বুধবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইং, ১৩ই ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
আমার মরনে কি ভুবন কাঁদবে!
ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯
আমার মরনে কি ভুবন কাঁদবে!

টাকা দিয়ে কিংবা জোর করেই কি, ভালবাসা বা সম্মান পাওয়া যায়? টাকা দিয়ে কিংবা জোর করেই কি, আঘাতের ক্ষতস্থানের দাগটাকে মুছে ফেলা যায়? যদি হাজারো মানুষের মাঝে এ প্রশ্ন করা হয়, তবুও হাজারো মানুষ একই উত্তর দিবে, সেটি হলো, না না না! আসলে ভালোলাগা বা ভালবাসা, সম্মান কিংবা অভিমান, যাই বলেন না কেন,  এ বিষয়গুলো দুটি জিনিসের সমন্নয়ে হয়ে থাকে। যার একটি হলো আবেগ আর অপরটি বিবেক। কারণ আপনার বিবেক যদি কাউকে ভালবাসতে বা সম্মান করতে সম্মতি না দেয়, তাহলে আপনি যতই আবেগ দেখাতে চান না কেন, আপনি ব্যার্থ হবেন! কারণ এ বিষয়গুলোর সফলতার জন্য আবেগ এবং বিবেগ উভয়েরই সমন্নয় লাগবে। তবেই যথাযথ সফলতার আশা করা যায়।

তবে আমাদের সমাজে কিছুকিছু ক্ষেত্রে অহেতুক মানুষের বিবেগকে চাপে ফেলে, আবেগকে কাজে লাগানো হয়।যদিও আবেগটা নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়ে থাকে। তার বাস্তব অবিজ্ঞতাটা আমার স্মৃতিপটে এখনো নাড়া দেয়।
আমি একবার পরিচিত এক লোকের জানাজা নামাজে উপস্থিত হলাম। নামাজ শুরু হবে হবে ভাব, ঠিক সেই মহুর্তে,মরহুমের এক আত্মীয় লাশের সামনে দাড়িয়ে সবাইকে উদ্দেশ্যে করে, চিৎকার করে বলতেছিলো যে, এই লোকটি কেমন ছিল? এই লোকটি কেমন ছিল?এভাবে তিন বার বললো!

মনের মধ্যে যতই আক্ষেপ বা ব্যাথা থাক না কেন, সামাজিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে সবাই বলেছিল, হ্যাঁ লোকটা ভালো ছিল! তবে পাশ থেকে একজন আস্তে আস্তে বলতে লাগলো, মানুষ ভালো হলে এভাবে চিৎকার করে সত্যায়ন করা লাগে না।বরং সে মারা যাওয়ার সাথে সাথে মানুষের হৃদয়টা হাহাকার করে উঠবে। আর মনের অজান্তেই বলবে নাহ! লোকটা অনেক ভালো ছিল।

আসলে আমার মস্তিষ্কে উপরে উল্লেখিত সকল চিন্তা ভাবনা এবং স্মৃতিপটে ফেলে আসা অতীত নিয়ে নাড়াচাড়া করতে হয়েছে, ইসলামে মানবাধিকার কোর্সে স্যারের লেকচারের পর।স্যার যখন মানব জীবনের বিভিন্ন হক বা অধিকার নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করতেছে, তারমধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ টপিক ছিল,পিতামাতার উপর সন্তানের হক বা অধিকার। স্যার পিতামাতার উপর সন্তানের অধিকার আলোচনার করতেছে।সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পিতামাতার কাছে দোয়া চাওয়ার বিষয়টা আলোচনায় আসলো।স্যার বললো তোমরা যে বিভিন্ন সময় দিনে দশবার করে পিতামাতার কাছে দোয়া চাও। তোমরা একটা উত্তর দাও তো, দোয়া কি আসলে চেয়ে নেয়ার জিনিস!

আসলে দোয়া জিনিসট আসে মনের গভীর থেকে।যখন কারো প্রতি মনটা সন্তষ্ট থাকে তখন মনের গভীর থেকে এমনিতেই দোয়া চলে আসে।আর কারো প্রতি যদি মন অসন্তুষ্ট থাকে, তাহলে যতই দোয়া চাওয়া হোক না কেন, আর সে সামাজিকতা রক্ষার জন্যে যতই বলুক না কেন, আচ্ছা ঠিক আছে, তবুও কিন্তু সেই দোয়ার কার্যকরী ফলাফল পাওয়া যাবে না।

তাই তোমাদের উচিত হবে পিতামাতার উপর তোমাদের অর্পিত হকগুলো যথাযথভাবে পূরন করে, তাদের সন্তষ্টি অর্জন করা। তাহলে আর দিন শেষে দশবার করে তোমাদের পিতামাতার কাছে দোয়া চাওয়া লাগবে না। তারা এমনি তোমাদের জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করবে এবং সেই দোয়াটিই হবে কার্যকরী দোয়া। এই বলে স্যার অন্য আলোচনায় চলে গেলেন…

আল্লাহ আমাদেরকে পিতামাতার যথাযথ হক আদায় সহ আমাদের উপর অর্পিত যাবতীয় হক আদায় করার তৌফিক দান করুক। সাথে এমন জীবন গঠন করার তৌফিক দান করুক, যাতে মানুষের কাছে জোর করে ভালো মানুষ হওয়ার সার্টিফিকেট নেয়া না লাগে।আর তাই তো প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন,
এমনি জীবন তুমি করিও গঠন,
মরনে হাসিবে তুমি,
কাঁদিবে ভুবন!

মোঃ মিনহাজুল ইসলাম বকসী
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

Print Friendly, PDF & Email