রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
ভালো নয় নোংরামো পেয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের পদ
অক্টোবর ২৭, ২০১৯
ভালো নয় নোংরামো পেয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের পদ

ভা্লো, ভালো হয় শুনেছি তাই বলে এত্ত ভা্লো না। সেরা, সেরা হয় তাই বলে সর্বসেরা নয়। বানর বাদরামি করবে, ক্ষুধা লাগলে কিছু খেতে ইচ্ছে করবে, ঘুম পেলে ঘুমাতে ইচ্ছে করবে। এগুলো সচরাচর এবং স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সবই কি একসাথে করা যায়? কখনও সম্ভব নয়। একজন সবই করতে পারেন, তবে একটা একটা।

আমরা মানুষ, আমাদের বলা হয় আশরাফুল মাখলুকাত। এই জন্যে বলে,  আমরা সৃষ্টির সেরা জীব। ভালোর মন্দ  আছে, আলোর অন্ধকার আছে,  বেদনার সুখ আছে, আছে শুরুর শেষ। মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ। কিন্তু তার রয়েছে হাজারও নোংরামো। সৃষ্টিকূলে যত প্রাণি রয়েছে প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে সবসময়ের জন্যে স্বচ্ছন্দবোধ করে থাকে। একমাত্র প্রাণি মানুষ,  যে কখনও সবসময়ের জন্যে নিজেকে  নিয়ে স্বাচ্ছন্দবোধ করে না। তারা চাইলেও পারবে না। এটা মানব জাতির সীমাবদ্ধতা বলা যেতে পারে ।

আমরা বাঘকে একটি হিংস্র প্রা্ণি হিসেবে সবাই জানি। বাঘকে যখনই কেউ দেখে মনে ভয় হয় ঠিক আছে,  কিন্তু তাকে দেখতে অনেকটা ভালও লাগে। তার গায়ের পশম, চলাফেরা, চোখ,  গর্জন সবই ভাল লাগে। অনেকেই আবার চায় একটু যদি ধরে দেখতে পারতাম। এত ভয়ংকর জেনেও মনে চায় একবার যদি কাছে যেতাম। তা হোক যেকোনো বাঘ। যেমন ছোট, বড়, মেটো কিংবা ফ্যাকাসে। মোট কথা যেকোনো ধরনের বাঘ হলেই হল। প্রত্যেকটা বাঘই যেন এই আদমের কাছে অমলিন। যদিও তারা ভয় পায়।

এবার আসুন সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের ব্যাপারে। পৃথিবীতে কি এমন কোনো মানুষ আছে যে কি না সবার কাছে ভালবাসা পায়? আদৌ নেই। কেন নেই? অবশ্যই এর কোনো না কোনো কারন রয়েছে। সামান্য বনের হিংস্র প্রাণি পুরো মানব জাতি কাছে আদরের বস্তু হতে পারলো,অমলিন হতে পারলো আর সেখানে একটা মানুষও পাওয়া যাবে না যাকে সবাই আদর করতে চায়। কারনটা হল, মানুয়ের নোংরামো!

বাঘ সর্বসময়ের জন্যে সুন্দর কিন্তু মানুষ নয়। মানুষের একের পর এক নোংরামো লেগেই থাকে। আসুন এবার আমরা জানবো মানুষ কীভাবে নোংরা হয়। খাবার দেখলে মনে হয় যেন সব চেটেপুটে খেয়ে নেই। মানুষ ঠিক তাই-ই করে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন বা উপলব্ধি করেছেন, কারও খাবার অন্য কেউ ক্ষেতে চায় না বা খায়ও না। খাবারের সময় একজনের হাত আরেক জনের খাবারে লাগালে সেই ব্যক্তি আর আগের মত ঐ খাবার খায় না বা ক্ষেতে পারে না। খাবারের প্রতি একটা অরুচি ধরে যায়। কিন্তু যে ব্যক্তি খাচ্ছে তার কিন্তু কোনো সমস্যা নেই। তাহলে অন্য জনের সমস্যা হয় কেন? নিশ্চয়ই নোংরামো! আবার যে খাবার অতি সানন্দে ভোজন করি ঠিক সেই খাবার রেখে দিলে আর পরবর্তিতে কেউ খায় না। খাবার খাওয়ার পর এক জন আরেক জনের হাত দেখলে কেমন যেন মুখটা কোচকো করে ফেলে যেন তার মুখে হাজারও বিষ ঢেলে দেওয়া হয়েছে। কেন খাবারের পর হাতের কি হয় ? নিশ্চয়ই নোংরা হয়। যেটা অন্য কোনো প্রাণিদের বেলায় দেখাই যায় না।

আমরা প্রায়ই সময় রাস্তা ঘাটে চলতে গিয়ে মানুয়ের মলমূত্র দেখে থাকি। যেই মাত্র তা চোখে পরে সেই মাত্র রিঅ্যাকশনটা কি হয় তা আপনারা সবাই জানেন। অনেকই আবার বাজে মন্তব্য করে থাকেন, এখানে কোন জানোয়ার এই কাজটি করেছে? অথচ সে কিন্তু জানে, এটা কোনো জানোয়ারের কাজ নয়। তার মতই একটা মানুষের কাজ। সে এটাও জানে তার পেটের মধ্যেও মলমূত্র রয়েছে। পেটের মধ্যে মলমূত্র লালন-পালন করতে বাধে না আর অন্যের মলমূত্র দেখলে তাকে জানোয়ার বলে সম্ভোধন করে। কারনটা হল কারও নোংরামো কেউ দেখতে রাজি নন। অথচ নিজেও কিন্তু সেই নোংরামো দলের একজন ভারী সদস্য।

আবার একটু গরম বেশি পরলেই প্রায় সব মানুষেরই বোগল ঘেমে যায়। ঘেমে বোগলের ঐখানটায় ভিজে যায়। আরে কি বিশ্রি দেখতে! একজন আরেক জনের বোগল ঘামা দেখলে ঘৃণায় নাক ধরে থাকে। এমনভাব ধরে যেন নিজের কখনও এমনটা হয় না। এক পর্যায়ে তাকে মনে মনে গালিগালাজ করতে থাকে। আর তাকে নোংরা,পঁচা বলে সম্ভোধন করে। আপনি যেমন কারও বোগল ঘামা দেখে নাক ধরেন, ঘৃণা করেন আপনার বোগল ঘামা দেখেও অন্যেরা নাক ধরে আপনাকে ঘৃণা করে, আপনাকে পঁচা বলে। একে অন্যের নোংরামোয় ঘেরা আদম সন্তান।

ঘুম আমাদের অতি আরামপ্রিয়। আমরা সবাই ঘুমাই। ঘুমালে আমাদের হুশ থাকে না এটা সবাই জানি। ঘুম থেকে ওঠার পর আমরা একজন আরেকজনকে দেখে বলি আরে কেমনে যে ঘুমায়! মুখের কি অবস্থা, গেয়ো কোথাকার। আসলেই ঘুম থেকে ওঠার পর মানুষের চেহারা কেমন যেন উদ্ভট দেখায়। তবে এটা কারও একার জন্যে নয় সবার জন্যেই। তবুও একজন আরেক জনের নিন্দায় পঞ্চমুখর। কি নোংরা, কি বিশ্রী! মানুষে মানুষে নোংরামোর ভেদাভেদ নেই তবুও এক জন আরেক জনকে বিভিন্ন কারনে বিভিন্ন সময়ে নোংরা শব্দটি উপহার দেয়।

মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নেই তার একটা উদাহরণ দেই। আপনি যখন সেজেগুজে থাকেন এবং কাউকে টয়লেটে যেতে দেখেন তখন তার প্রতি আপনার কেমন যেন অরুচি এসে যায়। আবার ঐ ব্যক্তিই যখন সেজেগুজে থাকে আর আপনি টয়লেটে যান দেখবেন সেও আপনাকে দেখলে অরুচি বোধ করবে। তাহলে ভেদাভেদ কোথায়? হ্যাঁ, ভেদাভেদ রয়েছে। আর তা হল সময়ের তারতম্য। আপনি যে সময়ে সুন্দর হয়ত সে ঐ সময়ে নোংরা। আর আপনি যে সময়ে নোংরা সে ঐ সময়ে সুন্দর থাকতে পারে। আমি শুরুতেই বলেছি মানুষ সর্বসময়ের জন্যে সুন্দর নয়।

পৃথিবীর আর কোনো প্রাণি আছে কি যারা মানবের মত এতটা নোংরা? আমার এ ক্ষুদ্র জ্ঞানে খুঁজে পাইনি। আচ্ছা, মানুষ কেন এত নোংরা হয়? নোংরামো করাই কি মানুষের কাজ? তাই যদি না হত তাহলে দেখেন, মানুষের সব কাজেই অপরিচ্ছন্ন একটা বার্তা উঠে আসে। তারা যেকোনো কিছু করুক না কেন নোংরামোই তার শেষ ফলাফল। মানুষ কত সাধ করে তৈরি করে, এত মজা করে, মজার মজার খাবার খায় তার ফলাফল কি পাওয়া যায় তা আমরা নিশ্চয়ই জানি। ফলাফল হিসেবে যা পাই তার দিকে আমরা ফিরেও তাকাই না। কষ্টের অর্জিত ফসল আমরা ঘৃণায় ফেলে দিই।

এবার আসুন সেক্স নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক। আমরা জানি একজন মানুষের থুথু বা কফ যখন আরেকজন মানুষ দেখে তখন সে ঘৃণায় অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, খাওয়া তো ভয়াবহ দুঃসহ ব্যাপার। আর এই থুথুই একটা মজার খাবারে পরিনত হয়। কখন তা তো আমরা সবাই জানি। তারপরও আমি একটু বলি। যুবক বয়সে বা প্রাপ্ত বয়সে নারী-পুরুষ যখন সেক্স করে তখন তাদের প্রধান আকর্ষণ থাকে ঠোটের প্রতি। একজন আরেক জনের ঠোট জোরালোভাবে চুষতে থাকে। ঠোট চুষলে আমরা থুথু বা কফ ছাড়া আর কি পাব? এটাই খাওয়ার জন্যে আমরা উতলা হয়ে পরি। আর যখন তা রাস্তায় পরে থাকা অবস্থায় দেখি তা যতই সুন্দরী মেয়ের হোক বা যতই স্মার্ট ছেলেরই হোক তা কেবল ঘৃণ্য বলে আমরা তিরস্কার করি। এমন কি যে এটা মাঝখানে ফেলে রেখেছে তাকে আমরা হরহামেশা গালিমন্দাজ করতে থাকি। জিনিস টা তো একই নাকি!পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি একটি জায়গায়, তা হল নিজের ঠোট দিয়ে ঐ ব্যক্তির ঠোট হতে সরাসরি খাওয়া।

চলে গেল ঠোটের কাজ। এবার আসুন মুখের কাজে। মুখ দিয়ে আমরা সাধারণত ভাল খাবার খাওয়ার চেষ্টা করি এমনকি খাইও। আপনাকে যদি বলা হয় যাও ঐ ব্যক্তির গা চেটে আসো! আপনি তখন তাকে কি বলবেন? ব্যক্তি ছেলে বা মেয়ে হতে পারে। গা চাটার কথা শুনে আপনার অন্তরে একটা ঘৃণার ভাব জন্ম নিবে। ব্যক্তিটা যতই সুন্দরী রমনী হোক বা সুদর্শ কোনো ছেলে হোক। আপনি কখনই তার গা চাটতে আগ্রহী না। গা চাটা তো দুরে থাক এমন কথা আপনার ভাবনায় আসা মাত্রই আপনার ঘৃণায় মরে যাবার কথা।

এবার লাইনে আসুন। একজন নারী আর একজন পুরষ যখন যৌন মিলন করে তখন তাদের আকর্ষণ থাকে কোথায়? নারীর আকর্ষণ থাকে পুরুষের দেহের প্রতি আর পুরুষের আকর্ষণ থাকে নারীর দেহের প্রতি। তখন তাদের আকর্ষণকে কাজে লাগানোর জন্যে উত্তেজনাময় মুহূর্তে তারা কি করে? দুজনা দুজনার গা কেন, পুরো শরীর অনায়াসে চেটেপুটে খেয়ে নেয়। না জানি কত্ত মজাদার খাবার! একই কাজ আপনাকে আগে একজন বলেছিল বলে আপনি তাকে অবহেলার কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছিলেন। আর আপনি আজ স্বেচ্ছায় কোনো ব্যক্তির পুরো গা স্বাদে স্বাদে চেটে খেলেন। নারী-পুরুষের যৌন উত্তেজনার শেষ সময় যখন কুদরতী কিছু পানি বের হয় তখন ঐ পানির প্রতি মানবের কেমন যেন একটা ঘৃণা সৃষ্টি হয়। ঐ পানি কেউ স্পর্শই করতে চায় না। ওটা নাকি নোংরা!  এত কষ্ট করে মিলন করার পর তার যে ফলাফল বের হল তা নিতান্তই নোংরা!

সব কিছু থেকে আমরা একই বিষয়ে উপনিত হচ্ছি যে মানুষের সব কাজের শেষ ফল নোংরামো বের হচ্ছে। নোংরামো হবেই বা না কেন, এই নোংরা কিছু পানি থেকেই তো আদমের জন্ম। নোংরামোর ফল থেকে যার জন্ম নোংরামো ছাড়া তার কাজ কি বা হতে পারে!

বিশ্বে আঠারো হাজার মাখলুকাত রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে নোংরা কোন মাখলুকাত তা আমরা দেখতেই পেলাম। এই আঠারো হাজার মাখলুকাতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে মানুষকে। মানুষ যেখানে সবচেয়ে নোংরা সেখানে তার পদ দেওয়া হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ। নোংরামোকে দেওয়া হয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের পদ! শুধু নেতিবাচক বিবেচনা করলে কি হয়। কেন মানব সন্তানকে শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা হল? সেটাও  আমদের জানা দরকার।

মানব জাতি যতই নোংরা হোক না কেন, সে ই একমাত্র শ্রেষ্ঠত্বের অধিকার রাখে। পৃথিবীর আঠারো হাজার মাখলুকাত এর মধ্যে মানুষ যদি সেরা হয় তাহলে আর বাকি থাকলো কতটি মাখলুকাত? নিশ্চয়ই সতের হাজার নয়শত নিরানব্বইটি। এই সতের হাজার নয়শত নিরানব্বইটি মাখলুকাত তৈরি করা হয়েছে মানব সন্তানের সেবা করার জন্যে। অতএব যাদের জন্যে সব কিছু তারাই তো শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার!

 শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

Print Friendly, PDF & Email