শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২০ ইং, ২৭শে আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
নাবিলের প্রেমবিভ্রাট
মে ৩, ২০২০
নাবিলের প্রেমবিভ্রাট

জাতীয় ছয়চাক্কার টায়ার নামক পত্রিকার সাহিত্য পাতার সম্পাদক হলেন আমাদের নাবিল। উনার নামডাক যেনো সারাদেশ জুড়ে। উনি যেকোনো লেখা পাঠালেই সেটা প্রকাশ করে দেন। যদি কোনো লেখার মান হিমাঙ্কের নিচে থাকে তাও তিনি সেটাকে প্রকাশ করেই ছাড়েন। শুধু শিরোনাম ভালো লাগলে আর সম্পূর্ণ লেখাটা যাচ্ছেতাই হলে সেটাকে নিজে লিখে হলেও প্রকাশ করেন। তাই তার ভক্ত সমাজে বেশীরভাগই হলো টিকটক লেখক, ফেইসবুক লেখক আর হলো নিজের বাপ-দাদা ঘুষ্ঠির লোক। এমনিতে আমাদের নাবিল বিয়েটা পর্যন্ত করেননি কারণ তিনি চান যে তার বিয়েটা হোক কোনো এক লেখিকার সাথেই।

তিনি আশায় বুক বেঁধে আছেন যে একদিন সে ঐ মেয়েকে খুঁজে পাবেই পাবে। বয়স আজকাল ত্রিশ ত্রিশ করছে। নাবিল যে নাছোড়বান্দা! অনেকদিন পর আজকে নাবিল একটা চমৎকার লেখা জমা পেয়েছেন। তাড়া থাকায় আর শিরোনামে ‘ভালোবাসার মানুষ’ এই লেখা থাকায় তিন ভাগের দুইভাগ পড়েই সেটাকে ছেপে দিলেন সাহিত্য পাতায়। পরের দিন ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই তাকে করা হলো চাকরিচ্যুত।

কারণ জানতে চান? ঐ লেখাটা ছিল একটা নারী লেখিকার প্রেমপত্র। মেয়েটা একটু এডভান্স হয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে প্রেম পত্র পাঠিয়েছিলেন যাতে নাবিল খুশিতে গদগদ হন। লেখাটা সম্পূর্ণ না পড়াতে হয়েছে যত্ত ঝামেলা! শেষের অংশটাতে এমন কিছু লেখা ছিল যা একমাত্র প্রেমিক-প্রেমিকার জন্যই। আর পাবলুদা কিনা সেটা পত্রিকায় ছেপে দিলেন!

গেলো চাকরী, হলোনা বিয়ে,
বয়স একত্রিশ এই নিয়ে।
চাকরীটাও হারালো শেষে,
বেচারা এখন শূন্যের দেশে।

নাবিল হাসান
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশনা সম্পাদক, মুহসীন হল ডিবেটিং ক্লাব।

Print Friendly, PDF & Email