সোমবার, ৬ই জুলাই ২০২০ ইং, ২২শে আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
রঙিন স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় ঊনিশ বিশ
জুন ২, ২০২০
রঙিন স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় ঊনিশ বিশ

ক্যাম্পাসে এবার সবচেয়ে জুনিয়র ঊনিশ বিশ (১৯-২০) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সবে মাত্র কলেজের গন্ডি পেরিয়ে পা রেখেছে ক্যাম্পাসে। হাজারো কল্পনা-জল্পনা, বুকভরা স্বপ্ন আর বাবা-মায়ের ইচ্ছে পূরণ করে ক্যাম্পাসের নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে শুরু করেছে সবেমাত্র। এর‌ই মধ্যে পাঁচ বছর যাদের সঙ্গে কাটাবে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে। নতুন নতুন বন্ধু-বান্ধবী, বয়ঃসন্ধিকালের শেষ প্রান্ত, নতুন চিন্তাধারার উদঘাটন, পরিবর্তন সবমিলিয়ে যেন নতুনত্বের সঙ্গে সন্ধি করতে যাচ্ছে ঊনিশ বিশ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা

রঙিন স্বপ্ন চোঁখে এঁকে ক্যাম্পাসে এসেছে দেশের ৬৪ জেলা থেকে আগত এসব শিক্ষার্থীরা । নানান জনের নানান রকম বৈশিষ্ট্য বা সংস্কৃতি ( যেমন : আঞ্চলিক ভাষা, খাবারের ধরণ, পোশাক পরিচ্ছদ, আচার-আচারন, চলাফেরা ইত্যাদি ) । এসব বৈশিষ্ট্য বা সংস্কৃতি যেন মোহনার মতো ক্যাম্পাসে এসে এক হয়ে যায় । এই নানান রকমের সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত থাকা সহপাঠীদের সঙ্গে পরিচয় হ‌ওয়া থেকে শুরু করে কুশল বিনিময় পর্যন্ত তাদের এই বিষয়টির প্রতি যেন একরাশ ক্লান্তি নেই, রয়েছে যেন ভীষণ কৌতুহল ও আগ্রহ।

তাছাড়া অধিকাংশ ক্যাম্পাসে রয়েছে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য হলসমূহ যা শিক্ষার্থীদের হাজারো স্মৃতি বহন করে থাকে। রয়েছে হলের ভিন্ন রকম‌ খাবার‌ও, রয়েছে খেলার মাঠ, লাইব্রেরি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, রয়েছে গিটারিস্ট বন্ধুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছেড়ে ভাঙ্গা কন্ঠের গান, রয়েছে ভালোবাসার বড়ো ভাই ও আপুরা, রয়েছে তাদের কাছে ট্রিট নামক খাওয়া-দাওয়ার আবদার , রয়েছে চায়ের দোকানে ধুম্রের সঙ্গে চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া, রয়েছে অ্যাসাইমেন্ট, প্রেজেন্টেশন নামক প্যারা, রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য পার্কের ন্যায় ছোট ছোট ছাউনী, রয়েছে সুবিশাল স্থাপত্য। এ সব কিছুর স্বাদ তারা এখন যেন ভুলতেই বসেছে প্রায়। কেননা এই ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিলগ্নে নেই এর স্বাদ গ্রহনের কোনো সুযোগ। অনেকেই ভেবেছিল সীমিত সময়ের জন্য হয়তো ছুটি পাচ্ছে। সবাই বেশ খুশিও ছিলো । কেননা ভর্তি যুদ্ধ নামক এই মহাযুদ্ধ শেষ করে এই প্রথম তারা ছুটি পেয়েছে। সবাই বাড়ির দিকে খুশিতে র‌ওনা দিলো, অনেকে নতুন মেসে আংশিক ব্যবহার্য জিনিসপত্র রেখেই চলে গিয়েছে এই আশায় যে আবারো হয়তো ফিরবে তারা এই মেসে, এই ক্যাম্পাসে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আর ফিরে আসতে পারছে না তারা এই রঙিন ক্যাম্পাসে নতুনত্বের অমৃত সংগ্রহ করিতে। আঁখি মিললেই যেন ঊনিশ বিশ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নিকট প্রিয় নব্য ক্যাম্পাস ভেসে উঠে।

ক্যাম্পাসের কথা ভাবতেই যেন হার্টের স্পন্দন দ্রুত গতি লাভ করে । সকলেই যেন ভীষণ ভাবে মিস করছে লাল বাসে সিট ধরা, বাসে অনেক সময় দাঁড়িয়ে যাওয়া, বাসের উইন্ডো সিট । আবার অনেকেই যেন ক্যাম্পাসের প্রিয় স্থান (ডায়ানা চত্বর, ঝাল চত্বর, বটতলা, লেইক, প্যারাডাইস রোড, টিএসসিসি, কার্জন, ইবলিশ চত্বর, ফরেস্ট রোড, মুক্তমঞ্চ) গুলো মিস করছে । কেউ বা এসময়ে ক্যাম্পাসের আম, লিচু কিংবা অন্যান্য ফলাদি মিস করতেছে আবার কেউ বা মিস করতেছে হলের বেলকনিতে টবে লাগানো ফুল গাছগুলো , আবার কেউ বা ক্যাম্পাসের প্রিয় দোকানদারদের বা কেউ ক্যাম্পাসের পশু-পাখিদের। কতো মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যরা আশাব্রত হয়েছিল সন্তানদের নিয়ে। তারা উচ্চ শিক্ষিত হয়ে চাকরি করে যেন সব অভাব অনাটন দূর করে দেবে । কিন্তু এ যেন শুরু না হতেই শেষ। তবে কি এখানেই থেমে থাকবে ঊনিশ বিশ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নতুনত্বের স্বাদ আহরন, তাদের স্বপ্নপূরন, তাদের রঙিন স্বপ্ন, তাদের যত্তসব কল্পনা-জল্পনা , বুকভরা আশা।

সত্যি বলতে বাস্তবে এসব থেমে থাকলেও তাদের অন্তরাল যেন এখনো কালো মেঘের আড়ালে সূর্যের ন্যায় হাসে । তারা বিশ্বাস করে ‘মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে যে তার সূর্য হাসে’ । কেউই চায় না এই করোনার শেষ প্রান্তে কোনো সহপাঠী হারিয়ে তারা ক্যাম্পাসে যাক । এখনো আশায় বুক বাঁধে এসব রঙিন স্বপ্ন পূরণের জন্য। ইমিডিয়েট সিনিয়র হ‌ওয়া, নিজ ক্যাম্পাসে জুনিয়রদের ভর্তি পরীক্ষা দেখা, তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া এসব‌ ইচ্ছে গুলো যেন তাদের মনে সর্বদা ঘুরপাক করে । একদিন ভোর হবে, নতুন সূর্য উঠবে, ক্যাম্পাসের বাস ছাড়ার ১০ মিনিট আগে ঘুম থেকে উঠে দ্রুত বাস ধরা হবে । বেলকনিতে নতুন নতুন ফুল ফুটবে । ফল খাওয়া হবে ক্যাম্পাসের, একসাথে পহেলা বৈশাখ, স্বরসতী পূজো উদযাপিত হবে, মুজিব বর্ষ উদযাপিত হবে সহপাঠী ও বড়ো ভাই-আপু, শিক্ষকদের সঙ্গে । তবে সেবার থেকে মিস যাবে না আর কোনো উৎসব ! এবারের ঊনিশ বিশ (১৯-২০) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা যেন অন্যান্য সকল শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন । তাদের ইচ্ছা, স্বপ্ন, ক্যাম্পাসের নতুনত্বের স্বাদ আহরন যেন এখনো পূর্ণতা পেলো না, কবে পূরণ পাবে তার‌ও নেই নিশ্চয়তা । তবুও যেন ঊনিশ বিশ আশায় বেঁধে আছে বুক , রঙিন স্বপ্ন গুলো পূরণের অপেক্ষায় …

আল আমিন ইসলাম নাসিম
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।

Print Friendly, PDF & Email