শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২০ ইং, ২৭শে আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
রিকশা
মে ১৯, ২০২০
রিকশা

এই খালি যাবেন নাকি?
হ্যাঁ আমি রিকশা তোমাদের বাহন।
তুচ্ছ-তাচ্ছিল্লের সেই ক্ষুদ্র রিকশা,
নই ফেরারী, পোরশে, মাইক্রো নসিমন।

তুমি কি জানো? আমি সাক্ষী বহু ঘটনার,
হয়ত সেগুলো তোমাদের মনে নেই আর।
আমি সাক্ষী করিমউদ্দিনের কষ্টের দিনগুলোর,
ঘামের সাথে যার চোখের জল,
সেদিন পরতো অবিরত।

আমি শুনেছি বেলালের মায়ের, বুকফাটা চিৎকার,
তোমরা শোননি, শোনেনি বেলালও,
কারণ সে যে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ছিল।
অামি জানি রহিমের মৃত্যুর কারণ,
তিন-তিনটি বিয়ের বয়সী কন্যা ছিল যার।
আর এই আমি রিকশাই ছিলাম,
তার উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন।
আমি সাক্ষী, বৃদ্ধ আবুলের আর্তনাদের,
যাকে ছেলেরা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল।

হ্যাঁ আমি সাক্ষী, সাক্ষী বহু ঘটনার,
আমি সাক্ষী যুবক-যুবতীদের বেহায়াপনার।
স্বেচ্ছায় সম্ভ্রম হারিয়েছে যে তার।
আমি সাক্ষী সেদিনের যেদিন,
বাজারের ব্যাগে বয়ে নেয়া হচ্ছিল হেরোইন।

আমি প্রত্যক্ষদর্শী! আমি দেখেছি,
অসংখ্য শ্রমিক রাতে ঘুমায় রাস্তায়।
যারা দিনে তোমার বিছানা পৌঁছে দেয়,
একতলা থেকে দশ তলায়।
আমি সাক্ষী এরকম হাজারো ঘটনার,
যেগুলো ভুলে যাও তোমরা বারংবার।
তবুও তোমাদের বহন করে যেতে চাই,
কাঁচা, ভাঙ্গা বা পিচঢালা রাস্তায়।

তাহমিদ হাসান শোভন
শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

Print Friendly, PDF & Email