মঙ্গলবার, ২রা মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
আজ পবিত্র হিজরি নববর্ষ ১৪৪০।
সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮,  ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
আজ পবিত্র হিজরি নববর্ষ ১৪৪০।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাহাদুর।

আজ বুধবার পহেলা মহররম। শুরু হলো আরবি নববর্ষ, হিজরী ১৪৪০। বাংলাদেশের আকাশে গতকাল সন্ধ্যায় মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর(১০ই মহররম)শুক্রবার সারা দেশে পবিত্র আশুরা উদযাপিত হবে। ১০ই মহররম(আগামী ২১ সেপ্টেম্বর)শুক্রবার আশুরার দিন সরকারি ছুটি পালিত হবে।

বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিজরি সনের শুভ সূচনা হয়। হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম।

বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষে আমাদের দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন তথা কর্মসূচি পালিত হয়ে থাকে। আরবি নববর্ষের অনেক গুরুত্ব ও তাৎপর্য থাকা সত্ত্বেও উল্লেখ করার মতো কোনো কর্মসূচি পালন করা হয় না বললেই চলে।

হিজরি বছরের শেষ মাস এবং শুরুর মাস অনেক মর্যাদা ও ফজিলতের মাস। তাই এ হিজরি বছরের শেষ এবং নতুন বছরের প্রথম রাত ও দিন বিগত দিনের গোনাহ মাফ এবং আগামী দিনের কল্যাণ লাভের এক মর্যাদপূর্ণ সময়।

১৪৩৯ হিজরি বর্ষ আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছে। ১৪৪০ হিজরি সন প্রায় তিন’শ কোটি মুসলমানের জন্য আগামী দিনে রহমত বরকত ও নাজাতের বারতা নিয়েই পথচলা শুরু করেছে আজ। সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে হিজরি নববর্ষের প্রথম দিবসে সংবাদ দর্পণের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক মুবারকবাদ ও শুভ নববর্ষ।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ত্যাগ ও কুরবানির ঐতিহাসিক স্মৃতি স্মারক হিজরি (আরবি) সন। ইসলামের প্রচার, প্রসার এবং বিজয় কেতন উড্ডীনে হিজরি সনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যাধিক। আইয়্যামে জাহেলিয়াতের জ্ঞানপাপীরা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ইসলামকে পৃথিবী থেকে চিরতরে সরিয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। আল্লাহর নির্দেশে বিশ্বনবী দ্বীন প্রচারে প্রিয় মাতৃভূমি ত্যাগ করে মাদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত করেন। যাকে কেন্দ্র করেই আজকের হিজরি সন। যা আজো মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আলোকবর্তিকা হিসেবে জাগরিত হয়ে আছে।

মুহাররম মাস শুধুমাত্র কারবালার ঘটনা স্মরণ করার মাসই নয়, এ মাস গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার, ত্যাগের, ভালো কাজ করার, খারাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকার এবং মুসলিম বিশ্বকে নতুন করে গড়ার প্রতিজ্ঞা করার মাস। ইসলাম ও মুসলমানের জন্য এ মাসের রয়েছে অনেক শিক্ষণীয় ও পালনীয় বিষয়। তাইতো  এ মাসের ৯, ১০ ও ১১ তারিখে রোজা রাখা উত্তম।

পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকাবহ দিন। হিজরি ৬১ সালের এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবারের সদস্যরা ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে কারবালার ময়দানে শহীদ হন।

এছাড়া এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ফেরাউনের জুলুম থেকে পরিত্রাণ লাভ করেছিলেন তার অনুসারীদের নিয়ে নীল নদ পার হয়ে। তাদের পিছু নেয়া ফেরাউন সদলবলে নীল নদে ডুবে যায়।

এমন আরও অনেক তাৎপর্যময় ঘটনা ঘটেছিল এই দিনে। তবে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে কারবালার প্রান্তরে। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তার পরিবার ও অনুসারীরা যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের সুমহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে।

কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী আমাদের অন্যায় এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আজও অনুপ্রেরণা জোগায়। প্রেরণা জোগায় সত্য ও সুন্দরের পথে চলার। মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালিত হবে।  বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

পরিশেষে…
হিজরি নববর্ষ বিশ্ব মানবতাকে ইসলামের সুমহান আদর্শ ও ত্যাগের দিকেই আহবান করে। হিজরি নববর্ষ হয়ে ওঠুক মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও মুক্তির বছর। আসুন হিজরি নববর্ষে ইসলামের আলোয় আলোকিত হই। বিগত দিনের অন্যায় ও গোনাহ থেকে মুক্তি লাভ করি। যে মহান উদ্দেশ্যকে স্মরণ করতে হিজরি সন শুরু হয়েছিল,  আল্লাহ তাআলা সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে হিজরি বর্ষের যে স্মরণ, মযাদা ও কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রাখার, আমলি জিন্দেগি যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

ফেসবুকে আমরা

Facebook Pagelike Widget
আরও পড়ুন