বুধবার, ২১শে অক্টোবর ২০২০ ইং, ৫ই কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
নয়া বিশ্বব্যবস্থার হালচাল
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০,  ১১:১৯ অপরাহ্ণ
নয়া বিশ্বব্যবস্থার হালচাল

মহামারী covid-19(Corona virus diseases)২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম সংক্রমন শনাক্ত হয় বলে ১৯ ব্যবহার করা হয়। চীনের উহান থেকে উৎপত্তি হয়ে গোটা দুনিয়ায় তার আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয়েছে এ ভাইরাসটি। জাতি, ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে করোনার হাত থেকে কেউ রক্ষা পাচ্ছে না। পৃথিবীর মানুষ আজ দিশেহারা, বড় অসহায় একটি অদৃশ্য ক্ষুদ্র জীবাণুর কাছে কারণ এ ভাইরাস থেকে পরিত্রাণের নেই কোন কার্যকরী উপায়, এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয় নি কোন ভ্যাক্সিন।

পৃথিবীব্যাপী মানুষের কাছে কয়েকটি শব্দ আজ উন্মুক্ত আকারে ঘুরছে তা হলো (লকডাউন,হোম কোয়ারেন্টাইন, সোশাল ডিসটেনসিং,আইসোলেশন চিকিৎসা সামগ্রী PPE (personal protective equipment)মাস্ক, ভেন্টিলেশন, আইসিইউ ইত্যাদি। কয়েকমাস যাবৎ মানুষ ঘরবন্দি হয়ে জীবনযাপন করছে ইতোমধ্যে পৃথিবী একটা বড় ধরনের সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে অর্থনীতি আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে, অর্থনৈতিক মহামন্দা পৃথিবীকে পঙ্গুত্বের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো একটি কঠিন সময় পার করছে বিভিন্ন ব্যর্থতার দায়ভার কাঁধে নিয়ে, বহুজাতিক কোম্পানির করালগ্রাসে চিকিৎসা খাতে ব্যাপক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে এ রাষ্ট্রগুলো খোদ যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর প্রথম অর্থনীতির দেশ হ‌ওয়া সত্বেও করোনায় মৃত্যুর মিছিল থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একবছরে পারমানবিক কর্মসূচিতে যে অর্থ ব্যয় করে তা দিয়ে ৩ লাখ আইসিইউ বেড,৩৫হাজার ভেন্টিলেটর তৈরি করা যায়, ৭৫ হাজার ডাক্তারের বেতন দেয়া যায়(সূত্র:নিউজ‌উইক ম্যাগাজিন)। সহজে উপলব্ধি করা যায় আমেরিকা তার স্বাস্থ্যখাতকে প্রাধান্য না দিয়ে সামরিক খাতে কি পরিমান ব্যয় করে যার ফল এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে এ দেশটি।আমেরিকা ফার্স্ট বলে চিল্লায়া মাথা নষ্ট করা বিশ্বমোড়ল ট্রাম্প আজ তার দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। পৃথিবীকে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে আমেরিকা।

এদিকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র চীন,কিউবা,ভিয়েতনাম দাপটের সাথে সংকট মোকাবেলা করে এখন পর্যন্ত ভালো আছে চিকিৎসা সামগ্রী ও চিকিৎসক পাঠাচ্ছে বিভিন্ন রাষ্ট্রে। পুঁজিবাদের ফসল হিসেবে পৃথিবী প্রত্যক্ষ করল একটি কঠিন বাস্তবতা, অল্পসংখ্যক অর্থলিপ্সা, অতিমুনাফালোভীর কাছে বিশ্বব্যবস্থা আজ অবরুদ্ধ।মানুষের মূল্য তার কাছে কতটুকূ?আসল কথায় আসি প্রকৃতির সাথে মানুষের নিষ্ঠুরতা ক্রমেই বেড়ে উঠছে,মানুষ অমানবিক আচরণ করছে প্রকৃতির সাথে,প্রকৃতি তার সহ্যর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে তাই মানুষ প্রত্যক্ষ করছে প্রকৃতির ভয়াবহতা। আসুন এরকম কিছু দৃষ্টান্ত দেখা যাক,আজ শিল্পবিপ্লব, অর্থনৈতিক, সামরিক, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের তাবত শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো অতি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদকে কুক্ষিগত করতে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ফলে পৃথিবীব্যাপী যুদ্ধ,গৃহযুদ্ধ, প্রক্সিযুদ্ধ, প্রতিদিন ,মাস,বছরে হাজার হাজার টন বোমা নিক্ষেপ করা হচ্ছে ভূপৃষ্ঠে। পৃথিবীতে যুদ্ধ জিয়ে রেখে রমরমা অস্ত্র ব্যবসায় বিভোর উন্নত রাষ্ট্রগুলো।

স্বার্থ বড় মানুষ নয়।সাগরে, মহাসাগরে পরীক্ষামূলক পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে ভূ-প্রকৃতি বিনষ্ট হচ্ছে। আকাশ,পাতাল, বাতাস, পানি, নদী,সাগর, মহাসাগর,পাহাড়-পর্বত হয়ে উঠেছে বিষে বিষময়। যুক্তরাষ্ট্রের কার্বন নিঃসরণের হার সবচেয়ে বেশি, জলবায়ুগত পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষজ্ঞরা বার বার বলে আসলেও উন্নত রাষ্ট্রগুলো এ ব্যাপারে কোন ভ্রুক্ষেপ‌ই করে নি। পৃথিবী যখন করোনার কবলে পড়ে আজ ভারসাম্য রক্ষায় ব্যস্ত ঠিক মানুষ তার জীবন রক্ষার তাগিদে নিজেকে ঘরবন্দি করতে ব্যস্ত।করোনা পৃথিবীর মানুষের স্বাভাবিক জীবন কেড়ে নিয়েছে , জাতিসংঘের মহাসচিব এ প্রসঙ্গে বলেন,’দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর
বিশ্বসম্প্রদায়ের সামনে আজ সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ। ‘এ ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। তদারককারী স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নীতিনির্ধারণী সংস্থা রেজুলেশন ফাউন্ডেশন বলেন ‘পৃথিবীব্যাপী ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ কর্মহীন ও বেকার হয়ে পড়বে।’এ থেকে পরিত্রাণের উপায় বিশ্বসম্প্রদায়ের অজানা তাইতো ইতালির প্রধানমন্ত্রীর কাছে শুনতে পাই ‘দুনিয়ায় এর কোন সমাধান নেই একমাত্র আকাশে এর সমাধান। ‘হয়ত বা সময় জানাবে ভবিতব্য আশার বানী।অপরদিকে নয়া বিশ্বব্যবস্থার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

পৃথিবীর ভবিতব্য ভেবে বিশ্লেষকরা বলছেন পৃথিবীতে এক ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে যা দীর্ঘ স্থায়ী হবে। করোনা কালে সবচেয়ে দাপুটে গেমচেন্জার চীন,একথা নির্দ্বিধায় সকলে স্বীকার করে নিবে,তারা সৈন্য ও ভারীঅস্ত্র বিহীন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ জয়লাভ করেছে।একমেরুকরন উন্নত ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন ও শোষণের বেড়াজাল থেকে পৃথিবী উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনৈতিক বুনিয়াদের দেশ চীন এখন পেছনের অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে ঠোরাই তোয়াক্কা করে সামনে এগিয়ে চলছে বিশ্বমোড়লের চেয়ার অলংকৃত করতে।চীন যে জিততে চলেছে তা অস্পষ্ট নয় বরং বাস্তবতা। বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাঝে এক নয়া পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে যেমন বিভিন্ন রাষ্ট্র স্বাস্থ্যখাতের ব্যর্থতার দায় অকপটে স্বীকার করেছে তাহলে বুঝাই যাচ্ছে স্বাস্থ্যখাতের প্রাধান্য সবের উপরে থাকবে নিশ্চয়।মানব আচরনে আত্মকেন্দ্রিকতা বৃদ্ধি পাবে, প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা বাড়বে অনেকাংশে,সামাজিক দূরত্ব স্থায়ী হবে, অর্থনৈতিক মন্দা তীব্র হলে বাড়বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সবমিলে বিশ্ব একটি নয়া রুপ দেখতে পাবে।তাবত শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোকে মনে রাখতে হবে পৃথিবীনামক এ গ্রহটির বাসিন্দা হলো মানুষ যারা এখানকার এক‌ই অক্সিজেন, পানি, বাতাস ব্যবহার করে বেঁচে আছে। এগুলোকে বিনষ্ট করে আমরা কেউ শান্তির পতাকা উড়াতে পারব না।এজন্য মানব কল্যাণে ঐক্য ,সমন্বয়, সহযোগিতা,সম্প্রীতির পথে সকল নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। করোনা ক্ষুদ্র একটি ভাইরাস আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল আমাদের অসহায়ত্বের চিত্র। এই মুহূর্তে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মানবিক কল্যাণে সর্বোত্তম পন্থা হ‌ওয়া উচিত।

লেখক, মো.মাইদুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

Print Friendly, PDF & Email
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

ফেসবুকে আমরা

Facebook Pagelike Widget
আরও পড়ুন