মঙ্গলবার, ১লা ডিসেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
নতুন বিভাগ খোলার চেয়ে পুরাতনকে সমৃদ্ধ করার তাগিদ উপাচার্যের
অনি আতিকুর রহমান, ইবি
অক্টোবর ৫, ২০২০,  ৬:১৯ অপরাহ্ণ
নতুন বিভাগ খোলার চেয়ে পুরাতনকে সমৃদ্ধ করার তাগিদ উপাচার্যের

নতুন বিভাগ খোলার চেয়ে বিদ্যমান পুরাতন বিভাগগুলোকে সমৃদ্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৩তম উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর বিভিন্ন ফোরামের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রসঙ্গক্রমে এ মন্তব্য করেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, ‘একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগ থেকে কয়েকটি কোর্স নিয়ে নতুন বিভাগ খোলার চেয়ে সেই বিভাগটিকেই আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত করা যেতে পারে। এর মানে এই নয় যে, নতুন বিভাগ খোলা যাবে না। ‘ডিমান্ড অব দি ডে’কে তো আমরা ডিনাই করতে পারিনা। তাই, প্রয়োজনীয় বিভাগ খোলার পাশাপাশি, বিদ্যমানগুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

সম্প্রতি দেশে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি নতুন নতুন বিভাগও খোলা হচ্ছে।নবসৃষ্ট এসব বিভাগের উপযোগিতা এবং প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সচেতন মহলে নানাবিধ প্রশ্ন রয়েছে। চাকুরির বাজারে প্রয়োজনীয়তা এবং মৌলিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নতুন নতুন বিভাগ বেড়েই চলেছে। বিভাগগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শ্রেণীকক্ষ সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও পরিবেশের অভাব রয়েছে। ফলে এসব বিভাগ থেকে মৌলিক জ্ঞান কিংবা মানসম্পন্ন গ্রাজুয়েট তৈরি হচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, নতুন এসব বিভাগ খোলার পেছনে শিক্ষক রাজনীতির প্রভাব রয়েছে। সিনিয়র শিক্ষকদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব বিভাগ খোলা হয়।

জানা গেছে, বিগত চার বছরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। বিভাগগুলোতে বর্তমানে নানা সমস্যা বিদ্যামান। এসব বিভাগে শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, সেমিনার লাইব্রেরি সহ বিভিন্ন সংকট রয়েছে। এসব সমস্যা ছাড়াও অপ্রাসঙ্গিক ডিসিপ্লিনের শিক্ষক নিয়োগেরও অভিযোগ রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে ফোকলোর স্টাডিজ, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজসহ কয়েকটি বিভাগ।

এসব বিভাগের কোনোটিতে প্রাসঙ্গিক শিক্ষক পেয়েও নিয়োগ দেয়া হয় নি; আবার কোনোটিতে না পাওয়ার কারণে অন্য ডিসিপ্লিনের শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্ষেত্রে চলমান এ সংকটকালে নতুন উপাচার্যের এমন মন্তব্যে খুশি সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সাদিকুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী জানান, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন অনেক বিভাগে এখনো পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হয় নি। তাই নতুন বিভাগ না খুলে আগে পুরনো বিভাগগুলোকে পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করে শিক্ষা ও গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা দেশ উপকৃত হবে। আশা করি, নতুন উপাচার্য স্যার তাঁর সুচিন্তিত কর্মকৌশলের মাধ্যমে ইবিতে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন।

উপাচার্যের বক্তব্যকে সমর্থন করে অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক মুঈদ রহমান বলেন,

‘বেশি বেশি বিভাগ খোলার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই। লজিস্টিক সাপোর্ট ছাড়া বিভাগ চালু হলে গুণগত মানসম্পন্ন ফলাফল পাওয়া যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক পুরনো বিভাগ রয়েছে- যেগুলোর অবস্থা বেশিরভাগই পঙ্গু ও অসম্পূর্ণ। নতুন বিভাগ খোলার আগে পুরাতন বিভাগগুলোর দিকেই নজর দেওয়া জরুরি। অপ্রয়োজনীয় বিভাগ খোলা পুরোপুরি শিক্ষক রাজনীতির ফল।’

পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন রাসেল বলেন,

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে বিভাগ খোলার প্রয়োজন আছে। তবে মনে রাখতে হবে চাকরির বাজারে এর চাহিদা আছে কিনা; কিংবা মৌলিক বিষয় কি না। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছু কিছু বিভাগ খোলা হয়েছে যা চাকরির বাজারে প্রয়োজন নেই আবার মৌলিক বিদ্যারও নয়। এসব বিভাগের শিক্ষকদের যোগ্যতা এবং বিভাগীয় প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এই ধরনের বিভাগ বৃদ্ধি ও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সাথে সাথে প্রশাসনবিরোধী অংশও দায় এড়াতে পারে না।

তিনি আরো বলেন,

এ সকল নিয়োগ বোর্ডে দেশের জাতীয় অঙ্গনের শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। ফোকলোর বিভাগের এক্সপার্ট হিসেবে ছিলেন বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি শামসুজ্জামান খান এবং ট্যুরিজম বিভাগে ছিলেন ইউজিসি’র সাবেক সদস্য শাহনেওয়াজ স্যার। তাদের মতো দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে এমন কাজ জাতির জন্য খুব হতাশার বিষয়। এমতাবস্থায় নবনিযুক্ত উপাচার্য যে বক্তব্য রেখেছেন; তা দূরদর্শী ও ব্যতিক্রমী চিন্তার। তিনি যদি এ বক্তব্যের উপর অটল থাকেন তবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম উপাচার্য হিসেবে রোববার প্রথম কর্মদিবস শুরু করেন ড. আব্দুস সালাম। এ দিন সকালে তিনি ক্যাম্পাসস্থ ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ ম্যুরালে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। পরে উপাচার্যের কার্যালয় একে একে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রদের বিভিন্ন সংগঠন ও ফোরামের নেতৃবৃন্দ তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এসময় উপ-উপাচার্য, রেজিস্টারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমএ/অনি/সংবাদদর্পণ

Print Friendly, PDF & Email
guest
1 Comment
Oldest
Newest
Inline Feedbacks
View all comments
sheikh shemul

session jot jno na thake IU te setai amra cai

ফেসবুকে আমরা

Facebook Pagelike Widget
আরও পড়ুন