বুধবার, ২৯শে জানুয়ারি ২০২০ ইং, ১৬ই মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
জাবিতে পাটকল-শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে বিক্ষোভ
ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
জাবিতে পাটকল-শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে বিক্ষোভ

জাবি প্রতিনিধিঃ
খুলনায় ১১দফা দাবিতে আমরন অনশনরত পাটকল শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার নেতা-কর্মীরা।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্তর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশের শুরুতে ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বরের শহীদ বুদ্ধিজীবিদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

সমাবেশে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ জাবি শাখার মুখপাত্র আরমানুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের গতানুগতিক ধারাবাহিকতায় আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে স্মরণ সভা, আলোচনা সভা করার কথা, কিন্তু সে জায়গায় আমাদের শ্রমিকদের জন্য বিক্ষোভ মিছিল করতে হচ্ছে। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও শ্রমিকরা তাদের অধিকার পায়না বরং না খেয়ে মরতে হয়। আজকে বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রমিকদের পক্ষে, ছাত্রদের পক্ষে, গনতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য কোন বুদ্ধিজীবী পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সবসময় সাধারণ মানুষের পক্ষে, শ্রমিকদের পক্ষে, ছাত্রদের পক্ষে রাজপথে থাকবে।’

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিলউজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো ন্যায়ের শাষণ প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু আজ যখন ন্যায়ের পক্ষে কেউ কথা বলে তখন তাকে রাষ্ট্র কর্তৃক দমিয়ে রাখা হয়। ফলে দেশে সর্বত্র অনিয়মের রাজনীতি চলছে। দেশের শ্রমিকদের না খেয়ে মরতে হচ্ছে। আগামি ১৫ ডিসেম্বর শ্রমিকদের সাথে আলোচনায় যদি তাদের ১১ দফা দাবি মেনে নেয়া না হয় তাহলে শ্রমিকদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আবার মাঠে নামবে।’

আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের কার্যকরী সদস্য রাকিবুল হক রনি। শ্রম প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যর নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের উচিত ছিলো আগে থেকেই এই সমস্যার প্রতিকার করা। এদেশে যখন কোনো শ্রমিক মারা যায় তখন তার পরিবারকে ৫০০০০ টাকা দিয়ে সরকার দায় সারে। দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়লেও, নেওয়া হয়না শ্রমিকদের অবস্থা পরিবর্তনে কোনো উদ্দোগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই শ্রমিকদের টাকায় পড়াশোনা করি। তাই তাদের প্রতি আমরা দায়বদ্ধতা অনুভব করি। এই রাষ্ট্র সাধারণের রাষ্ট্র নয়। তাই যদি হতো তাহলে শ্রমিকদের না খেয়ে মরতে হতনা।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে খুলনায় ১০ ডিসেম্বর থেকে চলমান আমরণ অনশনে অসুস্থ হয়ে আব্দুস সাত্তার (৫৫) নামের এক পাটকল শ্রমিকের মৃত্যু হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি প্লাটিনাম জুট মিলের তাঁত বিভাগের শ্রমিক ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email