাকে বাঁচান! আমার সন্তান মারা যাবে। সন্তানের কথা বার বার বলাতে লোকটার রাগ উঠে গেল। সে বার বার হাসনা হেনার পেটে লাথি মারতে লাগল আর বলল, ভালই ভাল কাজটা করতে দে নইলে তোর সন্তান আর পৃথিবীর আলো দেখতে পারবে না।

পেটে লাথি খেয়ে হাসনা হেনা অজ্ঞান হয়ে পরে গেল। এই সুযোগে শয়তান লোকটা তার মনের যত কাম বাসনা ছিল তা যেন সুদে আসলে আদায় করে নিল। এভাবে এক ঘন্টা চলার পর শয়তানের মনের খায়েস মেটার পর চলে গেল। বৃষ্টির টিপটিপ শব্দে কিচ্ছু শুনবার উপায় নেই। হাসনা হেনা তখন পুরাই উলঙ্গ। কেউ যেন তাকে দেখবার নেই। দুর্বল দেহটা নিথরের মত মেঝেতে পরে রয়েছে।

কিছুক্ষণ পর মেঘ অনেকটাই কমে গেছে তখন রাজন ঔষধ নিয়ে ফিরে আসে। এসেই দেখে হাসনা হেনা মেঝেতে পরে রয়েছে। দেহে কোনো পোশাক নেই। পোশাক না দেখাতে তার বুঝতে আর বাকি থাকল না কি ঘটেছে হাসনা হেনার সাথে। ডাক্তার ডাক্তার বলে চিৎকার দিতে থাকল রাজন। ডাক্তার এসে তাকে নিয়ে গেলেন অপারেশন রুমে। ৮ মাসের বাচ্চাকে কেমনে পৃথিবীতে আনা সম্ভব!

এদিকে মায়ের অবস্থাও ভাল না। রাজন সাহেবের সাথে ডাক্তার পরামর্শ করে বললেন, রুগিকে এই মূহুর্তে অপারেশন করাতে হবে। রাজন বলল, ডাক্তার সাহেব আমার বাচ্চা আর বাচ্চার ঠিক আছে তো? ডাক্তার কোনো কথা না বলে সরাসরি অপারেশন রুমে চলে গেলেন। অপারেশন রুম থেকে ডাক্তার বের হতে না হতেই রাজন দৌড়ে গেল ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার শুধু একটি কথাই বললেন, বাচ্চা ভাল আছে কিন্তু বাচ্চার মা……………………..।

মোঃ মেহেদী হাসান
শিক্ষার্থী : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

Print Friendly, PDF & Email