শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২০ ইং, ২৭শে আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য খাত বিশেষ গুরুত্ব পাক
জুন ৯, ২০২০
আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য খাত বিশেষ গুরুত্ব পাক

বাজেট হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকারের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের সম্ভাব্য হিসাব-নিকাশ। বাংলাদেশ সরকারের একটি বাজেটের সময়কাল হচ্ছে একটি অর্থবছর, যা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতি বছর জুন মাসে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সরকারের পক্ষে দেশের অর্থমন্ত্রী বাজেট বিল পেশ করেন।

আসন্ন ১১ জুন দেশে (২০২০-২০২১) অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে। এবারের বাজেটের রুপরেখা হবে প্রচলিত বাজেটসমূহ থেকে একটু ভিন্ন।

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস অচল করে দিয়েছে দেশের পুরো অর্থনীতির চাকা। এর আগে কখনো এমনটি হয়নি। এর আগে কোনো একটি দেশে বা অঞ্চলের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিত। কিন্তু একসঙ্গে পুরো বিশ্ব অর্থব্যবস্থায় ভয়ঙ্কর মন্দার ঢেউ, এটা নজিরবিহীন। তাই দেশের অর্থনীতির চাকাকে আবার সচল করে তুলতে এবারের বাজেটে থাকতে হবে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ- দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কী পরিমাণ ভঙ্গুর তা করোনাভাইরাস আগমনের পর খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে।  করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার করুণ চিত্র প্রতিনিয়ত আমাদের সামনে ফুটে উঠছে।

চারিদিকে এখন শুধু মানুষের চিকিৎসার হাহাকার। ভুরি ভুরি টাকা দিয়েও এখন কোথাও একটা বেড খালি পাওয়া যাচ্ছে না। করোনা যুদ্ধে অবশেষে সম্মুখ পরাজয় মেনে নিতে হচ্ছে।

আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে, এ স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে উন্নতি ও অগ্রগতি সাধন করতে হবে।

আমাদের দেশে বড় বড় অভিজাত হাসপাতাল হয়েছে ঠিকই। কিন্তু দেশের দুর্যোগ-মহামারীতে এগুলো মানুষকে সেবা দিতে অক্ষম। মানুষ হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করেও পাচ্ছে না সঠিক চিকিৎসা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে-পুরো দেশজুড়ে আইসিইউ বেড আছে মাত্র ৩৯৯ টি। এদের মধ্যে আবার অধিকাংশই অকেজো। ঢাকা শহরে আইসিইউ বেড রয়েছে ২১৮ টি, এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সচল মাত্র ৬৯ টি আইসিইউ বেড। যা আমাদের করুণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে।

ফলে স্বাস্থ্য খাত এখন ঢেলে সাজাতে হবে। এই বাজেটেই এ খাতের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। এ খাতে বর্তমানে বরাদ্দ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশে নিচে। এবার তা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে মোট জিডিপির ৩ শতাংশ এবং বাজেটের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখতে হবে। অত্যাধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি-ল্যাব স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিয়োগেও গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে গবেষণায় আরও বেশি মনোনিবেশ করতে হবে।

আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে যদি বরাদ্দ বাড়ে এবং সে অনুযায়ী যদি স্বাস্থ্য খাতে উন্নতির ছোঁয়া লাগে, তাহলে চিকিৎসা নিয়ে এদেশের মানুষের অভাব-অভিযোগ, উৎকণ্ঠা, হাহাকার একদিন বন্ধ হয়ে যাবে।

লেখক: ইমরান ইমন
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
Print Friendly, PDF & Email