রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
উদ্বোধনের আগেই ভৈরব সেতুতে ফাটল
আগস্ট ২২, ২০১৯
উদ্বোধনের আগেই ভৈরব সেতুতে ফাটল

অভয়নগর প্রতিনিধিঃ
বহুল প্রত্যাশিত ভৈরব নদীর উপর সেতু নির্মাণ বাস্তবে রূপ নিলেও তা নিয়ে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে জনসাধারণের মাঝে। নওয়াপাড় তথা অভয়নগরবাসীর এ স্বপ্নের সেতুতে উদ্বোধনের আগেই ফাঁটলের দেখা দেয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। এই নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন আর নানামুখি আলোচনা-সমালোচনা । এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন,ভৈরব সেতু নির্মাণ কাজে গাফিলাতি ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের উদাসীনতার খেসারত দিতে হবে এ অঞ্চলের মানুষকে। সেই সাথে দীর্ঘদিনের লালিতস্বপ্নের বাস্তবায়ন হলেও তা হবে ক্ষণস্থায়ী। এদিকে সেতু নির্মাণের পর ব্লক উঠিয়ে বিদ্যুতের লাইন বসানো নিয়েও স্থানীয়রা শংকিত হয়ে পড়েছেন। তাদের আশংকা,স্থায়ীভাবে বসানো ব্লক উঠিয়ে প্রতিস্থাপন করা হলে তা দূর্বল হয়ে ব্লকগুলো স্বল্প সময়ে উঠে যাবে।

এদিকে উপজেলা জুড়ে সেতুর ফাটল নিয়ে এমন আলোচনা-সমালোচনার পর সরেজমিণে ভৈরব সেতুতে যেয়ে স্থানীয়দের প্রশ্নের যথার্থতা মিলেছে। এসময় সেতুর বেশ কিছু স্থানে ফাটলের মতো দাগ দেখা গেছে। কোথাও পূণরায় দাগগুলো ঢেকে দিতে বা জোড়া লাগাতে পুটিং করা হয়েছে কোথাও বা আল্পনা এঁকে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলার স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার কামরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, অতিরিক্ত তাপমাত্রার মধ্যে ওয়ারিং কোর্সের কাজ করার কারনে সেটি কোথাও কোথাও ফেটে গিয়েছে। এই ফাটা অংশগুলোকে বঙ্গবন্ধু সেতুতে যেভাবে রিপিয়ার করা হয়েছে আমরা সেভাবেই রিপিয়ার করে দিয়েছি। ব্রিজ খুলে দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন,আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিজটি খুলে দেয়া না হলেও স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের জন্য বিভাগীয়ভাবে ব্রিজটি চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিদিন বিকেল থেকে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামছে স্বপ্নের সেতু দেখতে ভৈরব নদীর উপরে দাড়িয়ে প্রকৃতির দৃশ্য উপভোগ করতে। শুধু সাধারণ মানুষই নয় নসিমন, করিমন, মাইক্রো, বাস, পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে ব্রিজটি দিয়ে। একারনে একদিকে মানুষের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করলেও সেতুর এ্যপ্রোচ রোড ও মূল সেতুতে ফাটল দেখে এবং ব্রিজের কিছু অংশে কাঁপুনি সৃষ্টি হওয়ায় গাড়ির চালক ও জনমানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি উঠেছে, ব্রিজটি উদ্বোধনের আগেই যে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে সেটি কি আসলেই নির্মাণ কাজের ত্রুটি জনিত ফাটল !

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্প হিসেবে উত্তর পূর্ব অঞ্চলের সাথে দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নের জন্য নওয়াপাড়া পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সার,সিমেন্ট,কয়লা,খাদ্যশষ্য ব্যবসায় সমৃদ্ধ মোকাম নওয়াপাড়ার বুক চিরে ভৈরব নদীর উপর নির্মিত হয় এই সেতুটি। ২০১৫ সালের জুন মাসে শুরু হয় এই সেতুর নির্মাণ কাজ। মাঝপথে জমি অধিগ্রহণের জন্য কিছুটা বিলম্ব ঘটেছিল ১৫টি পিলারের (কলাম) উপর দাঁড়িয়ে আছে স্বপ্নের এই সেতুটি। স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিজ্ঞ মহল থেকে দাবি উঠেছে অতিসত্ত্বর সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দ্বারা ভৈরব সেতুতে দৃশ্যমান এই ফাটলগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল মন্ত্রণালয় ৭০২ দশমিক ৫৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৮ দশমিক ১ মিটার প্রস্থের ভৈরব সেতুটি নির্মানে ব্যায় করেছে ৭৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজটি সম্পন্ন করে ম্যাক্স র‌্যাংকিং জয়েন্ট ভেঞ্চার নামক কোম্পানী। ম্যাক্স র‌্যাংকিং জয়েন্ট ভেঞ্চারের প্রকৌশলী

আরিফুল ইসলাম জানান,এ বছরের জুন মাসের মধ্যেই শেষ হয় এই সেতুটির নির্মাণ কাজ। তাছাড়া সেতুটির দুই পাড়ে ৩ কিলোমিটারের রাস্তা নির্মাণে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ৭ কোটি টাকা। তাই আশা করছি,এ বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সেতুটির উদ্বোধনের পর যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে। কিন্তু সরেজমিন দেখা গেছে,সেতুটির উভয়পার্শ্বে তিন কিলোমিটারের রাস্তা নির্মিত হলেও রাস্তার পার্শ্বের বর্ধিত অংশের কাজ সম্পন্ন হয়নি।

এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করার কথা বললেও সেতুটি গত জুলাই মাস থেকেই উম্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এবং নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকারের যন্ত্রপাতি মেশিনারিজ ইকুইটি নওয়াপাড়া থেকে স্থানান্তরিত করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেতুটির উপর বৈদ্যুতির বাতির আলোর ঝলকানি জ্বালোন প্রস্তুতিমূলককাজ এখনও শেষ হয়নি। ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে সেতু অভিমুখে যাতায়াতের রাস্তাটি রেলওয়ে লাইনের উপর নির্মিত হলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি না নেয়ার কারনে সেখানে কোন রেল গেট বা গেটম্যান নিয়োগের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এখনও। একারনেই প্রশ্ন উঠেছে,একদিকে সেতুর ফাঁটল অন্যদিকে রেলওয়ের উপর দিয়ে অবৈধ্য এ রাস্তা নির্মাণ করে সেতুটি উম্মুক্ত করায় সাধারণ মানুষ ও যাত্রীবাহী/পণ্যবাহী গাড়ির জানমালের নিরাপত্তার দায় কাঁধে নেবে কে/কারা?

Print Friendly, PDF & Email