রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
ইসকন ও শিবিরঃ তুলনামূলক বিশ্লেষণ
অক্টোবর ২৫, ২০১৯
ইসকন ও শিবিরঃ  তুলনামূলক বিশ্লেষণ

ইসকন এবং শিবির দুইটি ভিন্ন ধর্মের সন্ত্রাসবাদি সংগঠন হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। মূল বিষয়টা হচ্ছে এ সংগঠন দুটি তাদের মূল ধর্মালম্বীদের কাছ থেকে কখনো গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।  ইসলামিক স্কলার কখনো শিবিরের সকল কর্মকাণ্ডকে ইসলামী কর্মকাণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেনি এমনকি তাদের স্বীকৃতিও দেয়নি। একইভাবে ইসকন নামের সংগঠনটি সনাতন হিন্দুধর্মাবলম্বীদের মতাদর্শ বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত। দুটোর মধ্যে মিল হলো দুটোই সাধারণ ধর্মভীরু ধার্মিকদের ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করছে এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বিনষ্ট করে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করতে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রথমেই বলতে হয়-ইসকন কিন্তু হিন্দুদের কোন সংগঠন নয়,হিন্দুবেশধারী ইহুদীদের একটি সংগঠন। আবু রুশদের লেখা, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা-বাংলাদেশে‘র’ বইয়ে লেখা আছে-‘‘ইসকন নামে একটি সংগঠন বাংলাদেশে কাজ করছে। এর সদর দফতর নদীয়া জেলার পাশে মায়াপুরে। মূলতঃ এটা ইহুদীদের একটি সংগঠন বলে জানা গেছে। এই সংগঠনের প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে উস্কানিমূলক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা,যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি।” (বই- বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা-বাংলাদেশে ‘র’ পৃষ্ঠা:১৭১)

অপরদিকে বাংলাদেশ ছাত্রশিবির হল বিতর্কিত ব্যক্তি আবুল আলা মওদুদীর মতাদর্শে পরিচালিত জামাতে ইসলামের একটি অঙ্গ সংগঠন যারা ছাত্রদের নিয়ে গঠিত হয়। ২০০১সালের পরে এদেশে ছাত্র শিবিরের ব্যাপক দমননীতি লক্ষ্য করা যায়। প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির ব্যাপক আধিপত্য বিস্তার করে। তাদের কথা না শুনলে অথবা তাদের নীতিকে সমালোচনা করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিরোধী মতকে জীবন দিতে হয়েছে। শিবিরের হাতে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। কারণ একটাই দোষ ছিল যে নিহতরা শিবির মতাদর্শের বিরুদ্ধাচারণ করত। এই দেশে শিবির সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই কারণ ছাত্রাবস্থায় কমবেশি সবাই শিবিরের কার্যক্রম লক্ষ্য করেছেন। ইসলামী ছাত্রশিবির সম্পর্কে প্রথমে বলতে গেলে দেখবেন সবাই বলে এরা খুব ভদ্র,নম্র, বিনয়ী। এদের এই ভদ্রতা ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি দেখবেন যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি তাদের মতাদর্শ বিরুদ্ধে কিছু বলবেন না অথবা অনুসরণ করবেন। যদি এদের বিরুদ্ধচারণ করেন তবে আপনি এদের ভদ্রতার মুখোশ খুলে যেতে দেখবেন। এমনকি আপনাকে জীবন দিতেও হতে পারে।

তারা ধর্মপ্রান ও মেধাবি ছাত্রদের টার্গেট করে,ইসলামের কথা শুনিয়ে,বিভিন্ন সহযোগীতার মাধ্যমে ছাত্রদের তাদের দলে ভেরাতে থাকে। তারা তিন শ্রেনীর ছাত্রদের টার্গেট করে এক. মেধাবি ও কর্মঠ দুই. সমাজে প্রভাবশালী তিন. নৈতিকগুন সম্পুর্ণ। তারা বিভিন্ন কৌশলে ছাত্রদের দলে ভেরাতে থাকে এবং সেই সাথে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলস্বী হতে থাকে। প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের বিশৃঙ্খলা সুযোগেই তাদের প্রচুর উন্নতি করেছিল। তারা পরিকল্পনা করে সরকারের বিভিন্ন স্থানে তাদের নিজেদর লোক বসিয়েছে,দেশ বিদেশে মেধাবী ছাত্রদের পাড়াশুনা করাচ্ছে যারা আগামীতে তাদের বুদ্ধিজীবি হয়ে কাজ করবে। আমার মনে হয় এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় তাদের বুদ্ধিজীবিদের জবাব দেওয়ার মত বুদ্ধিজীবি অন্যান্য দলে পাওয়া মুশকিল হবে।

আমরা সাধারন জনতা ছাত্রশিবির সম্পর্কে যতটা সচেতন ইসকন সম্পর্কে ততটা অসচেতন। আপনাদের জেনে রাখা দরকার,ইসকনের সৃষ্টি কিন্তু ভারতে নয় আমেরিকার নিউইয়র্কে। মাত্র ৫০ বছর আগে,১৯৬৬ সালে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতার নাম ‘অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ’। অবাক হওয়ার মত বিষয়,এ ব্যক্তি ভারতে কোন হিন্দু শিক্ষালয়ে লেখাপড়া করেনি,লেখাপড়া করেছে খ্রিস্টানদের চার্চে।

ইসকন একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন। এ সংগঠনটির বেসিক কনসেপ্ট মধ্যযুগের চৈতন্য’র থেকে আগত। চৈতন্য’র অন্যতম থিউরী হচ্ছে-“নির্যবন করো আজি সকল ভুবন”। যার অর্থ- সারা পৃথিবীকে যবন মানে মুসলমান মুক্ত করো।

উল্লেখ্য-এ সংগঠনটি হিন্দুদের অধিকাংশ বেসিক কনসেপ্ট স্বীকার করে না। তারা হিন্দুদের উপর সম্পূর্ণ নিজস্ব কনসেপ্ট চাপিয়ে দেয়। এদের চেনার সহজ উপায়- এরা সব সময় ইউরোপীয় সাদা চামড়াদের সামনে নিয়ে আসে। সংগঠনটি মুলত এনজিও টাইপ। এরা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের দলে ভিড়িয়ে দল ভারি করে। এ কারণে তাদের আস্তানাগুলো হয় নিম্নবর্ণের হিন্দুদের আস্তানার পাশে। যেমন ঢাকা শহরে স্বামীবাগ মন্দিরের পাশে ইসকন মন্দির হওয়ার কারণ,স্বামীবাগে রয়েছে বিশাল মেথর পট্টি। এই মেথর পট্টির নিচুবর্ণের হিন্দুদের নিয়ে তারা দল ভারি করে। সিলেটেও ইসকনদের প্রভাব বেশি। কারণ চা শ্রমিকদের একটি বিরাট অংশ নিচু বর্ণের হিন্দু। এদেরকে দলে নিয়ে সহজে কাজ করে তারা।

বাংলাদেশের সনাতন মন্দিরগুলো দখল করা এবং সনাতনদের মেরে পিটিয়ে তাড়িয়ে দেয়া। যেমন স্বামীবাগের মন্দিরটি আগে সনাতনদের ছিলো,পরে ইসকনরা কেড়ে আগেরদের ভাগিয়ে দেয়। এছাড়া পঞ্চগড়েও সনাতনদের পিটিয়ে এলাকাছাড়া করে ইসকনরা। ঠাকুরগাও-এ সনাতন হিন্দুকে হত্যা করে মন্দির দখল করে ইসকন। এছাড়া অতিসম্প্রতি সিলেটের জগন্নাথপুরে সনাতনদের রথযাত্রায় হামলা চালিয়েছে ইসকন নেতা মিণ্টু ধর।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সংগঠন তৈরী করে,উগ্রহিন্দুত্ববাদের বিস্তৃতি ঘটানো। যেমন- জাতীয় হিন্দু মহাজোট,জাগো হিন্দু,বেদান্ত,ইত্যাদি। বর্তমান অনলাইন জগতে যে ধর্ম অবমাননা তার ৯০% করে ইসকন সদস্যরা।

এক দিকে লক্ষ্য করুন শিবির এবং ইসকন দুটো ধর্ম কে ব্যবহার করছে অথচ দুটো ধর্মের বেসিক কনসেপ্ট থেকে আলাদা। অসম্প্রদায়িক ভারতীয় উপমহাদেশে ইসকন সনাতন ধর্মালম্বীদের কেই এখন বেশি নির্যাতিত করছে সেই সাথে অন্যান্য ধর্মালম্বীদের মাঝে অবিশ্বাস সন্দেহ তৈরি করছে। যেটা ছাত্রশিবির করত। শিবির এবং ইসকন এর মধ্যে আরও অনেক ধরনের মিল খুঁজে পাবেন।তাদের কর্মী সংগ্রহ প্রক্রিয়া,সংগঠন পরিচালনা,বিভিন্ন পদের লোকদেরকে দলে ভেড়ানো,অথবা নিজ অর্থায়নে লেখাপড়া শিখে নিয়ে আসা ইত্যাদি কাজগুলো করছে।

সমস্যা হল এই অসম্প্রদায়িক উপমহাদেশে ছাত্রশিবির এবং ইসকনের কার্যক্রম চলতে থাকে তবে অদূর ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক হানাহানি খুনোখুনি বেড়ে যাবে। তাই সরকারের উচিত এখনই শিবিরের বিরুদ্ধে যেরকম শক্তি প্রয়োগ করেছে ঠিক তেমনি ইসকনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

লেখকঃ শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া।

Print Friendly, PDF & Email