রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
ধর্মঘট-বিক্ষোভে উত্তপ্ত জাবি, কাল আবারো সর্বাত্মক ধর্মঘট
অক্টোবর ২৮, ২০১৯
ধর্মঘট-বিক্ষোভে উত্তপ্ত জাবি, কাল আবারো সর্বাত্মক ধর্মঘট

জাবি প্রতিনিধিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে দিনব্যাপী সর্বাত্মক ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত ছিল। এছাড়া কাল মঙ্গলবার আবারো সর্বাত্মক ধর্মঘটের ঘোষণা দেন তারা।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) ধর্মঘট চলাকালে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গিয়ে কিছুক্ষণের জন্য সড়ক অবরোধ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশ শেষে ফের মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন আন্দোলনকারীরা। পরবর্তীতে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের দিকে যান আন্দোলনকারীরা এবং সেখানে কিছুক্ষণ বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

পরে সেখান থেকে আবারো মিছিল নিয়ে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘উপাচার্য অপসারণ মঞ্চে’ আসেন তারা। সেখানে সমাবেশের মধ্যে দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ করেন তারা।

সমাবেশে ‘উপাচার্য অপসারণ মঞ্চের’ অন্যতম মুখপাত্র নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘সারাদিন ধর্মঘট পালন করেছি, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আমরা লক্ষ্য করেছি। উপাচার্য অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।’

এছাড়া আগামীকালও সর্বাত্মক ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল সবগুলো বিভাগে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করার আহ্বান জানাচ্ছি পাশাপাশি লাগাতার অবরোধ চলবে।’

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত দে’র সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন বারবার বলার চেষ্টা করছেন গুটিকয়েক শিক্ষার্থী আন্দোলন করছেন। আপনাদের যদি নৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় থাকে তাহলে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম নিজ পদে থাকতে পারেন কিনা সে মর্মে একটা গণভোটের আয়োজন করুন। আজকের ধর্মঘটে ফারজানা ইসলামপন্থী কিছু শিক্ষক সুবিধাপন্থী হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়ার জন্য বার বার চেষ্টা করেছেন। আমরা এ ধরনের আচরণের ধিক্কার জানাই। আমরা আশা করবো আগামীকালের ধর্মঘটে এসব শিক্ষক উপস্থিত হবেন না।’

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সহ বিভিন্ন সংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে সকাল ৮টা থেকে আন্দোলনকারীরা ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন এবং বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের প্রধান ফটক আটকে রেখে সেখানে অবস্থান নিয়ে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করেছে। তাই উপাচার্য সহ কর্মকর্তা-কর্মচারিরা অফিসে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে স্থবির রয়েছে সব ধরণের দাপ্তরিক কার্যক্রম।

এছাড়া অনুষদ ভবনগুলোতে শিক্ষকদের ভেতরে প্রবেশ করতে দিলেও শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাঁধা দেন আন্দোলনকারীরা। ফলে অধিকাংশ বিভাগে নির্ধারিত ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে উপাচার্যকে সমর্থনকারী কয়েকজন শিক্ষক আন্দোলন উপেক্ষা করে ক্লাস নিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email