রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
জীবনের সার্থকতা অমর হয়ে বেঁচে থাকায়
নভেম্বর ১, ২০১৯
জীবনের সার্থকতা অমর হয়ে বেঁচে থাকায়

সময়টা ফাস্ট ইয়ার। এখনো সবার সাথে ভালো ভাবে পরিচয় হইনি। এর মধ্যেই দেখলাম যে, আমার এক বন্ধু আমাদের ডিপার্টমেন্টের ফেসবুক গ্রুপে নিজের একটা ছবি দিয়ে নিচে লিখলো;আমি যদি মরে যাই, তোমরা কি আমায় ভুলে যাবে বন্ধু? পোস্টে দেখলাম অনেকে কমেন্ট করেছে। অনেকে লিখেছে না বন্ধু আমি কখনো তোমায় ভুলবো না! আমিও আবেগের বশে লিখলাম, না বন্ধু কক্ষণো তোমায় ভুলবো না। তোমাকে কি ভুলতে পারি!

আসলে তখন বন্ধুত্বের সম্পর্কের চাহিদা অনুযায়ী ঐ কথাটিই যথাযথ ছিল। তবে পৃথিবীর ধর্ম হলো মানুষকে ভুলে যাওয়া। তাহলে পৃথিবীর চাহিদা অনুযায়ী সেই বন্ধুকে আমরা ভুলে যাবো এটাইতো স্বাভাবিক তাই নয় কি?

হুম;তবে পৃথিবী সবাইকে ভুলে যায় না। কিছুকিছু মানুষকে পৃথিবী আজীবন স্মরণ রাখে। কারণ তারা পৃথিবীর স্বার্থে কাজ করে যায়।

যারা আমার স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করেছে, তাদেরকে যদি সেই উপকারের প্রতিদান নাও দিতে পারি, তবে সেই কাজটার ফল যখন আমার সামনে আসবে, তখন স্বাভাবিক ভাবে সেই ব্যক্তিটির প্রতিচ্ছবি আমার সামনে ভাসতে থাকে অর্থাৎ তাকে কখনো ভুলে যাওয়া হবে না, তাকে মনে রাখতেই হবে। তাহলে যারা পৃথিবীর স্বার্থে কাজ করে গেছে তাদেরকে পৃথিবী কিভাবে ভুলে যেতে পারে!

তাহলে বুঝা গেলো পৃথিবী মানুষকে ভুলে যাবে এটাও যেমন স্বাভাবিক, তেমনি পৃথিবী মানুষকে আজীবন মনে রাখবে এটাও  স্বাভাবিক। যার বস্তব উদাহরণ আমরা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দিকে তাকালেই পাই। রাসূল (সাঃ) সেই ব্যক্তি যিনি ১৪০০ বছর আগে মৃত্যু বরণ করেছে কিন্তু পৃথিবী এখনো তাঁকে সম্মানের সাথে স্মরণ করে এবং আজীবন করবে। অনেকে হয়তো বলতে পারেন যে, তিনি তো আল্লাহর প্রেরিত বান্দা ও রাসূল। তাঁর সাথে কি আমাদের তুলনা চলে!

তাহলে আপনি এবার বলুন তো যে, ছোট বেলায় রুটির দোকানে তো অনেকে কাজ করেছে,তার মধ্যে কয়জনকে পৃথিবী মানুষের কাছে পরিচিয় করিয়ে দিয়েছে! লেটো গানের দলে তো অনেকে গান গেয়ে বেড়িয়েছে,তা কয়জন মানুষ বা তাদেরকে চেনে! তবে আজ কেন নজরুলকে পৃথিবী ভুলে যায় নি! কেন আজ সেই দুখু মিয়ার জীবনবৃত্তান্তের উপর আমরা ডক্টরেট ডিগ্রি নিচ্ছি? নিশ্চয় কিছু কারণ আছে, তা না হলে দেশের এতো বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে তার লিখে যাওয়া সামান্য উদ্ধৃতি নিয়ে ক্লাসের পর ক্লাস এতো লেকচার দিবে কেন?

তার মারা যাওয়ার এতো বছর পরেও কেন তার জীবনী আমাদেরকে পড়তে হয়! কারণ হলো একটাই সেটা হলো, সে পৃথিবীর স্বার্থে কিছু করে গেছে। তাই পৃথিবী যে কোন উপায়ে তাকে স্মরণ রাখবে। কারণ কীর্তিমানের কখনো মৃত্যু হয় না, তারা সারাজীবন অমর হয়ে বেঁচে থাকে। তাই আমাদের উচিত পৃথিবীরর স্বার্থে কিছু করে যাওয়া।

পরিশেষ কাজী নজরুলের সেই উদ্ধৃতিটি না বললেই নয়। যেদিন তুমি এসেছিলে ভবে,কেঁদেছিলে তুমি হেসেছিলো সবে। এমন জীবন করিও গঠন, মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই জীবন গঠন করার তৌফিক দান করুক।

মোঃ মিনহাজুল ইসলাম বকসী
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া

Print Friendly, PDF & Email