বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং, ১৫ই আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
দক্ষিণ এশিয়াতে চীনের আধিপত্য
লেখক, মো. বিপ্লব আলী
আগস্ট ৯, ২০২০,  ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ এশিয়াতে চীনের আধিপত্য

ভারত দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শক্তিশালী দেশ হওয়া সত্বেও এই অঞ্চলে চীনের আধিপত্য সব চেয়ে বেশি। চীন দক্ষিণ এশিয়ার দেশ না হলেও অর্থনৈতিক রাজনৈতিক সামরিক প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক ভাবে তার প্রভাব বলয় সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তান চীনের অনেক পুরোনো বন্ধু  তবে বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও নেপালকে বেইজিং তার অনুকূলে আনতে সক্ষম হয়েছে। এই দেশ গুলো আগে ভারতের বন্ধু রাষ্ট্র ছিল। তাহলে কেনো নয়াদিল্লী সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়া সৃষ্টি হয়েছে। মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতির কারণে এমন অবস্থা। নরেন্দ্র মোদী একজন দক্ষ প্রধানমন্ত্রী  হলেও নিজদেশে সমালোচিত। নাগরিক পুঞ্জি আইন, কাশ্মীরিদের সাথে বৈষম্যমূলক নীতি, কঠোর হিন্দুত্ববাদ রাজনীতি, প্রতিবেশী দেশ গুলোর সাঙ্গে বিদ্রূপ আচরণ, এছাড়া সীমান্ত বিরোধ নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা যার কারনে প্রতিবেশী দেশের সাঙ্গে ভারতের সম্পর্কের দূরত্ব কঠোর অবস্থানে পৌঁছায়। একমাত্র বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত নয়াদিল্লীর অকৃত্রিম বন্ধু  সত্ত্বেও এ দেশের প্রতি ভারতে আচরণ সন্তুষ্ট জনক নয়। তিস্তা পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা, রোহিঙ্গা সংকট ইত্যাদি বিষয়ে ভারত ঢাকার পাশে দাঁড়াতে পারেনি। স্বাধীনতা যুদ্ধে নয়াদিল্লী যেভাবে খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, মুক্তিবাহিনীদের প্রশিক্ষণ, কূটনৈতিক তৎপরতা, এমনকি সেনাবাহিনী দিয়ে বাংলাদেশকে সাহায্য করেছিলেন আজ শুধুই তার প্রতিকৃতি। এদিকে চীনের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক দৃঢ়।  সামরিক প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক করিডর, বাণিজ্যিক শুল্ক শিথিলতা, দেশের মেগা প্রকল্পে চীনা কম্পানি সহায়তা ইত্যাদি ইসুতে বেইজিং ঢাকার পাশে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রীত ভারত নিয়ন্ত্রিত কালাপানি, লিপুলেক ও লিম্পিয়াধুরাকে নেপাল তার জাতীয় মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করে এবং পার্লামেন্টে সাংবিধানিক ভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এই কারণে কাটমুনডু এবং নয়াদিল্লীর দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্বে ফাটল ধরেছে। যদিও নেপাল হিন্দু অধেষিত দেশ তবুও ভারতের পররাষ্ট্রনীতি প্রতি অসন্তুষ্ট যা সীমান্ত সংঘাতের দিকে ঝুঁকছে। নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আশার পরে ভারত তার প্রতিবেশিদের সাঙ্গে বৈরীতায়  জড়িয়ে পড়েছে। গত ১৫ জন ভারত-চীন সীমান্তে সংঘর্ষে নয়াদিল্লীর ২০ জন সেনাবাহিনী নিহত হয়। এর ফলে দুইদেশের সেনাবাহিনী মুখামুখি অবস্থান নিলে দফায় দফায় উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে। তবে উভয় দেশের মধ্য উত্তেজনা এখনো রয়েছে। এদিকে ভারত রাফাল যুদ্ধবিমান ফান্সের নিকট থেকে নিয়ে এসেছে যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো জোরদার করেছে। কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারিতে চীন ও ভারতের মধ্য এমন উত্তেজনা ঘনীভূত হয়েছে  কেনো? মূলত নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত আগের থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব গাঢ় হয়েছে যা প্রতিবেশী দেশ হিসাবে চীনের মাথা ব্যথা। আর্ন্তজাতিক রাজনীতিতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র একে ওপরের প্রধান প্রতিদন্দী এছাড়াও ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরে পেন্টাগনের আধিপত্য বেইজিং কখনোও মেনে নিবে না তাই নয়াদিল্লী-বেইজিং এর মধ্য সম্পর্কের অবনতি। দক্ষিণ এশিয়াতে চীনের দাদাগিরি ভারতও মেনেনিতে নারাজ তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বৃহত্তর ইউরোপের সাঙ্গে নয়াদিল্লী বন্ধুত্বের ডানা মেলেছে। আমরা জানি ভূ-স্বর্গ কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্থান একাধিক যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং উভয় দেশ অর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানের অর্থনীতি আমাদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে তবুও কাশ্মীর প্রশ্নে ইসলামাবাদ অনড়। দিন যত গড়াচ্ছে দুইদেশের পরামানোবিক বোমা তত উন্নত হচ্ছে। যুদ্ধ কখনো সমস্যা সমাধান করতে পারে না, একটি যুদ্ধ হাজার হাজার সমস্যার জন্ম দেয়। দক্ষিণ এশিয়াতে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা আমাদের নিজেদের সমাধান করা উচিৎ। এই অঞ্চলে যদি পশ্চিমা শক্তির আবির্ভাব হয় তাহলে সিরিয়া,ইয়েমেন ও লিবিয়ার মত  যুদ্ধের ময়দানে রূপান্তরিত হতে পারে দক্ষিণ এশিয়া।

শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Print Friendly, PDF & Email
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

ফেসবুকে আমরা

Facebook Pagelike Widget
আরও পড়ুন