রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
চার বছরেও শেষ হয়নি হোসনি দালানে গ্রেনেড হামলার বিচার
সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯
চার বছরেও শেষ হয়নি হোসনি দালানে গ্রেনেড হামলার বিচার

দর্পণ ডেস্কঃ
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে পুরান ঢাকার হোসনি দালানে গ্রেনেড হামলার চার বছর পার হলেও এর বিচার কাজ আজও শেষ হয়নি। মোট ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার অদক্ষতায় সাক্ষ্যগ্রহণে তৈরী হয়েছে প্রতিবন্ধকতা।

২০১৭ সালের মে মাসে ১০ জঙ্গির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। এরপর প্রায় আড়াই বছর কেটেছে। কিন্তু সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়নি। সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি বদলি হওয়ার পর বিচার কাজে গতি ফিরেছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তার অদক্ষতায় বর্তমানে বিচার কাজে আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে।

নাবালক আসামিকে সাবালক সাজিয়ে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করায় সাক্ষ্যগ্রহণে চলে এসেছে স্থবিরতা। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

জানতে চাইলে ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন,‘চাঞ্চল্যকর এ মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলাটি গত বছরের এপ্রিল মাসে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য বদলি হয়ে আসে।

এখানে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এর আগে একজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ কালে কারাগারে থাকা আসামি জাহিদ হাসান ওরফে রানার আইনজীবী দাবি করেন,চার্জশিট দাখিলের সময় রানার বয়স ছিল ১৭ বছর। সে অনুসারে রানার বিচার হবে শিশু আদালতে।

এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সম্প্রতি এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেছেন। এরপর আরেক আসামিকেও নাবালক দাবি করেছেন তার আইনজীবী।

সে বিষয়েও ট্রাইব্যুনাল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সোমবার তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আইনি এ জটিলতা কেটে গেলে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম ফের গতিশীল হবে।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন,‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তার অদক্ষতায় চার্জশিটে বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। নাবালক আসামিকে সাবালক সাজিয়ে তিনি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন। মূলত এ কারণেই সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম এগোচ্ছে না।

এ আইনি জটিলতায় গত এক বছরে কোনো সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। বিনা বিচারে আসামিরা কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া অদ্যাবধি যেসব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে- তা অভিযোগ প্রমাণের মতো যথেষ্ট নয়।’

Print Friendly, PDF & Email