সোমবার, ২০শে জানুয়ারি ২০২০ ইং, ৭ই মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
জাবিতে উপাচার্য অপসারণের দাবিতে ফের বিক্ষোভ শুরু
জানুয়ারি ৫, ২০২০
জাবিতে উপাচার্য অপসারণের দাবিতে ফের বিক্ষোভ শুরু

জাবি প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে ফের বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এসময় আগামী ৯ জানুয়ারি ফের বিক্ষোভের ডাক দেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের সভাপতি সুস্মিতা মরিয়ম।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার দুপুর ১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে মিছিলটি বের করা হয়।

মিছিলটি কয়েকটি সড়ক ঘুরে নতুন প্রশাসনিক ভবন ঘুরে মুরাদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘হামলা করে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’, অবৈধ মামলা তুলে নিতে হবে, ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সেই ভিসি চাই না’, ‘যেই ভিসি সন্ত্রাস করে, সেই ভিসি চাই না’ স্লোগান দেন।

ছাত্রফন্ট্রের সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমানের সঞ্চালনায় পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্গ মুক্ত করতে দূর্নীতিবিরোধী আন্দোলন শুরু করি । ইউজিসি ও শিক্ষামন্ত্রনালয়ের আশ্বাসে আমরা ধীর গতিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। তবে মিডিয়ার মাধ্যমে তদন্তের বিষয়টি জানতে পেরেছি । কিন্তু আদৌ তদন্ত হচ্ছে কিনা নিশ্চিত নই।’

‘এসময় তিনি তদন্তের রিপোর্ট জনসাধারণের মাঝে প্রকাশ করে উপাচার্যকে অপসারণ মধ্য দিয়ে জাবিকে কলঙ্কমুক্ত করার জোট দাবি সরকারের কাছে জানান।’

সুস্মিতা মরিয়ম বলেন, ‘সারাদেশে দু:শাসক আওয়ামী সরকার চেপে বসেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকার বাম গনতান্ত্রিক জোটের ‘কালো দিবসে’ হামলা করেছে। পাটকল শ্রমিকরা না খেয়ে মারা যাচ্ছে সরকারের সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সৌদি আরব থেকে আমাদের নারী শ্রমিকরা লাশ হয়ে ফিরছে ।’

‘সেই দু:শাসনের অংশ হিসেবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তেলবাজ উপাচার্য নিযুক্ত হয়েছে। উপাচার্যরা ছাত্রলীগের সাথে আতাত করে লাঠি আর দুশাসন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে করায়ত্ত করে রেখেছে। তার ধারাবাহিকতা জাবিতে কোটি কোটি টাকার দূর্নীতি। ছাত্রলীগের হাত ধরে জাবি ভিসির যে দুনীর্তি বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন তা উপাচার্য অপসারণে না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের ( মাক্সবাদী) সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত দে বলেন, ৫ নভেম্বর উপাচার্যের মদদে সাধারণ, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক কর্মীদের উপর ছাত্রলীগের একাংশের হামলার আজ বিচার হয়নি। উপাচার্য সেই হামলাকে গনঅভ্যুথান ঘোষনা করে অবৈধভাবে হল বন্ধ করে। যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে খুলে দিতে বাধ্য হয়।’

‘ উপাচার্যপন্থি শিক্ষরা মিডিয়ার সামনে মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছে। আমরা বলতে চাই, যেখানে অত্যাচার, দূর্নীতি হয়েছে জাবি শিক্ষার্থীরা সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এই দূর্নীতিবাজ উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের জাহাঙ্গীর আলম, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শহিদুর ইসলাম পাপ্পু।

Print Friendly, PDF & Email