মঙ্গলবার, ১০ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৫শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
ইসলামে তাকওয়ার গুরুত্ব
নভেম্বর ১৫, ২০১৯
ইসলামে তাকওয়ার গুরুত্ব

যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পুরপুরি আবাসিক ব্যবস্থা নেই, তাদের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ক্যাম্পাসের বাহিরে থাকতে হয়। আর সেই অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীদের কাতারে আমিও আছি।

আমি ইবি ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী একটি মেসে থাকি। আর মেসের মধ্যে এমন একটা ঘটনা ঘটেছে যা দেখে আমি পুরাই তাজ্জব! এ কেমন ঘুঘু পাখি! যে কি না আমাদের মেসের বারান্দার পিলারের মধ্যে,তার বাসা তৈরি করেছে। তাও আবার আমাদের সম্মুখেই তার যাতায়াত পথ। অথচ আমাদের গ্রামের বাড়ির দিকে,ঘুঘু পাখিকে অনেক চালাক মনে করা হয়। কারন সে অনেক গোপন জায়গায় তার বাসা তৈরি করে। যাতে ছেলেপেলেরা সহজে তার বাসা খুঁজে না পায়। আর এই পাখিটা কিনা আমাদের হাতের নাগালে,তার বাসা তৈরি করেছে এবং ডিমও দিয়েছে! কিন্তু ইচ্ছে করলেই যে কোন সময় পাখিটিকে ধরা যায়।

আমার বন্ধু সাগর প্রায়ই বলে, দোস্তো, আজ পাখিটিকে ধরে খেয়েই ফেলবো। কিন্তু একটু পরে আবার বলে নাহ! পাখিটাকে খাওয়া যাবে না। কারণ যে পাখি মানুষের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য খুব সতর্কভাবে গোপন জায়গায় বাসা তৈরি করে, আর সে কিনা আমাদের হাতের নাগালেই তার বাসা তৈরি করেছে! নিশ্চয়ই সে আমাদের কাছে থাকাকে,নিজের জন্য নিরাপদ মনে করেছে। নাহ! আমাদের কাছে তার নিরাপদ থাকার বিশ্বাসটা,আমি ভাঙ্গতে পারি না। তাই সাগর বারবার তার বিবেকের কাছে ব্যার্থ হয়ে ফিরে আসে।

হুম উপরোক্ত এই সত্য ঘটনা অবলম্বনে প্রদত্ত উদাহরণটার মধ্যে আমরা তাকওয়ার পরিচয় পেতে পারি। কেননা আমাদের এই আধুনিক সমাজে যত প্রকারের পাপকাজ আছে, তা আজ আমাদের হাতের নাগালে। সুদ ঘুষ, মদ জুয়া, যিনা ব্যভিচারসহ যতপ্রকার পাপ কাজ আছে, সব কিছুই আজ খোলামেলা ভাবে আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত। ইচ্ছে করলে মানুষ যে কোন পাপ কাজ অনায়াসেই করতে পারতেছে। আর এতো সহজে পাপ কাজ করার সুযোগ পেয়েও যারা খোদার ভয়ে সেই কাজ থেকে বিরত থাকতেছে, তারাই হলো প্রকৃত তাকওয়াবান।

কেননা একবার হযরত উবাই ইবনে কাব (রাঃ)-কে ওমর (রাঃ) তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, হে ওমর (রাঃ)! পাহাড়ের দুই ধারে কাঁটাবন, মাঝখানে সরু পথ। এমতাবস্থায় কিভাবে চলতে হবে? তিনি বলেন, গায়ে যেন কাঁটা না লাগে, তাই সাবধানে পথ অতিক্রম করতে হবে। হযরত উবাই ইবনে কাব (রাঃ) বললেন, এটাই তাকওয়া। সুতরাং বলা যায় যে, আল্লাহর ভয়ে পাপ কাজ করার সুযোগ পেয়েও, পাপ কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার নামই হচ্ছে তাকওয়া।

আর এই তাকওয়াবান ব্যক্তিরাই আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত। কেননা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন  “নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যারা অধিক তাকওয়ার অধিকারী, তারাই আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত।” (সূরা হুজুরাত : ১৩)

আর আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন যে,তিনি তাকওয়া অবলম্বনকারীদের সঙ্গে আছেন। কেননা তিনি পবিত্র কুরআনের অন্যথায় বলেছেন নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তাদের সঙ্গে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল।”(সূরা নাহল : ১২৮)

আর বিদায় হজ্জের সময় আইয়ামে তাশরীকের মাঝামাঝি সময়ে নবী ( সা) বক্তৃতা করেছিলেন ৷ তিনি বলেছিলেনঃ “হে লোকজন! সাবধান! তোমাদের আল্লাহ একজন ৷ কোন অনারবের ওপর কোন আরবের ও কোন আরবের ওপর কোন অনারবের, কোন কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের ও কোন শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের কোন শ্রেষ্ঠতা নেই,তাকওয়া তথা আল্লাহভীতি ছাড়া ৷ তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশী আল্লাহভীরু সে ই আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাবান ৷ বলো,আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌছিয়ে দিয়েছি? সবাই বললো, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) হ্যাঁ ৷ তিনি বললেন, তাহলে যারা এখানে উপস্থিত আছে তারা যেন অনুপস্থিত লোকদের কাছে এ বাণী পৌছিয়ে দেয় ৷” ( বায়হাকী)

তাহলে উপরোক্ত কুরআন হাদীসের আলোচনা থেকে বুঝা গেল যে, আল্লাহ তায়ালার কাছে সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী হতে হলে এবং আল্লাহর সঙ্গ পেতে হলে তাকওয়ার কোন বিকল্প নেই।

তাই আল্লাহ আমাদের সবাইকে অধিক তাকওয়াবান হওয়ার তৌফিক দান করুক। (আমিন)

মোঃ মিনহাজুল ইসলাম বকসী
শিক্ষার্থী,  দা’ওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

Print Friendly, PDF & Email