রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
পড়ন্ত এক বিকেলের গল্প
অক্টোবর ১৮, ২০১৯
পড়ন্ত এক বিকেলের গল্প

আনুমানিক সকাল নয়টা, অনিলের বাবা অনিলকে ডাকছে অনিল, অনিল কোথায় তুমি? অনিল সেই সময় তার পড়ার টেবিলে।
অনিল এবার অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। অনিল দেখতে যেমন সুন্দর,পড়াশোনাতেও অনেক ভালো। বলতে গেলে অন্তপুরে যদি তিন জন ভালো ছাত্রের তালিকা করা যায় তাহলে অনিলও তিন জনের মধ্যে একজন।

তবে একটা কথা, অনিল ভালো পড়াশোনা করে ভালো চাকুরির জন্যে না। সে পড়াশোনে করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য। কারণ তার বাবা অন্তপুরের একজন বড় মাপের ব্যবসায়ী। আর অনিলের ইচ্ছে হলো সে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তাঁর বাবার ব্যবসা বাণিয্যে দেখাশোনা করবে।

অনিলের বাবা অনিলকে বাইরে ডাকছে। অনিল বাইরে এসে বলল, বাবা আমাকে কিছু বলবেন?
অনিলের বাবা অনিলকে বলল, তোমার রহমত চাচা নাকি দুদিন জ্বরে ভুগছেন। আমি ভাবলাম রহমতকে একটু দেখে আসতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু এদিকে আবার বাজারে ব্যবসায়ী মহাজনদের একটা বৈঠক আছে। আমার তো যাওয়া হচ্ছে না। রহমত বেচারাটা মনে হয় জ্বরে খুব কাতর হয়ে আছে।

বাবা অনিল তুমি তো, সেই স্কুলে যখন পড়তে তখন তোমার চাচার বাড়ি শেষ একবার বেড়াতে গিয়েছিলে। অনেক বছর হয়ে গেল তুমি তো তোমার চাচার বাড়ি যাও না।
আমি বলি কি, তুমি আজ বিকেলে একটু রোদ পড়লে তোমার চাচার বাড়ি যেয়ে তোমার চাচাকে দেখে আসবে। তুমি গেলে তোমার চাচা তোমাকে দেখে অনেক খুশি হবে।

অনিল ভেবে বলল, ঠিক আছে বাবা আমি যাবনে।
অনিলের বাবা অনিলের হাতে কিছু টাকা দিয়ে বলল,যাওয়ার সময় বাজারের ভোলা ময়রার দোকান থেকে তোমার চাচার জন্য কিছু সন্দেশ আর কিছু রসগোল্লা নিয়ে যেও। রহমত এগুলো বেশি খেতে পছন্দ করে।

ও হ্যাঁ, আর একটা কথা তো বলতে ভুলেই গেছি! রহমত চাচা হলেন অনিলের বাবার ছোটবেলার খুব কাছের প্রিয় বন্ধু। অনিলেরে বাবা আর রহমত চাচা ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছেন।

বেলা একটু পরে যখন বিকেল বিকেল ভাব। রহমত চাচার বাড়ি যাওয়ার উদেশ্যে অনিল ও অনিলের ছোট চাচার ছেলে নেহাল যাত্রা শুরু করলো। নেহাল ও অনিল প্রায় সমবয়সি।
তাঁরা বাজার থেকে সন্দেশ, রসগোল্লা কিনে চাচার বাড়ির উদ্দেশ্যে হাটতে শুরু করল। তখন কোন যানবাহন চলাচল ছিল না। সবাই তখন হেটে হেটেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেত।

এখানে একটা মজার ব্যাপার আছে। অনিলদের গ্রামের পাশে পরপর তিনটি গ্রাম আছে। আর এই তিন গ্রামে যাওয়ার স্থান একটাই। এই স্থানটাকে বলা হয় তেমাথা। এই তেমাথায় তিনটা রাস্থা,আর তিনটা রাস্তায় চলে গেল তিনটা গ্রাম। পূর্ব দিকে ভৌরব নগর, দক্ষিণে কাশিমপুর এবং পশ্চিমে কাঞ্চন নগর। আর কাঞ্চন নগর হলো রহমত চাচাদের গ্রাম।
অনিল ও নেহাল তেমাথায় পৌছাল। তেমাথার পশ্চিমে একটা পুকুর আছে। সেই পুকুরটার পাঁচ থেকে সাত বাড়ি পরেই রহমত চাচার বাড়ি।
অনিল ও নেহাল পুকুর পাড়ের পাশে দিয়ে যাচ্ছে, হঠাৎ নেহাল অনিলকে বলে, দেখ অনিল কয়েকটা মেয়ে পুকুর পাড়ে বসে আছে।
অনিল সেই মেয়েদের দিতে তাকাতেই সেই মেয়েদের মধ্যে থেকে একটা মেয়ের চোখের দিকে চোখ পরে অনিলের। অনিল সেই মেয়ের চোখের দিকে কেন যেন তাকিয়ে রইল আর  সেই সাথে মেয়েটাও অনিলের দিকে তাকিয়ে থাকে। অনিল এবং সেই মেয়েটি যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। অনিল তখন মেয়েটির উদ্দেশ্যে মনে মনে বলে,

ওগো তন্বী তরুলতা
এই বিকেলে তোমায় আমি কি নামে ডাকি।
টগর বেলি নাকি চম্পা কলি
মল্লিকা মালতি নাকি জুই শেফালি!

অতপর নেহাল অনিলের স্থব্ধতা দেখে পাশে থেকে হালকা ধাক্কা দিল। নেহালের ধাক্কায়অনিল হঠাৎ চমকায়ে উঠে মৃদু একটা হাঁসি দেয়। নেহাল অনিলের মৃদু হাসির রহস্যে বুঝতে পারে। এর পর অনিল ও নেহাল তাঁর চাচার বাড়ির দিকে হাটতে থাকে। আর মেয়ে গুলো সেখানেই বসে থাকে।

অনিল রহমত চাচার বাড়িতে ঢুকতেই রহমত চাচার স্ত্রী অর্থাৎ অনিলের চাচি অনিলকে দেখে অত্যান্ত খুশি হয়ে বলে বাবা তুমি কেমন আছো? সেই কবে আমাদের বাড়িতে এসেছো আর আজ।
অনিল তখন বলে, চাচি পড়াশোনায় অনেক চাপতো তাই কোথাও যাওয়া হয়ে উঠে না।
চাচি তখন নেহালকে দেখে বলে অনিল এটা তোমার চাচার ছেলে নেহাল না?
অনিল বলে হ্যা চাচি।
অতপর, অনিল তাঁর চাচিকে সন্দেশ এবং রসগোল্লার পাতিলটা দিয়ে বলে, চাচি, চাচার নাকি অনেক জ্বর, চাচা কোথায়?
তোমার চাচা ওই দোচালা ঘরের বারান্দায় শুয়ে আছে। তুমি জান না অনিল, তোমরা আসছো দেখে তোমার চাচা অনেক খুশি হবে।
অনিল দোচালা ঘরটার কাছে যেতে না যেতেই অনিলকে দেখে রহমত চাচা উঠি বসলো। বাবা অনিল তুমি কেমন আছো বাবা?
হ্যাঁ চাচা আমি ভালো আছি। আপনার জ্বরটা কি একটু কমেছ চাচা?
হ্যাঁ বাবা আজ একটু কম।

তাদের দুজনকে বাড়িতে আসছে দেখে রহমত চাচার মনটা অনেক খুশি হয়ে উঠেছিল। চাচা তখন চাচিকে বলে,
রেহেনার মা, রেহেনাকে বলো বেতের চার পায়া দুটো এনে ওদের বসতে দিতে। আর ওরা অনেক পথ হেটে এসেছে ওদের খাবারের ব্যবস্থা কর।
রেহেনা হচ্ছে রহমত চাচার একমাত্র আদরের মেয়ে। চাচি তখন রেহেনার উদ্দেশ্যে বলে রেহেনা, রেহেনা কোথায় তুই? রেহেনার কোন সাড়াশব্দ নেই।
চাচি তখন চাচাকে বলে,আজ দুই দিন মেয়েটা বাড়িতেই ছিলো তোমার শরীরটা আজ একটু ভালো শুনে কোথায় যেন গেছে মনে হয়। রেহেনা এখন কাঞ্চন নগর মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

এরপর রহমত চাচার স্ত্রী তাদের দুজনকে বসতে দিল। এবং কিছুক্ষণ পর তাদের মুড়ি, নাড়ু ও সন্দেশ খেতে দিল। খাওয়ার সাথে সাথে গল্পটা ও ভালোই চলছিল।
সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে তারা বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে ব্যক্ত করলে চাচা-চাচি তাদের বলে,বাবা তোমরা অনেক দিন পর আসলে আজ থেকে গেলে ভালো হতো না।

কিন্তু তারা বলে,না চাচা আজ আর না অন্যেদিন এসে থাকব। এই বলে তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করল। যাওয়ার পথে পুকুর পাড়ে বসে থাকা মেয়ে গুলোকে আর তখন দেখতে পায় নি।
অনিল বাড়ি পৌছে রাতে শোয়ার পর শুধু সেই পুকুর পাড়ে দেখা মেয়েটির কথা ভাবে এবং মনে মনে ওনেক কিছু ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যায়।

অনিল সেই পড়ন্ত বিকেলের অচেনা মেয়েটাকে দেখার জন্য রোজ বিকেলে নেহালের সাথে কাঞ্চন নগরের সেই পুকুরের পাশের রাস্তার উপর যেতে শুরু করল এবং সেই অচেনা মেয়েটাকে দেখত।

এভাবে দেখতে দেখতে পনের দিন হয়ে গেলো। কিন্তু অনিল সেই মেয়েটার সাথে কথা বলতে কোন দিন পারেনি। কারণ একটা মেয়ের সাথে কথা বলতে যে সাহস লাগে সেই সাহস টা এখন পর্যন্ত তার মধ্যে হয়ে উঠেনি। এর মধ্যে হঠাৎ করে অনিলের বাড়িতে অনিলের বিয়ের কথা চলছে। অনিলের বাবা অনিলের বিয়ে ঠিক করেছে তার বাবার বন্ধু রহমত চাচার মেয়ে রেহেনার সঙ্গে।

অনিল যখন নবম শ্রেণিতে পড়ত তখন একাবার রেহেনাকে দেখেছিল। রেহেনার বাবা-মা অনিলদের বাড়িতে আসলেও অনেক বছর হইলো অনিলদের বাড়িতে আসে না। অনিল কিছু দিন আগে রেহেনাদের বাড়িতে গেলেও রেহেনার সাথে দেখা হইনি। অনিল রেহেনাকে না দেখেও বিয়েতে সম্মতি প্রদান করে। তার কারণ, ছোটবেলা থেকেই আজ পর্যন্ত অনিল তার বাবার কথা কখনো অমান্য করেনি। আজও তার বিপরীত হলো না।

যদিও অনিলের বাবা অনিলকে বলে, অনিল তোমার রেহেনাকে পছন্দ হয়?
অনিল তার বাবাকে বলে, অনেক বছর আগে রেহেনাকে দেখেছি এখন কেমন দেখতে হয়েছে আমি জানি না। তখন অনিলের বাবা অনিলকে বলে, তাইলে তুমি রেহেনাকে একবার দেখে আসো।

অনিল বলে,না বাবা তোমার পছন্দতেই আমার পছন্দ।
অনিলের মনের মধ্যে শুধু সেই অচেনা মেয়ের কথাই মনে পরে। কিন্তু সেটা অনিল তার বাবাকে বলতে পারছে না।

এর মধ্যে অনিল সেই মেয়েটির সাথে দেখা করার জন্যে আবার সেই পুকুর পাড়ে উপস্থিত হলো। এবার সে ঠিক করে রেখেছিল মেয়েটার সাথে কথা বলবে। কিন্তু পুকুর পাড়ে যেয়ে দেখে সেই মেয়েটি বা ওই মেয়েটার সাথে যারা থাকত এদের মধ্যে কেউ নেই। মেয়ে গুলো পুকুরের যে ধারে বসে থাকত সেখানে অনিল গেল। সেখানে যাওয়ার পর সুন্দর খামে মোড়ানো একটা চিরকুট দেখতে পেল। অতপর অনিল চিরকুট হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করল।

সেখানে লেখা ছিল, হে অজানা নামহীন বালক, আমি জানি আপনি এখানে আসবেন। আপনি যে আমাকে ভালোবাসেন সেটা আমি আপনার চোখ দেখেই বুঝে নিয়েছিলাম। আপনি মুখে না বললেও আপনার চোখের ভাষা আমি বুঝি। আর আমি ও যেন কিভাবে আপনার চোখের বলা ভাষাটাকে মেনে নিয়ে আপনাকে ভালোবাসতে শুরু করি। এই পুকুর পাড়ে আপনার সাথে আর আমার সাথে কখনো দেখা হবে না। জানিনা পরবতীতে আপনার সাথে আমার দেখা হবে কিনা। তবে আমাদের নিশ্চুপ পবিত্র ভালোবাসাটা এই পুকুরের প্রতিটি জল-রাশির বিন্দুতে বিন্দুতে স্মৃতি রয়ে যাবে চিরকাল। ভালো থাকবেন।

ইতি
ভিনদেশি তাঁরা

অনিলের চোখে অঝর ধারায় বৃষ্টি বয়ে চলেছে। অনিলের মনের আকাশ টাতে পনের দিনের যে কালো মেঘটা জমে ছিলো সেই মেঘের বৃষ্টি আজ তার চোখ দিয়ে বয়ে চলেছে।

অবশেষে ১৮ই-আশ্বিন অনিলের বিয়ের দিন উপস্থিত হলো। ব্যান্ড, বাঁশি নিয়ে বর পক্ষ্য কনে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিল। কনে বাড়ি যাওয়ার পথে অনিল সেই পুকুরটির দিকে করুণ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল পালকির মধ্যে থেকে। এরপর বর পক্ষ্যে কনে বাড়ি উপস্থিত হইল। সেই দিনের আকাশটা বেশ মেঘলা,মেঘলা ছিল। যেন মনে হচ্ছিল এই বুঝি বৃষ্টি নামল।

বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হওয়ার পর অনিলকে বর আসনে বসতে দেওয়ার পর কাজি সাহেব অনিল ও রেহেনার মধ্যেকার বিয়ে সম্পূর্ণ করল। এরপর বর পক্ষের খাওয়ার পর্যায়টা শেষে এল কণ্যে বিদায়ের পর্ব। রেহেনা তার বাবা-মায়ের সালাম করল সাথে সাথে অনিল ও রেহেনার বাবা-মা অর্থাৎ তার শ্বশুর- শ্বাশুরীকে সালাম করল।
সালাম করা শেষে অনিল রেহেনার দিকে তাকাল কিন্তু রেহেনার ঘোমটার জন্য রেহেনাকে দেখতে পারল না। আর রেহেনাও মাথ নিচু করে ছিল সেই সময়। রেহেনাও অনিলকে ইচ্ছে করেই দেখল না। কন্যা বিদায়ের সময় রেহেনার বাবা-মা রেহেনাকে বুকে জরায়ে ধরে অনেক কান্না-কাটি করল। এভাবে কন্যা বিদায়ের পর্বটা শেষ হলো।

এরপর রেহেনাকে এক পাল্কিতে এবং অনিলকে অন্য পাল্কি কওে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
বর ও কন্যা বাদে অন্যরা হেটে পাল্কির সাথে সাথে বাড়ি ফিরল। বাড়ি ফিরে বর ও কন্যেকে পাল্কি থেকে নামানো হলো। এরপর শুরু হলো ছেলের বাবা-মায়ের সালামের পর্ব। রেহেনা ও অনিল একসাথে অনিলের বাবা-মাকে সালাম করল। সালামির পর্ব শেষ হতে না হতেই জড়ালো ভাবে বৃষ্টি শুরু হলো। সেই দুপুর থেকে মেঘ যেন বলছিল আজ বৃষ্টি হবে। আর ঠিক সেটাই হলো।

সবাই বর ও কনেকে বাসর ঘরে দিয়ে যার যার ঘরে চলে গেল। তখন বাজে আনুমানিক রাত আটটা। অনিল ফ্রেশ হয়ে আসার পর বাসর ঘরে ঢুকলো। তার ঘরটাতে সাজায়ে বাসর ঘর তৈরি করা হয়েছে। ঘরে ঢুকে দেখে রেহেনা বিছানার উপর মাথা নিচু করে বড় রকমের একটা ঘোমটা দিয়ে বসে আছে। অনিল ঘরে ঢুকে রেহেনার পাশে যেয়ে বসে।
এরপর তাদের দুজনের মধ্যে কিছু কথা বার্তা হয় দুজনের নিজেদের সম্পর্কে , পারিবারিক সম্পর্কে।
রেহেনা এখন ও মুখের ঘোমটা খোলেনি। এক পর্যায়ে অনিল রেহেনাকে বলে,  দেখেন এই বিয়েতে আমি প্রথম অবস্থায় রাজি ছিলাম না।
কিন্তু বাবার কথার কারণে আমি রাজি হয়েছি। বাবার কথা আমি কোনদিন অমান্য করি নাই। তাই আজ ও অমান্য করতে পারলাম না।

আমার মধ্যে শুধু একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। আর সেটা আমি কারোর সাথেই ভাগাভাগি করতে পারছি না। তখন রেহেনা অনিলকে বলে, আপনি ইচ্ছে করলে আমার সাথে ভাগাভাগি করতে পারেন।
অনিল তখন বলে আপনি কিছু মনে করবেন না তো?
না আপনি নির্দ্বিধায় আমার কাছে বলতে পারেন।
অনিল তখন বলে,আপনাদের গ্রামে যেতে তেমাথায় একটা পুকুর আছে। আমি যখন চাচার অসুখের কথা শুনে আপনাদের বাড়ি যাচ্ছিলাম তখন ওই পুকুরের পাড়ে অনেক গুলো মেয়ে বসে ছিল। আর তাদের মধ্যে থেকে একটা মেয়ের চোখে চোখ পড়ে আমার। আর সেই সময় থেকে আমি মেয়েটাকে ভালোবাসতে শুরু করি। আমি ওই পুকুর পাড়ে এক পর্যায়ে

নিয়মিত যাওয়া শুরু করি। এর ভিতর আপনার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হলো। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আমি আরও একবার মেয়েটার সঙ্গে দেখা করার জন্যে যাই। কিন্তু সেখানে মেয়েটা বা মেয়েটার সঙ্গিদের কাউকে দেখতে পাইনি। আর সেই নাম না জানা মেয়েটি যে পাড়ে বসে থাকত সেখানে আমি যাই। এবং সেখানে আমি একটা খামে একটা চিরকুট দেখতে পাই। চিরকুটে অনেক কিছু লেখা ছিল, তার মধ্যে একটা লাইন ছিল যে, আমিও আপনাকে ভালোবাসি। আর ওই চিঠি পড়ার পর থেকেই আমার মধ্যে এই অস্থরতাটা সৃষ্টি হয়েছে।

অনিল যখন এই কথাটা রেহেনাকে বলা শেষ করল তখন রেহেনা আস্তে, আস্তে কাঁদতে শুরু করল।
তখন অনিল রেহেনাকে বলল,দেখেন আপনি এই ভাবে কাঁদবেন না।
আমি ওই মেয়েটাকে ভালোবেসেছি সত্য, কিন্তু আপনি এখন আমার স্ত্রী।
এই কথা শোনার পর রেহেনা একটু বেশি শব্দ করে যখন কান্না শুরু করল।

তখন অনিল রেহেনার নিচু ঘোমটা টা উঁচু করে। তখন রেহেনার মুখ তুলতেই অনিলের চোখে চোখ পড়ে রেহেনার। তাঁরা দুজন দুজনার দিকে তাকালে তাদের মনের মধ্যে সেই পনের দিনের কালো মেঘের বৃষ্টি আবার বয়ে চলতে লাগল। তখন অনিলের মনের মধ্যে সেই পড়ন্ত বিকেলের ছবিটা ফুটে উঠলো। এতো সেই পড়ন্ত বিকেলের পুকুর পাড়ে বসে থাকা ভিনদেশি তাঁরা! অনিল ও রেহেনা তাঁরা দুজন দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলো। ঘরের বাইরে অঝর ধারায় বৃষ্টি বইছে। আর ঘরের ভেতর তাদের দুজনার চোখ দিয়ে বইতে লাগল ভালোবাসার বৃষ্টি।

জুবায়ের আহমেদ অভি
শিক্ষার্থী, একাদশ শ্রেণী

Print Friendly, PDF & Email