সোমবার, ৬ই জুলাই ২০২০ ইং, ২২শে আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
করোনার ভয়াল থাবায় হতাশায় শিক্ষার্থীরা
জুন ৩, ২০২০
করোনার ভয়াল থাবায় হতাশায় শিক্ষার্থীরা

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর ভয়াল থাবা প্রায় অধিকাংশ দেশকেই করে রেখেছে লকডাউন আর এই লকডাউনে শিক্ষা ব্যবস্থার যে অচল অবস্থার সৃষ্টি করেছে তাতে করে আগামীতে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে অনেক বেগ পেতে হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে কেননা সংকট নিরসনে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ থাকলেই আগাচ্ছে নাহ শিক্ষাবছর যার ফলে ক্লাস করেও একই অবস্থানে থেকে যেতে হচ্ছে অনেকটা সময় আবার এই অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগও মিলছে নাহ অনেক শিক্ষার্থীর যার ফলে উচ্চশিক্ষায় বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সৃষ্টি হতে যাচ্ছে সেশন জট এবং এই সেশন জটের কারনেই যথাসময়ে তারা চাকুরীর নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে নাহ।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষাজীবন শেষ করার পর প্রায় প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীকেই নতুন করে একটা নির্দিষ্ট সময় বা বয়স পর্যন্ত চাকুরী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকে।যার ফলে বলা যাই শিক্ষাজীবনের ন্যায় এই চাকুরী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাও শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটা ধাপ।
গত ২৬ এপ্রিল ইউজিসি জানিয়েছিল, বর্তমানে ৬৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্য়ক্রম চলছে। এর মধ্যে ৫৬টি বেসরকারি ও বাকি সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের হার ছিল ৬০-৭০%। অপরদিকে, করোনার প্রাদুর্ভাবে ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করেছে এনটিআরসিএ। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৫-১৬ মে এবং লিখিত পরীক্ষা ৭-৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু করোনা মহামারি তা আটকে দিয়েছে এবং এতে ১১.৭২ লাখ প্রার্থী আবেদন করেছিল। এভাবে প্রায় সব নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারী করতেই পারছে না। ফলে চাকুরী প্রার্থীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তাদের এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য ২০২০ সালকে চাকুরী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ‘নন কাউন্টেবল’ করা যাই কিনা সেটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভাবা উচিত তাহলে কিছুটা হলেও তারা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

আবার সেশন জটের কারণে শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষা শেষ করে তাদের চাকরিতে আবেদনের জন্য ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় এক বছর কম সময় পাবে এই লকডাউনের কারনে। তাই করোনা পরিস্থিতির কারণে শুধু যাদের বয়স শেষের দিকে তারা নয় শিক্ষার্থীসহ সবাই তাদের চাকুরীতে আবেদনের জন্য সীমিত ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় এক (১) বছর সময় হারাবে।

এছাড়া জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় প্রার্থীরা বর্তমানে ৩২ বছর পর্যন্ত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাই। অথচ সাধারণ বিসিএসে অংশগ্রহণকারীরা ৩০ বছর পর্যন্ত সুযোগ পাচ্ছেন। যার ফলে এখানেই একটা সংঘর্ষিক অবস্থার তৈরী হয়েছে যার সমাধানে অবশ্যই সাধারণ বিসিএসে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বয়স ৩২ করা প্রয়োজন।

আবার ১৯৯১ সালের পুর্বে আমাদের দেশে সরকারি চাকুরীতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭ বছর। ১৯৯১ সালের জুলাই মাসে সেটা বাড়িয়ে করা হয় ৩০ বছর। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৫৮ বছর বর্তমানে গড় আয়ু বেড়ে দাড়িয়েছে ৭২ বছর অর্থাৎ এই তিন দশকে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে প্রায় ১৪ বছর।সেই দিক বিবেচনা করলেও সরকারি চাকুরী তে প্রবেশের বয়সসীমা কিছুটা হইলেও বাড়ানো উচিত বলে মনে করি।তাছাড়া করোনাকালীন লকডাউনের এই সময়টাকে সকলের জন্য লস টাইম বিবেচনা করে চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো প্রয়োজন।

লেখক পরিচিতিঃ
রাকিবুল ইসলাম রাকিব
সাধারণ সম্পাদক,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা

Print Friendly, PDF & Email