সোমবার, ২০শে জানুয়ারি ২০২০ ইং, ৭ই মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
স্মৃতির পাতায় শৈশব, চাইলেই ফিরে যাওয়া যায় না
নভেম্বর ২৫, ২০১৯
স্মৃতির পাতায় শৈশব, চাইলেই ফিরে যাওয়া যায় না

মাঝে মাঝে যখন কিছু করার থাকেনা তখন চোখ বন্ধ করে সেই ছোটবেলায় ফিরে যাই। অামি কখনই খুব একটা শান্ত শিষ্ট ছিলাম না। সারাদিন দোড় ঝাপ অার খেলাধুলা নিয়েই মেতে থাকতাম। কত ধরনের খেলা, কানামাছি, গোল্লাছুট, পুতুল, গাড়ি, অস্ত্র খেলা অারো কত কি!

অামার সবচেয়ে ভাল লাগতো মেয়েদের খেলাধুলা, পুতুল অার নারকেলের খোলা দিয়ে খেলা। এক পরিবারের পুতুলের সাথে অার এক পরিবারের পুতুলের বিয়ে, অার কত মজা কত রকমের রান্না তার পর খাওয়া দাওয়া। অার প্রতি সপ্তাহে একটা পিকনিক না করলে যেন জমতোই না, সেটা হোক একটা ডিম অথবা শাকসবজি দিয়ে। অামাদের ছোট্ট পোলাপানদের মাঝে একটা বড় অাপু ছিল সেই মূলত অামাদের লিডার ছিল। সেই সব কিছু দেখতো, এই ধরুন অামাদের মাঝে সবসময় ছোট খাট খুনসুটি লেগেই থাকতো অার তার বিচার ব্যবস্থার দ্বায়িত্ব তার উপর পরতো। তার যখন বিয়ে হয়ে যায় খুব কেঁদেছিলাম। তার কথা অাজও মনে পড়ে কিন্তু অাজ অার সে এই পৃথিবীতে নাই। অাল্লাহ তার বেহেশত নসিব করুণ।

স্কুল থেকে বাড়িতে এসেই কোনমতো কিছু মুখে দিয়ে খেলাধুলার জন্য অাবার বেড়িয়ে পড়তাম। বিকাল হলেই চলে যেতাম খেলার মাঠে, সেখানে সবাই উপস্থিত হতো। অামরা ঢোল কলমি নামক একটা গাছ অাছে যার ডাল পালা একটু অাকাবাকা, একটু কায়দা করে ভাঙলে তা বিভিন্ন অস্ত্রের মত লাগে। অার তা দিয়ে চলতো অামাদের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। জাল দিয়ে মাছ ধরা। নারার ভুরে বড় বড় গর্ত করে গোবর দিয়ে বাঁশের চোঙ্গা লাগিয়ে ইট ভাটা বানিয়ে দুয়া দেওয়া খেলার সেই সব দিন কী করে ভুলি!

গ্রামের ছোট ছোট পুকুর গুলো লাফ দিয়ে সাঁতার কাটা, আঁকা বাঁকা খাল গুলিতে বাদ দিয়ে সেচ করে মাছ ধরার সেই দিন গুলি কি করে ভুলি? অাসলে ভোলার নয়। অার এই সময়টাতে সবচেয়ে খারাপ লাগতো পড়াশোনা করতে। একদিন তো স্কুলে যাব না বলে সকাল হতে পালিয়ে বেড়াচ্ছি সাথে অামার মা লেগে ছিল এক সময় ধরে কি মারটায় না দিল!  তার পর ধরে স্কুলে দিয়ে অাসলো। অার সন্ধ্যা লাগতেই মনে ভয় লাগতো কারণ সন্ধ্যা হলেই যে অাব্বু পড়তে বসাতো অার সাথে দিত হালকা পিটুনি। ঐ সময় অামার দাদিকে বলতাম অামার পাশে থাকতে যেন অাব্বু না মারতে পারে। অার অাব্বু অাম্মুর ভালবাসাটা ছিল অসাধারণ। ছোটবেলায় যখন খেতে চাইতাম না অামার মা সারা পাড়ায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মুখে তুলে খাওয়াতো অার অাব্বুর সাথে শুধু বাজারে যেতে চাইতাম কারণ বাজারে গেলেই খেতে পারবো মন্ডা মিঠাই।

অাসলে এমন অাবেগের মূহুর্ত গুলো লিখে শেষ করা যাবে না। স্মৃতিভাণ্ডারের এমন হাজারো স্মৃতি হাতড়ে বেড়াতে বেড়াতে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ি। এ যেন এক অন্য জগত! বুকের সংগোপনে লুকিয়ে রাখা এক অনন্য ‘স্বপ্নরাজ্য’। যেখানে আরেকটিবার ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল আকুতি সবার, কিন্তু…। চাইলেই কি সব হয়? ছোট থাকতে কত ভাবতাম, “ইস্, কবে যে বড় হব!” সেই ‘বড় হওয়া’ আজ সত্য বটে। কিন্তু এই এক বড় হওয়াই যেন নিয়ে গেল জীবনের অবাধ স্বাধীনতার চিন্তাহীন নির্মল এক অধ্যায়।

তাই মাঝে মাঝেই ফিরে তাকাই, ফিরে তাকাতে হয়। ভাবতে হয় সেই সব দিনের কথা। কখনোবা ভাবতে ভাবতে ছলছল করে উঠে চোখ, কখনোবা অকস্মাৎ ফেটে পড়ি হাসিতে। তবুও সেসব মুহূর্তকে বুকের মাঝে আঁকড়ে ধরে ভালোই আছি, ফিরে তো অার যাওয়ার উপায় নাই।

এস এম জামিরুল ইসলাম জামির
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ

Print Friendly, PDF & Email