বুধবার, ৮ই এপ্রিল ২০২০ ইং, ২৫শে চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
নিয়তি- জুবায়ের আহমেদ
নভেম্বর ১৯, ২০১৯
নিয়তি- জুবায়ের আহমেদ

হোসেন মিয়া-আমেনা দম্পত্তির শিশু কন্যা মনিরা। দেখতে যেনো পূর্ণিমার চাঁদের মতো। মনিরার জন্মের এক বছর পরেই বিত্তশালী নিঃসন্তান দম্পত্তি মনিরাকে পালক হিসেবে নিতে চাইলেও মনিরার দরিদ্র পিতা হোসেন মিয়া মনিরাকে পালক দেননি। সাংসারিক অভাব অনটন থাকলেও মেয়েকে ঘিরে স্বপ্ন দেখে হোসেন মিয়া। তবে দরিদ্র পিতা মাতার ঘরে সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে জন্ম নিলেও একটি অনাকাঙ্খিত মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় ৪ বছর বয়সে দুই পা পঙ্গু হয়ে যায় মনিরার। অভাব অনটনের মাঝেও এলাকাবাসীর সহায়তায় মনিরাকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন হোসেন মিয়া। বড়লোকের ছেলের বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের ফলে মনিরা পঙ্গুত্ববরণ করলেও অদৃষ্টের লিখন হিসেবেই মেনে নেয় হোসেন মিয়া। মেয়েকে ঘিরে দেখা স্বপ্ন ভাঙ্গার হতাশায় ভেঙ্গে পড়েন হোসেন-আমেনা দম্পত্তি।

সামান্য আয়ে দুই পুত্র সন্তান ও মনিরাকে নিয়ে বস্তিতে বসবাস করা হোসেন মিয়া,দুই শিশু পুত্রকেও লেখাপড়া না করিয়ে কাজে লাগিয়ে দেয়। পঙ্গুত্ববরণ করা শিশু কন্যা মনিরাকে নিয়ে কি করবে বুঝে উঠতে পারে না হোসেন মিয়া। এতো সুন্দর ফুটফুটে মনিরাকে দেখে প্রতিবেশীরা আফসোস করে,“গরীবের ঘরে আল্লায় এক টুকরো চাঁদ পাডাইয়া কেনো এমন পরীক্ষায় ফেললো”,তা ভেবে আফসোস করে সকলে।

প্রতিবেশী এক দুষ্ট লোকের পরামর্শে শিশু মনিরাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করে হোসেন মিয়া। বস্তির পাশেই প্রধান রাস্তার মুখে বসিয়ে দেয় মনিরাকে। শিশু মনিরাও কিছু বুঝে উঠতে পারে না। বাবার কাছে ছোট্ট মনিরা আবদার করে কোন কিছু খেতে চেয়ে না পাওয়ার বিপরীতে মনিরার সামনে রাখা থালার মধ্যে পথচারীদের দু-চার টাকা দেয়া দেখে দোকান থেকে পছন্দের কিছু কিনে খেতে পারবে সে আনন্দে ভিক্ষাবৃত্তিকেও উপভোগ করতে শিখে ফেলে অবুঝ মনিরা

জুবায়ের আহমেদ

Print Friendly, PDF & Email