মঙ্গলবার, ১০ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৫শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
যেভাবে আপনার সন্তান বই পড়ুয়া হবে
নভেম্বর ১৫, ২০১৯
যেভাবে আপনার সন্তান বই পড়ুয়া হবে

জীবনে চলার পথে অনেক অভিজ্ঞতার সাথে পরিচয় হয় সবার৷ অনেকেই তার অর্জিত অভিজ্ঞতাকে আরেকজনের কাছে পৌঁছে দেন। কেউবা আবার নিজের কাছেই গচ্ছিত রাখেন। আবার কেউ কেউ নেহাৎ ভুলে যান। সে যাইহোক, পরিচয় পর্বটা কিন্তু বিভিন্নভাবে হতে পারে।

অনেকে এই অভিজ্ঞতা অর্জন করে তার জীবনের চলার পথকে সহজ করতে গিয়ে । কেউ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে। আবার কেউ চিন্তা বা গবেষণার মাধ্যমে। উল্লেখিত সবগুলো মাধ্যমই একেকটা অভিজ্ঞতার অর্জনের মাধ্যম। এরকম আরও অনেক মাধ্যম আছে, যার দ্বারা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় সম্ভব।

অর্জিত অভিজ্ঞতা গুলো অন্যকে জানানোর জন্য আবার অনেক মাধ্যম রয়েছে। তার মধ্যে বাস্তবিক বা হাতে-কলমের মাধ্যমটি বেশি ব্যাবহৃত হয়েছে। এই যেমন আমাদের আদিম মানুষ গুলো যখন আগুন আবিষ্কার করেছিলেন তখন তাদের আগুন জ্বালানোর কৌশলটি আরেকজনকে হাতে-কলমে শিখিয়েছিলেন। শুধু এটাই না, এরকম আরও অনেক অভিজ্ঞতা হাতে-কলমে অন্যকে শেখানো হয়েছিলো।

নিজ অভিজ্ঞতা অন্যকে জানানোর জন্য আরেকটি মাধ্যম হলো বই বা পুস্তক। এই মাধ্যমটা এতটাই প্রয়োগ হয়েছে যে প্রায় কয়েক হাজার বছর ধরে এর গুরুত্বের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। এর পেছনে বিশেষ একটি কারণও আছে। সাধারণত আমাদের কাজ গুলো ব্যাক্তি থেকে ব্যাক্তি পর্যায়ে গেলে অনেকটাই পরিবর্তন হয়। কিন্তু বই বা পুস্তকের ক্ষেত্রে সেটা হয় না। এটাই সেই কারণ।

যারা তাদের অভিজ্ঞতা বইয়ের মাধ্যমে অন্যকে জানানোর চেষ্টা করেছিলেন, তাদের চেষ্টা সফল হয়েছে বলতে হবে। কারণ হাজার বছর আগের তথ্যগুলো আমরা একবিংশ শতাব্দীতে এসেও নির্ভুলভাবে পাচ্ছি। যেমটা তারা লিখেছিলেন আমরা ঠিক তেমনটাই দেখতে ও পড়তে সক্ষম হচ্ছি। যেটা হাতে-কলমে ব্যাক্তি থেকে ব্যাক্তি চলে আসলে সম্ভব ছিলো না।

তাই বই এমন একটা সোর্স বা উৎস যেখানে হাজার বছরের অভিজ্ঞতা গুলো লিপিবদ্ধ থাকে। মনে হয় আপনি বুঝতে পাচ্ছেন বইয়ের গুরুত্ব কতটা বেশি। কিন্তু আপনি এটা শুনে অবাক হবেন যে, বইয়ের কদর দিনে দিনে কমছে! মানুষ এখন সময় ব্যায় করে বই পড়তে ইচ্ছুক না। আর এই প্রবণতা মুসলমানদের মাঝে সবচেয়ে বেশি। অপরদিকে সবচেয়ে বেশি বই পড়ে ইহুদীরা। ভূ-খণ্ডের দিক বিবেচনা করে বলতে গেলে রাশিয়ানদের নাম চলে আসে। তারা মেট্রোরেল, বাস বা প্রাইভেট-কার যেখানেই সুযোগ পায় সেখানেই বই খুলে বসেন।

কিন্তু আমরা মনের ভুলেও বই খুলতে চাই না। আমাদের মাঝে কেন এধরনের সমস্যা, বলতে পারেন? আমার মনে হয় বই পড়ার অভ্যাসটা আমাদের মাঝে বর্তমান নেই। যা আমাদের মুসলিম জাতিকে অন্যান্য জাতি থেকে আলাদা করেছিলো একটা সময় । আর এখন তা ইতিহাস মাত্র। আবার আমরা আশা করি আমাদের বাচ্চারা বই পড়বে, কিন্তু আমরা নিজেরা কতটুকু বই পড়ি সেটা ভেবে দেখি না। নিজে বই না পড়ে বাচ্চাকে কিভাবে বই পড়াতে অভ্যস্ত করবেন? মানলাম কর্মব্যাস্ততা থাকে, অবসরে তো বইয়ের দু’একটা পাতাতে চোখ বুলানো যায়, কিন্তু সেটা করা হয় না।

একটা প্রজন্মকে বই পড়ুয়া করে তুলতে হলে তাদের শৈশবকাল থেকে বই পড়তে অভ্যস্ত করতে হয়। আপনি যদি আশা করেন আপনার সন্তান একজন বই পড়ুয়া হবে, তাহলে তার সামনেই বই পড়তে থাকুন। সে খেলা করবে আর আপনি তার সামনে বই নিয়ে পড়তে থাকবেন। এভাবে করতে থাকলে সে একটা সময় খেলা বাদ দিয়ে আপনাকে অনুসরণ করবে। আর তখনই তাকে একটা বই উপহার দিন।

তাকে কখনো বই পড়তে চাপ দিবেন না। কারণ চাপিয়ে দেয়া সকল কিছুই বিরক্তিকর লাগে৷ তাকে বই পড়তে উৎসাহ দিন। উৎসাহ সবসময় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে সবার মাঝে৷ সেটা হোক বাচ্চা, তরুণ, মধ্যবয়সী কিংবা বৃদ্ধ। কোথাও গেলে ফেরার পথে অনেক উপহারই তো নিয়ে আসেন সন্তানের জন্য। সেগুলোর সাথে না হয় একটা বই নিয়ে আসলেন উপহার হিসেবে।

এভাবে কার্যক্রম চালাতে থাকলে বইয়ের সাথে আমাদের সন্তানদের একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে পারবো। যেটা তাদের একজন ভালো মানুষ হতে সাহায্য করবে। তাদের গড়ে তুলবে একজন নৈতিক ও চরিত্রবান হিসেবে। এর সাথে সাথে সফলতার স্বর্ণ শিখরে পৌছাবার পথকে সুগম করবে।

মুসা হাশেমী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া

Print Friendly, PDF & Email