শনিবার, ১৬ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিশ্বসভ্যতায় মুসলিমদের অবদান।
জানুয়ারি ২৯, ২০১৯
জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিশ্বসভ্যতায় মুসলিমদের অবদান।

সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ উন্নত ও সহজতর জীবন যাপনের জন্য গবেষণা ও প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এভাবেই ক্রমে ক্রমে বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে । বিজ্ঞানের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় , একেক সময় একেক অঞ্চল ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু। প্রাচীনকালে হিন্দুস্তান , গ্রীস , রোমান ইত্যাদি অঞ্চলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা হয়েছে। মধ্য যুগে অষ্টম শতাব্দী থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের একচ্ছত্র চর্চা ও উল্কর্ষ সাধন হয়েছে  মধ্য প্রাচ্য ও এর আশপাশের অঞ্চলে মুসলিমদের হাতে। মুসলিমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের এতটাই উৎকর্ষ সাধন করেছেন যে , তাদের হাতেই সৃষ্টি হয়েছে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান , আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান , সমাজ বিজ্ঞান , বীজগণিত ও রসায়ন শাত্রের মত বিজ্ঞানের উন্নত শাখা-প্রশাখা। অথচ পশ্চিমারা তখন সম্পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। মুসলিমদের এই অসাধারণ সাফল্য পরবর্তীতে আধুনিক বিজ্ঞানের দ্বার উন্মোচনের ক্ষেত্রে অনেকটাই সহায়ক হয়। জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিমদের অবদান সম্পর্কে একটু ধারণা নেওয়ার জন্য কয়েকজন মুসলিম বিজ্ঞানী ও তাদের সাফল্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো।

. হাসান ইবনুল হাইসাম (৯৬০১০৪০)
আমিরুজ জিল্লি ওয়াননুর বা আলো-ছায়ার সম্রাট। Father of the Modern Optics. আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক। হাসান ইবনুল হাইসাম নামেই তিনি অধিক পরিচিত। তার অনবদ্য রচনা হল ‘ কিতাবুল মানাজের’ বা Book of optics , যাতে রয়েছে সমগ্র মানবজাতির জন্য আলো-অন্ধকার ও দৃষ্টিবিদ্যার অসংখ্য অজানা তথ্য। যা এনেছিল দৃষ্টিবিদ্যার জগতে জ্ঞানের বিপ্লব। তিনিই সর্বপ্রথম অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আলোর সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ আলো হল এমন একটি উজ্জল তরঙ্গরেখা যার দৈর্ঘ ও প্রস্থ আছে।  যা সোজা পথে বিচ্ছুরিত হয়। বাতাসের ন্যায় বাঁকা হয়ে ছড়ায় না। আলো যখন তার উৎস থেকে বের  হয়ে কোন স্থানে পতিত হয় বা বাধাগ্রস্ত হয়, তখন সেখান থেকে আবার বিপরীত দিকে বিচ্ছুরিত হয়। এখানে তার আবিষ্কৃত গুরুত্বপূর্ণ থিওরি হল আলো বিপরীত দিকে বিচ্ছুরিত হওয়ার সময় উক্ত স্থানের রং ও প্রতিচ্ছবিসহ বিচ্ছুরিত হয়। এটা তিনি  প্রমান করে দেখালেন। একটি অন্ধকার কক্ষে সামান্য ছিদ্র করে দিলেন। ঐ সামান্য ছিদ্র দিয়ে  আলো রেখা প্রবেশ করে বিপরীত দেয়ালে আছড়ে পরল। অন্ধকার কক্ষে যেদিক থেকে আলো আসছে , সেই দিকের ঘর-বাড়ি ও মসজিদের মিনারার দৃশ্য ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করা সেই আলো ছিদ্রের বিপরীত দেয়ালে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। অনেকটা রঙিন স্কিনের মত। তবে দৃশ্যটা উল্টো দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ মিনারার উপরের অংশটা নিচে দেখা যাচ্ছে ।

বহু গবেষকগণের মতে ইবনুল হাইসামের এই আবিষ্কারের সুত্র ধরেই পরবর্তীতে ক্যামেরা আবিষ্কৃত হয়েছিল। ক্যামেরার পূর্ণ নাম হল ক্যামেরা অবষ্কোরা। যা মূলত ল্যাটিন শব্দ, ক্যামেরা অর্থ কক্ষ, আর অবষ্কোরা অর্থ ‘অন্ধকার’ অর্থাৎ ক্যামেরা অবষ্কোরা মানে ‘অন্ধকার কক্ষ’। ইবনুল হাইসাম তার বিখ্যাত গ্রন্থ ” কিতাবুল মানাজের এ আলবাইতুল মুজালিম বা ‘অন্ধকার কক্ষ শব্দদ্বয় বহু জায়গায় উল্লেখ করেছেন। তার এগ্রন্থ দ্বাদশ শতাব্দিতে সর্বপ্রথম লেটিন ভাষায় অনুদিত হয়। সেখানে আলবাইতুল মুজলিমের ল্যাটিন অনুবাদ করা হয় Camera obscura বা অন্ধকার কক্ষ । উনবিংশ শতাব্দির আগ পর্যন্ত ইবনুল হইসামের থিওরি অনুযায়ী তৈরী এ ধরণের Camera obscura বিভিন্ন চিত্রাঙ্কনের অন্য ব্যবহৃত হত। উনবিংশ শতাব্দিতে Camera obscura তে ধারণকৃত চিত্র যখন লেজার লাইটের মাধ্যমে কাগজে সংরক্ষণ করার পদ্ধতি আবিষ্কৃত হল তখন তা আধুনিক ফটোগ্রাফিক ক্যামেরায় রূপান্তরিত হয়। আর এর নাম ক্যামেরাই থেকে যায়। বিভিন্ন ধরণের কাচের মাধ্যমে বস্তু বড় ও স্পষ্ট দেখায় তা তিনিই আবিষ্কার করেন। এ থেকেই চশমার সৃষ্টি হয়। তিনিই রিফলেকশন তত্ত্বের জনক। বহু বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ ইবনুল হাইসামকে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক বলেছেন। UNESCO এ ব্যাপারে Impact of Science on Society – Volumes 26 – 27 – ( 1976 ) Page 140 , 1st Edition 1950 এ উল্লেখ করে ” One name stands out as that of a rare genius in physical research : Abu | ‘ Ali Al – Hasan Ibn Al – Haytham ( 965 – 1039 ) 6 : 420 ) sh ( Iraq ) , without question the father of modern optics .

. জাবের ইবনে হাইয়ান ( ৭২৪ ৮১৫ )
আবু মুসা জাবের ইবনে হাইয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ আলআজদী। তিনি হলেন রসায়ন শাস্ত্রের জনক। তার বিখ্যাত আবিষ্কারগুল হল : একুয়া রেজিয়া , স্বর্ণ জল (যা দ্বারা স্বর্ণ ও রৌপকে যে কোন ধাতু থেকে পৃথক করা হয়), এলমোনিয়াম কাগজ(যা আগুনে পুরে না), জংমুক্ত ইস্পাত, পটাশিয়ামের উপাদান, এমোনিয়াম লবণ, সালফার এসিড, আর্সেনিক অক্সাইড, নাইট্রিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, গন্ধক তৈল, তিক্ত সাডা ও চামড়ার রং। কাঠের একটি রং আবিষ্কার করেছেন যা লাগালে কাঠ পুরে না। তিনিই সর্বপ্রথম গ্লাসে রং করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। জাবের ইবনে হাইয়ান সম্পর্কে বৃটিশ দার্শনিক Francis Bacon বলেন , “ জাবের ইবনে হাইয়ান পৃথিবীকে সর্বপ্রথম রসায়ন শাস্ত্র শিক্ষা দেন’’ । তিনিই রসায়ন শাস্ত্রের জনক ।

. শরিফ আল ইদরিসী (১০৯৯ ১১৬৫)
তার পুরো নাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল ইদরিসী। তিনি ইদরিসী নামেই অধিক পরিচিত। তিনি হযরত আলী(রা.)এর বংশধর ছিলেন। তিনি ছিলেন মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ভূগোলবিদ। তার অন্যতম একটি সৃষ্টিকর্ম হল পৃথিবীর মানচিত্র অংকন। যা তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, নদ-নদী ও সমুদ্র ভ্রমন করে ১১৫৮ খৃস্টাব্দে অংকন করেন। যা টলেমির অংকিত মানচিত্র থেকে অনেক পার্থক্য ছিল। এই মানচিত্রে তিনি বিভিন্ন দেশ, উল্যেখযোগ্য শহর, নদ-নদী, সাগর ও মহাসাগর চিহ্নিত করেছেন। তার অংকিত এই মানচিত্রে নীল নদ, ভূমধ্য সাগর, ইউরোপ ও মধ্য প্রাচ্যের কিছু অংশ বর্তমান মানচিত্রের সাথে হুবহু মিলে যায়। বর্তমান বিজ্ঞানীগণ তার অংকিত মানচিত্র দেখে হতভম্ব হয়ে যান প্রায় নয়শ বছর আগে যখন কোন স্যাটেলাইট ছিল না, ভূমি নির্ণয়ের আধুনিক কোন যন্ত্রপাতি ছিল না , কিভাবে সম্ভব হল এই মানচিত্র আঁকা। তাঁর অনবদ্য রচনা হল ‘‘নুজহাতুল মুশতাক ফি ইফতিরাকিল আফাক ” এ গ্রন্থে তিনি বিভিন্ন দেশ, শহর, নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর, উল্লেখযোগ্য পর্বতমালা ও মরুভুমির বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছেন।  ভূপ্রকৃতি ভূতত্ত্বের রাজনৈতিক ও      ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ করেছেন ।  এছাড়াও  পৃথিবীর মানচিত্র, বিভিন্ন শহর ও আঞ্চলের আলাদা মানচিত্র, এক অঞ্চল থেকে আরেক আঞ্চলের দূরত্ত্ব  নদীপথ ও সমুদ্র পথের মানচিত্র অংকন করে দেখিয়েছেন       এগ্রন্থের ভূমিকায়  তিনি বলেন , “ পৃথিবী গোলাকার আর পানি তার সাথেই সন্নিহিত’’।

 ৪.আলজাজারী (১১৩৬১২০৬)
বদিউজ্জামান আবুল ইজ্জ ইবনে ইসমাইল ইবনে রাজ্জাজ আল-জাজারী ।  এই মহান প্রযুক্তি বিজ্ঞানী ছিলেন বহু মেকানিক্যাল ইঞ্জিনের আবিষ্কারক।  তার হাত ধরেই যান্ত্রিক উন্নয়নের সূচনা হয় । তিনি সর্বপ্রথম স্বয়ংক্রিয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন , যা পানির চাপে ঘুরত । নিচ থেকে পানি উপরে উঠানোর জন্য তিনি দুইবাহু  বিশিষ্ট একটি পাম্প তৈরী করেন । যা পানির চাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করত । এই পাম্পটিতে তিনি সপ্রথম হাইড্রোলিক পতি প্রয়োগ করেন । তার আগে হাইড্রোলিক পদ্ধতি প্রয়োগের কোন প্রমান পাওয়া যায় না । তার আবিষ্কৃত বিভিন্ন ধরণের জ্বলঘড়ির মধ্যে হস্তিমড় ( Elepliant Clock ) ও দূর্ঘগড়ি ( Fort Clock ) উল্লেখযোগ্য ।  আল-জাজারী সেচ প্রকল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন । তিনি পানি উত্তোলনের জন্য এমন যন্ত্র  আবিষ্কার করেন যা উত্তোলিত পানির চাপে স্বয়ংক্রীয়ভাবে কাজ করে । এতে কোন প্রাণী বা মানুষের পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না । ফলে তার এই চমৎকার স্বীয় পদ্ধতিটি তকালীন সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় । তিনিই সর্বপ্রথম বিভিন্ন ইঞ্জিনে সাইক্লিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন । পরবর্তীতে বহু ইঞ্জিনে বিশেষত গাড়ি এনে এই সাইক্লিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে । তিনি পানি উত্তোলনের একটি যন্ত্রে লোহার চেইন ব্যবহার করেছেন । তার পূর্বে চেইন ব্যবহারের প্রচলন ছিল না আল-হাজারীর রচিত বিখ্যাত । গ্রন্থ “ আল-জামে বাইনাল ইলমি ওয়াল আমালিন নাফে ফি সানায়াতিল হাবাল ‘’ এ গ্রন্থে তিনি একশর অধিক যন্ত্রের সচিত্র বিবরণ দিয়েছেন । গ্রন্থটি বহু ভাষায় অনূদিত হয়ে ইউরোপেও জনপ্রিয়তা পায় । এটি মধ্য যুগের শ্রেষ্ঠ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রন্থ।

 ৫.আলখোয়ারিজমী (৭৮১ ৮৪৭)
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমী। খোয়ারিজমী শুধু একজন ব্যক্তি নন , গণিত শাস্ত্রের একটি  বিপ্লবের নাম । গণিত শাস্ত্রে তার অনবদ্য আবিষ্কারের জন্য ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে।  তার সেই শ্রেষ্ঠ আবিষ্কারটি হল বীজ গণিত। তিনি সর্বপ্রথম এ শাস্ত্রের গোড়াপত্তন করেন । তিনি বীজগণিতের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে একটি গ্রন্থ রচনা করে এর নাম দেন ” আল জাবরু ওয়াল মুকাবালা। এই আল-জাবরু থেকেই পরবর্তীতে এ শাস্ত্রে নাম হয় ” Algebra ” বাংলায় বীজগণিত। তিনি সর্বপ্রথম শূন্যের উপযুক্ত ব্যবহারের প্রচলন করেন। ত্রিভুজ ও চতুর্ভুজ বিদ্যার ব্যাপক উৎকর্ষ সাধন করেন । ত্রিভুজ , চতুর্ভুজ ও বৃত্তের পরিধির সূত্র আবিষ্কার করেন । তিনিই সর্বপ্রথম অংকে বন্ধনী পদ্ধতি ব্যবহান করেন । স্কয়ার , কিউব ইত্যাদির আবিষ্কারকও তিনি । গণিত শাস্ত্রে খোয়ারিজমীর এতসব  আবিষ্কারের ফলে তকালীন সময়ে গণিত চর্চায় দুটি ধারা প্রসিদ্ধ হয়ে যায়। একটি খোয়ারিজম পদ্ধতি ও অপরটি পুরাতন পদ্ধতি । এ ছাড়াও ভূগোল শাস্ত্রে তাঁর অবদান রয়েছে । তার রচিত “ সুরাতুল আরদ ” (Image of Earth) এটি বিশ্বের প্রথম মানচিত্র গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত ।

৬.  ইবনে খালদুন (১৩৩২১৪০৬)
ওয়ালিউদ্দিন আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালদুন । ইবনে খালদুন নামইে তিনি সমধিক পরিচিত।  তিনি একজন ফকিহ ও পবিত্র কুরআনের হাফেজ । ছিলেন । এই মহান মুসলিম মনীষীই সমাজ বিজ্ঞানের জনক । তার পূর্বে খুব অল্প সংখ্যক ব্যক্তি সমাজ নিয়ে কিছু বিচ্ছিন কথা বলছেন মাত্র । ইবনে খলদুনই সর্বপ্রথম ব্যাক্তি যিনি সমাজ বিজ্ঞানকে একটি পূর্ণাঙ্গ  শাস্ত্রে অবিহিত করেছেন  এবং তিনিই সর্বপ্রথম সমাজ বিজ্ঞানের উপর গ্রন্থ রচনা করেন আল –‘মুকাদ্দিমা’ ।  এগ্রন্থে তিনি বলেন সমাজ বিজ্ঞান  স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি বিদ্যা ।  এর আলোচ্য বিষয় হল , মানব জীবন ও মানব সমাজ ”। ইবনে খালদুন সমাজ বিজ্ঞানের জনক হওয়ার পাশাপাশি তিনি কত উচু মাপের সমাজবিজ্ঞানী  ছিলেন  ছিলেন তা তার রচিত কালজয়ী গ্রন্থ “ আল-মুকাদ্দিমারা’র সূচী বিশ্লেষন করলে বিষয় পরিষ্কার । গ্রন্থটিকে তিনি ছয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন ।

প্রথম অধ্যায় : মানব জীবন প্রবাহ নিয়ে । অর্থাৎ সাধারণ সমাজ বিজ্ঞান । এতে তিনি আলোচনা করেছেন মানব সমাজের বাহ্যিক  দিক এবং সমাজ পরিচালনার বিভিন্ন নীতিমালা’।
দ্বিতীয় অধ্যায় : গ্রামীন জীবন প্রবাহ নিয়ে।  অর্থাৎ গ্রামীন সমাজ ব্যাবস্থা ।
তৃতীয় অধ্যায় : রাষ্ট্র , খেলাফত ও রাষ্ট্রব্যাবস্থা নিয়ে । অর্থাৎ রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান।
চতুর্থ অধ্যায়ঃ শহরে জীবন  ।
পঞ্চম অধ্যায় : অনৈতিক সমাজ বিজ্ঞান ।
ষষ্ঠ অধ্যায় : জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞান বিজ্ঞান নিয়ে । অর্থাৎ জাতি গঠনমূলক সমাজ বিজ্ঞান ।

বৃটিশ ঐতিহাসিক Arnold J . Toynbee আল মুকাদ্দিমা সম্পর্কে বলেন , ” A Philosophy of history which is undoubtedly the greatest work of it ‘ s kind that has ever yet been created by any mind in any time or place ” ।

৭ . ইবনে সিনা (৯৮০১০০৭)
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক । মাত্র ১০ বসর বসে পবিত্র কোরআন  মুখস্ত করেন । তিনিই সর্বপ্রথম চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনা করেন । তার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হল “ আল-কানুন -ফি-তিব’’।  এগ্রন্থটি তৎকালীন চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যাপক পরিবর্তন আনে। এটি বহু ভাষায় অনূদিত হয়ে তার পরবর্তী ৭ শত বৎসর সমগ্র পৃথিবীতে চিকিৎসা শাস্ত্রে প্রধান উৎস হিসেবে  বিবেচিত ছিল ।  ১৭ শতকের শেষ পর্যন্ত এটি ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বের সঙ্গে পড়ানো  হত । মানবদেহের অঙ্গসংস্থান ও শরীরতত্ত্ব  সম্পর্কে  যে সব তথ্য প্রধান করেছিলেন  সেগুলো সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত পৃথিবীর সব দেশের চিকিৎসকগণ অনুসরণ করেছিলেন।  শল্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে  তার কলোজয়ী অবদান উল্লেখযোগ্য।

তিনি হলিস্টিক মেডিসিনের প্রবক্তা , যেখানে একই সাথে শারীরিক , মানসিক ও আত্মিক যোগসূত্রকে বিবেচনায় রেখে  চিকিৎসা দেওয়া হয়।    তিনি মানব চক্ষুর  সঠিক এনাটমি বর্ণনা করেন । যক্ষ্ম রোগকে তিনি একটি ছোয়াছে  রোগ বলেন , যা তার পরের পশ্চিমা চিকিৎসকগন প্রত্যাখ্যান করেন যা পরবর্তীতে সঠিক  বলে প্রমানিত হয় । তিনিই সর্বপ্রথম “ মেনিনজাইটিস রোগটি আবিষ্কার করেন । পানি ও ভূমির মাধ্যমে যেসকল রোগ ছড়ায় তা তিনি আবিষ্কার করেন । তিনি  তার গ্রহন্থে  অসংখ্য রোগ , তার লক্ষণ , রোগের কারণ ও চিকিৎসা বর্ণনা করেছেন । যা পরবর্তীতে ৭ শত বৎসর বহু  চিকিৎসকদের পিপাসা নিবারণ করেছে ।

মোঃ আকরাম খন্দকার , ইবি কুষ্টিয়া।

Print Friendly, PDF & Email