বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল ২০২০ ইং, ২৬শে চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
জোড়পূর্বক তিলক দিয়ে নবীন বরণ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
মার্চ ১১, ২০২০
জোড়পূর্বক তিলক দিয়ে নবীন বরণ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

জাবি প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নবীনদের বরণ করে নিতে কপালে জোড়পূর্বক তিলক দিয়েছে বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। এত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নবীন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ ব্যাচের স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়। সেদিন বিভাগটিতে নবীনরা ক্লাস করতে গেলে সিনিয়ররা লাইন ধরিয়ে সকলের কপালে আগুন নাড়িয়ে নাড়িয়ে তিলক দেয়। এসময় তারা বোরকা পরিহিত মেয়েদেরকেও ছাড় দেয়নি। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নাম প্রকাশ করতে চাইনি। ঘটনাটি অভিভাবকদেরও ক্ষুদ্ধ করেছে।

মঙ্গলবার রাতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিভাগে প্রবেশের সময় আমাদের জোড় করে তিলক লাগিয়ে দেন সিনিয়ররা। তিলক লাগানোর সময় আগুন নাড়িয়ে নাড়িয়ে হিন্দু রীতিতে বরণ করে তারা। আমরা নিষেধ করলেও তারা আমাদের কথা শোনেনি।’

এব্যাপারে একজন অভিভাবকের সাথে কথা বললে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছি। কিন্তু পড়ালেখা করতে গিয়ে যদি নিজ ধর্মমতের বিরুদ্ধে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয় তবে সেটা নিশ্চই মঙ্গল বয়ে আনবে না। তিলক লাগিয়ে এই নবীনবরণ একজন মেয়ের বাবা হিসেবে আমাকে কষ্ট দিয়েছে। এককথায় এটাকে আমি ধর্মীয় আগ্রাসন বলতে চাই।’

তবে বিষয়টি অস্বীকার করে ইনাস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক সহকারী অধ্যাপক রেজাউল বলেন, ‘প্রতিবারের ন্যায় এবারও নবীনদের বরণ করা হয়েছে তবে কোন ধর্মের রীতি অনুসরণ করা হয়নি।’

এবিষয়ে ইনস্টিটিউটের ইমিডিয়েট সিনিয়র ৪৮ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা কারো কপালে জোড়পূর্বক তিলক দেইনি। আর এভাবে বরণ করে নেওয়া আমাদের ইনস্টিটিউটের একটি রীতি। আমরা কোন ধর্মমত আঘাত করিনি বা করতেও চাইনা। এটা শুধু একটা সংস্কৃতি।’

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের রাখীবন্ধনের মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য বাংলাপিডিয়াতে কপালে তিলক দেওয়াকে হিন্দু সংস্কৃতি বলে আখ্যা দেওয়া হলেও বাঙ্গালীর সংস্কৃতি বলা হয়নি। বাংলাপিডিয়াই বলা হয় তিলক ধারণ করা হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তগনের বিশেষ চিহ্ন, বাঙ্গালী সংস্কৃতির অংশ নয়। আর রাখীপূর্ণিমা ভারতের একটি উৎসব। এই উৎসব দিদি বা বোনেরা তাদের ভাই বা দাদার হাতে রাখী নামে একটি সুতো বেঁধে দেয়। হিন্দু, জৈন ও শিখরা এই উৎসব পালন করে। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব উদযাপিত হয়।

Print Friendly, PDF & Email