রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
মহিমান্বিত মিলাদুন্নবী( সাঃ) তাৎপর্য ও আমার দর্শন।
নভেম্বর ২০, ২০১৮
মহিমান্বিত মিলাদুন্নবী( সাঃ) তাৎপর্য ও আমার দর্শন।
দূর গননাস্তিত মরুভাস্কর রুপে, তিমিরাচ্ছন্ন জীবনচেতনার ঐশ্বর্য্যের চিরন্তন জ্যোতি বিকিরণ করে দিয়ে, ধুলির ধরাধামে, হেজাজ মরুভূমে ৫৭০ ঈসায়ী সনে, সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ  মহান মানুষ আগমন করেছিলেন, বসুন্ধরায় নৈসর্গিক জ্যোতির অবতরণিকা ঘটিয়েছিলেন। তিনি তো সাইয়্যেদুল আবরার নবি-উ-কি তাজেদার, আহমাদ মোস্তফা মোহাম্মদ (সাঃ)। 
অন্যায় অত্যাচার অবিচার ব্যভিচার কুলষ কালিমা আর পঙ্কিলতার এই পৃথিবীতে রচনা করেছিলেন, সত্য ও ন্যায়, সৌন্দর্য-সুষমার এক বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডল। আরোহন করেছেন যিনি পূর্ণতার সর্বশীর্ষে। যার সৌন্দর্য সমস্ত অন্ধকারকে আলোকিত করেছে। অপূর্ব চরিত্র তাঁর অনুপম সৌহার্দ্য মণ্ডিত। সালাম তাকে সালাম তার পরিবারবর্গকে। যিনি দিয়েছিলেন প্রেমের বুলি। যিনি দিয়েছিলেন ধোনির হৃদয়ে পরকালের ভীতি। শিখেছিলেন সাম্যের গীতি। সে মোস্তফা আহমেদ! আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন? আশেকী হৃদয়ের অব্যক্ত কথাগুলো। আপনার সবুজ গম্বুজে কি প্রতিধ্বনিত করছে। কত কবি তারা তাদের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন, আপনার শানে কবিতা রচনা করে। গভীর রজনীতে হাত তুলে মোনাজাতে তারা, হামেশাই একটি দোয়া করতেন, এই জীবনে চাহিনা কিছুই একটি দাবি পেয়ারা নবী, গভীর রজনীর তন্দ্রাচ্ছন্ন হালে, দেখাও তব নূরানী প্রতিচ্ছবি। হৃদয়ের অমিয়-বানী টুকু আবেগ ভরা কন্ঠে তারা ব্যক্ত করতেন, মহান রব্বুল আলামীনের দরবারে।
কত কবি রওজায় আতহারের কিনারে বসে আপনাকে শুনিয়েছেন তাদের হৃদয়ের কথাগুলো । হে রাসুল, আপনিও তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। ঘুমের ঘরে করেছেন তাদের সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত। মরমী কবি এই একই নিবেদন নিয়ে, কবিতার চরণ রচনা করছে। কেননা, কবির কবিতার চরণ যতই শৈল্পিক ছন্দে রচিত হউক না কেন, সে হাত যদি আপনার শানে দুটি চরণ রচিত না করে, সেটি হবে সেই হতভাগার ন্যায়, যে সারাটা জীবন সাহিত্য সাধনা করেছে, পরিসমাপ্তিতে সে সমস্ত পান্ডুলিপিটি বিনষ্ট কিংবা হারিয়ে ফেলেছ।
যে কলমটি অনবরত নাত গেয়ে চলে, যে প্রতীক্ষার প্রহর এর অবসান অগণিত তারকারাজির মত মিলিয়ন বিলিয়ন বছর জ্যোতি বিকিরণ করে আসছে, মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। চাঁদ কে প্রশ্ন করেছিলাম, তুমি এত স্নিগ্ধ কেন? সে মুচকি হেসে জবাব দিল, রাসুলে আরাবীর এর মুচকি হাসি আমাকে স্নিগ্ধ করেছে। আরবী সিন্দুর কাছে জানতে চেয়েছিলাম। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা প্রবহমান তোমার ঢেউগুলো, কাকে খোশ আমদেদ জানায়? যার যবনিকাপাত ঘটে জাজিরাতুল আরবে? সে মুচকি হেসে জবাব দিয়েছিল, আমার পূরবী হিমেল হাওয়া আর স্রোত ধারা, সে কবির সালাম খানি বয়ে আনে যার রওজায়ে আতহারে বসে কবিতা আবৃত্তি করার সৌভাগ্য হয়নি। মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবহমানকালের সেই সৌভাগ্যের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।
যুগে যুগে সত্যাশ্রয়ী জ্ঞান অনুসন্ধিত্সু জ্ঞানপিপাসু আশেক মন্ডলীকে করেছে মহিমান্বিত। করেছে অনুপ্রাণিত। সুদীর্ঘ এগারটি মাস পরে একটি নতুন তাৎপর্য নিয়ে আগমন করে। যতবার সূর্য উদিত হবে, পৃথিবী নামক গ্রহটি সূর্যের চারদিকে ঘুরবে, এই পবিত্র মাসে দিবসের তাৎপর্যের হাতছানি দিবে, চাঁদ যতকাল পৃথিবীর আকাশে জ্যোতি বিকিরণ করে যাবে, বিস্তৃত পর্বতমালা থেকে ঝর্ণাধারা যতকাল বইবে, নদীর স্রোত ধারা যতদিন মহাসমুদ্র সোপানে গিয়ে মিলবে, যতকাল পর্বতমালা থেকে হিমেল হাওয়া প্রবাহিত হবে। ঠিক ততদিনই ঈদ-ই-মিলাদুন্নব সাল্লাল্লাহু আলাইহি হো ওয়াসাল্লাম বিশ্বকে নন্দিত করবে।
বিশ্ব মুসলিম উম্মার হৃদয়ের মনি কোঠায় স্পন্দিত হয়ে উদযাপিত হবে। যখন হৃদয় ব্যথিত হয়ে যায়, অশান্তির ধ্রুমজালে পৃথিবীর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়, সুবিশাল পৃথিবী যখন সংকীর্ণ হয়ে পরে, তখন রাসূল আপনার দরবারে একটু প্রশান্তির জন্য আত্ম নিবেদন করি। আপনার উপর দরুদ বর্ষিত করি। আফসোস! ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এ ভূখন্ডটি হয়তো অনেক দূরে, কিন্তু রাসূল! সবুজ গম্বুজের আলপনা বাংলার প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ের মাঝে, অংকিত রয়েছে। যদি কেউ এ স্থানটিতে আঘাত হানতে চায়, তখন প্রশস্ত হৃদয় আনচান হয়ে যায়। হুহু করে বেদনার অশ্রু ঝরায়।
রবিউল আউয়াল সার্থকতার মাস। এ মাসের গভীর তাৎপর্য হচ্ছে, নবী-উ-কি তাজেদার এর মহান আদর্শে নিজেকে রঙিন করা। সেই আদর্শকে পরিবার থেকে ব্যক্তি, ব্যাক্তি থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র, রাষ্ট্র থেকে সমস্ত বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আপনার এই আদর্শকে কেবল ভালোবাসার বেড়াজালে আবদ্ধ করে রেখেছি। আজও উপলব্ধি করতে পারেনি। পারিনি সেই সংস্কৃতিকে হৃদয়ে স্থান দিতে। ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শব্দটিকে একটি সিরাত গ্রন্থ কিংবা একটি আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞার মাঝে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। যেমনটি আমরা অন্যসব দিবসের ক্ষেত্রে করে থাকি।
৫৭০ ঈসায়ী সনের সূর্যোদয়ের সুবহে সাদিক থেকে আজকের প্রতিটি সুবহে সাদিক এ দিবসের তাৎপর্যের মহিমা ঞ্জাপন করছে। অমানিশার ঘোর অন্ধকার বিদূরিত করে উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত ভূমন্ডলের শপথ নিয়ে যার আগমন, সেই সুলতানে মাদিনার আদর্শে মুসলিম উম্মার গোটা জীবনকে সৌন্দর্য মন্ডিত করার শিক্ষাটাই আজকের দিনের মহান দাবি। হ্যাঁ, পাঠক আমি আপনাকে বলছি। জীবনের এই সুদীর্ঘ সময়ে হয়ত আপনি অনেকগুলো গ্রন্থ পড়েছেন। কিন্তু পাঠক, আমার রাসুল এর সম্পূর্ণ জীবনী একবারও কি পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে আপনার? যদি উত্তর হ্যাঁ আসে তাহলে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস সার্থকতা বয়ে আনবে। ঈদ ই মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম্ উদযাপন হয়ে উঠুক সবার জন্য রহমতস্বরূপ। এই আশা ব্যক্ত করেই আজকের দিবসের মহিমান্বিত গুন কীর্তন এর ইতি টানব।
Print Friendly, PDF & Email