রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে বিসিএস প্রিলিমিনারির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি।
এপ্রিল ২২, ২০১৯
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ  বিষয়ে বিসিএস প্রিলিমিনারির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি।

 বঙ্গবন্ধুর জীবনী থেকে নেয়া কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

।  ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির লেখকের নাম কী?

উত্তরঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

 বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম কত সালে এবং কোথায়?

উত্তরঃ ১৭ মার্চ,১৯২০।  গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়।

৩। বঙ্গবন্ধু কত তারিখে শহীদ হন ?

উত্তরঃ  ইংরেজি ১৫ অগাস্ট ১৯৭৫, বাংলা ২৯ শ্রাবণ ১৩৮২, আরবি ৮ শাবান ১৩৯৫ রোজ শুক্রবার ।

 বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় কোন স্কুলে?

উত্তরঃ গোপালগঞ্জের গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

 বঙ্গবন্ধু ম্যাট্রিক পাশ করেন কোন স্কুল থেকে  এবং কত সালে?

উত্তর: গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলে,১৯৪২ সালে।

 বঙ্গবন্ধু কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের বেকার হোষ্টেলের কত নম্বর কক্ষে থাকতেন?

উত্তরঃ ২৪ নম্বর কক্ষে।

 বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন কীভাবে?

উত্তরঃ  ১৯৪৪ সালে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে।

 বঙ্গবন্ধু কত সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহকারী নিযুক্ত হন?

উত্তরঃ ১৯৪৬ সালে।

 বঙ্গবন্ধু বিএ পাশ করেন কত সালে এবং কোন কলেজ থেকে?

উত্তরঃ ১৯৪৭ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে।

১০ বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিভাগের ছাত্র ছিলেন?

উত্তরঃ আইন বিভাগের।

১১ বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কত সালে কেন বহিস্কৃত হন?

উত্তরঃ ১৯৪৯ সালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করায় তাঁকে বহিস্কার করা হয়।

১২ বঙ্গবন্ধু জীবনে প্রথম কারাভোগ করেন কত সালে?

উত্তরঃ ১৯৩৯ সালে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সভা করার কারণে তাঁকে কারভোগ করতে হয়।

১৩ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেখানে কী পদ পান?

উত্তরঃ যুগ্ম সম্পাদক।

১৪ ১৯৫২ সালের কত তারিখে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবীতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে অনশন শুরু করেন?

উত্তরঃ ১৪ ফেব্রুয়ারি।

১৫ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কোন আসনে বিজয়ী হন?

উত্তরঃ গোপালগঞ্জ আসনে।

১৬ বঙ্গবন্ধু কোন মন্ত্রীসভায় সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী ছিলেন?

উত্তরঃ ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভায়।

১৭ ১৯৬৪ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সম্মিলিত বিরোধী দল গঠন করা হয়। দলটির নাম কী?

উত্তরঃ কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি।

১৮ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রথম কবে ছয়দফা ঘোষনা করেন?

উত্তর: ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬।

১৯ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ৬ দফা গৃহীত হয় কত সালে?

উত্তরঃ ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ।

২০ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আনুষ্ঠানিকভাবে কবে ছয়দফা ঘোষনা করেন?

উত্তরঃ ২৩ মার্চ ১৯৬৬

২১ কোন প্রস্তাবের ভিত্তিতে ছয়দফা রচিত হয়?

উত্তরঃ লাহোর প্রস্তাব

২২  ছয়দফার প্রথম দফা কি ছিল?

উত্তরঃ স্বায়ত্বশাসন

২৩ ‘বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ’ হিসেবে পরিচিত কোনটি?

উত্তরঃ ছয় দফা।

২৪ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী ছিল কত জন? বঙ্গবন্ধু কততম আসামী ছিলেন?

উত্তর: ৩৫ জন। বঙ্গবন্ধু  ছিলেন ১ নং আসামী।

২৫ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কী নামে দায়ের করা হয়েছিল?

উত্তরঃ রাষ্ট্রদ্রোহীতা বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য।

২৬ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় কত সালে?

উত্তরঃ ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি।

২৭শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি কে দেন?

উত্তরঃ তৎ​কালীন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ।

২৮ কোথায় ‘বঙ্গবন্ধু উপাধি দেওয়া হয়?

উত্তরঃ রেসকোর্স ময়দানে।

২৯ বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলাকে ‘বাংলাদেশ’ নামকরন করেন কত সালে?

উত্তরঃ ৫ ডিসেম্বর,১৯৬৯ ।

৩০ বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ কোথায় দেন?

উত্তরঃ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে,যা এখন সোহরাওয়ার্দি উদ্যোন নামে পরি​চিতি।

৩১ বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণের মূল বক্তব্য কী ছিল?

উত্তরঃ এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

৩২ বঙ্গবন্ধু কখন স্বাধীনতার ঘোষণা দেন?

উত্তরঃ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত অর্থাৎ​ ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপরই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে।

৩৩ ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত অস্থায়ী সরকারের বঙ্গবন্ধুর পদ কী ছিল?

উত্তরঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদ ছিল রাষ্ট্রপতি।

৩৪ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান কবে?

উত্তরঃ ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি।

৩৫ বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরেন কবে?

উত্তরঃ ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি, যা বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস নামে পরিচিত।

৩৬ বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন কত তারিখে?

উত্তরঃ ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি।

৩৭ বঙ্গবন্ধু প্রথম নেতা হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দেন কত সালে এবং কত তারিখে?

উত্তরঃ ১৯৭৪ সালের  ২৫ সেপ্টেম্বর।

৩৮ বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হন কত তারিখে?

উত্তরঃ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট।

৩৯ বঙ্গবন্ধুর স্ত্রীর নাম কী?

উত্তরঃ শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব।

৪০ বঙ্গবন্ধুর ছেলে–মেয়ে কত জন? তাদের নাম কী?

উত্তরঃ ৫ জন। তিন ছেলে দুই মেয়ে। শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ রেহানা, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল

৪১ বঙ্গবন্ধু জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?

উত্তরঃ ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে।

৪২। কত সালে বঙ্গবন্ধুকে শান্তিতে জুলিও কুরি পুরস্কার দেওয়া হয় ?

উত্তরঃ বিশ্ব শান্তি পরিষদ জাতির পিতাকে ১৯৭২ সালে ১০ অক্টোবর জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত

করে।

বিখ্যাত কিছু করিতায় বঙ্গবন্ধু

১। যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই

তবে বিশ্ব পেত এক মহান নেতা আমরা পেতাম খুঁজে জাতির পিতা ।
গীতিকার ও সুরকার : হাসান মতিউর রহমান
শিল্পী : সাবিনা ইয়াসমিন ।

২। শোনো একটি মুজিবরের থেকে
লক্ষ্য মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি
আকাশে বাতাসেউঠে রণি।
বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।’
গীতিকারঃ গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
সুরকারঃ অংশুমান রা

৩। যতকাল রবে পদ্মা-মেঘনা-গৌরী যমুনা বহমান
ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান’
দিকে দিকে আজ অশ্রু“গঙ্গা-রক্তগঙ্গা বহমান
নাই নাই ভয় হবে হবে জয়- জয় মুজিবুর রহমান
গীতিকারঃ  অন্নদাশঙ্কর রায় ।

নোটঃ অন্নদাশঙ্কর রায় প্রথম কবি, যিনি  বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন।

৪।“নরহত্যা মহাপাপ, তার চেয়ে পাপ আরো বড়ো
করে যদি তাঁর পুত্রসম বিশ্বাসভাজন
জাতির জনক যিনি অতর্কিতে তাঁরেই নিধন।
নিধন সবংশে হলে সেই পাপ আরো গুরুতর।”
গীতিকারঃ অন্নদাশঙ্কর রায়।

৫।‘দিকে দিকে আজ অশ্রুগঙ্গা
রক্তগঙ্গা বহমান
নাই নাই ভয় হবে হবে জয়
জয় মুজিবুর রহমান।’
গীতিকারঃ অন্নদাশঙ্কর রায় ।

নোটঃ  অন্নদাশঙ্কর রায় সর্বপ্রথম  বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন  এবং  আধুনিক বাংলা গানের গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথম গান রচনা করেন।

৬।  শেখ মুজিব আমার নতুন কবিতা   — -মহাদেব সাহা
“আমি আমার সমস্ত কবিত্ব শক্তি উজাড় করে
যে-কবিতা লিখেছি তার নাম শেখ মুজিব,
এই মুহূর্তে আর কোনো নতুন কবিতা লিখতে পারবো না আমি
কিন্তু এই যে প্রতিদিন বাংলার প্রকৃতিতে ফুটছে নতুন ফুল
শাপলা-পদ্ম-গোলাপ সেই গোলাপের বুক জুড়ে
ফুটে আছে মুজিবের মুখ
এদেশের প্রতিটি পাখির গানে মুজিবের প্রিয় নাম শুনি,
মনে হয় এরা সকলেই আমার চেয়ে আরো বড়ো কবি।
শেখ মুজিবের নামে প্রতিদিন লেখে তারা নতুন কবিতা”

৭। আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি – নির্মলেন্দু গুণ
সমবেত সকলের মত আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি,
রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেইসব গোলাপের একটি গোলাপ গতকাল
আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।

শহিদ মিনার থেকে খসে পড়া একটি রক্তাক্ত ইট
গতকাল আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।

সমবেত সকলের মত আমিও পলাশ ফুল খুব ভালবাসি,
‘সমকাল’ পার হয়ে যেতে সদ্যফোটা একটি পলাশ গতকাল কানে কানে
আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।

শাহাবাগ এভিন্যুর ঘূর্ণায়িত জলের ঝর্ণাটি আর্তস্বরে আমাকে বলেছে,
আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।

সমবেত সকলের মত আমারও স্বপ্নের প্রতি পক্ষপাত আছে,
ভালোবাসা আছে, শেষ রাতে দেখা একটি সাহসী স্বপ্ন গতকাল
আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।

এই বসন্তের বটমূলে সমবেত ব্যথিত মানুষগুলো সাক্ষী থাকুক,
না-ফোটা কৃষ্ণচূড়ার শুষ্ক-ভগ্ন অপ্রস্তুত প্রাণের ঐ গোপন মঞ্জরীগুলো
কান পেতে শুনুক, আসন্ন সন্ধ্যার এই কালো কোকিলটি জেনে যাক;
আমার পায়ের তলার পুণ্য মাটি ছুঁয়ে আমি আজ সেই গোলাপের
কথা রাখলাম, আমি আজ সেই পলাশের কথা রাখলাম,
আমি আজ সে স্বপ্নের কথা রাখলাম।

আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসি নি,
আমি আমার ভালবাসার কথা বলতে এসেছিলাম।

নোটঃ  বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণ অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে স্বভাব কবি বলেছেন। তার কবিতায় দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালি জাতির পথ প্রদর্শক। জাতির মুক্তি নায়ক হিসেবে কবি শেখ মুজিবের কথা উচ্চারণ করেছেন।

স্বাধীনতা  শব্দটি কিভাবে আমাদের হল কবিতায়। 
“শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে ,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন ৷
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হৃদয়ে লাগিল দোলা ,
জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার সকল দুয়ার খোলা ৷
কে রোধে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী ?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর কবিতা খানি
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

৯। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি -আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তিনি স্বপ্নের মত সত্য ভাষণের কথা বলতেন
সুপ্রাচীন সংগীতের আশ্চর্য ব্যাপ্তির কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।

১০।  জসীমউদ্দীন ১৯৭১ সালের অগ্নিগর্ভ সময়ে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেছেন এই প্রত্যয়দীপ্ত শব্দগুচ্ছে

মুজিবুর রহমান ওই নাম যেন বিসুভিয়াসের অগ্নি উগারী বান। বঙ্গদেশের এ প্রান্ত হতে সকল প্রান্ত ছেয়ে জ্বালায় জ্বলিছে মহা-কালানল ঝঞ্ঝা অশনি যেয়ে। বাঙলা দেশের মুকুটবিহীন তুমি প্রসূর্ত রাজ, প্রতি বাঙালির হৃদয়ে হৃদয়ে তোমার তক্ত তাজ। (জসীমউদ্দীন/’বঙ্গবন্ধু’)

১১। এই সিঁড়ি  -রফিক আজাদ
এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,
সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে-
বত্রিশ নম্বর থেকে
সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে
অমল রক্তের ধারা ব’য়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে।
মাঠময় শস্য তিনি ভালোবাসতেন,
আয়ত দু’চোখ ছিল পাখির পিয়াসী
পাখি তার খুব প্রিয় ছিলো-
গাছ-গাছালির দিকে প্রিয় তামাকের গন্ধ ভুলে
চোখ তুলে একটুখানি তাকিয়ে নিতেন,
পাখিদের শব্দে তার, খুব ভোরে, ঘুম ভেঙে যেতো।
স্বপ্ন তার বুক ভ’রে ছিল,
পিতার হৃদয় ছিল, স্নেহে-আর্দ্র চোখ-
এদেশের যা কিছু তা হোক না নগণ্য, ক্ষুদ্র
তার চোখে মূল্যবান ছিল-
নিজের জীবনই শুধু তার কাছে খুব তুচ্ছ ছিল :
স্বদেশের মানচিত্র জুড়ে প’ড়ে আছে
বিশাল শরীর…
তার রক্তে এই মাটি উর্বর হয়েছে,
সবচেয়ে রূপবান দীর্ঘাঙ্গ পুরুষ :
তার ছায়া দীর্ঘ হতে-হ’তে
মানিচিত্র ঢেকে দ্যায় সস্নেহে, আদরে!
তার রক্তে প্রিয় মাটি উর্বর হয়েছে-
তার রক্তে সবকিছু সবুজ হয়েছে।
এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,

সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে-
স্বপ্নের স্বদেশ ব্যেপে
সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে
অমল রক্তের ধারা ব’য়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে …
স্বদেশের মানচিত্রজুড়ে পড়ে আছে বিশাল শরীর।

নোটঃ  ১৯৭৫ সালের মধ্য আগস্টে ৩২ নম্বর বাড়ির যে সিঁড়িতে পড়েছিল বঙ্গবন্ধুর নিথর দেহ, সেই সিঁড়ি নিয়ে এ অসামান্য কবিতা লিখেছেন কবি রফিক আজাদ। সেই সিঁড়ির রক্তধারাতেই যেন পবিত্র হয়েছে সমগ্র স্বদেশ, পবিত্র হয়েছে স্বদেশের মানচিত্র।

১২বাঙালি, একটি ফিনিক্সপাখি– কবি আখতারুজ্জামান আজাদ
“আমরা বাহান্নতে মরেছি দলে দলে,
আমরা একাত্তরে মরেছি ঝাঁকে ঝাঁকে,
আমরা পঁচাত্তরে মরেছি সপরিবারে।
পরাজিত শক্তি যখন হেঁটে বেড়ায় বিজয়ীর বেশে,
যখন ফুলেরা কাঁদে, হায়েনারা হাসে;
যখন মানুষ ঘুমায়, পশুরা জাগে;
তখন আমার ঠিকানায় আসে সেই পুরনো পত্র,
তখন আমার কানে ভাসে সেই পুরনো ছত্র
“এ বা রে র সংগ্রাম আমাদের মু ক্তি র সংগ্রাম!
এ বা রে র সংগ্রাম স্বা ধী ন তা র সংগ্রাম!
জ য় বাং লা!”।”

১৩। তিনি এসেছেন ফিরে – কবি শামসুর রাহমান
“লতাগুল্ম বাঁশঝাড়, বাবুই পাখির বাসা আর
মধুমতি নদীটির বুক থেকে বেদনা বিহবল
ধ্বনি উঠে মেঘমালা ছুঁয়ে
ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলায়।
এখন তো তিনি নেই, তবু সেই ধ্বনি আজ শুধু
তাঁরই কথা বলে;

ভীষণ অসুস্থ আমি, শ্বাসরোধকারী
আমার ব্যাধির কথা জানে নীলিমা, পাখির ঝাঁক, গাছগাছালি
আর জানে ক্ষয়িষ্ণু স্বপ্নসম্ভব
আমার ঘরের চার দেয়াল। অসুস্থতা নেকড়ের মতো
চিবিয়ে খাচ্ছে আমার মেদমজ্জা।
“অন্ধের দেশে কে দেবে অভয়? অথবা,
কান পেতে থাকি দীপ্র কণ্ঠ শোনার আশায়,
কাকের বাসায় ঈগলের গান কখনো যায় কি শোনা?

 ১৪।ধন্য সেই পুরুষএর শেষ চারটি লাইনথ
ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর পতাকার মতো
দুলতে থাকে স্বাধীনতা
ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর ঝরে
মুক্তিযোদ্ধাদের জয়ধ্বনি।’

১৫। বঙ্গবন্ধু : আদিগন্ত যে সূর্য অজয়দাশ
বাঙালি কি বাঙালি হয় শাড়ি, ধুতি, লুঙ্গিছাড়া?
থাকে না তার বর্গ কিছুই না থাকলে টুঙ্গিপাড়া।
সুর অসুরে হয় ইতিহাস, নেই কিছু এ দুজীব ছাড়া
বাংলাদেশের ইতিহাসে দেবতা নেই মুজিব ছাড়া।

বঙ্গবন্ধুর বিখ্যাত কিছু উক্তি

. আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।

২. এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম!

৩. মানুষকে ভালোবাসলে মানুষও ভালোবাসে। যদি সামান্য ত্যাগ স্বীকার করেন, তবে জনসাধারণ আপনার জন্য জীবন দিতেও পারে।

৪. আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি, সবচেয়ে বড় দূর্বলতা আমি তাদেরকে খুব বেশী ভালবাসি।

৫. প্রধানমন্ত্রী হবার কোন ইচ্ছা আমার নেই। প্রধানমন্ত্রী আসে এবং যায়। কিন্তু, যে ভালোবাসা ও সম্মান দেশবাসী আমাকে দিয়েছেন, তা আমি সারাজীবন মনে রাখবো।

. সাত কোটি বাঙ্গালির ভালোবাসার কাঙ্গাল আমি। আমি সব হারাতে পারি, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা হারাতে পারব না।

৭. বিশ্ব দুই শিবিরে বিভক্ত – শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।

৮. এই স্বাধীন দেশে মানুষ যখন পেট ভরে খেতে পাবে, পাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবন; তখনই শুধু এই লাখো শহীদের আত্মা তৃপ্তি পাবে।

০৯. দেশ থেকে সর্বপ্রকার অন্যায়, অবিচার ও শোষণ উচ্ছেদ করার জন্য দরকার হলে আমি আমার জীবন উৎসর্গ করব।

১০. আমি যদি বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পারি, আমি যদি দেখি বাংলার মানুষ দুঃখী, আর যদি দেখি বাংলার মানুষ পেট ভরে খায় নাই, তাহলে আমি শান্তিতে মরতে পারব না।

১১. এ স্বাধীনতা আমার ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না খায়। এই স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের মানুষ যারা আমার যুবক শ্রেণী আছে তারা চাকরি না পায় বা কাজ না পায়।

১২. আমাদের চাষীরা হল সবচেয়ে দুঃখী ও নির্যাতিত শ্রেণী এবং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্যেআমাদের উদ্যোগের বিরাট অংশ অবশ্যই তাদের পেছনে নিয়োজিত করতে হবে।

১৩. যিনি যেখানে রয়েছেন, তিনি সেখানে আপন কর্তব্য পালন করলে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে না।

১৪. সরকারী কর্মচারীদের জনগণের সাথে মিশে যেতে হবে। তারা জনগণের খাদেম, সেবক, ভাই। তারা জনগণের বাপ, জনগণের ছেলে, জনগণের সন্তান। তাদের এই মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।

১৫. সমস্ত সরকারী কর্মচারীকেই আমি অনুরোধ করি, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে তাদের সেবা করুন।

১৬. গরীবের উপর অত্যাচার করলে আল্লাহর কাছে তার জবাব দিতে হবে। .

১৭. জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। এই কথা মনে রাখতে হবে। আমি বা আপনারা সবাই মৃত্যুর পর সামান্য কয়েক গজ কাপড় ছাড়া সাথে আর কিছুই নিয়ে যাব না। তবে কেন আপনারা মানুষকে শোষণ করবেন, মানুষের উপর অত্যাচার করবেন?

১৮. দেশের সাধারণ মানুষ, যারা আজও দুঃখী, যারা আজও নিরন্তর সংগ্রাম করে বেঁচে আছে, তাদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখকে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির উপজীব্য করার জন্য শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

১৯. সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। তাই মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র করে গণমানুষের সুখ, শান্তি ও স্বপ্ন এবং আশা-আকাঙ্খাকে অবলম্বন করে গড়ে উঠবে বাংলার নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি।

২০. বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ না থাকলে আমাদের স্বাধীনতার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।

২১. গণআন্দোলন ছাড়া, গণবিপ্লব ছাড়া বিপ্লব হয় না।

২২. জনগণকে ছাড়া, জনগণকে সংঘবদ্ধ না করে, জনগণকে আন্দোলনমুখী না করে এবং পরিস্কার আদর্শ সামনে না রেখে কোন রকম গণআন্দোলন হতে পারে না।

২৭. বাংলার উর্বর মাটিতে যেমন সোনা ফলে, ঠিক তেমনি পরগাছাও জন্মায়! একইভাবে, বাংলাদেশে কতকগুলো রাজনৈতিক পরগাছা রয়েছে, যারা বাংলার মানুষের বর্তমান দুঃখ-দূর্দশার জন্য দায়ী।

২৮. যদি আমরা বিভক্ত হয়ে যাই এবং স্বার্থের দ্বন্দ ও মতাদর্শের অনৈক্যের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে আত্বঘাতী সংঘাতে মেতে উঠি, তাহলে যারা এদেশের মানুষের ভালো চান না ও এখানাকার স¤পদের ওপর ভাগ বসাতে চান তাদেরই সুবিধা হবে এবং বাংলাদেশের নির্যাতিত, নিপীড়িত, ভাগ্যাহত ও দুঃখী মানুষের মুক্তির দিনটি পিছিয়ে যাবে।

২৯. আর সাম্প্রদায়িকতা যেন মাথাচারা দিয়ে উঠতে না পারে। ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বাংলাদেশ। মুসলমান তার ধর্মকর্ম করবে। হিন্দু তার ধর্মকর্ম করবে। বৌদ্ধ তার ধর্মকর্ম করবে। কেউ কাউকে বাধা দিতে পারবে না।

৩০. পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না।

৩১. ভুলে যেয়ো না। স্বাধীনতা পেয়েছো এক রকম শত্র“র সাথে লড়াই করে। তখন আমরা জানতাম আমাদের এক নম্বর শত্র“ পাকিস্থানের সামরিক বাহিনী ও শোষকগোষ্ঠী। কিন্তু, এখন শত্র“কে চেনাই কষ্টকর।

৩২. শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়।

৩৩. বাংলাদেশ এসেছে বাংলাদেশ থাকবে। .

৩৪. বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি জেনে নিক দুর্বৃত্তেরা।

৩৫. বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবেই।

নোটঃ  ৭মার্চের ভাষণকে গেটিস বার্গ এ্যাড্রেসের (আব্রাহাম লিংকন) ও  I have a dream (মার্টিন লুথার কিং) এর সাথে তুলনা করা হয় ।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিখ্যাত ব্যক্তিদের কিছু উক্তি

১. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী টাইম ম্যাগাজিন ১৯৮২ সালের ৫ এপ্রিল তাদের একটি সংখ্যায় বলেছিল,”স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দশ বছরের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের আমল ছিল সর্বপ্রথম এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আমল। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক ও প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবকে হত্যার পর হঠাত গনতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে।”

 

২. শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর বিবিসির সংবাদদাতা ব্রায়ান বারণ বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের সাথে ঢাকায় এসেছিলেন। তাকে ততকালীন সরকার তিনদিন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আটক রাখার পর বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য করে। আগস্ট মাসের শেষের দিকে তিনি তার সংবাদ বিবরনীতে উল্লেখ করেন,”শেখ মুজিব সরকারীভাবে বাংলাদেশের ইতিহাস এবং জনগনের হৃদয়ে উচ্চতম আসনে পূর্নপ্রতিষ্ঠিত হবেন। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার। এটা যখন ঘটবে তখন নিঃসন্দেহে তার বুলেটবিক্ষত বাসগৃহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন স্মারকচিহ্ন এবং কবরস্থান পূন্যতীর্থে পরিনত হবে।”

৩. “ফিনান্সিয়াল টাইমস বলেছে, ‘মুজিব না থাকলে বাংলাদেশ কখনই জন্ম নিতনা।’ দি  লিসনার-লন্ডন-২৮ আগস্ট ১৯৭৫

৪. নিউজ উইকে বঙ্গবন্ধুকে আখ্যা দেওয়া হয়, “পয়েট অফ পলিটিক্স বলে।”

৫. শেখ মুজিব নিহত হবার খবরে আমি মর্মাহত।তিনি একজন মহান নেতা ছিলেন।তার অনন্যসাধারন সাহসিকতা এশিয়া ও আফ্রিকার জনগনের জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল। ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় বেতার ‘আকাশ বানী’ ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট তাদের সংবাদ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে বলে, “যিশুমারা গেছেন। এখন লক্ষ লক্ষ লোক ক্রস ধারণ করে তাকে স্মরণ করছে। মূলত একদিন মুজিবই হবেন যিশুর মতো।

. মুজিব হত্যার পর বাঙালীদের আর বিশ্বাস করা যায় না,যারা মুজিবকে হত্যা করেছে তারা যেকোন জঘন্য কাজ করতে পারে —নোবেল বিজয়ী উইলিবান্ট।

৭. শেখ মুজিবের মৃত্যুতে বিশ্বের শোষিত মানুষ হারাল তাদের একজন মহান নেতাকে,আমি হারালাম একজন অকৃত্রিম বিশাল হৃদয়ের বন্ধুকে —ফিদেল কাস্ট্রো।

৮. আপোষহীন সংগ্রামী নেতৃত্ব আর কুসুম কোমল হৃদয় ছিল মুজিব চরিত্রের বৈশিষ্ঠ্য —ইয়াসির আরাফাত।

৯. শেখ মুজিব নিহত হবার খবরে আমি মর্মাহত। তিনি একজন মহান নেতা ছিলেন।তার অনন্যসাধারন সাহসিকতা এশিয়া ও আফ্রিকার জনগনের জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল। ……   ইন্দিরা গান্ধী।

১০. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন সমাজতন্ত্র প্রতীষ্ঠার সংগ্রামের প্রথম শহীদ।তাই তিনি অমর। –সাদ্দাম হোসেন।

১১. শেখ মুজিবুর রহমান ভিয়েতনামী জনগনকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন — কেনেথা কাউণ্ডা।

১২. “শেখ মুজিব দৈহিকভাবেই মহাকায় ছিলেন, সাধারণ বাঙালির থেকে অনেক উচুঁতে ছিলো তার মাথাটি, সহজেই চোখে পড়তো তার উচ্চতা। একাত্তরে বাংলাদেশকে তিনিই আলোড়িত-বিস্ফোরিত করে চলেছিলেন, আর তার পাশে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে যাচ্ছিল তার সমকালীন এবং প্রাক্তন সকল বঙ্গীয় রাজনীতিবিদ। .জনগণকে ভুল পথেও নিয়ে যাওয়া যায়; হিটলার মুসোলিনির মতো একনায়কেরাও জনগণকে দাবানলে, প্লাবনে, অগ্নিগিরিতে পরিণত করেছিলো, যার পরিণতি হয়েছিলো ভয়াবহ। তারা জনগণকে উন্মাদ আর মগজহীন প্রাণীতে পরিণত করেছিলো। একাত্তরের মার্চে শেখ মুজিব সৃষ্টি করেছিলো শুভ দাবানল, শুভ প্লাবন, শুভ আগ্নেয়গিরি, নতুনভাবে সৃষ্টি করেছিলেন বাঙালি মুসলমানকে, যার ফলে আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম।” –হুমায়ুন আজাদ

১৩. বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে বাঙলাদেশই শুধু এতিম হয়নি বিশ্ববাসী হারিয়েছে একজন মহান সন্তানকে  — জেমসলামন্ড, ইংলিশ এম পি।

১৪. শেখ মুজিবকে চতুর্দশ লুই য়ের সাথে তুলনা করা যায়। জনগন তার কাছে এত প্রিয় ছিল যে লুই ইয়ের মত তিনি এ দাবী করতে পারেন আমি ই রাষ্ট্র। — পশ্চিম জার্মানী পত্রিকা।

১৫. আওয়ামিলীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মত তেজী এবং গতিশীল নেতা আগামী বিশ বুছরের মধ্যে এশিয়া মহাদেশে আর পাওয়া যাবে না —- হেনরি কিসিঞ্জার।

১৬. শেখ মুজিব নিহত হলেন তার নিজেরই সেনাবাহিনীর হাতে অথচ তাকে হত্যা করতে পাকিস্তানীরা সংকোচবোধ করেছে।  বিবিসি-১৫ আগস্ট ১৯৭৫।

  বঙ্গবন্ধু ও বিশেষ কিছু তারিখ

১। বঙ্গবন্ধু উপাধিঃ  ২৩ফেব্রুয়ারি“ ১৯৬৯সালে। তোফায়েল আহমেদ। রেসকোর্স ময়দানে।

২। জাতির জনকঃ  ৩মার্চ ১৯৭১। আ. স .ম.আব্দুর রব। পল্টন ময়দানে।

৩। রাজনীতির কবিঃ (Poet of Politics )  ৫ এপ্রিল ১৯৭২ সালে মার্কিন সাময়িকী  নিউজ উইক ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধুর উপর একটি কভার স্টোরি করে।

৪। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালিঃ  ২৬শে মার্চ ২০০৪ বিবিসির শ্রোতা জরিপে ২০তম সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় স্থান। ১৪এপ্রিল ২০০৮ সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে প্রকাশ করা হয়।

৫। পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তিঃ ৮জানু, ১৯৭২।

৬। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনঃ  ১০জানুয়ারি ১৯৭২।

৭। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারঃ  ২২ ফেব্রুয়ারি  ১৯৬৯।

৮। বাঙালির মুক্তিসনদ বা বাঙালির ম্যাগনাকার্টা ৬দফা দাবি পেশঃ  ৫-৬ফেব্রুয়ারি  ১৯৬৬।

৯। ছয় দফা দিবসঃ  ৭জুন । কারণ ১৯৬৬ এইদিনে সালে শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয় ওকারফিউ জারী করা হয়।

১০ বাংলাদেশ এর নামকরণ করেনঃ ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯।

১১। আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনঃ  ২৩জুন ১৯৪৯,শেখ মুজিব যুগ্ন সম্পাদক। মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হয় ২২-২৩ সেপ্টম্বর,১৯৫৫।সম্পাদক হন ১৬নভে:১৯৫৩।

১২। শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের সভাপতি হনঃ  ১৯৬৬।

১৩। বিশেষ ক্ষমতা তথা অস্থায়ী সংবিধান জারি করেনঃ  ১২ জানুয়ারি  ১৯৭২।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু যে উপাধিগুলো পান

১। ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে “স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ” কর্তৃক আয়োজিত সমাবেশে বঙ্গবন্ধুকে

জাতির জনক ও বাংলাদশের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করা হয়।

২। মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডে বঙ্গবন্ধু’র উপাধি ছিল “সুপ্রিম কমান্ডার অব দি আর্মড ফোর্সেস”

৩।এপ্রিল মাসে “নিউজ উইক” ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধুকে  “Poet of Politics” (রাজনীতির কবি) বলে আখ্যায়িত করে।

বঙ্গবন্ধু ও বিশেষ কিছু তথ্য

২১শে ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা কি ছিল বা তিনি কোথায় ছিলেন?

উত্তরঃ ১৪৪ ভঙ্গকরলে তাঁকে জেলে যেতে হয়।

২। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট মোট কতজন নিহত হন ?

উত্তরঃ পরিবারের সদস্য ১৬ জন (বঙ্গবন্ধু সহ) । আর নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন। মোট  ১৭ জন

বঙ্গবন্ধুর শরীরে গুলি লেগেছিল কতটি?

    উত্তরঃ ১৮টি (৯-১০শ্রেণির বইয়ৈ)। ২৯টি(সজীব ভাইভা/ওরাকল এ বই)

বঙ্গবন্ধুকে কিভাবে গ্রেফতার করা হয়?

উত্তরঃ অপারেশন  বিগ বর্ড।

জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কতবার গ্রেফতার হন?

উত্তরঃ কোথাও ১৯ বার আবার কোথাও ২২ বার , ৩১ বার দেয়া আছে।

নোটঃ  ১৯৩৮ সালে মার্চ-এপ্রিল প্রথম জেল হয় ৭ দিনের জন্যে (অসমাপ্ত আÍজীবনী)

বঙ্গবন্ধুর উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রেপ্তার

    • ১১ ই মার্চ১৯৪৮ শেখ মুজিব প্রথম গ্রেফতার হন।
    • ১৪ ই অক্টোবর ১৯৪৯ শেখ মুজিব ২য় বার গ্রেফতার হন।
    • ১১ ই অক্টোবর ১৯৫৮ শেখ মুজিব ৩য় বার গ্রেফতার হন।
    • ৬ ই ফেব্র“য়ারি ১৯৬২ শেখ মুজিব ৪র্থ বার গ্রেফতার হন।
    • ১৮ই জানুয়ারি ১৯৬৮ শেখ মুজিব ৫ম বার গ্রেফতার হন।
    • ২৬ মার্চ ১৯৭১ শেখ মুজিব ষষ্ঠ বার গ্রেফতার হন।

এছাড়াও অসংখ্যবার তিনি গ্রেফতার হয়েছেন ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর পরিবার কোথায় ছিল?

   উত্তরঃ প্রথমে প্রতিবেশী মোশারফ হোসেন এর বাড়িতে, এরপর মগবাজার এ জনৈক মহিলার ফ্লাটে এবং সবশেষে ১৮   নম্বর রোডে।

বাংলাদেশে নিবন্ধিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত ?

   উত্তরঃ  পুরুষ ২০৪৯২৯ জন, নারী   ২০৩ জন।

নোটঃ  সম্প্রতি ৪১জন বীরঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয ।

৮। মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার সর্বনিন্ম  বয়স কত?

   উত্তরঃ  ১৩ বছর।

বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রধান পরিকল্পনাকারী কে কে?

  উত্তরঃ মেজর ফারুক ও মেজর রশীদ।

 

বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রীসভায়  নারী মন্ত্রী 

১.  বদরুন নেছা আহমেদ- শিল্প প্রতিমন্ত্রী

২.  বেগম নুরজাহান মোশের্দ – শ্রম প্রতিমন্ত্রী

 

বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার পলাতক আসামী ও বর্তমান অবস্থা

১. কর্নেল ( অব) খন্দকার রশীদ  – লিবিয়া

২. লে. কর্নেল ( অব) শরিফুল হক ডালিম  –  কানাডা

৩. লে. কর্নেল এম এ রাশেদ চৌধুরী  –  দক্ষিণ আফ্রিকা

৪. মেজর ( অব) নুর চৌধুরী  – আমেরিকা

৫. রিসালাদার মোসলেহ উদ্দিন   – আমেরিকা

৬. ক্যাপ্টেন ( অব) আবদুল মাজেদ -কেনিয়া।

বঙ্গবন্ধুর নিউক্লিয়াস

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতির মুক্তি জন্য বঙ্গবন্ধু ১৯৬২ সালে তাঁর অনুগত কিছু ছাত্রনেতাদের নিয়ে গোপনে ‘নিউক্লিয়াস’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধু নিউক্লিয়াসের সদস্যদের নিজের সন্তানদের মতোই আদর করতেন। নিউক্লিয়াসের প্রচেষ্টায় ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন করার কথা প্রচারে আসে –“বীর বাঙালি অস্ত্র ধর , বাংলাদেশ স্বাধীন কর

ছাত্রদের নেতাদের মধ্যে ছিলেন

১. সিরাজুল আলম খান

২. তোফায়েল আহমেদ

৩. ফজলুল হক মনি

৪.আব্দুর রাজ্জাক

৫.কাজী আরিফ

৬.মনিরুল ইসলাম (মার্শাল মনি) ও আরো কয়েকজন ।

বঙ্গবন্ধুর ৪ খলিফা

নিউক্লিয়াসের কর্মসূচি এগিয়ে নেয়ার জন্য ৪ জন ছাত্রনেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয় তারা হলেন

১। ততকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি  নূর আলম সিদ্দিকী

২। ততকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ  সম্পাদক  শাহাজান সিরাজ

৩। ঢা.বি ছাত্রসংসদের নির্বাচিত ভিপি  আ. স. ম.  আব্দুর রব

৪। ঢা.বি ছাত্রসংসদের নির্বাচিত জি. এস.  আব্দুল কুদ্দুস মাখন

মুজিব ব্যাটারি

স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে ১৯৭১ সালের ২২জুলাই ভারতের কোনাবনে গঠন করা হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম গোলন্দাজ ইউনিট  মুজিব ব্যাটারি’।

মুজিব বাহিনী

১৯৭১সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় শুধু ছাত্রদের নিয়ে গঠিত মুক্তিবাহিনীকে বলা হয় মুজিব বাহিনী।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত বই

১. শেখ মুজিব আমার পিতা – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২. মুজিব ভাই – এবিএম মুসা।

৩. বঙ্গবন্ধুর সহজ পাঠ – আতিয়ার রহমান।

৪. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাঙালী  – কামাল উদ্দিন আহমেদ।

৫. দেয়াল ( উপন্যাস)  –  হুমায়ুন আহমেদ।

৬. বঙ্গবন্ধু জাতি রাষ্টের জনক  –  প্রত্যয় জসিম।

৭. জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান   – সিরাজ উদদীন আহমেদ।

৮. অসমাপ্ত আÍজীবনী – বঙ্গবন্ধু নিযেই।

৯. জনকের মুখ (ছোট গল্পগ্রন্থ) –  সম্পাদনা আখতার হোসেন।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী অনুবাদ

১। চীনা ভাষায় অসমাপ্ত আÍজীবনী  গ্রন্থটির অনুবাদক  – চাই সি।

২। জাপানী ভাষায় অসমাপ্ত আÍজীবনী  গ্রন্থটির অনুবাদক   –  কাজুহিরো ওয়াতানাবে।

৩। ইংরেজি ভাষায় ‘‘অসমাপ্ত আÍজীবনী  গ্রন্থটির অনুবাদক  –  ফকরুল আলম।

৪। আরবিতে অনুবাদ করেন প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, এম পি

৫। হিন্দি (প্রস্তাবিত)

৬। প্যানিশ (প্রস্তাবিত)

অসমাপ্ত আত্মজীবনী সম্পর্কে  কিছু তথ্য

১। বইয়েরে নামঃ

বাংলায় – অসমাপ্ত আতœজীবনী।

ইংরেজীতে- Unfinished Memoirs.

২।প্রথম প্রকাশঃ ২০১২। পৃষ্ঠাঃ ৩২৯।

৩। প্রকাশকঃ মহিউদ্দিন আহমেদ, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।

৪। রচনা কালঃ  ১৯৬৬ -৬৯ সাল।

  নোটঃ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায়।গ্রন্থটিতে বঙ্গবন্ধু ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ওনার আতœজীবনী লিখেছেন।

৫। আত্মজীবনীটি প্রকাশে যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করেছেনঃ  শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, আবদুর রহমান রমা, মনিরুন নেছা, ইতিহাসবিদ প্রফেসর এ এফ সালাহউদ্দীন আহমেদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর শামসুল হুদা হারুন, অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, বেবী মওদুদ।

৬। ভূমকিা লিখেনঃ  শেখ হাসিনা।প্রথমবার ২০০৭ সালে কারাবন্দী অবস্থায়, পরবর্তিতে ২০১০ সালে গণভবন থেকে।

৭। বইটির প্রথম লাইনঃ “বন্ধুবান্ধবরা বলে তোমার জীবনী লেখ”।

৮। শেষ লাইনঃ “তাতেই আমাদের হয়ে গেল”।

৯। বইটিতে যে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছেঃ
আত্নজীবনী লেখার প্রেক্ষাপট, বংশ পরিচয়, শৈশব, শিক্ষাজীবন, দুর্ভিক্ষ, বিহার ও কলকাতার দাঙ্গা, দেশভাগ, প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগের রাজনীতি, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মুসলিম লীগের অপশাসন, ভাষা আন্দোলন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা, যুক্তফ্রন্ট সরকার, আদমজীর দাঙ্গা, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক শাসন।এছাড়াও আছে লেখকের কারাজীবন, পিতা মাতা, সন্তান সন্ততি ও সর্বোপরি সর্বংসহা সহধর্মিণীর কথা।

 ১০বঙ্গবন্ধুর লেখা আতœজীবনীর ৪ খানা খাতা শেখ হাসিনার হাতে আসেঃ   বঙ্গবন্ধুর মহাপ্রয়াণের ২৯ বছর পর ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ  গ্রেনেড হামলার পর পরই।

১১বঙ্গবন্ধু তার বাংলার মানুষদের একটি বিশেষণে বিশেষায়িত করতেন, সেটি হলঃ “দুঃখী মানুষ”।

১২বঙ্গবন্ধুকে বলা তার পিতার উক্তিঃ  ‘Sincerity of purpose and honesty of purpose’।

১৩বঙ্গবন্ধুর  মা শেরে বাংলাকে উদ্দেশ্য করে তাকে বলেনঃ ‘বাবা যাহাই কর, হক সাহেবের বিরুদ্বে বলিও না’।

১৪। শেরে বাংলা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর উপলব্ধিঃ  “শেরে বাংলা মিছামিছিই শেরে বাংলা হন নাই।বাংলার মাটি ও তাঁকে ভালবেসে ফেলেছিল। যখনই হক সাহেবের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেছি, তখনই বাধা পেয়েছি”।

১৫। বঙ্গবন্ধু শেরে বাংলাকে নানা বলে ডাকতেন।

১৬।  বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে শেরে বাংলার উক্তিঃ “আমি বুড়া আর মুজিব গুড়া, তাই ওর আমি নানা ও আমার নাতি”।

১৭। হোসনে শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে উদ্দ্যেশ্য করে বঙ্গবন্ধুর অভিমানী উক্তিঃ

“If I am nobody, then why have you invited me? You have no right to insult me.I will prove that I am somebody. Thank you sir.  I will never come to you again”.

 

১৮। বঙ্গবন্ধুশেখ হাসিনা কে ডাকতেনঃ  হাচু বলে।

১৯। পূর্ব-পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠনের সময় অলি আহাদের প্রস্তাব ছিল, এর নামকরন “পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ” করা হোক।

২০। যাদের গান শুনে বঙ্গবন্ধু মুগ্ধ হয়েছিলেনঃ আব্বাসউদ্দিন আহমেদ, সোহরাব হোসেন, বেদারউদ্দিন সাহেব।

২১। অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইয়ের এমন একটি ঘটনা বলুন, যা আপনাকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়ঃ

(নিজের ভাষায়, এর উত্তরে আপনার নিজের যে অংশ ভালো লেগেছে তাই  বলা উচিত)  নমুনাঃ

ক। বঙ্গবন্ধু ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁকে কোন বিশেষণে বিশেষায়িত করার মত শব্দভাণ্ডার আমার নেই। বঙ্গবন্ধু ওনার নিজের আতœজীবনী লিখতে গিয়ে নিজেকে নয় বরং অন্যদেরকেই নায়ক করে তুলেছেন। যেমনঃ শেরে বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হকের জনপ্রিয়তাকে তিনি ¯পষ্টভাবে বইটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন। বঙ্গবন্ধু নির্ধিদ্বায় লিখেছেনঃ  একদিন আমার মনে আছে একটা সভা করছিলাম আমার নিজের ইউনিয়নে, হক সাহেব কেন লীগ ত্যাগ করলেন, কেন পাকিস্তান চান না এখন? কেন তিঁনি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সাথে মিলে মন্ত্রীসভা গঠন করছেন? এই সমস্ত আলোচনা করছিলাম, হঠাৎ একজন বৃদ্ধলোক যিনি আমার দাদার খুব ভক্ত, আমাদের বাড়িতে সকল সময়ই আসতেন, আমাদের বংশের সকলকে খুব শ্রদ্ধা করতেন—- দাড়িয়ে বললেন,  যাহা কিছু বলার বলেন, হক সাহেবের বিরুদ্বে কিছুই বলবেন না। তিঁনি যদি পাকিস্তান না চান, আমরাও চাইনা।  জিন্নাহ কে?  তার নামও তো শুনি নাই।  আমাদের গরিবের বন্ধু হক সাহেব। বঙ্গবন্ধু একজন সাদা মনের মানুষ ছিলেন বিধায় তিঁনি লিখেছেন, শুধু এইটুকু না, যখনই হক সাহেবের বিরুদ্ধে কালো পতাকা দেখাতে গিয়েছি, তখনই জনসাধারণ আমাদেরকে মারপিট করেছে। অনেক সময় ছাত্রদের নিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি, মার খেয়ে।

খ। ১৯৩৭ সালে বঙ্গবন্ধু ওনার গৃহশিক্ষক আবদুল হামিদ এম এস সি এর উদ্বোগে মুসলমান বাড়ি থেকে প্রত্যেক রবিবার মুষ্ঠি ভিক্ষার চাল ওঠাতেন। এই চাল বিক্রি করে তিনি গরিব ছেলেদের বই এবং পরীক্ষার ও অন্যান্য খরচ দিতেন।

দার্শনিক বঙ্গবন্ধু

১।একজন মানুষ হিসাবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর শক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।

২।রাজনৈতিক কারণে একজনকে বিনা বিচারে বন্দি করে রাখা আর তার আত্বীয়স্বজন ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে দূরে রাখা যে কত বড় জঘন্য কাজ তা কে বুঝবে?  মানুষ স্বার্থের জন্য অন্ধ হয়ে যায়।

বঙ্গবন্ধুর সাফল্য গাঁথা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বাংলাদেশ নামে এই মানচিত্রের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বপ্নের রূপকার। এই একটি সাফল্যই যথেষ্ট বঙ্গবন্ধুর অমরত্বের জন্য। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কেবল জাতির জনক ছিলেন না। এই রাষ্ট্র বির্নিমানে ধাপে ধাপে রয়েছে তার বিচক্ষনতা, প্রজ্ঞা ও মেধা। বঙ্গবন্ধুর সাফল্য গাঁথা লিখে শেষ করবার মতো নয়। তারপরও তার উল্লেখযোগ্য কিছু সাফল্যের শিরোনাম এখানে উল্লেখ করা হলো –

  • অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পুরোধা পুরুষ ছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৫৫ সালের ২১ অক্টোবর আওয়ামলী মুসলীম লীগ থেকে তিনি মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগ নামকরণ করেন।
  • বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফার প্রণেতা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবজ্ঞা পুরুষ।
  • মুক্তিযুদ্ধের সফল রূপকার। তাঁর ৭ই মার্চের ভাষনই ছিলো গেরিলা যুদ্ধের কৌশল।
  • একটি দেশ স্বাধীন হবার মাত্র ৫০ দিনের মাথায় সে দেশ থেকে বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহার ছিলো একটি বিস্ময়কর ঘটনা। বঙ্গবন্ধুর প্রজ্ঞায় এবং দৃঢ় নেতৃত্বের কারণেই ১৯৭২ এর ১২ মার্চ ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হয়।
  • বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার মাত্র এক বছরের মধ্যে জাতিকে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক সংবিধান উপহার দেন। ১৯৭২ এর ১৬ ডিসেম্বর সংবিধান কার্যকর হয়।
  • ক্ষমতায় আসার মাত্র এক বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।
  • বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে একটি গণমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়নের উদ্যেগ নেন। এলক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই ড: মুহাম্মদ কুদরত-এ-খুদাকে সভাপতি করে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। কমিশন ১৯৭৪ সালের মে মাসে পূর্ণাঙ্গ রির্পোট পেশ করে।
  • জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে কৃষি ক্ষেত্রে নেয়া হয়েছিল ব্যাপক কর্মসূচী। এর মধ্যে ছিলো ৪০ হাজার শক্তি চালিত লো লিফট পাম্প ২৯০০টি গভীর নলকূপ ও ৩০০০ অগভীর নলকূপ। ১৯৭২ সালের মধ্যেই জরুরী ভিত্তিতে বিনামূল্যে ১৬,১২৫ টন ধান বীজ, ৪৫৪ টন পাট বীজ এবং ১০৩৭ টন গম বীজ সরবরাহ করা হয়। ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা চিরতরে রহিত করা হয়।
  • যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে শিল্প কারখানা রক্ষায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৬শে মার্চ জাতীয়করণ কর্মসূচী ঘোষণা করেন। এর ফলে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেমে শিল্প-কলকারখানা আবার চালু হয়। ব্যাংক, বীমা জাতীয়করনের ফলে গতি সঞ্চারিত হয়।
  • প্রথম বাজেটে জনগনের উপর কোন কর আরোপ করা হয়নি।
  • বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে পূণ:গঠন করেন। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষনের জন্য বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন।
  • বঙ্গবন্ধু সিভিল প্রশাসন পূণ: গঠন করেন।
  • বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে প্রথম এক বছরেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত ২৮৭টি সেতুর মধ্যে ২৬২টি ২৭৪টি সড়ক সেতুর মধ্যে ১৭০টির মেরামত শেষ হয়। দশ কোটি টাকা ব্যয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূণ: নির্মাণ করা।
  • বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর ১৪২টি দেশের স্বীকৃতি আদায় করেন। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ এবং ওআইসির সদস্য লাভ করে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু প্রথম বাঙালি যিনি একটি দেশের সরকার প্রধান হিসেবে জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় ভাষণ দেন।

১৯৬৬ এর ছয় দফা দাবি

বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ । ব্রিটিশ শাসনতন্ত্রের বাইবেলের সাথে তুলনা করা হয়।  ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান ছিল সম্পূর্ণ  অরক্ষিত। নিরাপত্তাহীনতাবোধ এ অঞ্চলের জনগণের কাছে স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে আরো প্রাসঙ্গিক করে তোলে। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী  যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য লাহোরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু লাহোরের সম্মেলনে তাঁর ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।

সংক্ষেপে দাবিগুলো হলো-

১. ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানে ফেডারেল রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

২. কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে শুধু প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বিষয় থাকবে, অবশিষ্ট বিষয়গুলো থাকবে ফেডারেশনের ইউনিটগুলোর হাতে।

৩. দুটি পরস্পর বিনিময়যোগ্য মুদ্রা বা পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ একটি মুদ্রাব্যবস্থা থাকবে।

৪. ফেডারেশনের ইউনিটগুলোর হাতে থাকবে কর ধার্যের ক্ষমতা, তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য করের একটা নির্ধারিত অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় তহবিল গঠিত হবে।

৫. বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও বৈদেশিক বাণিজ্যের বিষয়ে ফেডারেশনের ইউনিটগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

৬. প্রদেশগুলোর জন্য আধাসামরিক বাহিনী বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী থাকতে হবে।

 

ছয় দফা নিয়ে অজানা কিছু তথ্য

১।  ৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৬  লাহোরে বিরোধী দলসমুহের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ছয় দফা পেশ।

২। ৩ মার্চ ছয় দফার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

৩। ৭ জুন  ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। কারণ ৭ জুন ছয় দফা দাবিতে মনু নিয়া সহ ১১ জন শহীদ হন।তাই ৭ জুন ছয় দফা দাবি দিবস।

৪। ৫ ফেব্রুয়ারী ছয় দফা দাবি, ৮মে বঙ্গবন্ধুকে  গ্রেফতার করে, ৭জুন কিশোর মনু মিয়া সহ ১১ জন শহীদ হন।

স্বাধীনতার ইশতাহার ও বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা ঘোষণা

একাত্তরের ১মার্চ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে নূর আলম সিদ্দিকী ও শাজাহান সিরাজ এবং ডাকসু সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে আ স ম আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন  এ চার নেতা মিলে এক বৈঠকে  স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করেন।  একাত্তরের ৩মার্চ  ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আহূত পল্টন সমাবেশে ‘স্বাধীনতার ইশতাহার পাঠ করা হয়। এতে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে জাতির পিতা ঘোষণা করা হয়।

১। স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র অনুযায়ী কত তারিখ পর্যন্ত দেশ পরিচালিত হয়?

উত্তরঃ  ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১০ মার্চ, ১৯৭২ পর্যন্ত বলবৎ ছিল।  ১৯৭২ এর ১১ মার্চ  Provisional Constitution of Bangladesh Order 1972  জারী করা হয়।

২। স্বধীনতার ঘোষনাপত্র কবে জারি হয় ?

উত্তরঃ  ১০ এপ্রিল ১৯৭১।

৩।  স্বধীনতার ঘোষনাপত্র  কত তারিখ গৃহীত হয় ?

উত্তরঃ ১৭ এপ্রিল ১৯৭১।

৪। তোফায়েল আহমেদের কী অথরিটি ছিল শেখ মুজিবুর রহমানকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধি দেওয়ার?

উত্তরঃ  যখন তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধি দেন তখন তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তোফায়েল তখন প্রধান কয়েকজন ছাত্রনেতার একজন ছিলেন। তখন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে রাজনৈতিক কর্মসূচি বেশিরভাগই পালন করে থাকত ছাত্রসমাজ। সুতরাং, আমার মনে হয় একজন প্রথম সারীর ছাত্র নেতা হিসেবে তোফায়েলের সে অধিকার/অথরিটি ছিল।

 

Print Friendly, PDF & Email