সোমবার, ৬ই জুলাই ২০২০ ইং, ২২শে আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
কি ভাবছেন অনলাইন ক্লাস নিয়ে ববি’র শিক্ষার্থীরা!
মে ১৮, ২০২০
কি ভাবছেন অনলাইন ক্লাস নিয়ে ববি’র শিক্ষার্থীরা!

ববি প্রতিনিধিঃ
বর্তমানে অনলাইন ক্লাস নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের মাঝে বেপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কেউ বলছেন অনলাইন ক্লাস করলে সেশনজট মুক্ত থাকা যাবে। আবার কেউ বলছেন সংকটময় সময়ে অনলাইন ক্লাস নেওয়াটা বোকামি। জীবন আগে নাকি অনলাইন ক্লাস আগে। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস করার বিপক্ষে অবস্থান করছেন

এমনকি অনলাইন ক্লাস না করার জন্য প্লাকার্ড লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, জাতির এই ক্রান্তিকালে অনলাইনে ক্লাস করা সম্ভব না।শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছেন যেখানে অনেক গ্রামে আছে কোন নেটওয়ার্ক পাইনা।দরিদ্র শিক্ষার্থীরা নিজের খাবার ঠিক মতো যোগাড় করতে অক্ষম সেখানে নেট ক্রয় করে অনলাইনে ক্লাস করা তো দুরে থাক।অনেকে টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ ও পরিবারের খরচ যোগান।বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে সেটিও করা এখন সম্ভব হচ্ছেনা।তাই অর্থ কষ্টে ও খাদ্য সংকটে আছেন তাঁরা।এ সময় নেট ক্রয় করে কোনভাবেই অনলাইনে ক্লাস করা সম্ভব হবেনা।এমন সব অভিযোগ ওঠে শিক্ষার্থীদের মাঝে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলীসা মুনতাজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।ফলে দুর্গম এলাকায় যারা আছেন তাদের নেট স্পিড ভালো মতো পাইনা।তাছাড়া ক্রান্তিকালে অনেকে আর্থিক সংকটে আছেন।এমতাবস্থায় কেউ ক্লাস করতে পারবে কেউ পারবেননা এমন অমানবিক আচারণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঠিক হবেনা।

তিনি আরো বলেন,শুনছি প্রশাসন ঈদের পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষার ব্যাপারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেজনজট ও পড়াশোনা ত্বরান্বিত করতে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলেও জানা যায়।যদি এমন হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকাকালীন সকল শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে ক্লাস পরীক্ষা নিয়েও অনেক বিভাগের সেশনজট আছে।আর এই ক্রান্তিকালে অনেক অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস পরীক্ষা দিতে পারবেন না।ফলে আমরা (শিক্ষার্থী) ক্ষতির সম্মুখীন হবো বেশি।তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মানবিক আচারণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা অনেকে চেয়েছিলাম অনলাইন ক্লাস করতে।যাতে সেশনজট মুক্ত থাকতে পারি।কিন্তু পরে অনুুধাবন করে দেখলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের।সংকটময় সময়ে অনেক শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবার আর্থিক সংকটে আছেন।তারা কখনোই নেট ক্রয় করে অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবেননা।ফলে অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতির ব্যাপারে অসমতা দেখা দিবে বা দিয়েছে।যেটি শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক আচারণ করা হবে।এজন্য আমাদের দাবি ঈদের পরে যেন অনলাইন ক্লাস বন্ধ করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Print Friendly, PDF & Email