শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২০ ইং, ২৭শে আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
বাবা দিবসে সন্তনাদের প্রতিজ্ঞা বৃদ্ধাশ্রম যেনো শেষ ঠিকানা না হয়
জুন ২১, ২০২০
বাবা দিবসে সন্তনাদের প্রতিজ্ঞা বৃদ্ধাশ্রম যেনো শেষ ঠিকানা না হয়

প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাবাদের স্মরণে পালন করা হয় বাবা দিবস।এই বাবা দিবসের সূচনা হয়েছিলো গ্রেস গোল্ডেন ক্লেটন নামের এক নারীর হাত ধরে আর এর কারনটা ছিল ১৯০৭ সালের ভার্জিনিয়ার মোনোংয়াতে খনি বিস্ফোরণ এবং তাতে সাড়ে তিনশো এর বেশী পুরুষের প্রানহানী এবং তার মধ্যে অধিকাংশই ছিল সন্তানের বাবা। এই ঘটনার পর তিনিই প্রথম দিনটি পালনের জন্য আবেদন জানান।তিনি ছাড়াও বাবা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আরো একজন মহিলার রয়েছে ব্যাপক অবদান তার নাম সোনারা স্মার্ট ডড।

১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন রাষ্ট্রীয়ভাবে জুনের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস বলে ঘোষণা করেন। সেই সময় থেকেই বিশ্বের সব বাবাদের সম্মানে প্রতি বছর পালিত হচ্ছে বাবা দিবস। বাবা দিবসের আজকের এই দিনটাতেও যদি আমরা সন্তানেরা একটু উপলব্ধি করি বাবাদের ত্যাগের কথা তাদের কষ্টের কথা একজন বাবা তার সন্তানের সকল আবদার মিটাতে কতকিছুই না করে থাকে সেসব উপলব্ধি যদি আমাদের মাঝে তৈরী হতো তাহলে পৃথিবীর কোন বাবাই হইতো কষ্ট পেতো নাহ কিংবা তদের যেতে হতো নাহ বৃদ্ধাশ্রম নাকম একটা আবাসস্থলে ।একজন বাবাকে পরিবারের সকলের আবাদার পূরণ করতে ব্যস্ত থাকতে হয় আর এই ব্যস্ততার মাঝে সে নিজেই অবলীলায় তার জীবনের সব ব্যক্তিগত আকাঙ্খা, শখ এবং বিলাসিতা ভুলে যাই। বাবাদের জীবনের একটাই ইচ্ছা থাকে সকলের আবদার পূরন করে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মুখে হাসি ফোটানো বিশেষ করে সন্তানদের। আর এই সন্তানরা কতটুকো মূল্যায়ন বা উপলব্ধি করতে পারছে তাদের এই ত্যাগকে। আমি বলব বেশীরভাগই পারছে নাহ যদি পারতো তাহলে বৃদ্ধাশ্রম নামক আবাসস্থলে পিতা-মাতাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তো না।

মূলত বৃদ্ধাশ্রমের সৃষ্টি অসহায় ও গরিব বৃদ্ধদের প্রতি করুণা বোধ থেকেই, যেখানে বৃদ্ধদের প্রয়োজনীয় সেবা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকবে। কিন্তু বৃদ্ধাশ্রমের সেই দৃশ্যপট এখন নেই। ছোটবেলায় যে বাবা ছিল সকল আবদার পূরনের একমাত্র অবলম্বন সেই বাবকেই অবহেলা করে আমরা রেখে আসছি বৃদ্ধাশ্রমে। আমরা খুব সহজেই ভুলে যাই একজন বাবার আত্নত্যাগ এবং সন্তানের জীবন গঠনে বাবার অবদানের কথা। বাবাদের কিন্তু খুব বেশী চাওয়া থাকে না সন্তনাকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার পর তারা চাই বাকীটা জীবন অর্থাৎ বৃদ্ধ বয়সে সন্তানদের সাথে হাসি-খুশি থাকতে তাদের সাথে একটু সময় কাটাতে।কিন্তু নিজেদের ব্যস্ততা এবং অনান্য অনেক পারিপার্শ্বিক কারনের অজুহাত দিয়ে আমরা আমদের বাবাদের সময় দিই নাহ অবহেলায় করি কিন্তু এটা হইতো আমারা বুঝতে পারি না যে, আজকের আমি কয়েকদিন পরেই বার্ধক্য পা দিব। আমরা কি এটা ভেবেছি কখনো আমি বৃদ্ধ হলে আমার আশ্রয় হবে কোথায়? তাই প্রত্যেক সন্তানের উচিত পিতা- মাতাকে সময় দেওয়া এবং তাদেরকে একসাথে রাখা। যে ব্যক্তিটা সন্তানের জন্য এতটা ত্যাগ স্বীকার করেছেন তার সঙ্গে সন্তানের উচিত সোহার্দ্যপূর্ন আচরণ করা। শেষ বয়সে যেন বাবা নামক ব্যক্তিটি সন্তানদের সাথে, নিজের পরিবারের সাথে হাসি আনন্দে কাটাতে পারে তা নিশ্চিত করা প্রত্যক সন্তানেরই কর্তব্য। আমরা যেন ভুলে না যাই পিতা-মাতার জন্যই আমরা এই সুন্দর পৃথিবীর আলো দেখতে পেয়েছি। পিতা মাতার এই ঋন কোনভাবেই পরিশোধযোগ্য নয় আজীবন অপরিশোধযোগ্য।

লেখক পরিচিতি:-মোঃরাকিবুল ইসলাম রাকিব
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা

Print Friendly, PDF & Email