শনিবার, ১৬ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
মক্কা থেকে মদিনার পথে
এপ্রিল ৭, ২০১৯
মক্কা থেকে মদিনার পথে
অন্ধকারে ছেয়ে গেছে পুরোটা পৃথিবী। জগতে নেমে পড়েছে ভয়াল একটা রাত। মক্কার আঁকা-বাঁকা পথেরা কেমন যেন এখনই ঘুমিয়ে পড়বে। পাঁ দুটোকে টক টক করে এগিয়ে নিচ্ছি অজানা এক গন্তব্যের সন্ধানে। হাঁটতে হাঁটতে এক সময় ক্লান্ত হলো পুরোটা অবয়ব। ক্লান্ত হয়নি শুধু একটি নির্ঘুম স্বপ্ন। এত দিনের লালিত পালিত সাধ। আত্নার তৃষ্ণা মেটানোর জন্য চাই শুধু একফোঁটা দর্শন। ওটাই যে আজ পথ চলার একমাত্র অবলম্বন।
মদিনা মুনাওয়ারার পথপানে পাঁ দুটোকে তাড়িয়ে নিচ্ছি। প্রোন্নত সাধ বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত , মানবতার মহান শিক্ষক, উম্মতের কাণ্ডারী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাঃ এর সাক্ষাৎ লাভ। মুখে বিড়বিড় করে পড়ে নিচ্ছি দুরুদ। তবুও ভেতরটা কেমন যেন শুকিয়ে আসছে। কিছু দূর হাঁটলেই মসজিদ। ওখানে পৌঁছে  দু রাকাত নামাজ পড়বো। তাই ক্লান্ত পা’দুটোকে আরো ধাক্কিয়ে চলছি। পাশে একটি বরকতময় কূপও পেয়ে গেলাম। মায়াবী শীতল অম্বু ভরালাম ক্লান্ত অবয়বে। জুড়িয়ে গেলো ভেতরটা। বরকতময়  পানিতে কাপড় লাগালাম না, ভাবলাম শরীরেই শুকিয়ে যাক দেহটা শান্ত হোক।  আকাশের দিকে তাকিয়ে কালিমায়ে শাহাদাত ও দোয়া পড়লাম। একটু অগ্রসর হতেই পেয়ে গেলাম সুন্দর একটি মসজিদ। ওখানে প্রবেশ করে দু’রাকাত নামাজ আদায় করলাম। তারপর মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দুটো হাত তুলে বললাম, হে আল্লাহ!  আমার হায়াতটা আর একটু দীর্ঘ করে দাও; যাতে করে তোমার প্রিয় হাবীবের রওজা মোবারকটা জিয়ারত করতে পারি। এতটুকু বলতে বলতেই দু’চোখে অশ্রু এসে ভীড় জমলো, গড়িয়েও পরলো কয়েক ফোঁটা।
আবার তাড়াতাড়ি বেড়িয়ে পরলাম। মরুভূমিরা এখনো ঘুমিয়ে আছে। অবুঝ শিশুটির মত দাঁড়িয়ে আছে রাসূল সাঃ এর পবিত্র  হাতে রোপণ করা সেই আজওয়া খেজুর গাছ। যদিও সব ধূসর দেখাচ্ছে  তবুও পরাণটা আর মানে না, ইচ্ছে হয় মরুভূমির এই উত্তপ্ত বালুতে গড়াগড়ি করি। শরীরটাকে ক্ষত বিক্ষত করে ফেলি। অন্তত এই চিহ্নটা স্থায়ী হয়ে থাক। কিন্তু এখনো যে সামনে বহু পথ বাকী রয়ে গেছে। পৌঁছাতে হবে মানজিলে মাকসুদে, সেদিকটা ভেবে পারলামনা।  কে যেন পারতে দিলোনা , আমারও যে আর  পারা হয়ে উঠলো না।
হাঁটতে হাঁটতে প্রায় পৌঁছে গেলাম মদীনায়। আর মাত্র এক ঘন্টার পথ বাকী আছে। ভাবছি গোসল করে নিবো কিন্তু পানির বড় সংকট। ব্যাগে রাখা পিপাসা নিবারণের পানিটুকু দিয়েই ওজু করলাম। মুহূর্তেই মিটে গেলো সব পিপাসা। পুরনো কাপড়গুলো পাল্টিয়ে নতুন কাপড় পরে নিলাম। সারা শরীরে সুগন্ধি মেখে নিজেকে প্রস্তুত করে নিলাম। তারপর দুরুদ পড়তে পড়তে আবার সামনের দিকে পাঁ বাড়ালাম …..।
সিয়াম বিন আহমাদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া
Print Friendly, PDF & Email