শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২০ ইং, ২৭শে আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
পালস অক্সিমিটার কি এবং কেন ব্যবহার করা হয়?
জুন ৭, ২০২০
পালস অক্সিমিটার কি এবং কেন ব্যবহার করা হয়?

কভিড-১৯ মহামারীর এই সময়ে বহুল ব্যবহৃত একটি যন্ত্রের নাম হলো পালস অক্সিমিটার। এই যন্ত্রটি কেনার হার ও বেড়েছে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে। অনেকেই হয়তো নামই জানা নাই এই যন্ত্রটির বা কি কাজ করা হয় এই পালস অক্সিমিটার দিয়ে। এবার তাহলে জেনে নেয়া যাক পালস অক্সিমিটার সম্পর্কে।

পালস অক্সিমিটার হলো একটি বহনযোগ্য মেডিকেল ডিভাইস যা দিয়ে মানুষের দেহে রক্তের অক্সিজেন সম্পৃক্ততা মাপা হয়। ১৯৫৩ সালে সর্বপ্রথম এটি তৈরী করেন জার্মান চিকিৎসাবিদ কার্ল ম্যাথ। এই যন্ত্র দিয়ে ব্যথাবিহীনভাবে রক্তে অক্সিজেনের সম্পৃক্ততা পরিমাপ করা হয়। মানুষের রক্তে বিভিন্ন ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে তন্মধ্যে লোহিত রক্তকণিকা অন্যতম। লোহিত রক্তকণিকা হিমোগ্লোবিন নামের একটি যুগ্ম প্রোটিন রয়েছে যাতে উপস্থিত রয়েছে আয়রন। এই হিমোগ্লোবিন দেহে অক্সিজেন এর বাহক হিসেবে কাজ করে। আর এই পরিবহনের সময় হিমোগ্লোবিন এবং অক্সিজেন পরস্পর সম্পৃক্ত বা সংযুক্ত অবস্থায় পরিবাহিত হয়। অক্সিজেনের এই যুগ্ম অবস্থাকে অক্সিজেন সম্পৃক্ততা বলা হয়। মূলত রক্তে কি পরিমান অক্সিজেন পরিবাহিত হচ্ছে তা এই যন্ত্রটি দিয়ে মাপা হয়। দেহে অক্সিজেনের অবস্থা পরিমাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের রোগ নির্ণয় করা যায় যেমন সিওপিডি, অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ ইত্যাদি। এই যন্ত্রটি দিয়ে খুব সহজেই রক্তের সম্পৃতা নির্ণয় করা যায়।

এটি দেখতে অনেকটা খেলনা ক্লিপের মতো। ক্লিপ মতো অংশটুকুর মধ্যে আঙুল ঢুকিয়ে দেওয়া এবং একটি আলো আঙুলের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। মূলত এই প্রবাহমান আলো দিয়েই রক্তে অক্সিজেন এর সম্পৃতা নির্ণয় করা হয়। পালস অক্সিমিটার একই সাথে হার্ট রেট ও অক্সিজেন সম্পৃক্ততা নির্ণয় করতে পারে।

একজন সুস্থ্য মানুষের দেহের ৮৯ভাগ রক্ত অক্সিজেন পরিবহন করে। এই অক্সিজেন পরিবহন প্রক্রিয়াই দেহের সুস্থতা বা অসুস্থতা নির্ধারণ করে থাকে। অর্থাৎ অক্সিজেন সম্পৃক্ততা নির্ণয়ের মাধ্যমে আপনার শারীরিক অবস্থা খুব সহজেই বলে দেয়া সম্ভব।যদি কারো দেহে ৯৫% অক্সিজেন সম্পৃক্ত হয় তাহলে সেটিকে আদর্শ বলে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু অক্সিজেন সম্পৃক্ততা ৯২% এর নিচে হলে অক্সিজেন স্বল্পতা বা হাইপোক্সিয়া হয়ে যায়। অর্থাৎ রোগীর অসুস্থতার হারও বেড়ে যায়। নভেল করোনাভাইরাসের আক্রমনের ফলে মানবদেহে ফুসফুস খুব সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফলে দেহে অক্সিজেন সরবরাহের মাত্রা কমে যায়। এবং রোগীর অবস্থা খুব দ্রুত আশংকাজনক অবস্থায় পৌছে যায়। তাই যদি খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে রক্তে অক্সিজেনের সম্পৃক্ততার পরিমান নির্ণয় করে অক্সিজেনের ব্যাবস্থা করা হয় তাহলে রোগীর সুস্থ্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদেরকে ভেন্টিলেশন দেয়া হয়, এই ভেন্টিলেশন ঠিকমত কাজ করছে কিনা সেটিও পালস অক্সিমিটার এর সাহায্যে পরীক্ষা করা যায়। যেটি করোনা রোগীদের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

লেখকঃ মোঃ বিল্লাল হোসেনস
শিক্ষার্থী, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।

Print Friendly, PDF & Email