মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং, ১৪ই আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
সংগ্রামী জীবন
ডিসেম্বর ৯, ২০১৯,  ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
সংগ্রামী জীবন

মানুষতো এক সংগ্রামী অভিনেতা। অভিনয় করেই মানুষের রুটি রুজি মিলে। এই সংগ্রাম নিজে বাঁচার জন্য, পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, ক্ষণস্থায়ী জীবনে অমরত্ব লাভ করার জন্য, কর্মের মাঝে বেঁচে থাকার জন্য। জীবন মানেই সংগ্রাম, আর সংগ্রাম করার জন্য লাগে সামর্থ্য। যা প্রত্যেক মানুষের মধ্যে থাকেনা। তা অর্জন করে নিতে হয়। বিনা পরিশ্রমে মানুষ যা পায় তা আবার বিনা পরিশ্রমেই হারিয়ে ফেলে, মানে খয়রাতি জিনিসের কদর কম। আচ্ছা মানুষ বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে? নাকি সংগ্রামের জন্য বেঁচে থাকে? এক কথায় উত্তর হবে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে। এই জগতে মানুষের বেঁচে থাকাটাই মুখ্য বিষয়, বেঁচে থাকার মাঝেই সার্থকতা খুঁজে পায় মানুষ। কিন্তু স্রষ্টা কি মানুষকে শুধু বেঁচে থাকার জন্য দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন? আলহাদ রোমান্স, স্ফূর্তি কি তাদের দুনিয়ার প্রাপ্তি? নিশ্চয় তাদের জন্য কিছু কাজ দিয়েছেন, অতএব তাদের এই কাজ গুলো সম্পাদন করতে হবে। শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষের মাঝে যে নৈতিক গুণাবলী গুলো থাকা উচিত, তা অবশ্যই থাকতে হবে! নয়তো মানুষে-পশুতে পার্থক্য কোথায়? মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ কিসে?

আমরা সমাজে নন্দলাল মনস্ক কিছু মানুষ প্রতি নিয়ত দেখতে পাই, দেখতে পাই সাপের কোলস পাল্টানো নিত্যদিনের চারিত্রিক গুণাবলী। তারা সমাজের যতটুকু ভালো কাজে অবদান রাখে তার চেয়ে দ্বিগুন খারাপ কাজে অবদান রাখে। সমাজে বীরদর্পে হুংকার ছাড়বে, কিন্তু সংগ্রামী জীবনের ছিটে ফুটেও তার মাঝে পাওয়া যায়না। এরা চার দেয়ালের মাঝে আবদ্ধ থেকে জালের আবরণ থেকে মানুষকে আদেশ করে। অমুক কাজের জন্য সংগ্রাম করো, অমুক দলকে মূলে নিঃশেষ করে দাও, অমুক ইন্ডাস্ট্রী বন্ধ করে দাও, অমুকের ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দাও, তমুকের বাগান সাবাড় করে দাও, তমুকের বউকে ধরে নিয়ে আসো! এই হলো নন্দলালের জীবনের জন্য সংগ্রাম, কিন্তু সেই সংগ্রাম ও সংগ্রামী জীবন গঠনের জন্য যে পরিশ্রমও করা প্রয়োজন, তা করতে সে নারাজ। যা জীবনের নেতিবাচকতার দিকে মানুষকে প্রভাবিত করে। তাহলে তাকে নন্দলাল বৈকি আর কোন নামে ডাকা যায়? তার জীবনের সার্থকতা আদেশের মাঝেই সীমাবদ্ধ। আদেশপন্থী নন্দলাল মনস্ক মানুষের ভিড় বাংলাদেশে অনেক বেশি। যারা মানুষকে আদেশ করতে বড়ো স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

মানুষ বেঁচে থাকার জন্য এবং জীবনকে সক্রিয় রাখার জন্য সংগ্রাম করে নিশ্চয়। ধরুন ১৭৭৯ সালের ফরাসি বিপ্লব, ১৯১৭ সালের রুশ বিল্পব, ১৯৪৫ সালের আগস্ট বিপ্লব, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লব, এত শত বিপ্লবের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল জীবনের জন্য সংগ্রাম করে জীবনকে সক্রিয় করে বেঁচে থাকা। এবং শোষণ নির্যাতনের হাত থেকে আপন অস্তিত্বকে রক্ষা করা। এসকল দেশের মানুষ গুলো যদি নন্দলালের স্বগোত্রীয় হতো, তাহলে বুঝে নিবেন সে জাতির ভবিষ্যত অন্ধকার হতো। সে জাতি অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত থাকতো। কিন্তু ইউরোপ – আমেরিকানরা নন্দলালকে অনুসরণ করেনি।তারা অনুসরণ করেছে শতবছরের অমর বিপ্লবীদের, যারা সাহস আর মনোবল দ্বারা সমগ্র বিশ্বকে নিজেদের করে নিয়েছেন।

আমরা বাঙালিরা বাংলার চার’কে ইংরেজির আট হিসেবে গণনা করতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি দিনের পর দিন। মাতৃভাষার মর্যাদা পদতলে দিয়ে বিদেশি ভাষাকে কাছে টেনে নিয়ে আলিঙ্গন করছি, যা আমাদের জীবনের ভবিষ্যৎ বিপর্যয়ের জন্য অশনিসংকেত। মাতৃভাষাকে অবহেলা করে কখনো কোনো জাতি উন্নত হতে পারেনা, উন্নত জীবন যদিও লাভ করে, কিন্তু সে জীবন দীর্ঘদিন স্থায়ী থাকতে পারবেনা।

পৃথিবীতে দিনের পর দিন পরিশ্রমী মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, মানুষ পরিশ্রম বিমুখ হয়ে যাচ্ছে। দৈনন্দিন জীবন পরিচালনায় কারো সাহায্য প্রয়োজন হলেও সাহায্য না নিয়ে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে, একটা সময় আসবে যখন মানুষ এই কঠিন বিপর্যয় থেকে আর পরিত্রাণ নিতে পারবে না। সংগ্রাম করাকে মানুষ আর্ট হিসেবে দেখছে, বাস্তব জীবনের মুখোমুখী হয়েও জীবনের চরম বাস্তবতাকে অস্বীকার করছে।

বাঙালী পরম শান্তি প্রিয় , তার চেয়ে বেশি অলসতা প্রিয়! বাঙালীর নুন আনতে পান্তা ফুরা়লেও অলসতা আর চাটুকারিতা ফুরায়না। বাঙালী যদি পশ্চিমাদের মত উন্নত জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় তাহলে তার প্রথম কাজ হবে পরিশ্রমী হওয়া, তার দিত্বীয় কাজ হবে, কর্ম জীবনে সততার সর্বোচ্চ পরিচয় দেওয়া, যা ইংরেজদের কাছ থেকে সারা পৃথিবী এখনও শিক্ষা নেয়। ইংরেজদের উন্নয়নের মূল অস্ত্র হলো সততা ও পরিশ্রম। প্রবাদ আছে সততায় সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা, এবং পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।

লেখক: সাইফুল বিন শরীফ
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয, কুষ্টিয়া

Print Friendly, PDF & Email
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

ফেসবুকে আমরা

Facebook Pagelike Widget
আরও পড়ুন