মঙ্গলবার, ১লা ডিসেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |আর্কাইভ|
৪২ তম বর্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
লেখক, আল আমিন ইসলাম নাসিম
নভেম্বর ২০, ২০২০,  ৩:০৪ পূর্বাহ্ণ
৪২ তম বর্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত ও সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের অধিকাংশ আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক এবং আর্তজাতিক অঙ্গনের প্রতিটি অর্জনের পিছনে যে অন্যন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রেখে চলেছে তা হলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতার পরবর্তীকালে দেশব্যাপী যে শিক্ষা সংকট চলছিল তা দূরীকরণে ব্যাপক অবদান রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি গুনে নিয়েছে নানা অর্জন। সেই সঙ্গে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বিষয়টিও নিয়েও ওঠেছে নানা প্রশ্ন? আজ ২২ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ তম প্রতিষ্ঠাতা বার্ষিকী। দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে আজ ৪২ বছরে পদার্পণ করার মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পুরাতন স্মৃতিগুলো। সেই সঙ্গে স্মৃতি হিসেবে সামনে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অংশ। দীর্ঘ চার দশকের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ চলার ইতিহাস সত্যিই অত্যান্ত তাৎপর্য বহন করে। তথাপি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত ও সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি!

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্তঃ
কুষ্টিয়াতে অবস্থিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (সংক্ষেপে ইবি) স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। যা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া নামেই অধিক পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এটিই দেশের সর্বোচ্চ ইসলামী বিদ্যাপীঠ। বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধর্মের ও বর্ণের দেশী-বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষকের সমন্বয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, ব্যবসা প্রশাসন, সামাজিক বিজ্ঞান এবং মানবিক ও কলা অনুষদীয় বিষয়ের পাশাপাশি দেশে শুধুমাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতেই ধর্মতত্ব ও ইসলামী আইনের উপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী প্রদান করা হয়। শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টি আর্থিকভাবে ইসলামী সম্মেলন সংস্থার সাহায্য পরিচালিত হয়ে আসলেও বর্তমানে এটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। ইসলামী শিক্ষার উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া জেলায় প্রতিষ্ঠানটি গঠন করা হয়।ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮৬ সালের ২৮ জুন তাদের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একটি ইসলামী বিদ্যাপীঠ স্থাপনের উদ্যোগ অনেক পুরনো। সর্বপ্রথম ১৯২০ সালে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী চট্টগ্রামের পটিয়ায় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ফান্ড গঠন করেন। ১৯৩৫ সালে মাওলানা শওকত আলি মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৪১ সালে মাওলা বক্স কমিটি ‘ইউনিভার্সিটি অব ইসলামিক লার্নিং’ প্রতিষ্ঠার জন্য সুপারিশ করে। ১৯৪৬-৪৭ সালে সৈয়দ মোয়াজ্জেম উদ্দীন কমিটি এবং ১৯৪৯ সালে মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ কমিটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সুপারিশ করে। ১৯৬৩ সালের ৩১ মে ড. এস. এম. হোসাইন-এর সভাপতিত্বে “ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন” গঠন করা হয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার ১ ডিসেম্বর ১৯৭৬ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। ১৯৭৭ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রফেসর এম. এ. বারীকে সভাপতি করে ৭ সদস্যবিশিষ্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২০ অক্টোবর ১৯৭৭ সালে রিপোর্ট পেশ করে। কমিটির সুপারিশে থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের অধীন (১) আল-কুরআন ওয়া উলূমুল কুরআন, (২) উলূমুত তাওহীদ ওয়াদ দা‘ওয়াহ, (৩) আল হাদীস ওয়া উলূমুল হাদীস, (৪) আশ-শরীয়াহ ওয়া উসূলুস শরীয়াহ, এবং (৫) আল ফাল সাফাহ ওয়াততাসাউফ ওয়াল আখলাক বিভাগ, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধীন (১) আরবী ভাষা ও সাহিত্য, (২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, (৩) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, (৪) অর্থনীতি, (৫) লোক প্রশাসন, (৬) তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব, (৭) ভাষাতত্ত্ব, এবং বাণিজ্য বিভাগ এবং বিজ্ঞান অনুষদের অধীন (১) পদার্থ বিজ্ঞান, (২) গণিত, (৩) রসায়ন, (৪) উদ্ভিদবিদ্যা, এবং (৫) প্রাণিবিদ্যা বিভাগ প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করা হয়। ৩১ মার্চ-৮ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে মক্কায় ওআইসি-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের এক সম্মেলনে বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশের ভিত্তিতে ২২ নভেম্বর ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়া শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণে ঝিনাইদহ শহর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে শন্তিডাঙ্গা-দুলালপুর নামক স্থানে ১৭৫ একর জমিতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরের বছর ১৯৮০ সালের ২৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। এরপর ১৯৮১ সালের ৩১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ড.এ.এন.এম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রথম উপাচার্য নিয়োগ করা হয় এবং দুটি অনুষদের অধীনে চারটি বিভাগে মোট ৩০০ জন ছাত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্র শুরু হয়। এরশাদ সরকার ১৯৮৩ সালের ১৮ জুলাইয়ের এর আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়কে গাজীজুরের বোর্ড বাজারে স্থানান্তর করেন। শুরু হয় আন্দোলন। এ আন্দোলনে কুষ্টিয়ার বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী নেতা গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন। প্রবল আন্দোলনের এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ১৯৮৯ সালের ৩ জানুয়ারী মন্ত্রীসভার বৈঠকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৯০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে গাজীপুর থেকে কুষ্টিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। সরকারের এক আদেশ বলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে গাজীপুরের বোর্ড বাজার থেকে স্থানান্তর করে বিকল্প ব্যবস্থায় কুষ্টিয়া শহরের পি.টি.আই ভবনে ধর্মতত্ত্ব এ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ, কুষ্টিয়া মেডিকেল স্কুলে মানবিক ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ এবং শহরের অন্যান্য ভবনে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে একযোগে আরো ৫টি নতুন বিভাগ প্রবর্তিত হয়। সাধঅরণ ছা্ত্রদের আন্দোলনের মুখে ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো ছাত্রী ও ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির রেওয়াজ চালু করা হয়। ১৯৯২ সালের ১ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ ঠিকানায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। সেই সাথে উচ্চতর ডিগ্রী প্রদানের জন্য ১৯৯৩ সালের দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ.ফিল এবং পি-এই.ডি কার্যক্রম শুর হয় এবং পরবর্তীতে এভাবেই এর বাকি যাত্রা শুরু হয় এবং পথে পথে নতুন মাত্রা যোগ হতে থাকে।

সততা ফোয়ারা,ইবি।

বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ও বিভাগ প্রসঙ্গেঃ
স্বাধীনতা পরবর্তীকালে প্রথম স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে ইবির ৮ টি অনুষদের অধীনে ৩৪ টি বিভাগ রয়েছে। অনুষদ গুলো হলো : ধর্মশাস্ত্র ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদ, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, ব্যবসায়িক অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান, কলা অনুষদ,ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ, জীব বিজ্ঞান অনুষদ। আল কুরআন ও ইসলামী শিক্ষা, দাওয়াহ ও ইসলামী শিক্ষা, আল হাদীস ও ইসলামী শিক্ষা, তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল,কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল,ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জৈবচিকিৎসা প্রকৌশল, পারমাণবিক প্রকৌশল, বস্তু বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, জৈব প্রযুক্তি ও জীনতত্ত্ব প্রকৌশল, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি, ফার্মেসী, জনস্বাস্থ্য,অণুজীব বিজ্ঞান,প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞান, গণিত, পরিসংখ্যান,পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল, রসায়ন,পদার্থবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা, ব্যবস্থাপনা,অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং,বিপণন, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা,ব্যাংকিং, আন্তর্জাতিক ব্যবসা, ম্যানেজমেন্ট, হিসাববিজ্ঞান ও ইনফরমেশন সিস্টেম, আরবি ভাষা ও সাহিত্য, বাংলা,ইংরেজী,ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, লোকাচার বিদ্যা, চারুকলা, অর্থনীতি,লোকপ্রশাসন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, উন্নয়ন অধ্যয়ন, সমাজকল্যাণ, আইন,আল-ফিকহ ও আইন বিভাগ, আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা।

বট তলা, ইবি।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের গতি প্রকৃতিঃ
অপরূপ লীলাভূমির ১৭৫ একর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। যার জন্ম ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর। এটি আমাদের দেশে স্বাধীনতা পরবর্তী স্থাপিত দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ইসলাম শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। শুধু ইসলাম শিক্ষাই নয়। এখানে রয়েছে যুগপোযোগী সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ। এখানে যেমন আইন, লোক প্রশাসন, বাংলা, ইংরেজি সহ মোট ৩৪টি বিভাগ রয়েছে। তেমনি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে খোলা হয়েছে আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন অধ্যয়ন, মোট আটটি বিভাগ। এছাড়াও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে একটি ও ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে চারুকলা বিভাগের মাধ্যমে ৩৪ টি বিভাগে উন্নীত হয়েছে। যাতে ৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে। ২০২১ সালের মধ্যে বিভাগের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৯টি। একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অনুষদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৫টি থেকে ৮টি করা হয়েছে। মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভেঙ্গে কলা অনুষদ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভেঙ্গে বিজ্ঞান অনুষদ, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদ এবং বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে অনুষদ করা হয়েছে। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ ছাত্রীসহ ৩৬ বিদেশী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। আন্তর্জাতিক ৭টি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিস্বাক্ষরিত হয়েছে। শিক্ষা, প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কাজ ত্বরাণ্বিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সময় ৮টা-২টা’র পরিবর্তে ৯টা-৪টা ৩০মিনিট করা হয়েছে।শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘ভাইস চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেল’ এ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ, অফিস ও হলসমূহের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনতে ক্যাম্পাসের প্রতিটি ভবনে স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছরের ব্যবধানে ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি ৪র্থ সমাবর্তন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবর্তনে প্রায় ১০ হাজার ডিগ্রিধারীসহ ১৪ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে, যা দেশের সর্ববৃহৎ সমাবর্তন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বঙ্গবন্ধু আন্তবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশীপ-২০১৯-এ ইবির একজন কৃতি খেলোয়াড় সেরা এ্যাথলেট হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট থেকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি লাভ করে ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করেন। এছাড়াও নেপালের কাঠমান্ডু ও পোখারাতে আগামী ১ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য সাউথ এশিয়ান গেমস-২০১৯-এ বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে মোট ৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে ইবির ৬ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে টি.এস.সি.সি মিলনায়তনের নাম ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তন’ করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’। এতে বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর ড. শামসুজ্জামান খানকে নিয়োগ দেয়ে হয়েছে। মুক্তি বাযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে পঠন-পাঠন ও গবেষণায় সহযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার, বঙ্গবন্ধু কর্ণার এবং একুশে কর্ণার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। ৫ শত ৩৭ কোটি ৭ লক্ষ টাকার মেগাপ্রকল্পের আওতায় ক্যাম্পাসে ৯টি দশতলা ভবন ও ১টি কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান গবেষণাগার নির্মাণ, ১২টি ভবনের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ, গভীর নলকূপ স্থাপন, ২টি ৫০০ কেভি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন ২য় পর্যায় শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের বি-ব্লক, শেখ রাসেল হলের এ-ব্লক, রবীন্দ্র-নজরুল কলাভবন, প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটরদের জন্য নির্মিতব্য ৫তলা আবাসিক ভবনের ৩য় তলা পর্যন্ত, ৫০০ কেভি সাবস্টেশন এবং শিক্ষক-কর্মকর্এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের উর্দ্ধমুখী ও আনুভূমিক সম্প্রসারণ কাজ, পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ আলী মিয়া বিজ্ঞান ভবনের ৩য়-৫ম তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ কাজ এবং ৯ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনের ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলার সম্প্রসারণ কাজ এবং নিজস্ব ইন্সটিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (আইআইইআর) ভবন নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের দক্ষিণপার্শে দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা এবং একেবারে পশ্চিম প্রান্তে লেক তৈরি করা হয়েছে।পরিবহন সঙ্কট দূরীকরণে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন পুলে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য ৬টি এসি কোস্টার এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ৫২ সীটের অত্যাধুনিক ২টি হিনো বাস যুক্ত হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে ডেন্টাল ইউনিট চালু করা হয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, গবেষণার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ, সকল অনুষদ হতে আ পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কর্মশালা, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াদক্ষতা বৃদ্ধির নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণসহ মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবিরোধী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু নানামুখী উন্নয়নের মধ্য দিয়েও রয়ে গেছে কিছু ফাঁক, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার ও প্রাপ্তি, তৃপ্তি এবং কিছু প্রশ্ন! দীর্ঘ পথ অতিক্রম ক্রমে হাঁটি হাঁটি পায়ে আজ ৪২ বছরে পদার্পণ করেছে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এবং ১৭৫ একরের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের প্রথম বিদ্যাপিঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘদিন পথযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়টি যেমন উন্নয়ের ছোঁয়া পেয়েছে তেমনি রয়েছে বিস্তর সংকট! নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো:

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সংকটঃ
একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠার পিছনে থাকে সুদীর্ঘ ইতিহাস। এতে যেমন সাদা দাগ লেগে থাকে তেমনি লেগে যায় কালো দাগ। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রয়েছে নানা প্রত্যাশা, অভিযোগ ও প্রশ্ন। চার দশক পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই প্রশ্ন যেন আরও প্রকট রুপ লাভ করে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংকট নিরসনে যেগুলো রয়েছে তা অত্যন্ত মর্মান্তিক বিষয়াবলী। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত, প্রশাসনিক, আঞ্চলিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবহনসমস্যাসহ ইত্যাদি। নিম্নে সামগ্রিক সংকটের বিস্তারিত তুলে ধরছি, যেখানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক শিক্ষার্থীদের মতামত‌।

মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরাল, ইবি।

একাডেমিক সমস্যাঃ
কালের পরিক্রমায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান ৮ অনুষদের অধীনে ৩৪টি বিভাগ রয়েছে। কিন্তু বিভাগ বেশি হলেও দক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী না থাকায় গতানুগতিক ধারায় চলতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পক্ষান্তরে সেশনজট যেন আরও প্রকট রুপ লাভ করছে। ফলপ্রসূ এক বিভাগে পাঁচটার অধিক ব্যাচ সৃষ্টি হচ্ছে এবং শিক্ষার গতি মন্থর হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার দশক পেরিয়ে গেলেও এ থেকে বেরিয়ে আসতে অনেকটাই হিমশিম খেতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়কে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় অর্থ যে বিশ্বের মাঝে একটা মিনি বিশ্ব, যেখানে জ্ঞানের ঝর্না বইবে এমনটি পরিলক্ষিত হয় না। বিদেশ থেকে কোনো শিক্ষক নিয়ে এসে সেরকম কোনো সেমিনার দেখা যায় না। যার ফলে দীর্ঘ চার দশক পথ পরিক্রম করলেও আর্তজাতিককরণের পথে এখনও নানা বাঁধা বিপত্তি রয়েছে। এর ফলে বৈদিশিকদের চাহিদা বা তাদের শিক্ষা কার্যক্রম বা শিক্ষার আমদানি-রপ্তানি বিষয়টিতে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলপ্রসূ একজন শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছেন। চাকরি ও দক্ষতাতে পিছিয়ে থাকছেন। টক্কর দিতে পারছে না বহিঃবিশ্বের সঙ্গে। এছাড়া বিদেশিদের সঙ্গে ইবির যে অভ্যান্তরীণ শিক্ষা বৃত্তি থাকবে বা এখান থেকে বহিঃবিশ্বে পড়াশোনা করার জন্য শিক্ষার্থীরা যাবে সে বিষয়গুলো এখনও গড়ে উঠতে পারিনি। যার ফলে প্রতিবছর লাখো শিক্ষার্থীরা বেকার হয়ে বসে থাকছেন। শিক্ষার্থী হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, স্নাতক পাশ করছে, শিখছে, কিন্তু রাষ্ট্রের চাহিদা অনুযায়ী যদি কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারে, দক্ষ না হতে পারে তবে এটি অবশ্যই রাষ্ট্রের জন্য অন্ধকার ডেকে আনবে।

অনুষদ ভবন, ইবি।

অবকাঠামোগত সংকটঃ
চার দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে এতই মন্থর যে, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। অথচ এদিকে নতুন বিভাগ এবং অনুষদ খুলে চলেছে। পক্ষান্তরে শ্রেণী কক্ষের সমস্যা, চেয়ার টেবিলের সমস্যা, এছাড়া নতুন করে যে বিভাগ গুলো সৃষ্টি হয়েছে তার ফলে অভাব সৃষ্টি হয়ে শিক্ষক কক্ষের, গবেষণা বা ল্যাব কক্ষের। যার ফলে তাদের ক্লাস বা কোর্সগুলো কম হচ্ছে। সুতরাং এই বিষয়টি জোরদার করা সময়ের দাবি বটে! পক্ষান্তরে ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজের বাস্তবায়ন হচ্ছে ইবিতে, কিন্তু কতটা কার্যকর হবে পূর্নাঙ্গ অবকাঠামোগত চাহিদা পূরণ করতে তা সময় বলে দিবে!

আবাসন সমস্যা ও পরিবহন সমস্যাঃ
বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৮০ অনুযায়ী ইবিকে পূর্ণ আবাসিক ঘোষণা করলেও প্রকৃতপক্ষে ইবি প্রতিষ্ঠার ৪১ বছর পরেও পূর্ণ আবাসিক নেই। যার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের শেষ নেই! পাশাপাশি পূর্ণ আবাসিক এর অভাবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বন্ধুসুলভ সম্পর্ক তৈরি হয় না, পড়াশোনায় গতি মন্থর হয়। এছাড়া পূর্ণ আবাসিক না থাকায় বাড়তি চাপ পড়ছে পরিবহনে‌। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন না থাকায় বাইরের বাস দিয়ে চলতে হয়। তথাপি এসব পরিবহন সংকট ও সিন্ডিকেটে প্রতিবছর প্রচুর অর্থও খরচ হয়ে থাকে। এছাড়া কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহে বাস যাত্রায় প্রধান শহরে পৌঁছাতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময়ও লেগে থাকে। সবমিলিয়ে পূর্ণ আবাসিকের ব্যবস্থা করলে আর পরবর্তীতে পরিবহনের প্রয়োজন হবে না। অভ্যান্তরীণ রুটে কয়েকটা থাকলেই যথেষ্ট হবে!

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, ইবি।

প্রশাসনিক সমস্যা :
ইবির প্রসাশনিক সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে সনাতন পদ্ধতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা , রেজাল্ট প্রসেসিং এ দীর্ঘ সূত্রতা, ব্যাংকে দৌড়ানো, কর্মকর্তার অসাদাচরণ। কিছু কিছু শিক্ষকের রাগান্বিত আচরণ। শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রক্টরের বৈরি আচরণ। প্রশাসনিক ফাইল ওয়ার্ক, রেজাল্ট , সার্টিফিকেট পেতে দীর্ঘসূত্রতা। এর ফলে শিক্ষার্থীদের চাকরির সমস্যা সহ আর্থিক সংকট সম্মুখীন হতে হয়। সবমিলিয়ে যেন শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। সুতরাং এ বিষয়ে আশা করি প্রশাসন আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আরও পড়ুনঃ ইবি উপাচর্যদের ইতিহাস

বিজ্ঞান ও গবেষনাঃ
আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞান ও গবেষনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অথচ ইবি থেকে বিজ্ঞান ও গবেষনার তেমন নজর কাড়া দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয় না। এছাড়া যে গবেষণার হয় তার মান নিয়ে উঠে উৎকণ্ঠা। স্যাররা কিছু করলেও, সেগুলো হাইলাইটস হচ্ছে না। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব নেই। এছাড়া গবেষণা জার্নাল তেমন পরিলক্ষিত হয় না। অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিছুটা দৃশ্যমান হলেও গবেষণার দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে ইবি। গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের যে এক ধরনের মেলবন্ধন সৃষ্টি হবে সেরকম দৃশ্যও পরিলক্ষিত হয় না। যার ফলে বরাবরই পিছিয়ে ইবি। এছাড়া গবেষণার খাতিরে অর্থ বরাদ্দ নিয়েও ওঠে প্রশ্ন। সুতরাং আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে এগিয়ে থাকতে ইবির বিজ্ঞান ও গবেষনায় বড় বরাদ্দ প্রদানসহ গুরুত্ব দিতে হবে‌।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশঃ
রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে অনেকাংশেই উত্তাল থাকে ইবি‌। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যান্তরীণ রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা এবং ইবি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভ পালনের ফলে প্রায়‌ প্রায়ই অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এছাড়া আঞ্চলিক রাজনীতির প্রভাব ইবিতে ব্যাপক। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়ার সংগঠন গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। তথাপি একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল গুলোতে সিট মিলতে গেলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। এছাড়া Webomatrics এর Ranking অনুযায়ী দেশের মধ্যে প্রাইভেট-পাবলিকের ভিতরে ২৫ নম্বরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবলিকের মধ্যে ১৬ নম্বরে। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় অনুযয়ী রাঙ্কেও পিছিয়ে।

লেক, ইবি।

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিঃ
সব মিলিয়ে আজ প্রাণের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এই প্রত্যাশাই করি উপরিউক্ত সমস্যা গুলো ইবি থেকে চিরতরে দূর হোক। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠুক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয় এবং আগামী দিনগুলোতে আর্তজাতিকরণের পথে হাঁটতে থাক এই ১৭৫ একর এই কামনায় করি। কেননা সময়ের পরিক্রমায় ইতিহাস বদলাবে, উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে, সংকট থাকবে কিন্তু সেগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। তবে একটি আর্দশ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠবে। পরিশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ঢের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বিদ্যা পিঠ ইবিকে এবং কোভিড-১৯ পরবর্তীতে আগামীর দিনগুলোতে ইবি আবার প্রানাচ্ছোল হোক, বর্ণিল রুপে সেজে ওঠুক সেই প্রত্যাশায় করি। মুখরিত হোক প্রিয় ইবি, প্রাণ ফিরে পাক শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

Print Friendly, PDF & Email
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

ফেসবুকে আমরা

Facebook Pagelike Widget
আরও পড়ুন