শনিবার, ১৬ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
“মায়াজাল” একটি গল্প
এপ্রিল ৭, ২০১৯
“মায়াজাল” একটি গল্প

জলপাই রং শাড়ি পরা ওই বেলকনিতে যে অপ্সরী দাঁড়িয়ে আছে; ও লামিয়া। ওর স্নিগ্ধ মায়াবী আঁচলে সাঁঝ নামলেই যেন জ্যোৎস্নারা নেমে পড়ে জানালার ফাঁক গলে। মিটিমিটি তারকারাও আপন বসতি ফেলে এসে, ইচ্ছমতো কল্লোল-হিল্লোলে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এই দেহলিতে। লামিয়ার চুলের সুবাসে পুরোটা ঘর মো মো করে। লামিয়ে নিজেও উপলব্ধি করতে পারে না বিধাতা তাকে কতটা সুন্দর করে বানিয়েছে। আমাদের সংসারটার বয়স তিন বছর হয়ে গেল। তবু আজও মনে হয় লামিয়া আমার কাছে সেই প্রথম দেখা অপরূপা। আমার পুরোটা পৃথিবী জুড়ে শুধুই লামিয়া। অফিস থেকে আজ একটু আগেই বেরিয়েছি। লামিয়ার ভ্যানিলা আইসক্রিম বড্ড পছন্দ করে, আসার পথে মনে করে আইসক্রিমও নিয়ে এসেছি। কিন্তু এটা ওকে এখন দেখাব না। মাঝরাতে উঠে যখন আইসক্রিম খেতে চাইবে তখন বের করে সারপ্রাইজ দেব।

লামিয়া ফোনে খটখট করে কী যেন লিখছে আর মিটিমিটি হাসছে। হঠাৎ আমাকে দেখেই চমকে গেল আর তৎক্ষণাৎ নিজেকে
সামলে ঈষৎ হাসির রেখা টেনে বলল, ‘কখন এলে তুমি?’
‘এইতো আধঘণ্টা প্রায়। তা তুমি এত কী নিয়ে ব্যস্ত শুনি?’
লামিয়া কথাটা এড়িয়ে যায়,
‘ও কিছু না, চলো খাবে এখন।’

এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে লামিয়া ডাইনিংএ চলে যায়। আজ পূর্ণিমার রাত চাঁদটা বেশ বড়সড়। চাঁদের আলোটা প্রভুর এক অপরূপ সৃষ্টি। এতে রহস্যময় অসহ্য সুন্দরও লুকিয়ে থাকে। তবে এই সৌন্দর্য্যটা উপলব্ধি করতে হলে সুন্দর একটা মনও থাকা চাই।

লামিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম,
‘ডিনারে কী আছে?’
ওকে অন্যমনস্ক মনে হলো। কিছু নিয়ে টেনশনে করছে হয়তো?
দু’বার বলার পরেও লামিয়া কথাটা শুনল না। এবার আরও একটু জোর দিয়ে বললাম,

‘রাতে আজ কী রেঁধেছো?’
জরুরী একটা কাজের মধ্যে কাউকে ডিস্টার্ব করলে মানুষ যতটা বিরক্ত হয়, লামিয়া ঠিক ততটা বিরক্তি আড়াল করে বলে, তুমি তো রাতে প্রায়ই বাহির থেকে খেয়ে আসো। ভাবলাম আজও হয়তো খেয়ে আসবে, এজন্যই তেমন কিছু করিনি। ‘আচ্ছা তুমি বসো, আমি এখনই তোমার জন্যে তোমার ফেভারিট ডিম ভেঁজে আনছি।’ এই বলে লামিয়া টেবিল থেকে উঠে যায়। টেবিলের উপরই লামিয়ার ফোনটা পড়ে থাকে। আমি লামিয়ার প্লেটে খাবার উঠিয়ে দিই।মআমার এটা পুরোনো অভ্যাস, আমি নিয়মিত আমার প্লেটে খাবার নেয়ার আগে ওর প্লেটে তুলে দেই। হঠাৎ লামিয়ার ফোনটায় আলো জ্বলে। ফোনটা সাইলেন্ট করা তবুও বুঝা গেল কেউ ফোন দিচ্ছে। আমি ইচ্ছে করেই ফোনটা দেখলাম না। ভাবলাম ওর পরিচিত কেউ হবে। প্রথমবার ফোনটা কিছুক্ষণ জ্বলে বন্ধ হয়ে গেল। খানিকক্ষণ পর আবার একটু জ্বলে উঠল। মনে হলো, এবার মেসেজ এসেছে। কী মেসেজ? মনটা এবার একটু খসখস করতে লাগল। কে মেসেজ পাঠাতে পারে? আবার ভাবলাম যেই হোক

আমার দেখা উচিৎ হবে না। তবে ওর বাড়ি থেকে কোনো জরুরী ফোন নাতো, এই-সেই ভেবে ফোনটা হাতে নিলাম। ফোনের উপর
ছোট্ট একটা মেসেজ ভেসে উঠল,
‘কেমন আছো? জানু কী করছো?’
মেসেজটা দেখেই আমি চমকে উঠলাম। মুহূর্তটা যেন একটা অজানা কষ্টে বাঁধা পড়ল। গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসলো। শ্বাসটা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো।

আমি হাত বাড়িয়ে পানির গ্লাসটা নিয়ে এক শ্বাসেই পুরোটা খেলাম। ফোনের স্ক্রিন থেকে আমার চোখ সরছে না। হঠাৎ লামিয়ার আসার আওয়াজ পেয়ে ফোনটা রেখে দিলাম। লামিয়া গরম গরম দুটো ডিম ভেঁজে আনে। ‘এই নাও তোমার ডিম ভাঁজা। এখনই শুরু করো নয়তো ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। তোমার তো আবার ঠাণ্ডা ডিম একদম পছন্দ না। এই বলে লামিয়া আমার প্লেটে ডিমটা তুলে দিয়ে ফোনটা হাতে নেয়। মেসেজটা সীন করে মৃদু হেসে ফোনটা রেখে দেয়। একটি বারও আমার দিকে তাকায় না। আমার অস্থিরতা ওর চোখেই পড়ে না । একমনে খাবার খায়। একটু সময়ের ব্যবধানে আমার পৃথিবীটা যেন বদলে যায়। যাকে নিয়ে আমার সব চিন্তা-ভাবনা; এক পলকেই তাকে অপরিচিত মনে হয়। আমার চোখের ঝাপসা পানি ওর নজরে পড়ে না। লামিয়া খাওয়া শেষ করে উঠে যেতে যেতে বলে, ‘আমার শরীরটা ভালো লাগছে না। তুমি খেয়ে এসো। আমি শুয়ে পরলাম। ‘আমি খাবার নিয়ে নাড়াচাড়া করছি আর লামিয়ার কথা ভাবছি। এতক্ষণে এক লোকমাও মুখে দিতে পারিনি। হাজারো প্রশ্ন আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আবার মনকে নানাভাবে প্রবোধ দিচ্ছি, না না, লামিয়া এমনটা করতেই পারে না। ওতো আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসে। হয়তো আমার কোথাও ভুল হচ্ছে? ভাবলাম ওকে আরো সময় দেয়া দরকার। হয়তো ওর কোনো ফ্রেন্ড মজা করে লিখেছে। ওর প্রতি আমার সন্দেহটা একটু হালকা হয়। লামিয়া তো, আমাকে আমার থেকেও বেশি ভালোবাসে। মনকে সান্ত্বানা ভরিয়ে বিছানায় গেলাম। কত স্বচ্ছল নির্মল কাচের মতো মুখ। ঘুমিয়ে থাকা মেয়েদের চেহারায় সত্যিকারের সৌন্দর্য্য ফুটে ওঠে। কোনো প্রকার কৃতিমতা থাকে না। লামিয়া এখন গভীর ঘুমে। ওর খোলা চুলগুলো আমার বালিশে ছড়িয়ে আছে। আমি আলতো হাতে চুলগুলো সরিয়ে দিলাম। যেন একটু নড়া লেগে ওর ঘুমটা না ভাঙ্গে।

আমার মনের আকাশে কালো একখণ্ড মেঘ জমে থাকল। বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছি কিছুতেই ঘুম আসছে না। আবারো মনে প্রশ্ন জাগ্রত হলো, ‘কে মেসেজটা দিতে পারে?’ না জানা পর্যন্ত মনে হয় ঘুম আসবে না। আমার বিশ্বাস লামিয়া এমন কিছু করেনি তবুও মনের প্রশান্তির জন্য একবার দেখতে ইচ্ছে করে। টেবিল ল্যাম্পের কাছে দেখতে না পেয়ে মনে করলাম, ফোনটা তাহলে ওর বালিশের নিচেই হবে। আমি খুব সাবধানে
ওর বালিশের নিচ থেকে ফোনটা নিয়ে বেলকনিতে চলে গেলাম। মনকে একটু শক্ত করলাম। আমাদের ভালোবাসার বন্ধন এতটা হালকা না যে, এতটুকু সন্দেহের ঝড়েই তা উড়ে যাবে। কিন্তু আমার জানতে হবে কে সে? আমার আত্নাকে আমার থেকে দূরে সরাতে চায় কোন সাহসে? আমি ফোনটা নিয়েই প্রথমে কল লিস্ট চেক করি কিন্তু কোন নম্বরই পাই না। ও সব ডিলিট করে দিয়েছে। সন্দেহ আরো তীব্র হতে লাগল। মেসেঞ্জারেও কোন মেসেজ পেলাম না। তবে ফোনের ইনবক্সটা চেক করলে কয়েকটা মেসেজ চোখে পড়ে। নম্বরটা অপরিচিত। মেসেজ দেখে আমার মাথা হ্যাং করল। আকাশটা ভেঙে মাথায় পড়ল আমার। মেসেজ দেখে বুঝতে পারলাম ওদের অনেকদিন ধরেই কথা হচ্ছে। এমনকি ওরা দেখাও করেছে বার কয়েক। মনের অজান্তেই কয়েকফোঁটা অশ্রু ফোনের স্কিনের উপর পড়ে। মনে পড়ে যায় ফেলে আসা দিনগুলো। লাভ মেরিজ ছিল আমাদের। পুরো ইউনিভার্সিটির ছেলে-মেয়েরা আমাদের প্রেমের উদাহরণ দিয়ে কথা বলত। সবাই একনামে চিনত আমাদের ‘লাভবার্ড’। লামিয়ার সাথে আমার প্রথম পরিচয়টা হয়েছিল একটা প্রচণ্ড ঝড়ে। ওই ঝড়টা বয়েছিল অডিটোরিয়ামে। আমার এখনো আছে, ওইদিন ভার্সিটিতে নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলছিল। আমি যথারীতি সিনিয়র সিনিয়র ভাব নিয়ে ফ্রেন্ডদের সাথে গিয়েছিলাম। ক্যাম্পাসটা সেদিন বিয়ে বাড়ির মতো সাজানো হয়েছিল। সব কিছুই নতুন লাগছিল। নতুন নতুন কত ছাত্র-ছাত্রী এসেছিল। আমরা বন্ধুরা

মিলে এক সারিতেই বসেছিলাম। অনুষ্ঠান চলাকালীন আমি একটু ওয়াসরুমে গেলে; এসে দেখি হলুদ রঙের থ্রী-পিস পরা একটি মেয়ে আমার সিটে বসে আছে। আমি পেছন থেকে দেখেই একটু উচ্চৈঃস্বরে বলে উঠি,কে বসেছে ওখানে?। মেয়েটি একটুও বিচলিত না হয়ে পেছনে ফিরে বলে, ‘সরি’। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি, মনে হয় যেন ফুটন্ত বর্ষার স্নিগ্ধ রাণী কদম। আমি আবেগ চেপে নিজেকে সংযত করে চেহারায় রাগটা ফুটিয়ে বললাম, ‘কীসের সরি? আপনি আমার সিটে কেন?’
‘ও আচ্ছা, এটা আপনার সিট?’
‘জ্বি।’
‘তা আপনার নামটা যেন কী বললেন?’
‘এখনো বলিনি।’
‘ওকে বলে ফেলুন।’
‘আয়ান আহমেদ।’
‘সো মিঃ আয়ান! এই চেয়ারের কোথাও কি আপনার নামটি লেখা আছে?’
আমি ওর কথা শুনে অবাক হই। তবু একেবারে থেমে না থেকে বলি, ‘নাম লেখা না থাকলেও আমার সাক্ষী আছে। ওই আমার ফেন্ডরা। ওদের সঙ্গেই আমি এখানে বসেছিলাম।’এবার ওদেরকে ইঙ্গিত করে বললাম, ‘দোস্ত তোরা কিছু বল। ‘ওরা সব কয়টা হারামী হা করে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইল। আর আমার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছিল যেন জীবনে ওরা আমাকে আজই প্রথম দেখল।

‘কিরে তোরা কিছু বলছিস না কেন?’
শুভ তো বলেই ফেলল,
‘অনুষ্ঠানে ঝামেলা না করে আপনি তো অন্য একটা সিটে গিয়েও বসতে পারেন।’

আমি রাগে কিচ্ছু বলতে পারছিলাম না। শুধু মনে মনে ভাবলাম, ‘বন্ধুত্বের এই প্রতিদান দিলি তোরা? সুযোগ বুঝে সবকটাকে দেখে
নেব।’
এদিকে লামিয়া বলে উঠল, ‘কী হয়েছে আপনার? এখন তো আমাকে একটু দেখতে দিবেন, নাকি?’
যদিও কথাটা তখন খুব নরম করেই বলেছিল তবুও আমার মনে হচ্ছিল শিং মাছে লবন ছিটাল যেন। রাগে আমার সারা শরীর জ্বলছিল। এভাবেই প্রথম ওর সঙ্গে আমার পরিচয়। তখন লামিয়ে ফা্র্স্ট ইয়ারে আর আমি সেকেন্ড ইয়ারে। এই সূত্র থেকেই একদিন খুনসুটি; একসময় ফ্রেন্ডশীপ তারপর আস্তে আস্ত পথচলা। ও একদিন ভার্সিটিতে না এলে আমি পেরেশান হয়ে যেতাম। কোনো কারণ দেখিয়ে আমি হলে চলে আসতাম। কোনো কিছুতেই মন বসাতে পারতাম না। ও আমার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়েছিল আমিও সেটা খুব বুঝতে পারতাম। আমাকে কোনো মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে দেখলে লামিয়া রাগে লাল হয়ে যেত। শুধু মনের কথাটা মুখে বলতে পারত না। আমি যেদিন ওকে প্রপোজ করি সেদিন ওকে নিয়ে যাই আমাদের দুজনার পছন্দের জায়গা রেল লাইনে। দুপাশে সবুজ প্রান্তর আর মাঝে সরু রেললাইন। প্রপোজ করেছিলাম ঘাসফুল দিয়ে। তবুও লামিয়া সেদিন খুব যত্ন করে ফুলগুলো রেখে দিয়েছিল আপন ডায়েরিতে। নাকের পানি আর চোখের পানিতে আমার শার্ট ভিজিয়ে ফেলেছিল। এসব স্মৃতি মনে করতে করতে কখন যে ভোর হয়ে গেল খেয়ালই করিনি। লামিয়া শখ করে দুটো লাভবার্ড পুষে। বেলকনিতে ছোট্ট একটা খাঁচায় ওরা থাকে। পাখি দুটো সোহাগ করছে। হয়তো একে অপরকে সুপ্রভাত জানাচ্ছে। সারারাতই সজাগ ছিলাম। এক প্যাকেট সিগারেট পুড়িয়ে শেষ করেছি। লামিয়া একদম সিগারেট পছন্দ করে না। তাই অনেকটা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্ত বহুদিন পর আজ আবার পরাণ ভরে টানলাম।

‘কী ব্যাপার এতো সকালে বেলকনিতে কী করছ?’
আমি চোখ ডলতে ডলতে বলি, ‘না কিছু না। এমনিতেই দাঁড়িয়ে আছি। ও হয়তো খেয়ালই করেনি আমি রাতে ওর পাশে ছিলাম না। আর
এটাও খেয়াল করেনি, আমি কতগুলো সিগারেট খেয়েছি। আমি কিছু না বলেই ফ্রেস হয়ে অফিসে চলে যাই। লামিয়া কিচেনে রান্না করে।

সারারাত ঘুমাইনি চোখের নিচে কালো দাগ পড়েছে। নিজেকে বড় অপাদার্থ মনে হচ্ছে। আমারই ব্যর্থতা আমি ওকে সুখী করতে পারিনি। আমার ভালোবাসায় হয়তো কোনো কমতি ছিল। যা ওকে ভালো রাখতে পারেনি। কতটা অযোগ্য আমি ভাবতে পারছিলাম না। আমি তো মনে করতাম আমার থেকে দুনিয়াতে কেউ ওকে বেশি ভালোবাসে না, ভালোবাসতে পারে না। কতশত গল্প আছে প্রণয় ডায়েরিতে, সেই গল্পগুলো কী মিথ্যে ছিল? না ওসব মিথ্যে হতে পারে না। আমাদের বাসা থেকে যেদিন লামিয়েকে দেখতে যাব; সেই কথা ওকে আমি আগের থেকে জানাইনি। সারপ্রাইজ দেব বলে। আগে মামাকে দিয়ে সংবাদ পাঠিয়েছিলাম, অমুক দিন আমরা আপনাদের মেয়েকে দেখতে আসব। পরদিন দেখি লামিয়া ভার্সিটিতে এসে চুপচাপ বসে আছে। আমি কত করে বললাম, কী হয়েছে বলো? লামিয়া কিছুই বলে না শুধু আমার দিকে একবার তাকায় আবার আকাশের দিকে তাকায়। আমিও অভিনয় করি, ‘উফ বলবা তো, কী হয়েছ নাকি? নয়তো কীভাবে বুঝব কী হয়েছে তোমার?’

‘আমাকে শুক্রবার পাত্র পক্ষ দেখতে আসবে।’ কথাটা ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় বলে লামিয়া বলে চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে।
আমি কথাটা শুনেই উচৈঃস্বরে হেসে ছিলাম। লামিয়া যেন তখন আকাশ থেকে পড়ে।
‘কি ব্যাপার তুমি হাসছো? তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না আমার কথা?’
‘আরে না বিশ্বাস হবে না কেন? দেখতে আসবে আসতেই পারে, তো এটা নিয়ে মন খারাপের কী আছে?’
আমি একটু চাপা গলায়ই কথাগুলো বললাম। লামিয়া আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। তুমি মজা নিচ্ছ? একটুও তোমার খারাপ লাগছে না। ঠিক আছে হাসো তুমি, খুব করে হাসো। আমাকে যে দেখতে আসবে আমি তাকেই বিয়ে করব। আমি বলে দিলাম। হুম, যাও যাও…। তোমাকে যে বিয়ে করবে, তুমি তো তার জীবনের বারোটা বাজিয়ে ছাড়বা। আর শুনো মনে করে মিষ্টি পাঠিয়ে দিয়ো। যতই হোক আমি তো তোমার…। কথাটুকু শেষ হতে না হতেই লামিয়া উঠে যেতে যেতে বলল, ‘মিষ্টি! তোমাকে আমি বিষ খাওয়াব।’

ঘরভর্তি মানুষের সামনে লম্বা ঘোমটা দিয়ে লামিয়া চায়ের ট্রে নিয়ে ভেতরে এলো। আমার আব্বু, আম্মু, মামী সবাই দেখে খুব প্রশংসা করলেন। মামা-মামী আমাদের আলাদা ঘরে নিয়ে গেলেন দুজনের মাঝে কথা বলে নেয়ার জন্য। দুজনে মুখোমুখি দুটো চেয়ারে বসেছিলাম। কেউ কোনো কথা বলছি না। লামিয়া এতক্ষণে ও আমাকে দেখেনি।

নিচের দিকে তাকিয়ে ছিল। রাগে ওর গাল দুটো লাল টকটকে হয়ে ছিল। মনে হচ্ছে টোকা দিলে রক্ত ঝরবে। নীরবতা ভেঙে আমিই বললাম, ‘লামিয়া যাই বলো, পায়েসটা কিন্তু হেব্বি হয়েছে। শাশুড়ি মার হাতের পায়েশ বলে কথা।, আমার কণ্ঠ শুনেই লামিয়া এক ঝাটকায় ওর মাথার ঘোমটা ফেলে দিয়ে আমার গালে বসিয়ে দিলো। আমি গালে হাত দিয়ে হতভম্বের মতো তাকিয়ে রইলাম। বাঘিনী এতটা ক্ষেপে যাবে বুঝে উঠতে পারিনি। পরক্ষণেই আমার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে কি কান্না। সান্ত্বনা দিয়ে বললাম আরে পাগলী!

তোমাকে সারপ্রাইজ দেব বলে আগ থেকে কিছু বলিনি। এই স্মৃতিগুলো কল্পনা করতে করতে কখন যে টেবিলের উপরই ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতেই পারিনি। এক কলিগের ডাকে সজাগ হই। গতকাল রাতে একটুও ঘুমাইনি এজন্যই এই অবস্থা। সারাদিন কিচ্ছু মুখে দেইনি পেটটা ক্ষুধায় চোঁচো করছে। না বাসায় যাই নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে হবে। আর লামিয়াকে আমার বুঝাতে হবে।

বাসায় ফিরে দেখি লামিয়া ঘুমিয়ে গেছে। আমিও সামান্য কিছু মুখে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। মনে হচ্ছে আমি একাই রুমে আমার পাশে কেউ নাই। কারণ যেই মানুষটা এখন আমার পাশে আমি এখন তার আপন নই। যার কাছে কেউ মনের কথাগুলো খুলে বলতে পারে না সে কী করে আপন হতে পারে? অনিচ্ছা সত্ত্বেও চোখ থেকে পানি গড়িয়ে বালিশ ভিজে যায়। আমি আবার বালিশের নিচ থেকে লামিয়ার ফোনটা নিলাম। আমাকে জানতেই হবে লোকটা কে? কার সাথে ও এভাবে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে?

ইনবক্স থেকে নম্বরটা নিলাম। আমার হাত পা কাঁপছে। মনে মনে দোয়া করছি যেন আমার ধারণা ভুল প্রমাণ হয়। আমি ভয়ে ভয়ে কল দিলাম রিং হচ্ছে কেউ রিসিভ করছে না। আবার দিলাম প্রায় বিশ সেকেন্ড রিং হওয়ার পরে রিসিভ করল; পুরুষ কণ্ঠে, ‘হ্যালো কে বলছেন?’ আমি কলটা কেটে দিলাম। কণ্ঠটা কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে। কিন্তু কণ্ঠটা কার মনে করতে পারছি না। কিছুক্ষণ পর মনে হলো, এইতো মাস তিনেক আগে লামিয়া ওয়াশরুমে পড়ে গিয়ে মিসকেরেচ হয়। আমাদের তিন মাসের বেবীটা নষ্ট হয়ে যায়। দুজনের কত স্বপ্ন ছিল আমাদের একটা ছোট্ট বাবু হবে। আদর করে কত নামে ডাকব ওকে।

কিন্তু এই এক্সিডেন্টে আমাদের স্বপ্ন ভাঙ্গার সাথে সাথে লামিয়াও মানুসিক অনেকটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমি নিজেকে সামলে নিয়ে ওকে কেয়ার করি। মাঝরাতে উঠে বসে থাকত। পেটে হাত দিয়ে নিজেই নিজের সাথে কথা বলতো। খাওয়া দাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল। বিষয়টা ইভাকে খুলে বললে ইভা একজন ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিতে বলে। দিনদিন ওর অবস্থার অবনতি দেখে আমি ইভার কথামতো ডাক্তার ফরহাদের কাছে যাই। উনি লামিয়াকে প্রায় এক মাসের মধ্যেই সুস্থ করে তুলেন। ফোনের ওপাশের লোকটার কণ্ঠ আর ফরহাদের কণ্ঠ হুবহু একই। তাহলে কী ফরহাদই সে? না না আমি এসব কি ভাবছি? ও একজন ভালো ডাক্তার। এভাবে আর কিছু ভাবতে পারছি না। লামিয়াকে আমার সরাসরি জিজ্ঞাসা করতে হবে। ভোর হয়েছে অনেকক্ষণ হলো। লামিয়া ফ্রেশ হয়ে একটা গোলাপী রঙের শাড়ি পরেছে। আর গুন গুন করে কি একটা গান গাইছে ভালো করে বুঝা যাচ্ছে না। কি হলো এখনো শুয়ে আছো যে অফিসে যাবে না? লামিয়ার জিজ্ঞেসে উঠে বসলাম।ছনা আজ অফিস থেকে ছুটি নিয়েছি। চলো আজ তোমাকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাই। অনেকদিন হলো আমরা কোথাও বের হই না। লামিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে, ঠিক আছে চলো। গতরাতে ফরহাদের মেসেজে দেখেছি আজ লামিয়ার সাথে একটা কফিশপে ওর দেখা করার কথা। প্লান নষ্ট হওয়াতে লামিয়া হয়তো দুঃখিত হয়েছে। চেহারার উজ্জ্বলতা নিমিষেই নিভে গেল। আমি লামিয়াকে আমাদের চিরচেনা সেই রেল লাইনে নিয়ে আসলাম। যেখানে আমি ওকে প্রপোজ করেছিলাম। দিগন্তের দিকে তাকিয়ে আছে। ওর চোখে উদাসীনতার ধূসর আভা। আমি আলতো করে ও হাতদুটো ধরলাম।
‘লামিয়া!’
‘হুম বলো।’
‘কেমন আছো তুমি?’
‘এইতো বেশ আছি।’
কথাটা বলে লামিয়া একটু হাসার চেষ্টা করে। আমি বলি, ‘মনে হচ্ছে তুমি এখানে এসে খুশী হওনি।’
‘কি বলছো এসব?’
লামিয়া একটু জোর দিয়েই বলে,
‘তুমি তো জানোই এ জায়গাটা আমার কত্ত পছন্দের তাহলে এভাবে প্রশ্ন করার মানে কী?’
লামিয়া একটানে কথাগুলো বলে আমার থেকে চেহারাটা ফিরিয়ে নেয়। যেন ওর চেহারার কৃতিমতা আমি বুঝতে না পারি। আমি খুব শান্ত কণ্ঠেই বলি,

‘আচ্ছা, এবার বলো ফরহাদ কেমন আছে?’ কথাটা শুনমাত্র লামিয়া যেন ভুত দেখার মতো চমকে উঠে।
‘মানে কার কথা বলছো, কোন ফরহাদ?’
লামিয়া নিজের অস্বাভাবিকতা ঢাকার চেষ্টার করে।
দেখো লামিয়া! আমি সব জানি। আমার থেকে এখন কিছু গোপন করো না প্লিজ। তুমি কি ভুলে গেছ আমাদের বাসর রাতের কথাগুলো। আমাদের অঙ্গীকার। আমার কিন্তু আজও সব মনে আছে; দুজনে হাতে হাত রেখে বলেছিলাম, আমরা সব পরিস্থিতে এক সাথে থাকব। কারো কোনো কথা গোপন করব না।জীবনের সবটুকু দিয়ে আমি তোমাকে সুখে রাখব আর তুমিও। তোমার যেকোনো সিদ্ধান্তে আমাকে সঙ্গে রাখবে। কথা ছিল, তুমি কখনো ভুল পথে গেলে তোমাকে ফিরিয়ে আনব। ভুল বুঝব না। আমার পৃথিবী জুড়ে শুধু তুমিই থাকবে আর তোমার পৃথিবী জুড়ে থাকব আমি। লামিয়া মাথা নিচু করে শুধু শুনে যাচ্ছে একটু কথা বলছে না। লামিয়া! আমি কী তোমার আছি? কি হলো জবাব দাও? তুমি না বললেও আমি ঢের বুঝতে পারি। তোমার পৃথিবীতে এখন আমার স্থান নেই। কথাগুলো বলতে বলতে আমার গলাটা ধরে আসে। চোখের পানি আঁটকাতে পারি না।

লামিয়ার হাতের উপরও গড়িয়ে পরল ফোঁটা কয়েক। আমি আবার ভাঙ্গা গলায় বলি, লামিয়া তুমি কী দয়া করে আমাকে বলবে? ‘আমার কোন ব্যাপারটা তোমাকে সুখ দিতে পারছে না? প্লিজ বলো। আমি পুরোপুরি নিজেকে বদলে ফেলব। তুমি যা বলবে, যেভাবে বলব আমি সেভাবেই চলব। তবু প্লিজ তুমি ফিরে এসো। আমাকে এভাবে একা করে দিয়ো না। তোমাকে ছাড়া যে আমার কোনই অস্তিত্ব নেই। আমি বাকী জীবনে কোনদিন ফরহাদের কথা জিজ্ঞেস করব না। আমি সব ভুলে যাব। প্লিজ তুমি সব ভুলে আমার জীবনে ফিরে এসো। লামিয়া ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে। আমার চোখের দিকে তাকাতে পারে না।
‘কি হলো, কিছু বলছো না কেন?’
‘যদি কিছু না বলো, তাহলে আমি এখনই এই রেললাইনেই…’
লামিয়া কথাটা শেষ হওয়ার আগেই আমার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
‘চুপ করো, প্লিজ তুমি চুপ করো।’
কিছুক্ষণ থেমে থেকে আবার,
‘সরি আয়ান। আমি খুব বেশি ভুল করে ফেলেছি। আমাকে তুমি মাফ করে দাও। আমি কীভাবে তোমাকে ধোকা দিচ্ছিলাম আমি নিজেও টের পাই নাই। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ।’

এদিকে সূর্যটা লালিমা ছড়িয়ে অস্ত গেল আমরা দুজনে দিনের শেষ প্রহরের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।

মনটা ফুরফুরে লাগছে। আনন্দের হাওয়া বইছে। সকালে লামিয়ার ঘুম না ভাঙ্গিয়ে আমি অফিসে চলে যাই। হাতের কাজগুলো তাড়াতাড়ি সেরে লামিয়ার জন্য একটা বেনারশি শাড়ী নিয়ে যাব। আজকে আমি ওকে আমার মনের মত করে সাজাবো। কয়েকবার কলিং বেল চাপলাম লামিয়া দরজা খুলছে না। আমার চাবিটা দিয়েই দরজা খুললাম। লামিয়া লামিয়া বলে চিৎকার করে ডাকলাম, জানু, দেখো তোমার জন্য আমি কী নিয়ে এসেছি? তোমার পছন্দের বেনারশি শাড়ী। তোমায় পড়লে বেশ মানাবে। লামিয়াকে বেড়রুম, কিচেন, ডাইনিং সবখানে খুঁজলাম কিন্তু কোথাও পেলাম না।

আমার ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠল। পাশের কোন ফ্ল্যাটে যাইনি তো? নাকি বাইরে গিয়েছে? দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করলে জানা যাবে; আমি দৌঁড়ে নিচে নামলাম। নিচে নামতেই দাড়োয়ান এগিয়ে এসে বলল, স্যার আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম। ম্যাডাম আপনাকে এই চিঠিটা দিতে বলেছে। আর বলেছে, তোমার স্যার জিজ্ঞেস করলে বলবে, আমি ফরহাদের কাছে চলে যাচ্ছি। আমাকে খুঁজার যেন বৃথা চেষ্টা না করে। কথাটা শুনে মাত্রই পুরো আকাশ যেন পাথর হয়ে আমার উপর ভেঙ্গে পরে। কোথায় পাঁ ফেলছি কিছুই বুঝতে পারিনা। ধীরে ধীরে ঘরে এসে লামিয়ার চিঠিটা খুলি।

আয়ান,
আমি অনেক চেষ্টা করেছি নিজেকে বুঝাতে কিন্তু কিছুতেই মনের সঙ্গে পেরে উঠছিলাম না। আর তোমার সাথে থেকে তোমাকে ধোকায় রাখতে চাই না। তাই চলে গেলাম। যদি সম্ভব হয় এর পরেও আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো। আমার অপেক্ষায় না থেকে সুন্দর একটা মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিয়ো।

হঠাৎ আমার ফোনটা বেজে ওঠে। রিসিভ করতে একদমই মন চাচ্ছিল না। তবুও বার কয়েক রিং হবার পর রিসিভ করি, ‘আয়ান কেমন আছো?’

শুনেই বুঝতে পারলাম ইভা। আমাদের ডিপার্টমেন্টই পড়ত মেয়েটি। খুব চঞ্চল আর জেদী মেয়ে। একবার কিছু বললে তার হেরফের হতে দেয় না। রিদীমা, অরিত্রীর কাছে শুনেছি ও নাকি আমাকে পছন্দ করত। কিন্তু আমাকে কখনো কিছু বলেনি। ইভা এখন জিপি কাস্টমসে জব করে। আমাদের মাঝে-মধ্যেই কথা হয়। এই মুহুর্তে একদমই কারো সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করছিল না। আমি বললাম, ‘ভালো লাগছে না। ফোনটা রাখব। কিছু বলবা? আমি তোমাকে অন্য কোনো সময় ফোন দেব।’ ‘আয়ান আমি তোমাকে একটা প্রয়োজনে ফোন দিয়েছি।’

‘সেটা বললেই তো পারো। আচ্ছা, কী প্রয়োজন বলো?’
‘আমার ইমার্জেন্সি পঞ্চম হাজার টাকার দরকার। আমি তোমাকে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই
দিয়ে দিতে পারব।’
‘কী দরকার বলা যাবে?’
‘অবশ্যই, কেন বলা যাবে না? টাকাগুলো নিয়ে আমার অফিসে আসো তখনই সব খুলে বলব।’
‘ইভা আমার শরীরটা একদম ভালো লাগছে না। তাছাড়া বাসায় খুব বড় একটা ঝামেলা হয়ে
গেছে। আমার একটু সময় লাগবে।’
‘আমি সব জানি আয়ান।’
আমি চমকে উঠি,
‘সব জানো মানে?’
‘হুম, সব জানি আমি।’
আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না।
‘সব কী জানো তুমি?’
‘কিচ্ছু না, তুমি এসো।’
আমি ইভার কথা শুনে স্থির থাকতে পারলাম না। তাড়াতাড়ি ওর অফিসে রওনা হলাম।
অফিসে গিয়ে ওকে পেলাম না। ফোন করলাম,
আমাকে বাসায় যেতে বলল। বাসায় গেলাম। আমার ভেতরটা অস্থির লাগছিল। দরদর করে
ঘামছিলাম আমি। ইভা শরবত করে আনে। আমি অন্যকিছু না বলেই জিজ্ঞেস করি,

‘আগে বলো তুমি কী জানো?’
‘টাকাটা এনেছো?’
‘হুম, তুমি বলবে না , কী জানো?’
‘শুনবে না টাকাটা কেনো চেয়েছি?’
‘ওটা পরেও শোনা যাবে। লামিয়ার ব্যাপারটা নিয়ে কিছু জানো তুমি?’
ইভা উঠে এসে আমার পাশে বসে। আস্তে আস্তে আমার দিকে ঘেঁষতে থাকে। আমি সরে বসি,
‘তুমি বলবা? নাহলে আমি চললাম।’
‘এত তাড়াহুড়া করছো কেন? আজ তো আর তোমার ওদিকে তাড়া নেই।’
আমি ওর কথার অর্থ বুঝতে পারি না। তবে এতটুকু বুঝতে পারলাম লামিয়ার বিষয়টা ইভা
জানে। একটু পরে ইভা বলতে আরম্ভ করে,
‘ফরহাদ কানাডা চলে গিয়েছে। ওর সঙ্গে আমার কন্টাক্ট হয়েছিল দেড় লাখ টাকা। গত
সপ্তাহে কয়েকটা স্কিনশর্ট দেখাল। বুঝতে পেরেছিলাম ও পারবে। তাছাড়া ফরহাদের প্রতি
আমার বিশ্বাস ছিল। ও খুব অভিজ্ঞ একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। একজন মানুষকে
কীভাবে বিশ্বাস করাতে হয়, ওদের এসব ভালো মতোই জানা। এছাড়া ফরহাদ এটাও জানে
লামিয়া এখন কী করবে? আমাকে বলেছে, আজ-কালের মধ্যেই লামিয়া সুইসাইড করবে।
আজকের পর আমাদের আর কোন প্রতিবদ্ধকতাই থাকবে না।’

আমার জ্ঞান ফিরতেই দেখি আমি হাসপাতালের শুভ্রবেডে শুয়ে আছি। ফোনটা হাতে নিয়েই লামিয়াকে ফোন করি। ওপাশ থেকে রেডিমেড কণ্ঠে ভেসে আসে, দুঃখিত কাঙ্ক্ষিত নম্বরটিতে এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সিয়াম বিন আহমাদ
siambinahmad_iu@yahoo.com

Print Friendly, PDF & Email