শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২০ ইং, ২৭শে আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
ঋতুস্রাবে পুরাতন কাপড় ব্যবহারে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নারীরা
মে ৬, ২০২০
ঋতুস্রাবে পুরাতন কাপড় ব্যবহারে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নারীরা

ঋতুস্রাব প্রতিটি নারীর মাতৃত্বের পরিচয়। সাধারণত অধিকাংশ নারীর ক্ষেত্রেই ১১-১২ বছরেই এই ঋতুস্রাব শুরু হয়। এটি একটি শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যা প্রজননের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর স্থিতিকাল হলো তিন থেকে চার দিন বা কারো কারো ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাত দিন। এ সময় যোনিপথে রক্তমিশ্রিত রস ক্ষরণ হয়। যার ফলে এই সময়টায় প্রতিটি নারীর উচিত নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া এবং হাইজিন মেনে চলা।

কিন্তু সমস্যা হল অনেকেই নিয়ম মেনে চলে না।ন্যাশনাল হাইজিন সার্ভেতে দেখা যায়, বাংলাদেশের শতকরা ৮৬ ভাগ নারী ঋতুকালীন পুরনো কাপড় বা ন্যাকড়া ব্যবহার করেন। গত পাঁচ বছরে স্যানিটারি প্যাড ব্যবহারের হার কিছুটা বাড়লেও তা মূলত শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। শ্রমজীবী, নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে স্যানিটারি প্যাড ব্যবহারের প্রবণতা নেই বললেই চলে।

আইসিডিডিআরবির অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে নারীরা ঋতুস্রাবে পুরনো শাড়ি, ওড়না বা সুতির কাপড় ব্যবহার করেন। তবে পুরনো কাপড়ের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সব সময়ই চিকিৎসক ও গবেষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করে এসেছেন। এটি মেয়েদের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হতে পারে। শুধু প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিই না, নারীদের জরায়ু ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে এসব পুরনো কাপড় ব্যবহারের ফলে। কিন্তু এতো ভয়াবহতা থাকার পরেও নারীদের প্যাড ব্যবহার না করার অন্যতম কারণ হচ্ছে দারিদ্র।

শুধু যে এটিই একমাত্র কারণ তাও কিন্তু নয়, জনসচেতনার অভাবও এক্ষেত্রে কোনো অংশে কম দায়ী নয়। সত্যি বলতে এখনো গ্রামগঞ্জের অধিকাংশ নারী জানেই না প্যাড ব্যবহারের গুরুত্ব কী। ন্যাপকিন সমন্ধে তাদের খুব একটা ধারণা আছে বলে মনে করি না। তাই আমার মনে হয় এ বিষয়ে যথেষ্ট জনসচেতনতার দরকার রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখন থেকেই জোরালো প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে যে এই সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।

আকাশ বড়ুয়া, মেডিকেল শিক্ষার্থী।
akashbarua203@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email