বৃহস্পতিবার, ২৮শে জানুয়ারি ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের পাশে SILSWA
তানভীর রহমান
নভেম্বর ২২, ২০২০,  ১২:১২ অপরাহ্ণ
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের পাশে SILSWA

Secondary and Intermediate Level Students’ Welfare Association সংক্ষেপে SILSWA (সিলসা)।২০১৭ থেকে যার পথচলা শুরু “Students For Students” স্লোগান নিয়ে।এবারও সিলসা শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়িয়েছে নতুন এক উদ্যোগ নিয়ে,অনলাইন এডমিশন কোর্স।যেখানে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে ভর্তি পরীক্ষার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি,তাও নামমাত্র মূল্যে।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাকে অনেকেই তুলনা করে যুদ্ধক্ষেত্রের সঙ্গে।হয়তো তুলনাটা মিথ্যা না।যুদ্ধে যেমন অনেক বাঁধা পেরোতে হয়,ভর্তি পরীক্ষাতেও যেন তা-ই।যেখানে প্রতিটা সিট একেকটা সোনার হরিণ।বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে।কেননা চাইলেই নিজের পছন্দের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যায় না।এখানে ভর্তি হতে প্রয়োজন খুরধার মেধা,হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম আর বুকভরা আত্মবিশ্বাস।নয়তো ছিটকে পড়তে হয় মাঝপথে,পৌছানো হয় না গন্তব্যে।

প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ঢাকায় আসে এই ভর্তি পরীক্ষা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে।স্বপ্ন বুনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দায় হাটার,উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার,অপরূপ সুন্দর ক্যাম্পাসের কোনো বিরাট গাছের ছায়ায় বসে জিড়িয়ে নেয়ার।কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে যে গাইডলাইনের প্রয়োজন তা পাওয়া সম্ভব হয় না।এই গাইডলাইন দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে পাশে দাড়িয়েছে সিলসা,শুরু করেছে অনলাইন এডমিশন কোর্স।মাত্র ৩০০ টাকার বিনিময়ে দিয়ে যাচ্ছে সর্বোচ্চ প্রয়োজনীয় গাইডলাইন,সেবা এবং প্রচেষ্টা।

এই কোর্সে রয়েছে ইউনিট ভিত্তিক প্রিপারেশনের সুযোগ।রেজিস্ট্রেশন শেষে A,B,C এবং D ইউনিট নিয়ে ৩১ই অক্টোবর যাত্রা শুরু করেছে “SILSWA Admission Course”,যেখানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬০০ ছুইছুই।

কোর্সে রয়েছে সাবজেক্ট ভিত্তিক ক্লাস,প্রতি ক্লাসের লেকচার শীট,মডেল টেস্ট,সলভিং ক্লাস।এগুলো সবই করে যাচ্ছে একদল স্বপ্নবাজ নিস্বার্থ শিক্ষার্থী।যাদের নিরলস পরিশ্রম ভর্তি যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সহায়তা করবে।

সিলসার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে এই সিলসা এডমিশন কোর্স সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,“বাংলাদেশের অনেক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী আর্থিক সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে ভর্তি কোচিং করতে না পারার ফলে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে এবং নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারে না। এর অন্যতম কারণ আমাদের সমাজের বেশিরভাগ মানুষের ই ধারণা (যদিও ধারণাটা সঠিক নয়) ভর্তি কোচিং ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া সম্ভব না।এসব শিক্ষার্থীদের জন্যই ২০১৭ সাল থেকে সিলসা কাজ করে যাচ্ছে।এবছর বেশ কিছুদিন ধরেই সিলসার সদস্যরা ভাবছিলাম শিক্ষার্থীদের এমন একটি সুযোগ দিতে যাতে তারা নিজেদের আত্মবিশ্বাস অটুট রেখে সবচেয়ে সুন্দরভাবে ভর্তি পরীক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে পারে।এই লক্ষ্যেই আমরা যতদ্রুত সম্ভব তাদের জন্য এই কোর্সের আয়োজন করছি।আমরা যথেষ্ট সাঁড়া পেয়েছি শিক্ষার্থীদের থেকে। এখন আমরা আশা করি আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে তাদের স্বপ্নপূরণে সাহায্য করতে পারবো।”

A ইউনিটের শিক্ষার্থী এজাজ আহমেদ এই কোর্স সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে বলে,“ সিলসার সম্পূর্ণ কার্যক্রম এক কথায় বলতে হলে অনবদ্য।অনলাইনে ক্লাস নিয়েও যথেষ্ট প্রানবন্ত ক্লাস উপহার দিচ্ছে।তাই ক্লাস করে আলাদা মজা পাচ্ছি।আর ভাইয়া-আপুদের পড়াশোনার পদ্ধতিটাও তূলনামূলক ভিন্ন।পাশাপাশি কোর্স ফি টা একদম নামমাত্র,যার দরুন সর্বস্তরের ছাত্র-ছাত্রীরা এনরোল হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।সর্বোপরি ধন্যবাদ সিলসা,যারা কোচিং সেন্টার না হওয়ার পরও ছাত্র-ছাত্রীদের স্বপ্নে পৌছিয়ে দিতে তাদের সবটা উজাড় করে দিচ্ছে।”

সিলসা এডমিশন কোর্সে নাম লেখানো আরেক শিক্ষার্থী সীরাত সানী আজাদকে এই কোর্স সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়,“এবছর প্রথমবার সিলসা এডমিশন কোর্সের আয়োজন করেছে যা আক্ষরিক অর্থেই প্রশংসনীয়।সৌভাগ্যবশত আমিও এই কোর্সের একজন হতে পেরেছি।আমি B ইউনিটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।যে কোনো বিষয়ে যে কোনো সমস্যায় সিলসার টিম মেম্বার রা তাদের যথাসাধ্য সাহায্য করার চেষ্টা করে।তাদের প্রত্যেকের গল্পটা আলাদা হলেও আমাদের জন্য সমান অনুপ্রেরণাদায়ক।তাদের উৎসাহ ,অনুপ্রেরণা অপরিসীম ভূমিকা পালন করবে যে কোনো শিক্ষার্থীর জীবনে।”

সিলসা এডমিশন কোর্সের সঙ্গে যুক্ত সবারও ঠিক একই চাওয়া।এইসকল যোদ্ধাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে তাদের গন্তব্যে পৌছে দেয়া।

জন্মলগ্ন থেকেই সিলসা শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছে।দিশেহারা শিক্ষার্থীদের দিয়ে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা।Dream To DHAKA UNIVERSITY (Commited To Building up your Dream) ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কিত দিকনির্দেশনা পাচ্ছে প্রায় ৫ লক্ষ শিক্ষার্থী।এছাড়াও বিগত বছরগুলোতে ভর্তি পরীক্ষার দিন শিক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষার হল,ভবন,সিট ইত্যাদি খুঁজে পেতে সহায়তা করে গিয়েছে।

সিলসার প্রতিষ্ঠাটা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট রিফাত হাসানকে সিলসা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,“ মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে প্রতিটি ছাত্র/ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার অভাবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারে না। শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সামাজিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হতে হয়। এই প্রতিবন্ধকতা সমূহ দূরীকরণ কে কেন্দ্র করেই সিলসার উৎপত্তি। সিলসা শুধু ছাত্রছাত্রীদের স্বপ্ন দেখায় না, স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার পথ দেখিয়ে দেয়। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে সিলসা শুধু সারা দেশের কলেজে নয় প্রতিটি স্কুলেও সিলসা পৌছে যাবে।আমরা স্বপ্ন দেখি সুন্দর বাংলাদেশের, সিলসা সেই স্বপ্ন পূরণের আলোকবর্তিকা।”

আমরা সকলেই সেই সুন্দর বাংলাদেশের কামনা করি।যেখানে শিক্ষার্থীরা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা খুব সহজে উৎরে যাবে।তারা স্বপ্ন দেখার সাহস করবে,লড়ে যাবে নিজের স্বপ্নের জন্য।

সাধুবাদ জানাই সিলসার এই মহৎ উদ্যোগকে।আশা করি সিলসা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে আমাদের সেই সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণ করবে।

Print Friendly, PDF & Email
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

ফেসবুকে আমরা

Facebook Pagelike Widget
আরও পড়ুন