সোমবার, ৬ই জুলাই ২০২০ ইং, ২২শে আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
যার পৃথিবী আছে তার কি নেই!
ডিসেম্বর ৬, ২০১৯
যার পৃথিবী আছে তার কি নেই!

কোরবানির ঈদ শেষে ক্যাম্পাস খুলেছে রবিবার ১৮ ই আগষ্ট ২০১৯। বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে কড্ডারমোড় গাড়ির জন্যে অপেক্ষা করছি। আকাশটা তেমন একটা ভাল ছিল না। মনে হয় এই বুঝি বৃষ্টি নেমে এল। কিন্তু নামছে না। চারদিকে মানুষ আর মানুষ। ছুটি শেষে যার যার কাজে ফিরছে মানুষ জন। আমিও তেমনি আমার কাজে ফিরছি। মাঝে মাঝে মনে হয় বাংলাদেশে এত এত গাড়ি কেন! আবার মাঝে মাঝে মনে হয় বাংলাদেশে এত কম গাড়ি কেন!

যখন আমার গাড়ির প্রয়োজন হয় না কিন্তু রাস্তা পাড় হব তখন মনে হয় এত গাড়ি এদেশে! আবার যখন কোনো সিজনে যেমন: বছরের দুইটি ঈদ। এত লোক রাস্তায় চলাচল করে সে তুলনায় গাড়ি পাওয়া মুশকিল। আমার বেলায়ও তাই হল। ঈদের পর এত কম গাড়ি কেন ! কড্ডারমোড় দাড়িয়ে আছি গাড়ির জন্যে। নাহ গাড়ি আসছেই না। আর যেগুলো আসে সেগুলো সব রংপুর, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রামের গাড়ি। আমি যাব কুষ্টিয়া। অপেক্ষা যেন রাগের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। নয়টায় দাড়িয়েছি আর এখন বাজে দশটা। সময় যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। নাহ এভাবে বসে থাকা যাবে না একটা সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে সময় আমার আগে চলে যাবে। কিন্তু আমি তো সময়কে আগে যেতে দিব না। হঠাৎ নজর কাড়ল রাজশাহী গাড়ির দিকে। রাজশাহীর গাড়ি নাটোর বনপাড়া হয়ে যাবে। বনপাড়া হয়েও কুষ্টিয়া যাওয়া যায়। এটাই হবে আমার সিদ্ধান্ত রাজশাহীর গাড়ি উঠে বনপাড়া নেমে ওখান থেকে কুষ্টিয়ার গাড়িতে উঠে যাব। রাজশাহীর গাড়ি অনেক আসে কিন্তু সিট খালি নেই। মাথা আবার বিগরে যাচ্ছে। কি করব, কি করব? ভাবতে না ভাবতেই আকস্মিক একটা গাড়ি এসে আমার সামনে হর্ণ বাজাচ্ছে। কানের মধ্যে এসে হর্ণ বাজাচ্ছে কি দুঃসহ আওয়াজ ! কয়েকটা মেয়ে ছিল ওরা ড্রাইভারকে চিল্লাইয়া গালি গালাজ করতে লাগল। আমি ভাবলাম এরকমটা না করলে ড্রাইভারগুলো শিক্ষা পাবে না। ড্রাইভারের দিকে চোখ যেতে না যেতেই দেখি রাজশাহীর গাড়ি। ভিতরে তাকিয়ে দেখি অনেক গুলো সিট ফাঁকা রয়েছে। কারও দিকে না তাকিয়ে হনহন করে গাড়ির ভিতরে উঠে পরলাম।

একি !! সিট ফাঁকা কোথায় । একদম পিছনের সিটের দুই সিট আগে দেখি একট বৃদ্ধা মহিলা একা একা বসে আছে। আমি তাকে দেখেও না দেখার ভান করে দাড়িয়ে আছি। মহিলা মানুষ পাশে বসলে না জানি কি মনে করবে। কিন্তু আমার ধারনা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হল। মহিলাটি আমায় ডেকে বলল, এই ছেলে তুমি সিট থাকতে দাড়িয়ে আছো কেন, এখানে এসে বস। আমি মহিলাটির পাশে অবহেলার ভঙ্গিতে বসে পরলাম। মহিলাটি দেখতে কেমন যেন !! আমি একটু চেপে-চুপে বসলাম যেন মহিলাটির সাথে স্পর্শ না লাগে। একে তো মহিলা মানুষ তারপর আবার বৃদ্ধা। না জানি কখন কি বলে উঠে। নিজেকে আত্মসংযমন করে রাখার বৃথা চেষ্টা করলাম। মহিলাটির বয়স আনুমানিক ৮৫/৯০ বছর হবে। দেখতে অনেক টা আমার নানির মত। হঠাৎ মহিলাটি আমায় বলে উঠল,আপনি কোথায় যাবেন? আমি ভয়ে ভয়ে এবং অবহেলার সুরে বললাম, জ্বি, আমি নাটোর বনপাড়া নামব। নেমে ওখান থেকে আবার কুষ্টিয়া যাব। তখন মহিলাটি বলল, বনপাড়া এখান থেকে আর কত সময় লাগবে? এখন বাজে সাড়ে এগারটা তারমানে আপনি বনপাড়া পৌঁছাবেন একটারও পরে।

আমার ভয় একটু একটু কমতে লাগল। তাকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কোথায় যাবেন ? আমি রাজশাহী যাব। রাজশাহী আমার বাসা, ময়মনসিংহ মেয়ের বাড়ি গিয়েছিলাম ঈদের দুই দিন পর। আমার একটা কথার সাথে তিনি পরপর উত্তর দিয়েই যাচ্ছে। তার ভাষা অত্যন্ত মার্জিত। আমার ভাষার চেয়ে তার ভাষা অনেক শুদ্ধ। মহিলাটির কথা-বার্তা অনেক স্মার্ট। আজকালকার ছেলে-মেয়েরা হার মেনে যাবে। আমি একটু তার দিকে ঘুরে বসলাম। ভয় অনেকটাই দুর হয়ে গেল। কিন্তু অবহেলা তখনও রয়েই গেছে তার প্রতি। উনি আবার আমায় প্রশ্ন করে বসলেন, তুমি কি কর? আপনি থেকে এবার তুমি বলে আমায় সম্বোধন করলেন। তার মুখে আপনি ডাকের চেয়ে তুমি ডাকটা অনেক মধুর লাগছিল । তাই তার দিকে একটু এগিয়ে বসলাম।

তারপর বললাম, আমি পড়াশুনা করি।
কোথায় পড় তুমি?
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে
কোন সাবজেক্টে পড় তুমি ?
তার মুখে সাবজেক্ট কথাটি শুনে মনের মধ্যে কেমন যেন খটকা লেগে গেল।
বৃদ্ধামানুষ আবার বলে কোন সাবজেক্ট। সে জানলো কেমনে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবজেক্ট ভিত্তিক পড়া হয় !
তারপর আমি জবাব দিলাম ম্যানেজমেন্ট। ও ব্যবস্থাপনা !! তারমানে তুমি বি.বি.এ.-তে পড় ?
আমি যেন কোথায় হারিয়ে গেলাম। ম্যানেজমেন্ট এর বাংলাও বলতে পারে দেখি। মনের মধ্যে খোঁচা মেরে উঠল আমি কার সাথে কথা বলছি !

আমার নাতি আছে , তোমার মত লম্বা কিন্তু তোমার চেয়ে ইস্ট-বিস্ট(মোটাকাটা)। আমার নাতির নাম আশিক। আশিক ঢাকা ইউনিভার্সিটি-তে পড়ে। আমি আর কি বলব, সেই অনর্গল বলে যাচ্ছে। আমার বলার কি কোনো স্কোপ আছে ! আমি তো মাত্র ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। অনেকে জানেই না যে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নামে কুষ্টিয়া একটা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আমি শুধু নির্বাক হয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে তার বলার ভঙ্গিমা দেখছি আর নিজেকে অতি তুচ্ছ বলে ভাবছি। আমি তার কাছে কিছুই না অথচ প্রথমে আমি তাকে অবহেলা করেছি। একটু জোরে নিঃশাস নিয়ে বলল, আমার স্বামী কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন।

উনি কি বেঁচে আছেন এখন? আমি নরম সুরে প্রশ্ন ছুড়ে মারলাম।
না, সে অনেক আগেই মারা গেছেন। আশিকের জন্মের আগেই মারা গেছে। তবে উনি ভাল মনের মানুষ ছিলেন। আমাকে কখনও কোনো কাজে জোর করত না,জোরে কোনো কথা বলত না আমার সাথে, আমাকে ছাড়া কখনও থাকত না। হঠাৎ স্ট্রোক করে স্বামী আমায় ছেড়ে চলে গেলেন।

হঠাৎ করে গাড়িটা থেমে গেল। সামনে নাটোর টোল ভাড়া দিতে হবে।মহিলাটি বলল, কত দুরে আসলাম আমরা ? নাটোর গুরুদাসপুরের ভেতর আছি আমরা।
তুমি আর কতক্ষণ পরে নেমে যাবা ?
এখনও ঘন্টা খানেক লাগবে।

ইতিমধ্যে টোল ভাড়া দিয়ে গাড়ি ভোঁ জোরে একটা শব্দ করে ফলফলিয়ে চলতে আরম্ভ করল। নানির বয়সের মহিলাটির হাত এসে আমার কাঁধে পড়ল। আমি নানির বাড়ি গেলে নানি এরকম করে আমার কাঁধে হাত রেখে কথা বলত। তার হাত আমার কাঁধে পরা দেখে মনে পরে গেল আমার নানির কথা। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় নানিকে হারিয়েছি। বেশ মনে পরছে তাকে। কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছলাম ফিরে এসে দেখি হাত কাঁধে নেই।

ওহ হো এই দেখ আমি শুধু তোমার সাথে কথাই বলে যাচ্ছি, তোমার নামটাই তো জানা হয় নি !
আমি মেহেদী হাসান।
বাসা কোথায় তোমার ?
বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।
তাই নাকি তোমার নাম মেহেদী !
হ্যাঁ ।
আমার বোনের নাতনির নাম মেহেদী। সে গার্লস স্কুলে পরে ক্লাস নাইন-এ।
মেয়ে মানুষের নামও মেহেদী হয়! শুনে আমি অনেকখানি লজ্জা পেলাম। মাথাটা নিচু করা দেখে বৃদ্ধা মহিলা একটু জোরেই হাসি দিলেন।
বললেন, তুমি ছেলে মানুষ তোমার নাম মেহেদী আমার বোনের নাতনি মেয়ে মানুষ তার নামও মেহেদী। কি আশ্চর্য তাই না।
তার হাসির আওয়াজ শুনে আমিও ফিক করে হেসে দিলাম।

বৃদ্ধা তখন কেমন যেন আনমনা হয়ে থমকে রইল। মিনিট দুয়েক পর বলল, জানো ভাই আমার নাতি আশিকের সাথে দীর্ঘ এক বছর পর দেখা হল এবার। ও ঢাকায় থাকে । ভার্সিটি নাকি ছুটি হয় না ! মনটায় অনেক চায় তোমার সাথে যেমন হাসি-খুশিভাবে পাশাপশি বসে রাস্তায় চলছি তেমনটা যদি আমার নাতি আশিকের সাথে চলতে পারতাম। কিন্তু আশিকের তো ভার্সিটি ছুটিই হয় না। তাছাড়া আশিক আমায় অনেক ভালবাসে। এই যে পড়নের শাড়ি আশিক এবার আমায় দিয়েছে। আর আসার সময় ঐ আমায় গাড়িতে তুলে দিয়েছে। কিছুক্ষণ পরপর ফোন দেয় নানি কোথায় আছো এখন। কিন্তু একসাথে আসা-যাওয়া হয় না আমাদের। আমাদের রাজশাহীর বাড়িতে প্রচুর আম। এত আম আমরা খেতে পারি না । আশিকের কাছে প্রায় এক মণ এর মত আম পাঠিয়ে দিয়েছিলাম বন্ধুদের সাথে করে নিয়ে খাওয়ার জন্যে। ভার্সিটি ছুটি হয়নি বলে আমের সময় বাড়ি আসতে পারে নি। আমি যে নানি হই, আমি বুঝি নাতি-পুতিরা  আম না খেলে বুকটা জ্বলে-পুরে ছাই হয়ে যায়। তার মুখে তখন কান্নার একটা ছাপ বর্ষণ দেখা গেল। আমার একটা ছেলে একটা মেয়ে।

আমি আনন্দে বলে উঠলাম, আমরাও এক ভাই এক বোন। ও তাই নাকি ! আমার মেয়েটা অনেক পর্দাশীল, নামাজ-কালাম পড়ে, বাড়তি কোনো কথা-বার্তা বলে না। আর মেয়ের জামাইটার ঢাকায় একটা বড় দোকান আছে। যা দিয়ে তাদের সংসার অনেক ভালই চলে। কিন্তু মেয়ের জামাইটা দোকানে থাকে না। আটটা কর্মচারী রেখেছে দোকানে। জামাই একটি বড় কোম্পানীর ভাল বেতনে চাকরি করে। তার কথা যেন হাজারও মধু রসে ভরা।

মুখে হাই তুলে বললাম, আমি আপনাকে নানি বলে ডাকতে পারি ?
বিনাদ্বিধায় সে বলল, বললে তো আর আমার মান যাচ্ছে না বা দেহ থেকে হাত-পা খসে পরে যাচ্ছে না। তুমি নানি বলে ডাকবে এতে আমার যেমন ভাল লাগবে তোমারও তেমন কথা বলার সময় ডাক সুবিধা বাড়বে ।

আমি তাকে নানি বলে ডাকা শুরু করলাম । ভালই লাগছিল আমার । অনেক দিন হল নানি ডাকা হয় নি। আচ্ছা নানি, আপনি কি পড়াশুনা করেছেন ?
নানি বলে ডাকলে আপনি বলবে না। তুমি বলে ডাকবে, ওকে । আমি আশির দশকে এসএসসি পাশ করে আর পড়াশুনা করিনি।
ও নানি, তুমি এসএসসি পাশ !
হ্যা। জোরে একটি হাচি দিয়ে বলল, সরি।

কি দুঃসহ ব্যাপার। আর কতই স্মার্ট কথা-বার্তা। হাচি দিয়ে পাশের জন যেন বিরক্তবোধ না করে তার জন্যে সরি বলে ফেলল নানি। আমার একটা বিশাল ধরনের শিক্ষার্জন হয়ে গেল।

শোন ভাই , এসএসসি পাশের পর আমার রাজশাহীর একটি শিল্প কারখানায় চাকরি হয়ে গেল।
আপনি এসএসসি-তে কোন বিভাগে ছিলেন ?
কমার্সে ছিলাম আমি ।
কমার্সে তো আমিও।
তা তোমার সাবজেক্ট এর নাম শুনেই বুঝতে পেরেছি আর বলতে হবে না।
তা নানি, তুমি কিসের চাকরি করতে ?

সরকারি চাকরি করতাম। এখন অবসর নিয়েছি । ঐ তো চাকুরি পাওয়ার কয়েকদিন পর একটি কলেজের শিক্ষকের সাথে আমার বিবাহ হয়। তার মানে তোমার স্বামী একজন কলেজের শিক্ষক ছিলেন ! শুধু শিক্ষক না, বিয়ের বছর পাঁচেক পর সে অন্য একটি কলেজের প্রিন্সিপাল হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি.কম পাশ করেছিলেন । আমার কোনো কিছুর অভাব ছিল না, আজও নেই। নেই শুধু আমার সেই ভালবাসার স্বামীটা। স্বামীর কথা বলতে গিয়ে নানি যেন আধ কান্না অবস্থা হয়ে গেল।

মিনিট দুয়েক নানির কোনো কথার আওয়াজ পেলাম না। চেয়ে দেখি নানি ঘুমাচ্ছে। আমি আর ডাক দিলাম না। বয়স্ক মানুষ একটু ঘুমাচ্ছে ঘুমাক। যার কাছে আমি বসতে চাই নি, বসার পর কথা বলতে চাই নি সে যে এত বড় একজন ব্যক্তি ভাবতেই আমার নিজেকে ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করছে । মানুষকে চেনা বড় দায়। বয়সের মাঝে হাজারও মেধার অলংকার লুকিয়ে রয়েছে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের চেহারাও বিগরে যায়। আর তাতে সমাজের মানুষ তাদের হেয় জ্ঞান করে। যেমন আমি এই বৃদ্ধাকে কতই না হেয় করে তার পাসে বসেছিলাম। তার সমতুল্য আমি কোনো দিন হতে পারব কি না সন্দেহ । তার মত হতে পারি বা না পারি যখন তার মত বয়স হবে তখন আমাকেও লোকজন এরকম হেয় জ্ঞান করতে পারে স্বাভাবিক। বয়স হলে যেন মানুষ সমাজ থেকে অবহেলার পাত্র উপাধি পায়। কিন্তু এটা আমরা জানিনা যে, তারাই আমাদের স্বপ্নের আলোর পূজারী ।
এমন সময় কনট্রাক্টর মামা চিল্লাইয়া বলছে, এই বনপাড়া, এই বনপাড়া। বনপাড়ার সব যাত্রিরা সামনে উঠে আসেন। নানিটা তখনও ঘুমাচ্ছেন। আমি তাকে ডাক না দিয়ে আমার সিটের উপর মাথা বরাবর বাসে ব্যাগ রাখা আছে ব্যাগটি নিচে নামিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসা শুরু করি। এমন সময় নানি আমায় বলছে কি ভাই চলে যাচ্ছ ? আমায় একবার বলে যাচ্ছ না।

জ্বি নানি তুমি ঘুমাচ্ছিলে তাই ডাক দিতে সাহস পাই নি। ওরে বোকা ঘুম আগে না নাতি আগে। নানির কথা শুনে মনের অজান্তেই কখন যে চোখের কোণায় পানি চলে আসছে বুঝতে পারিনি।

নানি তাহলে যাই আমি। যাই বলতে নেই বল আসি। নানি তাহলে আসি। ওকে ভাল থাকবা আর নামাজ পড়বা। নানির সাথে এটাই ছিল শেষ কথা। বাস থেকে নেমে পড়লাম। আর ভাবছিলাম আমি কেন রাজশাহীর যাত্রি হলাম না। তাহলে নানির সাথে রাজশাহী পর্যন্ত যেতে পারতাম। শিখতে পারতাম আরও হাজারও জিনিস, জানতে পারতাম আরও ইতিহাস। এমন দাদি-নানি যাদের ঘরে আছে তাদের ঘরে পুরো একটা পৃথিবীই আছে। আর যার পৃথিবী আছে তার কি নেই!

মোঃ মেহেদী হাসান
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

Print Friendly, PDF & Email