রবিবার, ২৪শে জানুয়ারি ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম কি?
ডিসেম্বর ৮, ২০১৯,  ৮:৫১ অপরাহ্ণ
ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম কি?

প্রতি বছর হিজরী মাস রবিউস সানী’র ১১ তারিখ ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম হিসেবে পালন করা হয়। ফাতিহা শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে: উন্মুক্তকরণ, হৃদয়ের জয় ইত্যাদি। কিন্তু এখানে দোয়া বা সাওয়াব রেছানী অর্থে ব্যবহার হয়েছে। আর ইয়াজদাহম শব্দটি ফার্সী, যার বাংলা অর্থ: এগারো।

ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম কে সাধারনত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর ওফাত দিবস অর্থাৎ মৃত্যুদিবস হিসেবে পালন করা হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, হিজরী ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানী হজরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) মৃত্যুবরণ করেন। তাই বড়পীর সাহেবের স্মরনে রবিউস সানী মাসের ১১ তম দিনকে ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম হিসেবে পালন করা হয়।

আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে ১ লক্ষ ২৪ হাজার পয়গাম্বর প্রেরণ করেছেন, কিন্তু তাদের পরবর্তী ওলি-আওলিয়া কতজন প্রেরণ করেছেন তা অগণিত। সুতরাং, সকল অলিদের মহান নেতা হিসেবে আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর প্রতি মুসলমানের শ্রদ্ধা থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে অতিরিক্ত কোনো কর্ম ঘটানো আমাদের কাম্য নয়।

ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহঃ এর জন্য দোয়া এবং সাওয়াব রেছানি করা যায়। কিন্তু ঘটা করে মসজিদে লাইট লাগিয়ে কোন কিছু করার ইসলামে দলিল নেই। আর তাছাড়া অধিকাংশ ঐতিহাসিক দের মতে, উক্ত দিন হযরত আব্দুল কাদের জিলানী এর মৃত্যুদিবস কিনা তাতে সন্দেহ রয়েছে। অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের মতে, রবিউস সানি মাসের ৯,১০,১১,১৩,১৫,১৭ তারিখ এর মধ্যেই ওনার মৃত্যু হয়েছে বলে বর্ণনা করেছেন ।

সুতরাং আমরা ঘটা করে অতিরঞ্জিত কোন কিছু না করে নীরবে ওনার জন্য দোয়া, সাওয়াব সেছানী করলে সেটাই উত্তম হবে বলে মনে করি।

ছামির আলী ভূঁইয়া
শিক্ষার্থী, সুফিয়া নূরীয়া ফাজিল মাদ্রাসা।

Print Friendly, PDF & Email
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

ফেসবুকে আমরা

Facebook Pagelike Widget
আরও পড়ুন