রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
একুশটি প্রেমের কবিতা
মার্চ ৩১, ২০১৯
একুশটি  প্রেমের কবিতা

আমি খুব অল্প কিছু চাই 

হুমায়ুন আহমদে

আমাকে ভালবাসতে হবে না,
ভালবাসি বলতে হবে না
মাঝে মাঝে গভীর আবেগ
নিয়ে আমার ঠোঁট
দুটো ছুয়ে দিতে হবে না,
কিংবা আমার জন্য রাত
জাগা পাখিও
হতে হবে না
অন্য সবার মত আমার
সাথে রুটিন মেনে দেখা
করতে হবে না কিংবা বিকেল বেলায় ফুচকাও
খেতে হবে না,এত
অসীম সংখ্যক না এর ভিড়ে
শুধু মাত্র একটা কাজ
করতে হবে আমি যখন
প্রতিদিন এক বার ভালবাসি বলব
তুমি প্রতিবার
একটা দীর্ঘশ্বাস
ফেলে একটু
খানি আদর মাখা
গলায় বলবে পাগলি।

মনে থাকবে?    

আরণ্যক বসু

পরের জন্মে বয়স যখন ষোলোই সঠিক
আমরা তখন প্রেমে পড়বো
মনে থাকবে?
বুকের মধ্যে মস্তো বড় ছাদ থাকবে
শীতলপাটি বিছিয়ে দেব;
সন্ধে হলে বসবো দু’জন
একটা দুটো খসবে তারা
হঠাৎ তোমার চোখের পাতায় তারার চোখের জল গড়াবে,
কান্ত কবির গান গাইবে
তখন আমি চুপটি করে দুচোখ ভরে থাকবো চেয়ে
মনে থাকবে?

এই জন্মের দূরত্বটা পরের জন্মে চুকিয়ে দেব
এই জন্মের চুলের গন্ধ পরের জন্মে থাকে যেন
এই জন্মের মাতাল চাওয়া পরের জন্মে থাকে যেন
মনে থাকবে?

আমি হবো উড়নচন্ডি
এবং খানিক উস্কোখুস্কো
এই জন্মের পারিপাট্য সবার আগে ঘুচিয়ে দেব
তুমি কাঁদলে গভীর সুখে
এক নিমেষে সবটুকু জল শুষে নেব
মনে থাকবে?
পরের জন্মে কবি হবো
তোমায় নিয়ে হাজারখানেক গান বাঁধবো।
তোমার অমন ওষ্ঠ নিয়ে
নাকছাবি আর নূপুর নিয়ে
গান বানিয়েথথ
মেলায় মেলায় বাউল হয়ে ঘুরে বেড়াবো
মনে থাকবে?

আর যা কিছু হই বা না হই
পরের জন্মে তিতাস হবো
দোল মঞ্চের আবীর হবো
শিউলিতলার দুর্বো হবো
শরৎকালের আকাশ দেখারথথ
অনন্তনীল সকাল হবো;
এসব কিছু হই বা না হই
তোমার প্রথম পুরুষ হবো
মনে থাকবে?

পরের জন্মে তুমিও হবে
নীল পাহাড়ের পাগলা-ঝোরা
গাঁয়ের পোষাক ছুড়ে ফেলে
তৃপ্ত আমার অবগাহন।
সারা শরীর  ভরে তোমার হীরকচূর্ণ ভালোবাসা।
তোমার জলধারা আমার অহংকারকে ছিনিয়ে নিল।
আমার অনেক কথা ছিল
এ জন্মে তা যায়না বলা
বুকে অনেক শব্দ ছিলথথ
সাজিয়ে গুছিয়ে তবুও ঠিক
কাব্য করে বলা গেল না!
এ জন্ম তো কেটেই গেল অসম্ভবের অসঙ্গতে
পরের জন্মে মানুষ হবো
তোমার ভালোবাসা পেলে
মানুষ হবোইথথ মিলিয়ে নিও!

পরের জন্মে তোমায় নিয়েৃ
বলতে ভীষণ লজ্জা করছে
ভীষণ ভীষণ লজ্জা করছে
পরের জন্মে তোমায় নিয়ে
মনে থাকবে?

ভালোবাসি

রেদোয়ান মাসুদ

শুধু একটি বার বল ভালবাসি
তোমাকে আর কোনদিন ভালবাসতে হবে না।
মরুভূমির তপ্ত বালিতেও পা দিতে হবে না।
আমার জন্য তোমকে নিশি রাতে পা ভিজাতে হবে না।
আকাশ বাতাস শুনুক তোমার প্রতিধ্বনি।
সবাই জানুক কেউ আমাকে ভালবেসেছিল।
আমার হৃদয়ের ডাকে কেউ সাড়া দিয়েছিলো।
শুধু এতটুকুই আমি চাই,এর চেয়ে বেশি চাই না।
কাছে আস বা না আস,তাতে আমার কোন আপত্তি নেই।
হৃদয়কে না হয় একটি বার হলেও সান্তনা দিতে পারব
কেউতো অন্তত একটি বার হলেও প্রাণের ছোয়া দিয়েছিল।
কয়েক সেকেন্ড এর জন্য হলেও শুকিয়ে যাওয়া নদীতে
আবার ঝড়ের বেগে অশ্র“র বন্যা বয়েছিল।
শুধু এতটুকুই আমি চাই,এর চেয়ে বেশি চাই না।
এর জন্য তুমি কি চাও?
হয়তোবা আমি তোমাকে আকাশের চাঁদটি এনে দিতে পারবোনা
পূর্ব দিকে উঠা সূর্যটিকেও হাতে তুলে দিতে পারবোনা।
কিন্তু পারবো তোমার জন্য আমি রজনীর পর রজনী জেগে থাকতে
পারবো আজীবন তোমার জন্য অপেক্ষা করতে।
হয়তো আমার এই শুন্য হৃদয়ে এক সময় কেউ স্থান করে নিবে
কিন্তু তুমিতো আর আমার হলে না।
কি হবে ভয়ে এই শুন্য হৃদয় ?
আমি তো চাইনি অন্য কেউ এসে আমার হৃদয়ে গোলাপ ফুটাক
পোড়া মন আবার সতেজ হয়ে উঠুক।
আমি চেয়েছি শুধু তোমার মুখ থেকে একটি বার হলেও
প্রতিধ্বনি হয়ে বেজে উঠুক একটি শব্দ ভালবাসি
শুধু এতটুকুই আমি চাই,এর চেয়ে বেশি চাই না।

তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা

শহীদ কাদরী

ভয় নেই,
আমি এমন
ব্যবস্থা করবো যাতে সেনাবাহিনী
গোলাপের গুচ্ছ কাঁধে নিয়ে
মার্চপাস্ট করে চলে যাবে
এবং স্যালুট করবে
কেবল তোমাকে প্রিয়তমা।
ভয় নেই,আমি এমন ব্যবস্থা করবো
বন-বাদাড় ডিঙ্গিয়ে
কাঁটা-তার,ব্যারিকেড পার হয়ে,অনেক
রণাঙ্গনের স্মৃতি নিয়ে
আর্মার্ড-কারগুলো এসে দাঁড়াবে
ভায়োলিন বোঝাই করে
কেবল তোমার দোরগোড়ায় প্রিয়তমা।
ভয় নেই,আমি এমন ব্যবস্থা করবো-
বি-৫২ আর মিগ-২১গুলো
মাথার ওপর গোঁ-গোঁ করবে
ভয় নেই,আমি এমন ব্যবস্থা করবো
চকোলেট,কফি আর লজেন্সগুলো
প্যারাট্রুপারদের মতো ঝরে পড়বে
কেবল তোমার উঠোনে প্রিয়তমা।
ভয় নেই আমি এমন ব্যবস্থা করবো
একজন কবি কমান্ড করবেন বঙ্গোপসাগরের
সবগুলো রণতরী
এবং আসন্ন নির্বাচনে সমরমন্ত্রীর
সঙ্গে প্রতিযোগিতায়
সবগুলো গণভোট পাবেন একজন প্রেমিক,
প্রিয়তমা!
সংঘর্ষের সব সম্ভাবনা,ঠিক জেনো,শেষ
হবে যাবে-
আমি এমন ব্যবস্থা করবো,একজন গায়ক
অনায়াসে বিরোধীদলের অধিনায়ক
হয়ে যাবেন
সীমান্তের ট্রেঞ্চগুলোয়
পাহারা দেবে সারাটা বৎসর
লাল নীল সোনালি মাছি-
ভালোবাসার চোরাচালান ছাড়া সবকিছু
নিষিদ্ধ হয়ে যাবে,প্রিয়তমা।
ভয় নেই আমি এমন
ব্যবস্থা করবো মুদ্রাস্ফীতি কমে গিয়ে বেড়ে যাবে
শিল্পোত্তীর্ণ কবিতার সংখ্যা প্রতিদিন
আমি এমন ব্যবস্থা করবো গণরোষের বদলে
গণচুম্বনের ভয়ে
হন্তারকের হাত থেকে পড়ে যাবে ছুরি,
প্রিয়তমা।
ভয় নেই,
আমি এমন ব্যবস্থা করবো
শীতের পার্কের ওপর বসন্তের সংগোপন
আক্রমণের মতো
অ্যাকর্ডিয়ান বাজাতে-
বাজাতে বিপ্লবীরা দাঁড়াবে শহরে,
ভয় নেই,আমি এমন ব্যবস্থা করবো
স্টেটব্যাংকে গিয়ে
গোলাপ
কিম্বা চন্দ্রমল্লিকা ভাঙালে অন্তত চার
লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে
একটি বেলফুল দিলে চারটি কার্ডিগান।
ভয় নেই, ভয় নেই
ভয় নেই,
আমি এমন ব্যবস্থা করবো
নৌ,বিমান আর পদাতিক বাহিনী
কেবল তোমাকেই চতুর্দিক থেকে ঘিরে-
ঘিরে
নিশিদিন অভিবাদন করবে, প্রিয়তমা।

ভালোবাসি ভালোবাসি  

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ধরো কাল তোমার পরীক্ষা,
রাত জেগে পড়ার
টেবিলে বসে আছ,
ঘুম আসছে না তোমার
হঠাত করে ভয়ার্ত কন্ঠে উঠে আমি বললাম-
ভালবাসো?
তুমি কি রাগ করবে?
নাকি উঠে এসে জড়িয়ে ধরে বলবে,
ভালোবাসি,ভালোবাসি..

ধরো ক্লান্ত তুমি,
অফিস থেকে সবে ফিরেছ,
ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত পীড়িত,
খাওয়ার টেবিলে কিছুই তৈরি নেই,
রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে
ঘর্মাক্ত আমি তোমার
হাত ধরে যদি বলি- ভালবাসো?
তুমি কি বিরক্ত হবে?
নাকি আমার হাতে আরেকটু চাপ দিয়ে বলবে,
ভালোবাসি,ভালোবাসি…

ধরো দুজনে শুয়ে আছি পাশাপাশি,
সবেমাত্র ঘুমিয়েছ তুমি
দুঃস্বপ্ন দেখে আমি জেগে উঠলাম
শতব্যস্ত হয়ে তোমাকে ডাক দিয়ে যদি বলি-ভালবাসো?
তুমি কি পাশ ফিরে শুয়ে থাকবে?
নাকি হেসে উঠে বলবে,
ভালোবাসি,ভালোবাসি…….

ধরো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি দুজনে,
মাথার উপর তপ্ত রোদ,
বাহন পাওয়া যাচ্ছেনা এমন সময়
হঠাৎ দাঁড়িয়ে পথ
রোধ করে যদি বলি-ভালবাসো?
তুমি কি হাত সরিয়ে দেবে?
নাকি রাস্তার সবার
দিকে তাকিয়ে
কাঁধে হাত দিয়ে বলবে,
ভালোবাসি, ভালোবাসি……

ধরো শেভ করছ তুমি,
গাল কেটে রক্ত পড়ছে,
এমন সময় তোমার এক ফোঁটা রক্ত হাতে নিয়ে যদি বলি- ভালবাসো?
তুমি কি বকা দেবে?
নাকি জড়িয়ে তোমার গালের রক্ত আমার
গালে লাগিয়ে দিয়ে খুশিয়াল গলায় বলবে,
ভালোবাসি, ভালোবাসি….

ধরো খুব অসুস্থ তুমি,
জ্বরে কপাল পুড়েযায়,
মুখে নেই রুচি,
নেই কথা বলার অনুভুতি,
এমন সময় মাথায় পানি দিতে দিতে তোমার মুখের
দিকে তাকিয়ে যদি বলি-ভালবাসো?
তুমি কি চুপ করে থাকবে?
নাকি তোমার গরম শ্বাস আমার শ্বাসে বইয়ে দিয়ে বলবে,
ভালোবাসি, ভালোবাসি..

ধরো যুদ্ধের দামামা বাজছে ঘরে ঘরে,
প্রচন্ড যুদ্ধে তুমিও অংশীদার,
শত্র“বাহিনী ঘিরে ফেলেছে ঘর
এমন সময় পাশে বসে পাগলিনী আমি তোমায়
জিজ্ঞেস করলাম-
ভালবাসো?
ক্রুদ্ধস্বরে তুমি কি বলবে যাও
নাকি চিন্তিত আমায় আশ্বাস দেবে, বলবে,
ভালোবাসি,ভালোবাসি

ধরো দূরে কোথাও যাচ্ছ তুমি,
দেরি হয়ে যাচ্ছে,বেরুতে যাবে,
হঠাৎ বাধা দিয়ে বললাম-ভালবাসো?
কটাক্ষ করবে?
নাকি সুটকেস ফেলে চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বলবে,
ভালোবাসি,ভালোবাসি……

ধরো প্রচন্ড ঝড়,উড়ে গেছে ঘরবাড়ি,
আশ্রয় নেই
বিধাতার দান এই পৃথিবীতে,
বাস করছি দুজনে চিন্তিত তুমি
এমন সময় তোমার
বুকে মাথা রেখে যদি বলি ভালবাসো?
তুমি কি সরিয়ে দেবে?
নাকি আমার মাথায় হাত রেখে বলবে,
ভালোবাসি,ভালোবাসি…..

ধরো সব ছেড়ে চলে গেছ কত দুরে,
আড়াই হাত মাটির নিচে শুয়ে আছ
হতভম্ব আমি যদি চিতকার করে বলি-
ভালবাসো?
চুপ করে থাকবে?
নাকি সেখান থেকেই
আমাকে বলবে,
ভালোবাসি, ভালোবাসি……

যেখানেই যাও,যেভাবেই থাক,
না থাকলেও দূর
থেকে ধ্বনি তুলো,
ভালোবাসি,ভালোবাসি,ভালোবাসি..

দূর থেকে শুনব তোমার কন্ঠস্বর,
বুঝব তুমি আছ, তুমি আছ
ভালোবাসি,ভালোবাসি…..!

পাগলী, তোমার সংঙ্গ

জয় গোস্বামী

পাগলী,তোমার সঙ্গে ভয়াবহ জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে ধুলোবালি কাটাব জীবন
এর চোখে ধাঁধা করব,ওর জল করে দেব কাদা
পাগলী,তোমার সঙ্গে ঢেউ খেলতে যাব দু’কদম।
অশান্তি চরমে তুলব,কাকচিল বসবে না বাড়িতে
তুমি ছুঁড়বে থালা বাটি,আমি ভাঙব কাঁচের বাসন
পাগলী,তোমার সঙ্গে বঙ্গভঙ্গ জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে ৪২ কাটাব জীবন।

মেঘে মেঘে বেলা বাড়বে,ধনে পুত্রে লক্ষ্মী লোকসান
লোকাসান পুষিয়ে তুমি রাঁধবে মায়া প্রপ›ঞ্চ ব্য›জ্ঞন
পাগলী,তোমার সঙ্গে দশকর্ম জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে দিবানিদ্রা কাটাব জীবন।

পাগলী,তোমার সঙ্গে ঝোলভাত জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে মাংসরুটি কাটাব জীবন
পাগলী,তোমার সঙ্গে নিরক্ষর জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে চার অক্ষর কাটাব জীবন।

পাগলী,তোমার সঙ্গে বই দেখব প্যারামাউন্ট হলে
মাঝে মাঝে মুখ বদলে একাডেমি রবীন্দ্রসদন
পাগলী,তোমার সঙ্গে নাইট্যশালা জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে কলাকেন্দ্র কাটাব জীবন।

পাগলী,তোমার সঙ্গে বাবুঘাট জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে দেশপ্রিয় কাটাব জীবন
পাগলী,তোমার সঙ্গে সদা সত্য জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ‘কী মিথ্যুক’ কাটাব জীবন।

এক হাতে উপায় করব, দুহাতে উড়িয়ে দেবে তুমি
রেস খেলব জুয়া ধরব ধারে কাটাব সহস্র রকম
লটারি,তোমার সঙ্গে ধনলক্ষ্মী জীবন কাটাব
লটারি,তোমার সঙ্গে মেঘধন কাটাব জীবন।

দেখতে দেখতে পুজো আসবে, দুনিয়া চিতকার করবে সেল
দোকানে দোকানে খুঁজব রূপসাগরে অরূপরতন
পাগলী,তোমার সঙ্গে পুজোসংখ্যা জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে রিডাকশনে কাটাব জীবন।

পাগলী,তোমার সঙ্গে কাঁচা প্র“ফ জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে ফুলপেজ কাটাব জীবন
পাগলী,তোমার সঙ্গে লে আউট জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে লে হালুয়া কাটাব জীবন।

কবিত্ব ফুড়–ত করবে,পিছু পিছু ছুটব না হা করে
বাড়ি ফিরে লিখে ফেলব বড়ো গল্প উপন্যাসোপম
পাগলী,তোমার সঙ্গে কথাশিল্প জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে বকবকম কাটাব জীবন।

নতুন মেয়ের সঙ্গে দেখা করব লুকিয়ে চুরিয়ে
ধরা পড়ব তোমার হাতে,বাড়ি ফিরে হেনস্তা চরম
পাগলী,তোমার সঙ্গে ভ্যাবাচ্যাকা জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে হেস্তনেস্ত কাটাব জীবন।

পাগলী,তোমার সঙ্গে পাপবিদ্ধ জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে ধর্মমতে কাটাব জীবন
পাগলী,তোমার সঙ্গে পুজা বেদি জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে মধুমালা কাটাব জীবন।

দোঁহে মিলে টিভি দেখব,হাত দেখাতে যাব জ্যোতিষীকে
একুশটা উপোস থাকবে,ছাব্বিশটা ব্রত উদযাপন
পাগলী,তোমার সঙ্গে ভাড়া বাড়ি জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে নিজ ফ্ল্যাট কাটাব জীবন।

পাগলী,তোমার সঙ্গে শ্যাওড়াফুলি জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে শ্যামনগর কাটাব জীবন
পাগলী,তোমার সঙ্গে রেল রোকো জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে লেটপি কাটাব জীবন।

পাগলী,তোমার সঙ্গে আশাপূর্ণা জীবন কাটাব
আমি কিনব ফুল,তুমি ঘর সাজাবে যাবজ্জীবন
পাগলী,তোমার সঙ্গে জয় জওয়ান জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে জয় কিষান কাটাব জীবন।

সন্ধেবেলা ঝগড়া হবে,হবে দুই বিছানা আলাদা
হপ্তা হপ্তা কথা বন্ধ মধ্যরাতে আচমকা মিলন
পাগলী,তোমার সঙ্গে ব্রক্ষ্মচারী জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে আদম ইভ কাটাব জীবন।

পাগলী,তোমার সঙ্গে রামরাজ্য জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে প্রজাতন্ত্রী কাটাব জীবন
পাগলী,তোমার সঙ্গে ছাল চামড়া জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে দাঁতে দাঁত কাটাব জীবন।

এর গায়ে কনুই মারব রাস্তা করব ওকে ধাক্কা দিয়ে
এটা ভাঙলে ওটা গড়ব, ঢেউ খেলব দু দশ কদম
পাগলী,তোমার সঙ্গে ধুলোঝড় জীবন কাটাব
পাগলী,তোমার সঙ্গে ‘ভোর ভয়োঁ’ কাটাব জীবন

ভালোবাসার সংজ্ঞা -রফিক আজাদ
ভালোবাসা মানে দুজনের পাগলামি,
পর¯পরকে হৃদয়ের কাছে টানা;
ভালোবাসা মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়া,
বিরহ-বালুতে খালিপায়ে হাঁটাহাঁটি;

ভালোবাসা মানে একে অপরের প্রতি
খুব করে ঝুঁকে থাকা;
ভালোবাসা মানে ব্যাপক বৃষ্টি,বৃষ্টির একটানা
ভিতরে-বাহিরে দুজনের হেঁটে যাওয়া;
ভালোবাসা মানে ঠাণ্ডা কফির পেয়ালা সামনে
অবিরল কথা বলা;
ভালোবাসা মানে শেষ হয়ে-যাওয়া কথার পরেও
মুখোমুখি বসে থাকা।

ভুল প্রেমে কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত -তসলিমা নাসরিন
ভুল প্রেমে কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত, তবু
এখনো কেমন যেন হৃদয় টাটায়-
প্রতারক পুরুষেরা এখনো আঙুল ছুঁলে
পাথর শরীর বয়ে ঝরনার জল ঝরে।

এখনো কেমন যেন কল কল শব্দ শুনি
নির্জন বৈশাখে,মাঘ-চৈত্রে-
ভুল প্রেমে কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত, তবু
বিশ্বাসের রোদে পুড়ে নিজেকে অঙ্গার করি।

প্রতারক পুরুষেরা একবার ডাকলেই
ভুলে যাই পেছনের সজল ভৈরবী
ভুলে যাই মেঘলা আকাশ,না-ফুরানো দীর্ঘ রাত।
একবার ডাকলেই
সব ভুলে পা বাড়াই নতুন ভুলের দিকে
একবার ভালোবাসলেই
সব ভুলে কেঁদে উঠি অমল বালিকা।

ভুল প্রেমে তিরিশ বছর গেল
সহস্র বছর যাবে আরো,
তবু বোধ হবে না নির্বোধ বালিকার।

আমি যদি হতাম

 জীবনানন্দ দাশ

আমি যদি হতাম বনহংস,
বনহংসী হতে যদি তুমি;
কোনো এক দিগন্তের জলসিঁড়ি নদীর ধারে
ধানক্ষেতের কাছে
ছিপছিপে শরের ভিতর
এক নিরালা নীড়ে;

তাহলে আজ এই ফাল্পুনের রাতে
ঝাউয়ের শাখার পেছনে চাঁদ উঠতে দেখে
আমরা নিভূমির জলের গন্ধ ছেড়ে
আকাশের রুপালি শস্যের ভিতর গা ভাসিয়ে দিতাম-
তোমার পাখনায় আমার পালক,আমার পাখনায় তোমার রক্তের  পন্দন-
নীল আকাশে খইক্ষেতের সোনালি ফুলের মতো অজস্র তারা,
শিরীষ বনের সবুজ রোমশ নীড়ে
সোনার ডিমের মতো
ফালগুনের চাঁদ।
হয়তো গুলির শব্দঃ
আমাদের তির্যক গতিস্রোত,
আমাদের পাখায় পিস্টনের উল্লাস,
আমাদের কন্ঠে উত্তর হাওয়ার গান!

হয়তো গুলির শব্দ আবারঃ
আমাদের স্তব্ধতা,
আমাদের শান্তি।
আজকের জীবনের এই টুকরো টুকরো মৃত্যু আর থাকত না:
থাকত না আজকের জীবনের টুকরো টুকরো সাধের ব্যর্থতা ও অন্ধকার;
আমি যদি বনহংস হতাম,
বনহংসী হতে যদি তুমি;
কোনো এক দিগন্তের জলসিঁড়ি নদীর ধারে
ধানক্ষেতের কাছে ।

এমন ভেঙ্গে চুরে ভালো কেউ বাসেনি আগে

 তসলিমা নাসরিন

কী হচ্ছে আমার এসব!
যেন তুমি ছাড়া জগতে কোনও মানুষ নেই, কোনও কবি নেই, কোনও পুরুষ নেই, কোনও
প্রেমিক নেই, কোনও হৃদয় নেই!
আমার বুঝি খুব মন বসছে সংসারকাজে?
বুঝি মন বসছে লেখায় পড়ায়?
আমার বুঝি ইচ্ছে হচ্ছে হাজারটা পড়ে থাকা কাজগুলোর দিকে তাকাতে?
সভা সমিতিতে যেতে?
অনেক হয়েছে ওসব,এবার অন্য কিছু হোক,
অন্য কিছুতে মন পড়ে থাক,অন্য কিছু অমল আনন্দ দিক।
মন নিয়েই যত ঝামেলা আসলে,মন কোনও একটা জায়গায় পড়ে রইলো তো পড়েই রইল।
মনটাকে নিয়ে অন্য কোথাও বসন্তের রঙের মত যে ছিটিয়ে দেব, তা হয় না।
সবারই হয়ত সবকিছু হয় না, আমার যা হয় না তা হয় না।

তুমি কাল জাগালে, গভীর রাত্তিরে ঘুম থেকে তুলে প্রেমের কথা শোনালে,
মনে হয়েছিল যেন স্বপ্ন দেখছি
স্বপ্নই তো, এ তো একরকম স্বপ্নই,
আমাকে কেউ এমন করে ভালোবাসার কথা বলেনি আগে,
ঘুমের মেয়েকে এভাবে জাগিয়ে কেউ চুমু খেতে চায়নি
আমাকে এত আশ্চর্য সুন্দর শব্দগুচ্ছ কেউ শোনায়নি কোনওদিন
এত প্রেম কেউ দেয়নি,
এমন ভেঙে চুরে ভালো কেউ বাসেনি।
তুমি এত প্রেমিক কী করে হলে!
কী করে এত বড় প্রেমিক হলে তুমি? এত প্রেম কেন জানো? শেখালো কে?
যে রকম প্রেম পাওয়ার জন্য সারাজীবন অপেক্ষা করেছি, স্বপ্ন দেখেছি, পাইনি
আর এই শেষ বয়সে এসে যখন এই শরীর খেয়ে নিচ্ছে একশ একটা অসুখ-পোকা
যখন মরে যাবো, যখন মরে যাচ্ছি — তখন যদি থোকা থোকা প্রেম এসে ঘর ভরিয়ে দেয়,
মন ভরিয়ে দেয়, তখন সবকিছুকে স্বপ্নই তো মনে হবে,
স্বপ্নই মনে হয়।
তোমাকে অনেক সময় রক্তমাংসের মানুষ বলে মনে হয় না,
হঠাৎ ঝড়ে উড়ে হৃদয়ের উঠোনে
যেন অনেক প্রত্যাশিত অনেক কালের দেখা স্বপ্ন এসে দাঁড়ালে।
আগে কখনও আমার মনে হয়নি ঘুম থেকে অমন আচমকা জেগে উঠতে আমি আসলে
খুব ভালোবাসি
আগে কখনও আমার মনে হয়নি কিছু উষ্ণ শব্দ আমার শীতলতাকে একেবারে পাহাড়ের
চুড়োয় পাঠিয়ে দিতে পারে
আগে কখনও আমি জানিনি যে কিছু মোহন শব্দের গায়ে চুমু খেতে খেতে আমি রাতকে
ভোর করতে পারি।

প্রেম নিভে যেতে পারি যেসব শর্তে
কোনটিই পূরণ করেনি বাতাস,
সুতরাং আজও জ্বলে যেতে হয়
প্রেমের ¯পর্শে বাঁচার আশ্বাস ।

বাস্তবের ঘরে আর খেলা নয়
সময়-স্রোতে হব ধ্যানস্থ ঋত্বিক,
যদি যেতে হয় একা বনবাসে
রেখে যাব পদচিহ্ন নির্ভীক ।

কে বাজাও বাঁশি, ওহে বিরহের সুর
হৃদয়ে চাপা আগুন যন্ত্রণা,
ভালোবাসায় ভর্তি মধ্যাহ্ন দুপুর
ব্যথার দহনে আর যাবো না ।

জ্বলে যেতে পারি যেসব শর্তে
তার কোনোটিই পূরণ করেনি প্রেম,
একদিন হতে হবে বনবাসী
সবাই জানতো, আমিও জানতেম ।

প্রিয়তমা

আকাশে আজ ছড়িয়ে দিলাম প্রিয়
আমার কথার ফুল গো,
আমার গানের মালা গো-
কুড়িয়ে তুমি নিও..

আমার সুরের ইন্দ্রধনু
রচে আমার ক্ষণিক তনু,
জড়িয়ে আছে সেই রঙে মোর
অনুরাগ অমিয়..

আমার আঁখি-পাতায় নাই দেখিলে
আমার আঁখি-জল,
আমার কণ্ঠের সুর অশ্র“ভারে
করে টলমল..

আমার হৃদয়-পদ্ম ঘিরে
কথার ভ্রমর কেঁদে ফিরে,
সেই ভ্রমরের কাছে আমার
মনের মধু প্রিয়..

সুরের বাঁধন

শাহরিয়ার সোহেল

আমিও তোমারও সঙ্গে বেঁধেছি
আমারও প্রাণ,সুরেরও বাঁধনে
তুমি জান না,আমি তোমারে
পেয়েছি অজানা সাধনে।

সত্যিই কি মাধবী, আমি তোমাকে পেয়েছি
তুমিতো গ্যাস বেলুনের মতো উড়ে চলো
দুরন্ত আকাশে
অন্য কোথাও সুরের বাঁধনে
তোমাকে পেয়েছি আমি
আমার এ প্রাণ তোমাতে অবিচ্ছেদ্য
এক নিরাকার চিরন্তন ধ্র“ব শিখা
তোমাকে পেয়েছি অজানা সাধনে
হয়ত পাইনি কিছুই-
তবু স্বপ্নও কখনো সত্যের অধিক
রঙিন ছায়ার আচ্ছাদনে আচ্ছাদিত
সুরের মূর্ছনায় ঢেউয়ের তরঙ্গে
প্রাণ স্পন্দন উত্থিত ক্রমশ জোয়ার
বিকালের সোনালি রোদ-মখমল উষ্ণতা
ছেড়ে চলে যেতে পারি না অন্য কোথাও
মায়ার বাঁধনে রূপশালি ধানভানা শরীরের ঘ্রাণ

মাথার ভিতরে
এক চিরন্তন বোধ সদা আবর্তিত
আমি তারে নেভাতে পারি না
অন্য কোথাও অজানা সাধনে
সুরেরও বাঁধনে
শান্তির লগনে
তোমারও সঙ্গে
বেঁধেছি আমার পরমাত্মা
ছেড়ে চলে যেতে পারি না
সুরের মূর্ছনায়

ছায়া-পূজা

 অব্যয় অনিন্দ্য

আলোর অক্ষমতার যন্ত্রণাকে কে যেন নাম দিল ছায়া
এই ক্ষোভে কুলবতী আলো সন্ধ্যা হলে ঘরে ফেরে না
দ্বাররক্ষী ওজোনের খিল হাট হলে-
পৃথিবীর সাথে বউছি খেলতে খেলতে তাপ হয়ে যায়,
মেরু তুষারকে করে জ্যোৎস্নার কান্না
সমুদ্রকে দেয় ঘর ভাঙার পাসওয়ার্ড।

কুলবতী আলোর ক্ষোভে কুলনাশ নিয়ে
আমাদের ম্যা ম্যা কূটনীতির বেডরুমে পৌঁছবে না
কূটনীতির টাইয়ের নটে অনেক আলো-
উত্তরাধুনিক আলো,ধার্মিক আলো,
সাম্যবাদী আলো,গণতন্ত্রী আলো।
এত আলো-তবু
কম সংখ্যকদেরকে অন্ধকার ছুড়ে দিতে
নিরন্তর ছায়া-পূজা করছে লক্ষ-কোটি পেঁচা।

সবখানে আলো পৌঁছার প্রত্যাশা নিয়েই সূর্য
হিলিয়ামে পুড়ে পুড়ে পৃথিবীর বুকে দুধ যোগায়
তবুও মানবতার সামনে কেবল ছায়ারই রাজত্ব
কেবল পেঁচাদেরই হুলুধ্বনি।

তেজপাতা

 গিরীশ গৈরিক

গর্ভবতী রিভলবারের সন্তান গর্ভেই থাক
বোমারু বিমানের ডিম বিমানেই থাক
এ সকল ছানা আমাদের পুকুরের হাঁসের সাথে খেলা করে না
বৃষ্টি শেষে বাড়ির উঠানে এসে প্যাক প্যাক করে ডাকে না
বৃক্ষ কখনো মলত্যাগ করে না তার জন্মজালে
এ সকল বিষয় অধ্যায়নে আরো জানা যায়
সাপলুডুর সাপ ও মই কোনো সমার্থক শব্দ নয়
নার্সের কাছে আর যাব না
আর দেখাবো না গোপন ব্যথা
সব ব্যথাই চেটে খাবে প্রসবকালীন গাইয়ের মতো

অনন্তিকা

 বিলাস দাশ

মাঝ দুপুরের অতিথি তুমি,এসেছো সন্ধ্যাবেলা
তবুও তোমার পদচারণায় রাঙা এ কূল-
হয়েছে উতলা,এই পরন্ত বেলা।
তারা হয়ে আসবে তুমি এই আঁধারে
তাই ভেবে নেমেছি শঙ্খচিল হয়ে কিনারে,
হয়েছো তুমি সুখতারা,রেখেছো আমায় ওই সন্ধ্যা ঘিরে।
অবাধ্য কেশ তোমার তুলছে ঢেউ,মৃদু বাতাসে
চিকন কোমরও দুলছে আধো ভেজা অঙ্গে
তাই দেখে কুঞ্জ ছেড়েছে রসিক ভ্রমর,
অন্তরালে হলো পুলকিত,তোমার কোমল দেহের সুগন্ধে
অথৈ আনন্দের নীরব সাগরের জল রাশি,
সম-সম উচ্ছন্নেও ওই পারের দিকহারা ব্যথিত ফুলটুশি।
অষ্টাদশীর বুকটা তোমার শূন্য করে
আপন মনে উপ-বসনখানি বিছিয়েছ নিঃসঙ্গ বালু চরে,
লোকলজ্জা ভুলে সেই দৃশ্য ধরেছে প্রকৃতির মনে
তাই তো,দোয়েল-কোয়েল আর-
কোকিলের সুর রেখেছে তোমায় ঘিরে
দেখেছো কি তাকিয়ে একবারও পিছু ফিরে?
হেমন্তের আবছা কুয়াশায় অধর তোমার হয়েছে প্রজাপতি
কিংবা আষাঢ়ে ভেজা সুমিষ্ট নাসপাতি
নয়নের কাজল ছুঁয়েছে গাল,
তাতে কি লুকিয়েছে তোমার যৌবন অনল?
ওই দ্যাখো তাকিয়ে,অর্ধজীবন্ত শামুক ঝিনুকেরাও-
অগোচরে ছুঁতে চায় তোমার পতিত আঁচল
নির্জন দ্বীপে জাগ্রত নারী তুমি অনন্তিকা
তোমার পদভারে এ ভূমি আজ প্রাণবন্ত
জ্বলে উঠেছে বিংশ শতাব্দিতে
নিভে যাওয়া প্রণয়ের অগ্নিশিখা।

ভালোবাসায় নম

 মান্নান পলাশ

রাত বাড়লে মেরুদণ্ড ঋদ্ধ
হাড়ে বাড়ে এক নতজানু-
প্রেম-অপ্রেমের বেলা-অবেলায়,
বেখেয়ালে ভালোবাসা পালায়।
বিড়ালছানার মতো আদর,ময়নার
মতো কথা শেখাতে হয়;
নয়তো বাঁকা হাড়গোড়ে-
বাসমতি গন্ধ ছড়িয়ে সে পালায়,গাংচিল
তেপান্তরে-হায় হায় জীবনবেদে সজারু
ঝনঝনায়,ভালোবাসার আশায় বসে থাকা বটতলায়।
ভালোবাসার তড়খড় লতিয়ে লালনের কালীগঙ্গায়-
জল বাড়ে,কবিতে কবিতায় ভালোবাসার মোহন বাঁশি বাজায়,
কে বাজে,প্রেম-ভালোবাসার মরুদ্যানে ভালোবাসার শব্দরা
শুকিয়ে খড়খড়ে মড়েমড়ে রয়।
আপেক্ষিক সূত্র মেনে যায় না,হৃদয়াঞ্চলের নদীতে পানশি চায়,
ছলছলিয়ে খিলখিলিয়ে ময়ূর সময় পেলে,ভালোবাসারা পুঁটির মতো
তেল ছড়িয়ে,হৃদয় জুড়িয়ে সন্ধ্যার আগেই আঁচলে জড়ায়।
ভালোবাসতে গেলে একটু পাগল হতে হয়,মজনু তো নয়
জীবনভর ভরপেট ভালোবাসায় থাকে কবিরা,তাদের মিথ্যে
ভালোবাসার কাব্যমালা গাঁথতে হয়,নইলে কী ৩৩ বছর যায়?

 

প্রিয় সুহৃদ,আপনাদের লেখা নিয়ে আমাদের এ আয়োজন তাই আজই আপনার লেখা ছড়া,কবিতা,গল্প,ছোট গল্প,রম্য
রচনা,প্রবন্ধসহ সাহিত্য নির্ভর যেকোন লেখা পৌঁছে দিন এই ঠিকানায়। ই-মেইলঃ darpanjournal@gmail.com
Print Friendly, PDF & Email