রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে উত্তপ্ত জাবি, ধর্মঘট চলবে কালও
অক্টোবর ২৯, ২০১৯
উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে উত্তপ্ত জাবি, ধর্মঘট চলবে কালও

জাবি প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো দিনব্যাপী সর্বাত্মক ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত ছিল। এছাড়া কাল বুধবার তৃতীয় দিনের মতো আবারো সর্বাত্মক ধর্মঘটের ঘোষণা দেন তারা।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) অবরোধ ও ধর্মঘট কর্মসূচি চলাকালে বিকেল সাড়ে ৩টায় ‘উপাচার্য অপসারণ মঞ্চে’ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আন্দোলনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘অবরোধ ও ধর্মঘটের মধ্যে উপাচার্য না আসলেও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। শিক্ষক সমিতির নেতারা আমাদের সাথে আলোচনা করেছেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব আসেনি। আমরা বলেছি, উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আচার্যকে অবহিত করতে। শিক্ষক সমিতি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছে।’

এসময় আগামীকালও ধর্মঘট কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে প্রতিবাদী কনসার্ট ও সংহতি সমাবেশ করার ঘোষণা দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারের পাদদেশে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের কার্যকরী সদস্য রাকিবুল হক রনির সঞ্চালনায় আন্দোলনকারী শিক্ষিকা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, ‘আমরা দুর্নীতিমুক্ত সুন্দর একটা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি। আমরা ব্যক্তি স্বার্থের জন্য এখানে আসি নাই, আমরা এসেছি দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি পথ তৈরি করার জন্য। উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আমরা বার বার বলেছি আপনি দুর্নীতিযুক্ত নন, আপনি দুর্নীতিমুক্ত সেটা আপনি প্রমাণ করুন। কিন্তু তারা সেটা করতে পারেনি। পত্রিকায় বার বার উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হলেও তিনি প্রতিবাদ করেননি এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় তিনি দুর্নীতিতে যুক্ত। আমরা এই দুর্নীতিগ্রস্থ উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে আন্দোলনকারী শিক্ষক দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাবি শাখার নেতা-কর্মী সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ৮টা থেকে আন্দোলনকারীরা ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন এবং বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের প্রধান ফটক আটকে রেখে সেখানে অবস্থান নিয়ে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করেছে। তাই উপাচার্য সহ কর্মকর্তা-কর্মচারিরা অফিসে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে স্থবির রয়েছে সব ধরণের দাপ্তরিক কার্যক্রম।

এছাড়া অনুষদ ভবনগুলোতে শিক্ষকদের ভেতরে প্রবেশ করতে দিলেও শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাঁধা দেন আন্দোলনকারীরা। ফলে অধিকাংশ বিভাগে নির্ধারিত ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে উপাচার্যকে সমর্থনকারী কয়েকজন শিক্ষক আন্দোলন উপেক্ষা করে ক্লাস নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গতকালও অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে দিনব্যাপী সর্বাত্মক ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত ছিল।

Print Friendly, PDF & Email