শনিবার, ১৬ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
ভোলায় পুলিশি হামলার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ
অক্টোবর ২১, ২০১৯
ভোলায় পুলিশি হামলার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ

হিমু, জাবি প্রতিনিধি:
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ফেসবুকে মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে ‘অবমাননাকর স্ট্যাটাসের’ প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। মিছিল শেষে শহীদ মিনার পাদদেশে মানববন্ধন ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।

এসময় ভোলার হত্যাকান্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে শাস্তির দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আদীব আরিফের সঞ্চালনায় সমাবেশে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাকিল উজ্জামান বলেন, ‘আমরা দেখছি দেশে যখনই ন্যায্য অধিকার আদায়ে এদেশের জনতা ও ছাত্রসমাজ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে আসে, তখনই পুলিশ এবং সন্ত্রাসী বাহিনী নির্বিচারে অন্যায় ভাবে অনেক অত্যাচার ও নির্যাতন করে।

কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়ও নায্য অধিকার আদায়ে আমরা মাঠে নামলে পুলিশ এবং সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও কেন জনতা ও ছাত্রসমাজ নায্য অধিকার আদায়ে মাঠে নামতে পারে না? কেন তাদের কথা বলতে দেয় হয় না? এর জন্যই কি দেশ স্বাধীন হয়েছিল? ভোলার হত্যাকান্ডে যারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

ইতিহাস বিভাগের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাইদ বলেন, ‘বিগত কয়েকদিন মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করা একটি স্টাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরতেছিল। সেখানে এর পিছনে জড়িতদেরকে বিচারের আওতায় আনার জন্য দেশের বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে ভোলায় গতকালের আগেরদিনও কয়েকটি বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা শুনেছি গতকাল যখন বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় তখন কতিপয় যুবকের উস্কানীতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর হামলা চালায়। এসব উস্কানী দাতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, ফেসবুকে মহানবীকে (সা.) কটূক্তির অভিযোগে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঈদগাহ মসজিদ চত্বরে তৌহিদি জনতার ব্যানারে রোববার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করা হয়। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে সকাল ১০টার মধ্যেই সংক্ষিপ্ত মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হলে পরে আসা লোকজন মোনাজাত পরিচালনাকারী দুই ইমামের ওপর চড়াও হয়।

এতে বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে গ্রামবাসী। এ সময় পুলিশ গুলি ছুড়লে চারজন নিহত হন। সংঘর্ষে ১০ পুলিশসহ দেড়শতাধিক মানুষ আহত হন।

Print Friendly, PDF & Email