রবিবার, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
header-ads
হে বিশ্বজয়ী বীর!
সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮
হে বিশ্বজয়ী বীর!

মুহা.আরিফুর রহমান আযাদ:
আমরা মুসলিম। আমরা সেই সে জাতি, যারা সর্বপ্রথম জ্ঞানের শৈল চূড়ায় আরোহন করে জ্ঞানের আলোয় আলেকিত করেছি অজ্ঞতার আঁধারে ঘেরা এ বিশ্বজগৎ। পথহারা মানবসমাজকে দেখিয়েছি সত্য-সুন্দর পথের সন্ধান। বিপন্ন মানবতাকে রক্ষা করেছ নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে। মিথ্যার মুণ্ডুপাত করে সত্য প্রতিষ্ঠার তরে শিরে আমামা বেঁধে আমরাই রণাঙ্গনে বাজিয়েছি রণ দামামা। বিশ্বতোরণে আমরাই উড়িয়েছি সত্যের জয় কেতন। সেবা-দয়া-স্নেহ-মমতায় মানব হৃদয় করেছি জয়। বিনয় ও বীরত্বের ঊর্দির মাঝে আমরাই বিশ্বজয়ী বীর। “পারি না” শব্দের ঠাঁই আমাদের মুসলিম জাতির অভিধানে নাই। আমরা স্বপ্নবিলাসী নই বরং স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরম বিশ্বাসী। আমরা বলি__স্বপ্ন নয় তা যা মানুষ ঘুমের ঘোরে দেখে। বরং যে চেতনা মানুষকে কর্মচঞ্চল করে তোলে, জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য যে অদম্য স্পৃহা তাকে নর-শার্দূলের ন্যয় ব্যগ্র করে তোলে __তাই প্রকৃত স্বপ্ন। 

হে মুসলিম বন্ধু! তুমি কি তোমার আত্মপরিচয় ভুলে আজি ঘুমের ঘোরে সুখের স্বপ্ন দেখছো? আলস্য-অবহেলায় জীবনের মূল্যবান সময়গুলো অযথাই নষ্ট করছো? মখমল-মসৃণ রেশমী কাপড় গায় জড়িয়ে তুমি আজ সুখ-সম্ভোগে মত্ত্ব। যে হাতে তোমার শোভা পেত অসত্যের প্রলয়ংকারী মেঘকে উৎক্ষিপ্তকারী নাঙ্গা তলোয়ার,যে কণ্ঠ তোমার হাঁক ছাড়তো “আল্লাহু আকবর” রবে সিংহের গর্জন __তোমার সে হাত,সে কণ্ঠ আজ বাঁশরীতে সুরের লহরী সৃষ্টিতে লিপ্ত! হে মুসলিম তরুণ! ভুলে যাও তোমার সব আরাম প্রিয়তা,খুলে ফেল এই রেশমী পোশাক। পরিধান কর তোমার সেই আভিজাত্যের লৌহবর্ম। বাঁশরীটাকে ছুঁরে ফেল নর্দমাতে। তুলে নাও সত্যের ঝাণ্ডা তোমার পবিত্র হাতে। থামাও তোমার সুরের লহরী,মুখে লও রণতূর্য। তোমার তারুণ্যের দীপ্তিময় শিখা ছড়িয়ে জাগিয়ে তোলা আলস্যের তন্দ্রায় বিভোর তরুণসমাজকে।

মানবতাকে মুক্তি দাও শাসক নামের হিংস্রপশুদের নৃশংস শোষণ হতে। মানুষ হয়ে মানুষের তরে ভালবাসার প্রবল টানে তুমি সজাগ হও। অধিকার বঞ্চিত-আর্তপীড়িত জনতার ন্যয্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার সাধনায় ধন্য কর তেমার জীবন। নৈতিকতা বিবর্জিত,ধ্বংসের দিকে ধাববান মানব জাতির কর্ণ-কূহরে পৌঁছে দাও তাওহিদের পবিত্র সুর -ধ্বনি। প্রতিটি হৃদয়ের মর্ম-মূলে গুঞ্জরিত কর প্রিয়নবির মধুর নামখানি। হে মুসলিম! কোথায় তেমার সেই শৌর্য-বীর্য,দুর্বিনীত মহাশক্তি,সত্য জয়ের উদগ্র উন্মাদনা? যার ভয়ে দুনিয়ার তাবৎ শক্তি ছিল কম্পমান! তুমি কি তবে আত্মগ্লানির শরাব পানে মদির হয়ে পরে আছো জীর্ণ শরীরে,শীর্ণ কুটিরের নির্জন কোণে?? বাতায়ন পানে চোখ মেলে চাও। দখিনা মৃদু সমীরণ দোল খেয়ে যাক তোমার হৃদয়ে। বসন্তের মাতাল হাওয়ায় নবপ্রাণের সাড়া জাগুক তেমার ঐ মুর্দা দিলে। তুমি জেগে ওঠ! তুমি জেগে ওঠ!! তোমার হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের চেতনায় উজ্জ্বীবিত হয়ে জেগে ওঠ!!! পৃথিবীর দিক-দিগন্তে, প্রতিটি পল্লী-প্রান্তে কায়েম কর তোমার সেই সত্য-বিধাতার শান্তির রাজ। বিশ্বের সিংহদ্বারে আবার নওল করে উড্ডীন কর ন্যয়- ইনসাফের নিশানা।

প্রিয়বন্ধু! তুমি কি ভুলে গেছো তোমার সেই আত্মগৌরব-আত্মমহিমা?__যার শক্তিতে তুমি একদিন আরোহণ করেছিলে সম্মান-মর্যাদার স্বর্ণ শিখরে! তবে আজিকের এ অবেলায় , এ খুনঝরা পৃথিবীর আঙিনায় যদি পার, কোন এক চির দুখীর মুখে এক চিমটি হাসির দ্যুতি ছড়িয়ে মহিমান্বিত কর নিজেকে। হে আযাদী সৈনিক! বিপন্ন মানবতার মুক্তিকামী জনতা করুণ কণ্ঠে ডাকছে তোমায় __তুমি সাড়া দাও। তুমি আবার সমাসীন হও তেমার সেই প্রতাপময় শাসন ক্ষমতায়। আল্লাহ তোমায় দয়া করুন। হে বীশ্বজয়ী বীর!

Print Friendly, PDF & Email